রবিবার ০৭ জুন ২০২৬, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-০৭ ১২:০৮:৪৬
ছবি: সংগৃহিত
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক
আজ ৭ জুন, ২০২৬ রোববার রাজধানীর পল্লবীতে আলোচিত শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় ঘোষণা করা হচ্ছে।
বহুল আলোচিত এ মামলার রায়কে ঘিরে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আদালতে আনা হয়েছে দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে। এদিকে, রামিসার পরিবার দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের দাবি জানিয়েছে।
ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে বেলা ১১টার দিকে রায় ঘোষণার কথা রয়েছে। সকাল থেকেই আদালত প্রাঙ্গণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ট্রাইব্যুনাল ও আশপাশের এলাকায় বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মী, আইনজীবী এবং বিচারপ্রার্থীদের উপস্থিতিতে আদালত এলাকায় ব্যাপক আগ্রহের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।
রায় ঘোষণার আগে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্বপ্না আক্তারকে আদালতে আনা হয়। পরে সকাল ৮টা ৪৫ থেকে ৮টা ৫০ মিনিটের মধ্যে প্রধান আসামি সোহেল রানাকেও হাজির করা হয়। বর্তমানে দুজনকেই আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে।
দেশজুড়ে আলোচিত এ মামলাটি দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এগিয়েছে। গত ৪ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক শেষ হওয়ার পর আদালত রায়ের জন্য রোববার (৭ জুন) দিন ধার্য করেন। এর আগে ১ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ৩ জুন আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা আদালতের কাছে ক্ষমা চান এবং বলেন, “আমাকে মাফ করে দেন। আর আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।” অন্যদিকে স্বপ্না আক্তার নিজেকে নির্দোষ দাবি করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে দাবি করেন, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও উপস্থাপিত আলামতের মাধ্যমে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে। তাই তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড দেওয়া উচিত। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী মুসা কালিমুল্লাহ যুক্তি দেন, ঘটনার সময় সোহেল রানা নেশাগ্রস্ত ছিলেন এবং স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার প্রমাণ নেই। তিনি সোহেলের জন্য যাবজ্জীবন এবং স্বপ্নার ক্ষেত্রে লাশ গুমের অভিযোগে দণ্ডের আবেদন করেন।
রামিসার বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা রায়ের আগে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “আমি আমার রামিসা হত্যার সুষ্ঠু বিচার চাই। বাংলাদেশের আইনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড প্রত্যাশা করি এবং সেই শাস্তি দ্রুত কার্যকর হোক।” তিনি আরও বলেন, “শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু রাষ্ট্র নয়, পরিবার, প্রতিবেশী ও সমাজকেও দায়িত্বশীল হতে হবে। এমন একটি সমাজ চাই, যেখানে আর কোনো বাবা-মায়ের বুক খালি হবে না।”
মামলার নথি অনুযায়ী, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার গত ১৯ মে সকালে বাসা থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, স্বপ্না আক্তার কৌশলে তাকে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। পরে শিশুটিকে খুঁজতে গিয়ে পরিবারের সদস্যরা আসামিদের ফ্ল্যাটে তার জুতা দেখতে পান। দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষ থেকে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং একটি বালতির মধ্যে তার মাথা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা স্বপ্না আক্তার তখন তার স্বামী সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ করেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে।
ঘটনার পর স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় এবং পরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তদন্ত শেষে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছানোয় মামলাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।