রবিবার ১১ অক্টোবর ২০২৬, ২৬ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-১১ ১৮:৩৪:৩৭
মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বাবু, পোরশা (নওগাঁ) প্রতিনিধি:
নওগাঁর পোরশা উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগার ধর্মীয় জ্ঞানচর্চা, নৈতিক শিক্ষা ও বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার এক সম্ভাবনাময় কেন্দ্র হিসেবে নজর কেড়েছে। পাঠাগারে সংরক্ষিত বিভিন্ন ইসলামি বই, পবিত্র কোরআনের তাফসির, হাদিস, ফিকহসহ বিভিন্ন দরসি কেতাব পাঠ ও অধ্যয়নের সুযোগ পাঠকদের জন্য তৈরি করেছে জ্ঞানচর্চার একটি সুন্দর পরিবেশ।

বই মানুষের পরম বন্ধু। বই শুধু জ্ঞানের পরিধিই বাড়ায় না, মানুষের চিন্তাভাবনা, মূল্যবোধ ও মননশীলতা বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষাবিষয়ক বই মানুষের জীবনাচরণে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এ বিবেচনায় পোরশা উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগার স্থানীয় মানুষের জন্য ইসলামি জ্ঞান অর্জন ও অধ্যয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠতে পারে।
সম্প্রতি পাঠাগারটি ঘুরে দেখার সুযোগ হয়। সেখানে সংরক্ষিত বিভিন্ন ইসলামি গ্রন্থ ও দরসি কেতাবের সংগ্রহ এবং বই পড়ার উপযোগী পরিবেশ জ্ঞানপিপাসু মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর মতো। ধর্মীয় বিষয়ে জানার আগ্রহ, বিভিন্ন বিষয়ে অধ্যয়ন এবং জ্ঞান অর্জনের জন্য এমন পাঠাগারের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে বইমুখী করে তোলা এবং তাদের মধ্যে নৈতিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার ক্ষেত্রে এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমান সময়ে প্রযুক্তিনির্ভর জীবনযাত্রার কারণে অনেকের মধ্যেই নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা যাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ডিজিটাল বিনোদনের পাশাপাশি বই পড়ার জন্য সময় বের করা প্রয়োজন। আর সে ক্ষেত্রে মসজিদভিত্তিক পাঠাগার হতে পারে জ্ঞানচর্চা, আত্মশুদ্ধি ও গঠনমূলক সময় কাটানোর একটি কার্যকর মাধ্যম।
পাঠাগারের মতো প্রতিষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত করতে প্রয়োজন বই পড়ায় মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধি, পাঠকবান্ধব পরিবেশ বজায় রাখা এবং নতুন প্রজন্মকে নিয়মিত পাঠাভ্যাসে উৎসাহিত করা। স্থানীয় শিক্ষার্থী, তরুণ ও ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে আগ্রহী ব্যক্তিরা এ ধরনের পাঠাগার থেকে উপকৃত হতে পারেন।
পোরশা উপজেলা মডেল মসজিদ পাঠাগারের এই জ্ঞানচর্চার পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে বই পড়ার সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হোক—এমন প্রত্যাশা সবার। ধর্মীয় জ্ঞানের পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিকতা ও ইতিবাচক জীবনবোধের বিকাশে পাঠাগারটি হয়ে উঠুক আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম সহায়ক প্রতিষ্ঠান।
আসুন, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলি, জ্ঞানের আলোয় নিজেদের সমৃদ্ধ করি এবং একটি সচেতন, মানবিক ও নৈতিক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখি।