সোমবার ১৫ জুন ২০২৬, ১ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-১৫ ২৩:৩২:৪৪
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ভারতের নয়াদিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমানকে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় তীব্র অসন্তোষ জানিয়েছে বাংলাদেশ। ঘটনার ব্যাখ্যা জানতে ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ান বঢ়েকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে এ ঘটনাকে ঘিরে কূটনৈতিক পর্যায়ে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদও জানানো হয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে রোববার (১৪ জুন, ২০২৬) সন্ধ্যায় দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে। ইন্ডিয়ান ওশান রিম অ্যাসোসিয়েশনের (আইওআরএ) জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেওয়ার কথা ছিল ডা. জাহেদ উর রহমানের। কিন্তু বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর তাকে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ আড়াই ঘণ্টার বেশি সময় আটকে রাখে। পরে তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন এবং সোমবার (১৫ জুন) দুপুরে ঢাকায় ফিরে আসেন।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, সফরের বিষয়টি আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়েছিল। গত শুক্রবার (১২ জুন) দিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নোট ভার্বালের মাধ্যমে বিষয়টি অবহিত করে। এরপরও বিমানবন্দরে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হওয়ায় ঢাকার মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়।
আজ ১৫ জুন, ২০২৬ সোমবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, “এটা একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক ঘটনা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে এবং যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।”
একই দিনে ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। বৈঠকে ঘটনাটিকে “অগ্রহণযোগ্য” বলে উল্লেখ করে ঢাকার পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানো হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ থাকা সত্ত্বেও একজন সরকারি প্রতিনিধিকে এভাবে আটকে রাখা দুই দেশের কূটনৈতিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
ঘটনাটিকে ঘিরে কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পূর্বনির্ধারিত সফর ও আনুষ্ঠানিক অবহিতকরণ থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের ঘটনা বিরল এবং এটি আঞ্চলিক কূটনৈতিক আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম বলেন, “ঘটনার বিস্তারিত যাচাই করা হচ্ছে। সব তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
এদিকে বাংলাদেশ সরকার বিষয়টি নিয়ে ভারতের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ও প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে। কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে পরিস্থিতি সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম সিএনএন-নিউজ ১৮ জানায়, ইমিগ্রেশন নজরদারি তালিকায় নাম থাকার কারণে জাহেদ উর রহমানকে সাময়িকভাবে থামানো হয়েছিল। যদিও পরে তাকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়, তবে তিনি নিজ সিদ্ধান্তে সফর বাতিল করেন।
বর্তমানে বিষয়টি দুই দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে কূটনৈতিকভাবে অনুসন্ধান ও আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।