সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬, ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১০ ১৬:৩৪:১৯
ছবি: সংগৃহিত
টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি নিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
আজ সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।
বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন ঘটনার সময় বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।
হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটাতে সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে কারখানাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। ফলে ভেতরে থাকা বাকি ১৬ জনের কেউ আর বের হতে পারেননি।
প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যান। বাকিরা কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।
নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফরিদ, শুভ, মো. রুবেল প্রামাণিক, সুমন, মো. কলিম উদ্দিন, মো. মোহন, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল রয়েছেন।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।
মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ফলে রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।