শুক্রবার ০৮ মে ২০২৬, ২৫ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

আইন-আদালত

রাজধানীর শাপলা চত্বরের হত্যাযজ্ঞ মামলায় বিচারের মুখোমুখি মোজাম্মেল বাবু, ফারজানা রুপা

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-০৭ ২৩:৩২:২৩

News Image

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে কথিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এবার নতুন অগ্রগতি এসেছে। এ মামলায় সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুকে আগামী বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১ এর বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। একই প্যানেলের অপর সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আদালতে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই এ নির্দেশ আসে।

 

মামলার শুনানিতে প্রসিকিউশন জানায়, ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনায় তৎকালীন সময়ের ঘটনাপ্রবাহ জনসম্মুখে উপস্থাপন ও প্রচারের ক্ষেত্রে কিছু গণমাধ্যমকর্মীর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাদের দাবি, ওই সময় হেফাজতের সমাবেশকে ঘিরে পরিস্থিতি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, তা ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে ভূমিকা রাখতে পারে।

 

এর আগে একই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পুলিশের সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাসহ একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে ছয়জন আসামি কারাগারে রয়েছেন বলে আদালত সূত্র জানিয়েছে।

 

প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম আদালতে বলেন, “ঘটনার সময় যারা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিলেন এবং যারা গণমাধ্যমে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন, তাদের ভূমিকা তদন্তের আওতায় এসেছে।”

 

মামলাটি এখনো তদন্তাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনাল আগামী ৭ জুন তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা নির্ধারণ করেছে।

 

অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শাপলা চত্বরের ঘটনায় নিহতের তথ্য আড়াল করা এবং ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের বিষয়টিও তদন্তের অংশ। তার ভাষায়, “ঘটনার সময় তথ্য উপস্থাপনে যেসব ভূমিকা ছিল, সেগুলোও বিচারিক প্রক্রিয়ার অংশ হবে।”

 

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে ঘিরে দেশজুড়ে ব্যাপক সহিংসতা ও অভিযান চালানো হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক ও মানবাধিকার অঙ্গনে বিতর্ক চলমান রয়েছে।

 

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সূত্র বলছে, মামলাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচারাধীন থাকায় ধাপে ধাপে বিভিন্ন আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ ও হাজির করার প্রক্রিয়া চলছে।

 

মামলার অগ্রগতি ঘিরে আবারও আলোচনায় এসেছে সেই সময়কার রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণমাধ্যমের ভূমিকা এবং রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন।

 

এদিকে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দীর্ঘদিন পর মামলাটি নতুন করে গতি পাওয়ায় বিচারপ্রক্রিয়া আরও বিস্তৃত হতে পারে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭