শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

একজন আদর্শ শিক্ষক

শিক্ষক মকবুল হোসেন... যে শিক্ষক শ্রেণিকক্ষের চেয়ারে কোনদিনই বসেননি !!!

মকবুল হোসেন টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের মালতী গ্রামে ৩১ ডিসেম্বর ১৯৪৩ সালে জন্মগ্রহণ করেন। পিতার নাম মেন্দু মুন্সী এবং মাতার নাম শুমারী বেগম।

 

তিনি মাধ্যমিক পাস করে নারান্দিয়া টেনুরাম ক্ষেত্রনাথ (টিআরকেএন) উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে করণিকের চাকরি গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে বাংলায় বিএ অনার্স ও এমএ ডিগ্রি লাভ করেন। এরপর একই স্কুলে বাংলার শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হয়ে কর্ম জীবন শেষ করেন। 

 

শিক্ষকতা জীবনে কোনদিন তিনি চেয়ারে বসে ক্লাস নেন নাই। তার অনেক ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। যারা সমাজ ও দেশের বিভিন্ন দপ্তরের উচ্চপদে দায়িত্ব পালন করছেন।

 

মকবুল হোসেন শুধু একজন আদর্শ শিক্ষকই নন, তিনি ছিলেন বহুপ্রতিভার অধিকারী ব্যক্তিত্ব। তিনি শিক্ষকতার পাশপাশি মঞ্চ নাটকেও অভিনয় করতেন। নাটকের জগতে তাকে 'জ্যান্তমানব' ছদ্ম নামেই মানুষ চিনতো।

 

তিনি রসিক মানুষ ছিলেন। সে কারণে তিনি সকলের প্রিয় ব্যক্তি ছিলেন। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন। স্কুল, কলেজ-মাদ্রাসা, মসজিদ, রাস্তাঘাটে বৃক্ষ রোপন, টিউবওয়েল স্থাপন, শিক্ষার্থীদের জামাকাপড় ও ঘড়ি কিনে দিয়েছেন। চাকরি শেষেও তিনি প্রিয় বিদ্যালয়ে ছুটে যেতেন। 

 

২০১১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর মধ্যেই তার জীবনের সকল দেনা পাওনা পরিশোধ করেন। সেদিন অনেক কথাই ডায়েরিতে লিখেছিলেন। তার মধ্যে একটি কবিতা হলো- ঘাটে নৌকা, হাতে বৈঠা আমার যাবার সময় হয়েছে, আমাকে যেতে হবে ভালো থেকো সবাই।

 

১০ জানুয়ারি ২০১১ সালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। পরে তাকে নিজ গ্রামেই সমাহিত করা হয়। 

 

মকবুল হোসেন তিন পুত্র ও তিন কন্যার জনক। বড় ছেলে গণিতের বিএসসি শিক্ষক। মেঝ ছেলে সাংসারিক কাজ করেন। আর ছোট ছেলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। তিন মেয়ে বিবাহিতা। 
 


তারেক রহমানের প্রতি আবেগঘন চিঠি

প্রকাশিত: ২০২৬-০২-১৫ ০৬:২২:৩৫

সর্বশেষ

জনপ্রিয়

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭