বুধবার ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

টাঙ্গাইলের সখীপুরে তৃতীয় শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও হত্যার দায়ে যুবকের ফাঁসির আদেশ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-১৫ ২৩:৩৯:২১

News Image

নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে স্কুলছাত্রী সামিয়া আক্তারকে অপহরণের পর হত্যার দায়ে সাব্বির মিয়া নামে এক যুবককে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছে আদালত। 

 

আজ বুধবার (১৫ জুলাই, ২০২৬) দুপুরে টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আ ন ম ইলিয়াস ওই দণ্ডাদেশ দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত যুবক সাব্বির মিয়া (২১) টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার দাড়িয়াপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে।  

 

টাঙ্গাইলের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, সখীপুরের দাড়িয়াপুর গ্রামের রনজু মিয়ার মেয়ে সামিয়া আক্তার (৯) দাড়িয়াপুর(উত্তর) সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সামিয়া বিগত ২০২৩ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকালে প্রাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার পথে সাব্বির মিয়া তাকে অপহরণ করে পাশের একটি জঙ্গলে নিয়ে যায়। তখন সামিয়া নিজেকে ছাড়িয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুমের উদ্দেশ্যে পাশের একটি ধানক্ষেতের ড্রেনে কাঁদামাটি দিয়ে ঢেকে রাখে। এরপর সাব্বির মিয়া নিজের পরিচয় গোপন রেখে একটি ইমু আইডি থেকে ভয়েস এসএমএস-এর মাধ্যমে সামিয়ার বাবার কাছে পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপন দাবি করে। 

 

এ ঘটনায় পরদিন ৭ সেপ্টেম্বর সামিয়ার বাবা রনজু মিয়া সখীপুর থানায় মামলা করেন। মামলার একদিন পর ৮ সেপ্টম্বর পুলিশ ধানক্ষেতের ড্রেন থেকে সামিয়ার লাশ উদ্ধার করে।  

 

পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২০২৩ সালের ২৮ সেপ্টম্বর সাব্বিরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করে। পরে সাব্বির মিয়া নিজের দোষ স্বীকার করে আদালতে দণ্ডবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। পুলিশ ২০২৪ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি আসামির বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশীট দেয়।  

 

ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট মো. ওমরাও খান দীপু জানান, দীর্ঘদিন সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত স্কুলছাত্রী সামিয়াকে হত্যার দায়ে আসামি সাব্বিরকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদন্ড কার্যকরের নির্দেশ প্রদান ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। 

 

এছাড়া অপহরণের দায়ে আসামিকে ১৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং মুক্তিপনের উদ্দেশ্যে শিশুকে আটক রাখার দায়ে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৩০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সাথে হত্যার পর লাশ গুমের চেষ্টাসহ মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে ফেলায় আসামিকে পাঁচবছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন আদালতের বিচারক। আসামির উপস্থিতিতেই রায় পড়ে শোনান বিচারক। পরে আসামিকে টাঙ্গাইল কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। লোমহর্ষক এ মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭