বৃহস্পতিবার ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০৮ ১৯:৩৩:৫৩
মোঃ কামরুজ্জামান সরকার বাবু, পোরশা (নওগাঁ):
নওগাঁর পোরশা উপজেলার নিতপুর সদরের এক পরিচিত ও বিশ্বস্ত নাম মোঃ মনিরুল ইসলাম মোংলা। একজন সৎ, নিবেদিত ও মানবিক ব্যবসায়ী হিসেবে পুরো এলাকায় তিনি ‘মোংলা ভাই’ নামেই সমধিক পরিচিত। নিতপুর উপজেলা গেটের সামনে অবস্থিত তার 'জামতলা হোটেল' কেবল একটি খাবার দোকান নয়, বরং এলাকার অসহায় ও শ্রমজীবী মানুষের ভরসার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আজ থেকে প্রায় চার দশক আগে ১৯৮৬ সালে মোংলা ভাইয়ের পিতা পোরশা উপজেলায় আসেন। তৎকালীন সময়ে পোরশা থানার পরিচিতি বা জনসমাগম আজকের মতো জাঁকজমকপূর্ণ ছিল না। তিনি নিতপুর সদর ইউনিয়নের প্রধান সড়ক ও উপজেলা গেটের ঠিক সামনে একটি ছোট চায়ের দোকান চালু করেন। ব্যবসা শুরুর সময় দোকানের সামনে তিনি একটি জাম গাছের চারা রোপণ করেছিলেন। কালের পরিক্রমায় সেই জাম গাছটি আজও সজীব হয়ে দাঁড়িয়ে আছে এবং সেই গাছের নামানুসারেই রেস্তোরাঁটি ‘জামতলা হোটেল’ হিসেবে সর্বসাধারণের কাছে পরিচিতি লাভ করে।
পিতার রেখে যাওয়া স্মৃতি ও ব্যবসাকে সম্বল করে মোংলা ভাই আজ বহু অসহায়, গরিব ও এতিম মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এই জামতলা হোটেলকে কেন্দ্র করে বর্তমানে অন্তত ১৪টি পরিবারের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। রেস্তোরাঁটিতে কর্মরত প্রতিজন সদস্যকে দৈনিক ৫০০ টাকা করে মজুরি দেওয়া হয়। এতে করে এসব পরিবারের সদস্যরা সুন্দর ও সচ্ছলভাবে জীবনযাপন করছেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমান বাজারে কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সাধারণ ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের রিজিকের ব্যবস্থা করার ক্ষেত্রে মোংলা ভাইয়ের এই উদ্যোগ অত্যন্ত প্রশংসনীয়। জামতলা হোটেল আজ পোরশার বুকে এক উজ্জ্বল মানবিক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।