সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-০৬ ২২:১৬:২০
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান (সি-সেকশন) ডেলিভারি নিরুৎসাহিত করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ লক্ষ্যে দেশের সব বেসরকারি ক্লিনিকে বাধ্যতামূলকভাবে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসব কক্ষ) চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এ নির্দেশনা বাস্তবায়ন না করলে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকের লাইসেন্স বাতিলসহ প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী।
আজ ০৬ জুলাই, ২০২৬ স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, "আগামী শনিবারের মধ্যে বাংলাদেশের সব ক্লিনিকে লেবার রুম (স্বাভাবিক প্রসব কক্ষ) প্রতিষ্ঠা করতে হবে। যারা এ নির্দেশনা মানবে না, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে এবং ক্লিনিক বন্ধ করে দেওয়া হবে।"
তিনি বলেন, দেশে অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজন ছাড়াই সিজারিয়ান অপারেশন করা হচ্ছে, যা মা ও নবজাতকের জন্য অপ্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সুপারিশ অনুযায়ী, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজারিয়ান করা উচিত নয়। তাই স্বাভাবিক প্রসবকে উৎসাহিত করতে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, প্রতিটি ক্লিনিকে মানসম্মত লেবার রুম, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক, ধাত্রী ও নার্স নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রসূতি মায়েদের স্বাভাবিক প্রসবের বিষয়ে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা দিতে হবে।
তিনি জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করবে। যেসব ক্লিনিকে লেবার রুম থাকবে না বা কেবল সিজারিয়ান নির্ভর সেবা দেওয়া হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত সিজারিয়ান মা ও নবজাতকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিলতার কারণ হতে পারে। অন্যদিকে যথাযথ চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা থাকলে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই স্বাভাবিক প্রসব নিরাপদ ও উপকারী।
সরকারের এ উদ্যোগের মাধ্যমে দেশে অপ্রয়োজনীয় সিজারিয়ান কমিয়ে নিরাপদ মাতৃস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নের আশা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।