মঙ্গলবার ২১ জুলাই ২০২৬, ৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২১ ১২:২০:১৮
নিজস্ব প্রতিনিধি:
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) নতুন জারিকৃত বাধ্যতামূলক বদলি নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে টাঙ্গাইল জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী পদে সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহানারা পারভীনকে নিজ জেলায় পদায়ন করা হয়েছে। টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এক ঠিকাদার এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে রোববার (১৯ জুলাই, ২০২৬) লিখিত আবেদন করেছেন। এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন (চলতি দায়িত্ব) সাক্ষরিত অফিস আদেশে ওই বদলি করা হয়।
জানা যায়- গত ২ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের জারিকৃত এক প্রজ্ঞাপনে (স্মারক নং- ৪৬.০০.০০০০.০৩৭.০৫.০০.০০.০৩৬. ২০২৫-(৫৭১)) এলজিইডির মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলি ও পদায়নের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কার্যকর করা হয়। উক্ত প্রজ্ঞাপনের ১(ক) এবং ১(ঙ) অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট আইনী বিধানে বলা হয়েছে- মাঠ পর্যায়ের কোনো গুরুত্বপূর্ণ পদ, বিশেষত ‘নির্বাহী প্রকৌশলী’ পদে কোনো কর্মকর্তাকে কোনো অবস্থাতেই তার নিজ জেলা কিংবা তার স্পাউজের (স্বামী/স্ত্রী) জেলায় পদায়ন বা কর্মরত রাখার কোনো আইনগত সুযোগ নেই।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জাহানারা পারভীন সদ্য পদোন্নতি পেয়ে বদলি আদেশে টাঙ্গাইল জেলায় নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে পদায়িত হন। ২ জুলাইয়ের নতুন পরিপত্র অনুযায়ী তাকে তাৎক্ষণিকভাবে অন্য জেলায় বদলি করার স্পষ্ট বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। কারণ, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর উপজেলায় জাহানারা পারভীন ও তার স্বামী- উভয়েরই নিজ জেলা। অথচ বিদ্যমান রাষ্ট্রীয় নীতিমালা সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে ১৬ জুলাই প্রধান প্রকৌশলী সাক্ষরিত অফিস আদেশে (স্মারক নং-৪৬.০২.০০০০.০০১. ৯৯.১০৯.২১-৭৩১৩, তাং-১৬/০৭/২০২৬ইং) ওই কর্মকর্তাকে তার নিজ জেলাতেই বহাল রেখেছেন- যা প্রশাসনিক অনিয়ম এবং নীতিমালার চরম অবমাননার শামিল। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঠিকাদার মোহাম্মদ আলী স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন (ট্রাকিং নম্বর-০১৯৮২২৮৬৮০১০০০১, তাং-১৯/০৭/২০২৬ইং) করেছে।
স্থানীয় একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, প্রকৌশলী জাহানারা পারভীনের বাড়ি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলার রক্তিপাড়া গ্রামে, তার স্বামী মো. শামছুল বারীও একই গ্রামের আ. আজিজের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ঠিকাদার। লিখিত আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে- মাঠ পর্যায়ের সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী ও আর্থিক ক্ষমতাসম্পন্ন এই পদে নিজ জেলায় আসীন থাকার কারণে ওই কর্মকর্তা স্থানীয় স্বার্থান্বেষী মহলের সাথে যোগসাজশ, আত্মীয়তার প্রভাব এবং ব্যক্তিগত অনুকম্পার বশবর্তী হয়ে দায়িত্ব পালন করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পসমূহে চরম পক্ষপাতিত্ব, স্বজনপ্রীতি ও নানাবিধ প্রশাসনিক ও আর্থিক অনিয়মের ক্ষেত্র প্রস্তুত হয়েছে।
এ বিষয়ে এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী (নির্বাহী প্রকৌশলী) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ জানান, বদলি নিয়মানুযায়ীই হওয়ার কথা- তারপরও যদি কোনো সমস্যা থাকে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।