রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলের গোপালপুরে জিপিএ-৫ পেয়েও ঘরে ফেরা হলো না রাকিবের

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-৩১ ২০:৪৩:২৭

News Image

মো. নুর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের রাকিবুল ইসলাম (১৮)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির স্বপ্ন নিয়ে ঢাকায় কোচিং করছিল সে। ছেলের ভালো ফলাফলে পরিবারের আনন্দ করার কথা থাকলেও সেই আনন্দ এখন শোকে পরিণত হয়েছে। মুক্তিপণের জন্য অপহরণের পর হত্যার শিকার হয়েছে রাকিব। নিখোঁজের ২০ দিন পর নীলফামারীর ডিমলায় মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।

 

রাকিব গোপালপুর উপজেলার হেমনগর ইউনিয়নের দাদীর আটা গ্রামের কৃষক খাদেমুল ইসলামের ছেলে। সে ঘাটাইল ক্যান্টনমেন্ট কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির প্রস্তুতির জন্য ঢাকার ফার্মগেট এলাকার একটি কোচিং সেন্টারে ভর্তি হয়েছিল।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ফার্মগেট এলাকা থেকে নিখোঁজ হয় রাকিব। পরে অপরিচিত এক যুবক তার বাবার হোয়াটসঅ্যাপে রাকিবের চোখ-মুখ বাঁধা ও নির্যাতনের ছবি পাঠিয়ে ১৬ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। টাকা না দিলে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। ছেলেকে ফিরে পাওয়ার আশায় দরিদ্র কৃষক বাবা খাদেমুল ইসলাম ধারদেনা ও সুদে টাকা সংগ্রহ করে চার লাখ টাকা পাঠান। কিন্তু টাকা পেয়েও রাকিবকে মুক্তি দেওয়া হয়নি।

 

এ ঘটনায় পরিবারের অভিযোগের পর তদন্তে নামে পুলিশ। ঢাকার শুক্রাবাদ এলাকা থেকে মামুন রহমান (২৩) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ছাতনাই ইউনিয়নের বালাপাড়া গ্রামের একটি বাড়ির মাটি খুঁড়ে বস্তাবন্দি অবস্থায় রাকিবের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

 

রাকিবের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘ছেলে জিপিএ-৫ পেয়েছে, এ খবরে আমাদের অনেক আনন্দ হওয়ার কথা ছিল। স্বপ্ন ছিল, ছেলে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়বে, বড় হবে। কিন্তু ছেলের এই সাফল্যের আনন্দটুকুও উপভোগ করতে পারলাম না। মুক্তিপণ দিয়েছিলাম তাকে ফিরে পাওয়ার আশায়। টাকা দিয়েও ছেলেকে জীবিত পেলাম না।’

 

মা জাহুরা বেগম বলেন, ‘ছেলের ভালো ফলাফলে কত স্বপ্ন দেখেছিলাম। ভেবেছিলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ করে একদিন আমাদের মুখ উজ্জ্বল করবে। কিন্তু সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। জিপিএ-৫ পাওয়ার আনন্দের বদলে এখন ছেলেকে হারানোর কষ্ট নিয়ে বেঁচে থাকতে হচ্ছে।’

 

জিপিএ-৫ পাওয়ার পর ছেলেকে নিয়ে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখছিল পরিবার। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই থেমে গেল তার জীবন। ছেলের ফলাফলে আনন্দ করার বদলে এখন তার বাড়িতে চলছে স্বজনদের আহাজারি।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭