শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দাতা গোষ্ঠি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের সাথে বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে তার হিসাব শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে হিসাব বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন হিসাব কষছেন। 

 

ওই হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা ভর্তুকি কম লাগবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কতো ভাগ কোন গ্রাহকের বাড়ালে কতো টাকা আয় হবে তার হিসাবও করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুতের প্রাথমিক হিসাব করা হচ্ছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। মূলত আইএমএফের কাছে ওই হিসাব তুলে ধরা হবে। যদিও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। 

 

আগামী ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে উঠবে বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ। আর ওই কারণেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম (বিতরণ কোম্পানির জন্য নির্ধারিত) সাড়ে ৮ শতাংশ বিগত ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ানো হয়েছিল। তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আর বর্তমান বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে জানিয়েছে, আগামী দুই বছর (২০২৬-২০২৭) তারা বিদ্যুতের কোনো দাম বাড়াবে না। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কয়েকবাজার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াতে আইএমএফের চাপে পড়তে যাচ্ছে ।

 

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে বিপাকে আছে সরকার। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দেয়া হয়েছে। তারপরও গত অর্থবছরে পিডিবি ১৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। তার মধ্যে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে এ বছর ভর্তুকি কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৩৬ পয়সায় কিনে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা বিক্রি করে। যে কারণে বেড়েই চলেছে বিপিডিবির লোকসানের বোঝা। এ বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি পিডিবির লোকসান হবে। যা গত বছর ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটির বেশি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে। তার মধ্যে আড়াই কোটি হচ্ছে স্বল্প ব্যবহার বা লাইফ লাইন গ্রাহক। যারা মাসে মাত্র ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

 

সূত্র আরো জানায়, দাতা সংস্থা আইএমএফের শর্তানুযায়ী জ্বালানি বিভাগ প্রতি মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। বাংলাদেশ এখন  আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৮০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। তেল বিক্রিতে সরকারের প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। তবুও সরকার তেলের দাম বাড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জ্বালানি তেল আমদানি করতে যুদ্ধের আগে সরকারের বছরে ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হতো। এখন তা ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি কার্গো এলএনজি পেট্রোবাংলার কেনা পড়তো ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই কার্গো এখন কেনা পড়ছে ১০০০ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছর গ্যাস বিক্রি করে পেট্রোবাংলা লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন মার্চ, এপ্রিল এবং জুন ওই তিন মাস এলএনজি এনে ১৫ হাজার কোটি টাকা পেট্রোবাংলার লোকসান হতে পারে। 

 

অন্যদিকে গত ২৪ থেকে ২৬ মার্চ আইএমএফের একটি দল ঢাকা সফর করেছে। ওই দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আইএমএফের শর্ত এবং ঋণের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে দলটি বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বিগত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মঞ্জুর করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে আইএমএফ ওই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করে। তার মধ্যে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।

 

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধের কারণে এখন প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে ৫ হাজার কোটি লোকসান হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তথ্যনুযায়ী হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ৮ জন ছিলেন। 

 

পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের মেলাউই জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখা আজ শুক্রবার দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।  সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও এএফপি এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

 

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল একটি এয়াবাস এইচ১৩০ এয়ারক্রাফট এবং সেটির মালিক ছিল স্থানীয় একটি বিমান পরিষেবাদাতা সংস্থা। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখার উদ্ধারাকরী বাহিনীর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সায়াফি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মেলাউইর একটি পাম-বাগান থেকে উড্ডয়নের ৫ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

 

“যে এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি খাড়া পাহাড়ি এবং ঘন জঙ্গলে আবৃত একটি অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী সেকাদাও জেলার অন্তর্গত”, এএফপিকে বলেছেন মোহাম্মদ সায়াফি।দুর্গম পথ এবং ঘন বনাঞ্চলের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে যেতে উদ্ধারকারী বাহিনীর বেশ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সায়াফি। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিমানটিতে ২ জন ক্রু এবং ৬ জন যাত্রী ছিলেন; তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

 

কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে হেলিকপ্টারটির লেজের অংশ সেটির মূল অংশ থেকে আলাদা হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লেজের অংশটি হেলিকপ্টারের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল; কিন্তু কী কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সেটি- তার উত্তর মেলেনি।

 

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল কার্যকরের দাবিতে টানা ১৫ দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১ দল। ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে গণমিছিল, সেমিনার ও সমাবেশ আয়োজন করা হবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, নির্ধারিত দিনে শুনানি না হওয়ায় আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে দেশের সব জেলা সদরে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সেমিনার আয়োজন করা হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “জনগণ নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর আশায় ভোট দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। বরং নানা অজুহাতে গণরায়ের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।”

 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকট তীব্র হলেও সরকার তা অস্বীকার করছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সার সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।” একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

 

তিনি জানান, এই কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে ১২টি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হবে। সবশেষে রাজধানীতে একটি জাতীয় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা মামুনুল হক। এ সময় বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দাতা গোষ্ঠি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের সাথে বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে তার হিসাব শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে হিসাব বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন হিসাব কষছেন। 

 

ওই হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা ভর্তুকি কম লাগবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কতো ভাগ কোন গ্রাহকের বাড়ালে কতো টাকা আয় হবে তার হিসাবও করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুতের প্রাথমিক হিসাব করা হচ্ছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। মূলত আইএমএফের কাছে ওই হিসাব তুলে ধরা হবে। যদিও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াবে কিনা তা নিশ্চিত নয়। 

 

আগামী ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে উঠবে বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ। আর ওই কারণেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম (বিতরণ কোম্পানির জন্য নির্ধারিত) সাড়ে ৮ শতাংশ বিগত ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ানো হয়েছিল। তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আর বর্তমান বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে জানিয়েছে, আগামী দুই বছর (২০২৬-২০২৭) তারা বিদ্যুতের কোনো দাম বাড়াবে না। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কয়েকবাজার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াতে আইএমএফের চাপে পড়তে যাচ্ছে ।

 

সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে বিপাকে আছে সরকার। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দেয়া হয়েছে। তারপরও গত অর্থবছরে পিডিবি ১৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। তার মধ্যে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে এ বছর ভর্তুকি কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৩৬ পয়সায় কিনে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা বিক্রি করে। যে কারণে বেড়েই চলেছে বিপিডিবির লোকসানের বোঝা। এ বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি পিডিবির লোকসান হবে। যা গত বছর ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটির বেশি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে। তার মধ্যে আড়াই কোটি হচ্ছে স্বল্প ব্যবহার বা লাইফ লাইন গ্রাহক। যারা মাসে মাত্র ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।

 

সূত্র আরো জানায়, দাতা সংস্থা আইএমএফের শর্তানুযায়ী জ্বালানি বিভাগ প্রতি মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। বাংলাদেশ এখন  আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৮০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। তেল বিক্রিতে সরকারের প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। তবুও সরকার তেলের দাম বাড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জ্বালানি তেল আমদানি করতে যুদ্ধের আগে সরকারের বছরে ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হতো। এখন তা ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।

 

এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি কার্গো এলএনজি পেট্রোবাংলার কেনা পড়তো ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই কার্গো এখন কেনা পড়ছে ১০০০ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছর গ্যাস বিক্রি করে পেট্রোবাংলা লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন মার্চ, এপ্রিল এবং জুন ওই তিন মাস এলএনজি এনে ১৫ হাজার কোটি টাকা পেট্রোবাংলার লোকসান হতে পারে। 

 

অন্যদিকে গত ২৪ থেকে ২৬ মার্চ আইএমএফের একটি দল ঢাকা সফর করেছে। ওই দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আইএমএফের শর্ত এবং ঋণের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে দলটি বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বিগত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মঞ্জুর করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে আইএমএফ ওই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করে। তার মধ্যে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।

 

এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধের কারণে এখন প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে ৫ হাজার কোটি লোকসান হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তথ্যনুযায়ী হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ৮ জন ছিলেন। 

 

পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের মেলাউই জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখা আজ শুক্রবার দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে।  সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও এএফপি এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।

 

বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল একটি এয়াবাস এইচ১৩০ এয়ারক্রাফট এবং সেটির মালিক ছিল স্থানীয় একটি বিমান পরিষেবাদাতা সংস্থা। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখার উদ্ধারাকরী বাহিনীর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সায়াফি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মেলাউইর একটি পাম-বাগান থেকে উড্ডয়নের ৫ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।

 

“যে এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি খাড়া পাহাড়ি এবং ঘন জঙ্গলে আবৃত একটি অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী সেকাদাও জেলার অন্তর্গত”, এএফপিকে বলেছেন মোহাম্মদ সায়াফি।দুর্গম পথ এবং ঘন বনাঞ্চলের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে যেতে উদ্ধারকারী বাহিনীর বেশ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সায়াফি। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিমানটিতে ২ জন ক্রু এবং ৬ জন যাত্রী ছিলেন; তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।

 

কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে হেলিকপ্টারটির লেজের অংশ সেটির মূল অংশ থেকে আলাদা হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লেজের অংশটি হেলিকপ্টারের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল; কিন্তু কী কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সেটি- তার উত্তর মেলেনি।

 

দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক শেষ হয়েছে অচলাবস্থার মধ্যেই। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান, বরং কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে দেশটি।

 

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছিল শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে।

 

তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসেনি। সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। ইরান আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, কিন্তু সেই নিশ্চয়তা মেলেনি।


অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র মূলত আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে চায়নি।” একইসঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা আলোচনায় তাড়াহুড়ো করছে না এবং পরবর্তী বৈঠকের কোনো তারিখও নির্ধারিত হয়নি।


এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ছিল অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে এই প্রণালি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার অন্যদিকে এটিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখছে। ফলে এই দ্বৈত অবস্থান সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।


পাকিস্তান শুরু থেকেই এই আলোচনাকে সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, “এই আলোচনা শেষ হলেও যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়নি। বরং এটি একটি সুযোগ, যাতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্ত করে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা যায়।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান চায় সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাক।


পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।


বিশ্লেষকদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু একসঙ্গে থাকায় স্বল্প সময়ে কোনো বড় অগ্রগতি পাওয়া কঠিনই ছিল। তবে এই আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরবর্তী ধাপে কতটা নমনীয় অবস্থান নেয় এবং নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মত হয় কি না।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ ৪০ দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আটকে থাকার পর দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটি আবারও ফিরে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ।

 

তথ্যনুযায়ী, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।

 

বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
 

Add

Site Counter

Online

94

Total

47k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের এস.এস.সি পরীক্ষার্থীদের বিদায় ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

 

১৬ মার্চ, ২০২৬ (বৃহস্পতিবার) দুপুরে উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে ওই বিদ্যালয়ের উদ্যোগে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। 

 

সুন্না আব্বাছিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি রোকনুজ্জামানের সভাপতিত্বে উপস্থিতি ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম, সহকারী  প্রধান শিক্ষক মোশাররফ হোসেন, সিনিয়র  সহকারী শিক্ষক বেলায়েত হোসেন, সহকারী শিক্ষক আলেকজান্ডার আজাদ মিয়া, আলমগীর হোসেন, মিনহাজ উদ্দিন, লিটন মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, নার্গিস আক্তার ও  অভিভাবকগণ। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ ও ছাত্র-ছাত্রীরা।
 


Pic

সাহাফ আল তাইফ, স্পোর্টস রিপোর্টার:
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা Lionel Messi এবং Cristiano Ronaldo আবারও ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাদের দুজনেরই লক্ষ্য এখন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক—ক্যারিয়ারে ৯০০ গোল।

 

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতোমধ্যেই ৮৫০+ অফিসিয়াল গোল করে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে অবস্থান করছেন। বর্তমানে Al-Nassr-এর হয়ে খেলা এই পর্তুগিজ তারকা এখনো দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

 

অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে ৮০০+ গোল পূর্ণ করেছেন। বর্তমানে Inter Miami CF-এর হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা গোল করার পাশাপাশি প্লেমেকার হিসেবেও সমানভাবে অবদান রাখছেন।

 

যদিও এখনো কেউই ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, তবে রোনালদো সেই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। মেসির ক্ষেত্রেও এটি সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ খেলার ধারাবাহিকতার ওপর।

 

একসময় যে ৯০০ গোল ছিল প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্য, এখন সেটিই বাস্তবের খুব কাছাকাছি—যা সম্ভব হয়েছে এই দুই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং অসাধারণ দক্ষতার কারণে।
 

জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল কার্যকরের দাবিতে টানা ১৫ দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১ দল। ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে গণমিছিল, সেমিনার ও সমাবেশ আয়োজন করা হবে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, নির্ধারিত দিনে শুনানি না হওয়ায় আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

 

ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে দেশের সব জেলা সদরে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সেমিনার আয়োজন করা হবে।

 

সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “জনগণ নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর আশায় ভোট দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। বরং নানা অজুহাতে গণরায়ের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।”

 

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকট তীব্র হলেও সরকার তা অস্বীকার করছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সার সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।” একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।

 

তিনি জানান, এই কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে ১২টি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হবে। সবশেষে রাজধানীতে একটি জাতীয় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা মামুনুল হক। এ সময় বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
 

সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে কে এগিয়ে...কনকচাঁপা না বেবী নাজনীন?

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দেশের দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন।

 

শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।


দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কনকচাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি আগামীকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) ফরম জমা দেবেন বলে জানা গেছে।

 

প্রতিক্রিয়ায় কনকচাঁপা জানান, দলে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।

 

অন্যদিকে বেবী নাজনীন বলেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্য এবং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিবেচনায় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আশা রাখেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।


এদিকে কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীনও একই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
 

গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ: শিশির মনির

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির সোমবার দুপুরে হাইকোর্টে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ।”

 

শিশির মনির আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে ৩০ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত হয়েছিলো। সেসব বিষয়েও বিএনপি মানতে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলে অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিল হলে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলও বাতিল হয়ে যাবে।”

 

‘সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে আগের ব্যবস্থায় ফিরতে চাচ্ছে সরকার। ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকলে আরেকটি নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুদক সংস্কার অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বিশের অধিক অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন চায় না সরকার।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭