শনিবার ২৩ মে ২০২৬, ৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-২৩ ১৫:৫৬:১৮
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোর-খুলনা মহাসড়কে কাভার্ড ভ্যান, ইজিবাইক ও পথচারীর ত্রিমুখী সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় শিশুসহ আরও দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন। শনিবার, ২৩ মে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালি মডেল থানাধীন চাউলিয়া হাইওয়ে তেলপাম্পের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে, ফলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

নিহতরা হলেন— যশোর সদর উপজেলার ঘুনি পূর্বপাড়া এলাকার মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে ইজিবাইক চালক মোহাম্মদ আইয়ুব আলী (৪৩), তিনি মৃত হাসান আলী মোল্লার ছেলে; ঘোড়াগাছা সাহাপাড়া এলাকার বৃষ্টি সাহা (২৪), তিনি সুজন সাহার স্ত্রী, ৫ বছরের ছেলে সৌভিক সাহা এবং চাউলিয়া গ্রামের আনোর আলী (৭০), তিনি মৃত কালু শেখের ছেলে।
আহত হয়েছেন মনিরামপুর উপজেলার মোহনপুর গ্রামের সাজ্জাদ হোসেন (২৮)। তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, আহতের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, খুলনা থেকে যশোরগামী একটি কাভার্ড ভ্যান, ঢাকা মেট্রো-ট ১৮-০৩২৩, দ্রুতগতিতে চাউলিয়া তেলপাম্প এলাকায় পৌঁছালে নিয়ন্ত্রণ হারায়। এ সময় ভ্যানটি প্রথমে একটি ইজিবাইককে ধাক্কা দেয় এবং পরে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা পথচারীকে চাপা দেয়। ত্রিমুখী সংঘর্ষের তীব্রতায় ঘটনাস্থলেই ইজিবাইক চালক আইয়ুব আলী ও যাত্রী বৃষ্টি সাহার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত পথচারী আনোর আলীকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন। খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান। পরে দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যান ও ইজিবাইক রাস্তা থেকে সরিয়ে নিলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, যশোর-খুলনা মহাসড়কে দীর্ঘদিন ধরে বেপরোয়া গতিতে ভারী যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে কাভার্ড ভ্যান ও ট্রাকগুলোর অসতর্ক চালনা এবং অতিরিক্ত গতি প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার কারণ হচ্ছে। তারা মহাসড়কে স্পিডব্রেকার স্থাপন, সিসি ক্যামেরা বসানো এবং হাইওয়ে পুলিশের টহল জোরদারের দাবি জানান।
চাউলিয়া এলাকার ব্যবসায়ী কামরুল ইসলাম বলেন, “এই জায়গাটায় প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা সোজা হওয়ায় গাড়িগুলো খুব জোরে চালায়। একটা স্থায়ী সমাধান দরকার।”
কোতোয়ালি মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুম খান জানান, দুর্ঘটনাকবলিত কাভার্ড ভ্যানটি জব্দ করা হয়েছে। চালক পলাতক রয়েছে, তাকে আটকের চেষ্টা চলছে। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় সড়ক পরিবহন আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
প্রতিদিন সড়কে ঝরছে প্রাণ। একটি দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তিনটি তাজা প্রাণ, এতিম হলো শিশু। মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপের দাবি স্বজনহারা পরিবার ও সচেতন মহলের।