বুধবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১ আশ্বিন ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে শিশুকে যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়ার যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-১৫ ২১:২১:১৬

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে ১৪ বছর বয়সী এক শিশুকে যৌননিগ্রহের দায়ে রশিদ মিয়া (৫৫) নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে তাকে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

 

আজ মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) দুপুরে দণ্ডিত আসামির উপস্থিতিতে টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ড. আব্দুল মজিদ এ রায় ঘোষণা করেন।

 

দণ্ডিত রশিদ মিয়া টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নের আগছাওয়ালী গ্রামের গোলামের ছেলে।

 

আদালতের রায়ে বলা হয়, আসামির কাছ থেকে অর্থদণ্ড আদায় করা সম্ভব না হলে ভবিষ্যতে তিনি যে সম্পদের মালিক হবেন, সেই সম্পদ থেকেও অর্থদণ্ড আদায় করে ভুক্তভোগীকে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। এ জন্য ডিস্ট্রিক্ট কালেক্টর, টাঙ্গাইলকে দণ্ডিত আসামি রশিদ মিয়ার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থদণ্ডের সমপরিমাণ অর্থ ভুক্তভোগীকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

রায়ে আরও বলা হয়, যৌননিগ্রহের ফলে জন্ম নেওয়া শিশুটির জৈবিক পিতা আসামি রশিদ মিয়া। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে তাকে শিশুটির পিতা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে উত্তরাধিকার ঘোষণা করা হয়েছে। একই সঙ্গে শিশুটির ভরণপোষণের ব্যয় রাষ্ট্র বহন করবে বলে আদালত উল্লেখ করেন।

 

শিশুটির শিক্ষা, চিকিৎসা ও ভরণপোষণের জন্য মাসিক প্রদেয় অর্থের পরিমাণ নির্ধারণ করে ট্রাইব্যুনালকে অবহিত করারও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

 

ঘটনার বিবরণ
টাঙ্গাইলের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি খন্দকার মো. রোকুনুজ্জামান জানান, ২০২৪ সালের ১৪ এপ্রিল ১৪ বছর বয়সী ওই শিশু তার দাদিকে ডাকতে পুকুরপাড়ে যায়। এ সময় প্রতিবেশী ও সম্পর্কের দাদা রশিদ মিয়া তাকে জানান, তার দাদি বাড়িতে গেছেন।

 

এরপর রশিদ মিয়া শিশুটিকে সঙ্গে করে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান। সেখানে জোরপূর্বক যৌননিগ্রহের শিকার করে এবং বিষয়টি কাউকে জানালে শিশু ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার হুমকি দেন।

 

পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন হলে সে তার মায়ের কাছে বিষয়টি জানায়। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। পরে ২০২৪ সালের ২২ ডিসেম্বর বাবার বাড়িতে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম দেয় ওই শিশু।

 

এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগী বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে মামলা করেন। আদালত মির্জাপুর থানাকে মামলাটি এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন।

 

মামলার তদন্ত ও পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ায় আসামি রশিদ মিয়ার ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে নবজাতক কন্যাশিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে রশিদ মিয়ার পরিচয় নিশ্চিত হয়।

 

দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মঙ্গলবার আদালত রশিদ মিয়াকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী ও তার সন্তানের অধিকার ও ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা দেন আদালত।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭