সোমবার ০৬ জুলাই ২০২৬, ২২ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-০৬ ১৮:৩৫:৩৭
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
পান্তা খেয়ে ঢাকায় যাই, রাতে বাড়ি ফিরতে চাই’—এই স্লোগানে যশোর থেকে সরাসরি ঢাকায় দ্রুত ও সুবিধাজনক রেল যোগাযোগের দাবিতে যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।
সোমবার দুপুর ১টার দিকে যশোর রেলস্টেশনের ১ নম্বর প্ল্যাটফর্মে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন।
কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, যশোরসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে কাঙ্ক্ষিত রেলসেবা থেকে বঞ্চিত। যশোরবাসীর দাবি, ভোরে ট্রেনে ঢাকায় গিয়ে দিনের কাজ শেষে রাতেই যেন বাড়ি ফেরা যায়। এজন্য যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে দ্রুতগামী প্রভাতী ও ফিরতি আন্তঃনগর ট্রেন চালুর দাবি জানান তারা।
বক্তারা আরও বলেন, বেনাপোল স্থলবন্দর, নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল, চৌগাছা, কেশবপুর, মণিরামপুরসহ বৃহত্তর যশোর অঞ্চলের লাখো মানুষ ব্যবসা, চিকিৎসা, শিক্ষা ও জরুরি কাজে নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করেন। কিন্তু সময়োপযোগী রেল যোগাযোগ না থাকায় তাদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। পদ্মা সেতু রেল সংযোগ চালুর পরও যশোরবাসী প্রত্যাশিত সুবিধা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তারা।
অবস্থান কর্মসূচিতে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—যশোর থেকে ঢাকাগামী প্রভাতী আন্তঃনগর ট্রেন চালু, একই দিনে ঢাকা থেকে যশোরে ফেরার সুবিধাজনক ট্রেন চালু, দর্শনা সীমান্ত বা বেনাপোল থেকে যশোর-নড়াইল-ঢাকা রুটে প্রভাতী ট্রেন চালু, দর্শনা সীমান্ত থেকে যশোর-ঢাকা রুটে আরও আন্তঃনগর ট্রেন চালু, সকল আন্তঃনগর ট্রেনে সাধারণ বগি সংযুক্ত করা, দর্শনা-খুলনা-বেনাপোল-যশোর রুটে ডবল রেললাইন চালু এবং বেনাপোল ও দর্শনা থেকে যশোর-ঢাকা রুটের ভাড়া যৌক্তিক করা।
বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে কর্মসূচিতে বক্তব্য রাখেন কমিটির আহ্বায়ক কাওছার আলী। তিনি বলেন, যশোর থেকে ভোরে ঢাকায় যাওয়ার মতো আন্তঃনগর ট্রেন চালু হলে মানুষ সকালে রাজধানীতে গিয়ে প্রয়োজনীয় কাজ শেষে রাতেই বাড়ি ফিরতে পারবেন। দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানানো হলেও তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনের অংশ হিসেবে রেলস্টেশনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যশোরবাসীর যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে সামনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
কর্মসূচিতে আরও উপস্থিত ছিলেন জিল্লুর রহমান বিটু, হাসিনুর রহমান, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু, সায়েদা বানু শিল্পী, মাহবুবুর রহমান মজনু, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যশোরের সাবেক আহ্বায়ক রাশেদ খানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
আয়োজকরা জানান, একই দাবিতে একই সময়ে দর্শনা ও কোটচাঁদপুরেও কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। দাবি আদায়ে জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্মারকলিপি প্রদানসহ ধারাবাহিক কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।