মঙ্গলবার ১০ মার্চ ২০২৬, ২৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Logo
Add Image

জাতীয়

শর্ত সাপেক্ষে মোটরসাইকেলে পেট্রোল-অকটেন নেওয়া যাবে সর্বোচ্চ ২ লিটার, প্রাইভেটকারে ১০: বিপিসি’র প্রজ্ঞাপন জারী

প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-০৬ ২২:৫৪:৫১

News Image

ছবি: সংগৃহিত

অনলাইন ডেস্ক:
ইরানে মার্কিন-ইসরায়েল সংঘাতকে কেন্দ্র করে বিশ্ব ভুগছে জ্বালানি সংকটে। বিশ্বের এমন সংকট কালে বাংলাদেশেও চিন্তা বাড়ছে। শর্ত মেনে সরকার নির্ধারিত পরিমাণেই এবার কিনতে হবে তেল। জ্বালানি ফিলিং স্টেশন থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন, সেটি নির্ধারণ করে দিয়েছে সরকার। সরকার নির্ধারিত পরিমাণ অনুযায়ী, এখন থেকে বাইকে সর্বোচ্চ ২ লিটার ও প্রাইভেটকারে সর্বোচ্চ ১০ লিটার পেট্রোল-অকটেন কিনতে পারবে। 

 

আজ শুক্রবার দেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে বাংলা। 

 

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, দেশের জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে রাষ্ট্র ও জনগণের মধ্যে আস্থার সংকট নিরসণ এবং সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে জানানো যাচ্ছে যে, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় জ্বালানি তেলের ব্যবহার অপরিহার্য। দেশের ব্যবহৃত জ্বালানি তেলের প্রায় ৯৫ শতাংশ বিদেশ হতে আমদানি করতে হয়। বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশের জ্বালানি তেলের আমদানি ব্যবস্থাপনা মাঝেমধ্যে বাধগ্রস্ত/বিলম্বিত হয়। চলমান বৈশ্বিক সংকট পরিস্থিতিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম/সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জ্বালানি তেলের মজুদ পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক সংবাদ প্রচার হওয়ায় ভোক্তা/গ্রাহকদের মধ্যে অতিরিক্ত চাহিদার প্রবণতা লক্ষ্যে করা যাচ্ছে। 

 

এতে আরও বলা হয়, এই অতিরিক্ত চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে ডিলাররা বিগত সময়ের তুলনায় অতিরিক্ত পরিমাণ জ্বালানি তেল ডিপো থেকে সংগ্রহের চেষ্টা করছেন। তাছাড়া কিছু কিছু ভোক্তা ডিলার/ফিলিং স্টেশন থেকে প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি তেল সংগ্রহ করে অননুমোদিতভাবে মজুদ করার চেষ্টা করছেন মর্মে খবর প্রকাশ হচ্ছে, যা জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ এবং বিপিসি সহ সংশ্লিষ্ট সব কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিগোচর হয়েছে।

 

দেশের জনগণের ভয়/আতঙ্ক হ্রাস করার লক্ষ্যে জানানো যাচ্ছে যে দেশে জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার লক্ষ্যে বিদেশ হতে আমদানি কার্যক্রম/সূচি নির্ধারিত রয়েছে এবং নিয়মিতভাবে পার্সেল দেশে আনা হচ্ছে। পাশাপাশি ডিলারদের সাময়িকভাবে প্রধান স্থাপনা হতে সারাদেশের সব ডিপোতে নিয়মিতভাবে রেল ওয়াগণ/ট্যাংকারের মাধ্যমে প্রেরণ করা হচ্ছে। আশাকরা যাচ্ছে যে, স্বল্প সময়ের মধ্যে দেশে জ্বালানি তেলের বাফার স্টক (পর্যাপ্ত মজুদ) গড়ে উঠবে। জনগণের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল সরবরাহ সমুন্নত রাখার লক্ষ্যে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ/বিপিসি কর্তৃক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে’-উল্লেখ করা হয় প্রজ্ঞাপনে।

 

সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি বাইক ২ লিটার, প্রাইভেটকার ১০ লিটার, জিপ/মাইক্রোবাস ২০-২৫ লিটার, পিকাপ/লোকাল বাস (ডিজেল) ৭০-৮০ লিটার ও দূরপাল্লার ট্রাক/বাস (ডিজেল) সর্বোচ্চ ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল কিনতে পারবে।

 

জ্বালানি তেল সরবরাহ গ্রহণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য শর্তাবলী
১. ফিলিং স্টেশন হতে জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় ভোক্তাকে আবশ্যিকভাবে তেলের ধরন, পরিমাণ ও মূল্য উল্লেখ করে ক্রয় রশিদ প্রদান করতে হবে।
২. ফিলিং স্টেশন হতে প্রতিবার জ্বালানি তেল গ্রহণের সময় পূর্ববর্তী ক্রয় রশিদ/বিলের মূল কপি জমা প্রদান করতে হবে।
৩. ডিলাররা উপরোক্ত বরাদ্দ ও নির্দেশনা অনুযায়ী ক্রয় রশিদ গ্রহণ করে ভোক্তা প্রান্তে জ্বালানি তেল সরবরাহ করবে।
৪. ফিলিং স্টেশনগুলো জ্বালানি তেলের মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য সংশ্লিষ্ট ডিপোতে প্রদান করে জ্বালানি তেল উত্তোলন করবে।
৫. তেল বিপণন কোম্পানিগুলো ডিলারদের জ্বালানি তেল সরবরাহ দেয়ার পূর্বে বর্তমান বরাদ্দের আলোকে মজুদ ও বিক্রয় সংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করবে। কোনভাবেই বরাদ্দের বেশি সরবরাহ করা যাবে না।

 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭