বৃহস্পতিবার ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-৩০ ১৮:৫০:২৮
জুয়েল রানা, সখীপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার তরুণ স্বেচ্ছাসেবক মো. আবদুল্লাহ আল কাফি স্বেচ্ছায় ৩১তম বার রক্তদান করে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তিনি সখীপুর ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের বর্তমান সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মুমূর্ষু রোগীদের বিনামূল্যে রক্ত দিয়ে জীবন বাঁচানোর কাজে নিয়োজিত রয়েছেন।
জানা যায়, ২০১৫ সালে প্রথম রক্তদানের মাধ্যমে মানবসেবার এই যাত্রা শুরু করেন কাফি। এরপর থেকে দুর্ঘটনায় আহত, প্রসূতি মা, থ্যালাসেমিয়া, ক্যান্সার, কিডনি রোগীসহ বিভিন্ন সংকটাপন্ন রোগীর প্রয়োজনে নিয়মিত রক্ত দিয়ে আসছেন। কোথাও রক্তের সংকটের খবর পেলেই তিনি দ্রুত হাসপাতালে বা ক্লিনিকে ছুটে যান।
আবদুল্লাহ আল কাফি বলেন, "একজন মানুষের বিপদে আরেকজন মানুষের পাশে দাঁড়ানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রথমবার রক্ত দেওয়ার পর একজন রোগীর সুস্থ হয়ে ওঠা আমাকে অনুপ্রাণিত করেছে। মহান আল্লাহ যতদিন সুস্থ রাখবেন, ততদিন মানুষের প্রয়োজনে রক্তদান করে যাব ইনশাআল্লাহ।"
রক্তগ্রহীতাদের স্বজনরা জানান, প্রয়োজনের মুহূর্তে কাফির রক্তদান তাদের পরিবারের সদস্যদের জীবন বাঁচাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তারা তার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় তরুণ আব্দুস সামাদ বলেন, "কাফি ভাইকে দেখে আমাদের মতো অনেক তরুণ স্বেচ্ছায় রক্তদানে উদ্বুদ্ধ হয়েছে। তিনি শুধু রক্তই দেন না, মানবতার শিক্ষাও দেন।"
আবদুল্লাহ আল কাফির কাছ থেকে নেওয়া রক্তগ্রহীতার স্বামী মোহাম্মদ মোহন মিয়া বললেন, আমার সহধর্মিনীর সিজার অপারেশনের জন্য রক্তের প্রয়োজন পড়েছিল। তখন আত্মীয়-স্বজন পরিবার পরিজনসহ পরিচিত অনেকের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছি রক্তের জন্য কিন্তু পাচ্ছিলাম না বিধায় চিন্তায় পড়ে গিয়েছিলাম। পরবর্তীতে আমার সহধর্মিনীকে রক্ত দিয়ে আব্দুল্লাহ আল কাফি ভাই সহযোগিতা করেছে। আমি সারা জীবন তার এই উপকারের কথা মনে রাখবো। মহান রাব্বুল আলামিন কাফি ভাইয়ের মঙ্গল করুক। কাফি ভাইয়ের জন্য অন্তরের অন্ত:স্থল থেকে দোয়া করি।
সখীপুর ব্লাড ডোনেশন ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ওবায়দুল হক শাওন জানান, ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ক্লাবের সদস্যরা নিয়মিত বিনামূল্যে রক্তদান করে আসছেন। বর্তমান সভাপতি আবদুল্লাহ আল কাফি একাই এ পর্যন্ত ৩১ জন রোগীকে রক্ত দিয়েছেন।
মডার্ন ডক্টরস ক্লিনিকের স্বত্বাধিকারী ও সাবেক সিভিল সার্জন ডা. মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, নিয়মিত রক্তদাতারা সমাজের প্রকৃত মানবসেবক। তাদের স্বেচ্ছায় দেওয়া রক্ত অসংখ্য সংকটাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষা করছে। একজন রক্তদাতা একজন রক্ত গ্রহিতা রোগীকে তিন মাস অন্তর অন্তর নিয়মিত রক্তদান করতে পারেন। রক্তদানকৃত রক্তদাতারা একেকজন মানবিক মানুষ। আমি তাদের সর্বদা মঙ্গল কামনা করছি।
সখীপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান সিকদার মোহাম্মদ ছবুর রেজা বলেন, আবদুল্লাহ আল কাফির মতো মানবিক তরুণদের এমন উদ্যোগ সমাজে অন্যদেরও রক্তদানে উৎসাহিত করবে এবং মানবসেবার চেতনা আরও ছড়িয়ে দেবে।