মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৪ ভাদ্র ১৪৩৩

Logo
Add Image

আলোচিত খবর

বাবার পাশে সমাধি দিয়েন, ফেসবুকে সুইসাইড নোট দেখার পর মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার; কেন এই আত্মহননের চেষ্টা?

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাবেক নেতা ও জাতীয় পিপলস অ্যাকশন (এনপিএ)-এর কেন্দ্রীয় ও কাউন্সিল সদস্য মেঘমল্লার বসুকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।

 

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মাধ্যরাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার পাকস্থলী ওয়াশের পর তিনি শঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। ফেসবুকে সুইসাইড নোট দেখার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও দলীয় নেতাকর্মীরা তাকে নিথর অবস্থায় উদ্ধার করেন।

 

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে শিবিরের কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

 

তিনি দ্য বলেন, ‘মেঘমল্লার বসু দাদার পোস্ট দেখেই ফেসবুকে খোঁজ নেওয়া শুরু করি। সম্ভাব্য সব জায়গায় কথা বলেও তার সন্ধান পাচ্ছিলাম না। তবে পরে জানতে পারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের গেটে তাকে পাওয়া গেছে।’

 

সেখান থেকে দ্রুত তাকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বেসরকারি হাসপাতালে তার চিকিৎসায় অনীহা প্রকাশ করা হয়। পরে সেখান থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে গেলে তার পাকস্থলী ওয়াশ করেন চিকিৎসক। তিনি এখন শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাকে হাসপাতালে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে তিনি এখন কথা বলার মতো অবস্থায় নেই।’

 

এর আগে ফেসবুকে একটি সুইসাইড নোট পোস্ট করেছেন মেঘমল্লার বসু। এতে তিনি লিখেছেন, ‘জীবনটা একটা বৃত্তের মতো। অনেক ঘুরে, অনেক কিছু করে নিজেকে আবার শুন্যে আবিষ্কার করার মতো। আমার মাঝে মাঝে মনে হয়, দুইটা আলাদা আলাদা টাইম স্প্যানের যেকোনো একটা সময় মরে গেলে খুব ভালো হইত। একটা ২০২০ সালের গোঁড়ায়, আমার শেষ বাংলা বিতর্কের দিন, গভর্মেন্ট সাইন্স কলেজের ফাইনালটার পরে। আরেকটা মনে হয় গত বছর এরকম একটা সময়। ডাকসু নির্বাচনের পর। দুইটা সময়ই আমি অনেক পূর্ণ ছিলাম। যখন মানুষ পূর্ণ থাকে তখন সে ভুলে যায় শুন্যতাই তার নিয়তি।’

 

আরও লিখেছেন, ‘আজ জীবনের শেষ প্রান্তে এসে হতাশা আর অপরাধবোধ ছাড়া আমার আর কিছুই নাই। আমি সবচেয়ে বড় অপরাধ করছি আমার মা’র সাথে। আমি জানি তার আর কেউ নাই। অথচ তাও আমি এই পথ বেছে নিচ্ছি। কী করব!

 

কোনোভাবেই তো এই চক্র থেকে বের হতে পারছি না। আর কত দিন সম্ভব? আমি জানি আপনারা আমার অনেক শুভাকাঙ্ক্ষী আছেন। আপনারা পারলে আমার মাকে একটু বাঁচায়ে রাইখেন। মিশু ভাই, নূর আপু, আরাফাত ভাই, উৎপল দা, নিমাই কাকু এরা সবাই মিলে কত চেষ্টা করল আমারে বাঁচায়ে রাখার। আমি সবাইকে ব্যর্থ করে দিয়ে যাচ্ছি।’

 

মেঘমল্লার লিখেছেন, ‘আপনাদের সবার প্রতি একটা একান্ত অনুরোধ হল আমার প্রাক্তন প্রেমিকা চূড়াকে যেন কোনোভাবেই আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী করা না হয়। আমাকে জীবনে কোনো মানুষ এত ভালোবাসা দেয় নাই, যতটা উনি দিসেন। আমার গত এটেম্পটের পর সবাই ভাবসে দোষ উনার। উনি একটা ভিলেনে পরিণত হইসেন। অথচ বাস্তবতা হল আমি উনাকে যত ইনসিকিউরিটি অনুভব করাইসি, তাতে উনার দশ বার এটেম্পট করার কথা ছিল।’

 

তিনি বলেন, ‘উনি আমার জন্য শুধু করেই গেসেন, কিছুই পান নাই। উনি যে কষ্ট আমার থেকে পাইসেন, তা আর এক ছটাকও বাড়লে আমার অনেক পাপ বাড়বে। এখনও উনি উনার মাকে নিয়ে একটা কঠিন লড়াইয়ের মধ্যে আছেন। আমার অবস্থা নিয়ে উনাকে কেউ কিছু বললে বা মনে করলে শুধুই আমার পাপ বাড়বে।’

 

তিনি আরও লিখেছেন, ‘আমার বন্ধুরা, সহযোদ্ধারা সবার কাছে আমি ঋণী ও পাপী। আমি অবশ্য আমার ব্যক্তিজীবনের প্রোটেকশানটা পাই নাই, আমার রাজনৈতিক পরিসর থেকে। সে সব কথা থাক। আর বলে কী হবে। বাবার ব্যাংকের কী যেন একটা লোন আছে। ওইটা কেউ একটু শোধ করে দিয়েন। হুদাই আমার চিকিৎসা করাইতে গিয়ে টাকা খরচ কইরেন না কেউ। আমারে পারলে বাবার পাশে সমাধি দিয়েন।’
 


সর্বশেষ

জনপ্রিয়

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭