শুক্রবার ২৪ জুলাই ২০২৬, ৯ শ্রাবণ ১৪৩৩

Logo
Add Image

আলোচিত খবর

অবশেষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ | ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে স্পিকার, ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন

প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২৪ ১৯:০৩:৪৫

News Image

ফাইল ফটো

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে শুক্রবার (২৪ জুলাই, ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। পরে স্পিকার তাঁর পদত্যাগপত্র গ্রহণের কথা জানান।

 

শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, গুরুতর অসুস্থতা এবং বিভিন্ন রোগের কারণে শারীরিক ও মানসিকভাবে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালনে নিজেকে অসমর্থ মনে করায় মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন।

 

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র বঙ্গভবন থেকে তাঁর সামরিক সচিব সংসদ সচিবালয়ে নিয়ে যান। পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতাসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করেন। এর আগে তাঁর হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছিল। সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অটোনোমিক নিউরোপ্যাথি শনাক্ত হওয়ার কথাও পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। এ কারণে মাঝেমধ্যে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন বলেও জানানো হয়।

 

পদত্যাগপত্রে মো. সাহাবুদ্দিন বলেন, এসব রোগের প্রাদুর্ভাব এবং শারীরিক ও মানসিক অসামর্থ্যের কারণে রাষ্ট্রপতির মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তাঁর পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

 

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিলে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

 

তাঁর দায়িত্বকালে দেশের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন ঘটে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। এরপর সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠন এবং পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনসহ দেশের রাজনৈতিক পালাবদলের গুরুত্বপূর্ণ সময় রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে ছিলেন মো. সাহাবুদ্দিন।

 

গণঅভ্যুত্থানের পর বিভিন্ন রাজনৈতিক ও ছাত্র সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবি ওঠে। তাঁকে অপসারণের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সে সময়ের অন্তর্বর্তী সরকার তাঁকে সরানোর কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

 

পরবর্তী সময়ে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় আসে। সরকার পরিবর্তনের পরও রাষ্ট্রপতি হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছিল। সম্প্রতি গণমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু খবরকে কেন্দ্র করে তাঁর পদত্যাগের আলোচনা আরও জোরালো হয়।

 

রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ায় নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার সেই দায়িত্ব পালন করবেন।

 

সংবিধানের ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, মৃত্যু, পদত্যাগ বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭