বৃহস্পতিবার ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০১ ১৭:৩০:৫৩
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দেশে ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে—তা জানতে চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বিপিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বিপিসিকে সুপারিশ করেছে কমিটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এপ্রিলে জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ সম্পর্কেও বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ওই সংকট অনেকটা কেটে যায়।
তবে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও দাম বাড়ানোর পর কীভাবে সংকট কেটে গেল, তা জানতে চায় কমিটি। এ বিষয়ে বিপিসির দেওয়া তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যায় কমিটি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বিপিসিকে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব
বৈঠকে বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেয় সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও বৈঠকে তুলে ধরে বিপিসি।
এর মধ্যে রয়েছে:
• আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সহনীয় মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসিকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া;
• সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর কমানো অথবা আগের মতো ট্যারিফ ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর নির্ধারণ;
• জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ‘ফুয়েল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠন;
• দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
ভবিষ্যৎ চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীলতায় গুরুত্ব
সংসদীয় কমিটি ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানির চাহিদা কতটা বাড়তে পারে এবং সেই চাহিদা পূরণে বিপিসির সক্ষমতা কতটা—তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সংস্থাটিকে বলা হয়েছে।
কমিটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সংকট বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাস্তবভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।