বৃহস্পতিবার ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১১-০৬ ০০:৩৪:৪৩
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
নওগাঁয় নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), নওগাঁর উদ্যোগে এবং ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ইনসেপ্টার সার্বিক সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর, ২০২৬) নওগাঁ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), রাজশাহী রেঞ্জের উপদেষ্টা মিসেস শামীম আরা হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সহধর্মিণী মিজ্ মুর্শিদা হক মুন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পুনাক, নওগাঁর সভানেত্রী ডা. মোসা. আমিনা ফেরদৌস।
কর্মসূচিতে জরায়ুমুখ ক্যানসারের কারণ, ঝুঁকির বিষয়, প্রতিরোধের উপায় এবং এ রোগ থেকে সুরক্ষায় টিকাদানের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। পাশাপাশি নারীদের মধ্যে এ রোগ সম্পর্কে প্রচলিত ভুল ধারণা দূর করা, সময়মতো প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসার নারীদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যঝুঁকি হলেও যথাযথ প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা, সময়মতো পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে এ রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। বিশেষ করে হিউম্যান প্যাপিলোমাভাইরাস (এইচপিভি) সংক্রমণ জরায়ুমুখ ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারণ। এ ক্ষেত্রে এইচপিভি টিকা গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরোধমূলক ভূমিকা পালন করে।
তারা আরও বলেন, জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে শুধু টিকাদানই নয়, বরং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণও অত্যন্ত জরুরি। এ বিষয়ে পরিবার, সমাজ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনকে সম্মিলিতভাবে সচেতনতা তৈরিতে এগিয়ে আসতে হবে।
আয়োজকরা জানান, নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং জরায়ুমুখ ক্যানসার সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানোই এ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য। এ ধরনের উদ্যোগ নারীদের প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণে উৎসাহিত করার পাশাপাশি পরিবার ও সমাজে স্বাস্থ্যসচেতন পরিবেশ গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীদের সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে জরায়ুমুখ ক্যানসার প্রতিরোধে সচেতনতা, টিকাদান এবং নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়ে আরও ব্যাপক উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকলে ক্যানসার প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে।