বুধবার ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-১৪ ২৩:৩১:৪৯
সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর বিভিন্ন বাজারে বাড়ছে বিভিন্ন ধরনের ফলের দাম। এতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। বিশেষ করে আপেল, কমলা, আঙুর, মাল্টা, ডালিম ও নাশপাতিসহ বিভিন্ন বিদেশি ফল কিনতে গিয়ে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে ক্রেতাদের।
অন্যদিকে, দেশি ফলের দামও অনেক ক্রেতার কাছে তুলনামূলক বেশি মনে হচ্ছে। ফলে পুষ্টিকর খাবারের অন্যতম উৎস ফল কেনার ক্ষেত্রে অনেক পরিবারকে হিসাব করে চলতে হচ্ছে।
সরেজমিনে রায়পুরা উপজেলা মরজাল বাসটেন জহিরের ফলের দোকানে দেখা যায়, ক্রেতারা ফলের দাম জানতে চাইছেন এবং দাম শুনে অনেকেই প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে ফল কিনছেন। কেউ কেউ দাম বেশি হওয়ায় পছন্দের ফল না কিনেই ফিরে যাচ্ছেন। বিশেষ করে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নিয়মিত ফল কেনা দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে।
বাজারে ফল কিনতে আসা রিক্সা চালক মোঃ আল-আমিন জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সামলাতেই তাঁদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। এর মধ্যে ফলের দাম বেড়ে যাওয়ায় পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিকর খাবার কেনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি ও অসুস্থ মানুষের জন্য নিয়মিত ফল কেনার প্রয়োজন থাকলেও বাড়তি দামের কারণে অনেক সময় পরিমাণ কমিয়ে দিতে হচ্ছে।
ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে একই ধরনের ফলের দাম দোকানভেদে ভিন্ন হতে দেখা যায়। কোথাও তুলনামূলক কম দাম চাওয়া হলেও অন্য দোকানে একই ফলের দাম বেশি বলা হচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দামের বিষয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, ফলের বাজারে সঠিক মূল্যতালিকা প্রদর্শন এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা হলে ক্রেতারা কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন বলে জানান মরজাল বাসটেন এর সাধারন মানুষ।
অন্যদিকে, মরজাল বাসটেন এর ফল ব্যবসায়ী জহির সাংবাদ কর্মী রুদ্রকে জানা, পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে ফল কিনতে হলে খুচরা বাজারেও তার প্রভাব পড়ে। তাঁদের দাবি, ফলের ক্রয়মূল্য, পরিবহন খরচ, সংরক্ষণ ব্যয় এবং সেন্ডিকেট এর কারনে খরচ হিসাব করেই বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করতে হয়। এ ছাড়া ফল পচে যাওয়া বা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও ব্যবসায়ীদের বহন করতে হয়। তবে এসব কারণের পাশাপাশি বাজারে ফলের সরবরাহ ও চাহিদার পরিস্থিতিও দামের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
ব্যবসায়ীদের মতে, ফলের বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখতে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা জরুরি। একই সঙ্গে বাজারে প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ নিশ্চিত করা প্রয়োজন, যাতে ক্রেতারা ন্যায্য দামে ফল কিনতে পারেন এটা জানিয়েছেন মরজাল বাজারের ফল ব্যবসায়ীরা।