শনিবার ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-১১ ২০:৩৫:৫৮
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণে দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর যশোরের বেনাপোলে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বন্দরের ৩ নম্বর গেটসংলগ্ন পাঁচটি গুদামে হাঁটুসমান পানি জমে বিভিন্ন ধরনের আমদানি পণ্য পানিতে তলিয়ে যায়। ব্যবসায়ীদের দাবি, এতে কোটি কোটি টাকার পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রতি বর্ষাতেই একই পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের।
বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া টানা বৃষ্টিতে বন্দরের একাধিক শেডে পানি প্রবেশ করে। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানি জমে যাওয়ায় গুদামে সংরক্ষিত বিভিন্ন পণ্য ভিজে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বন্দর কর্তৃপক্ষ পাওয়ার পাম্পের মাধ্যমে পানি অপসারণের চেষ্টা চালালেও অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ ব্যাহত হচ্ছে।
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি আমিনুল হক বলেন, দেশের সবচেয়ে বড় স্থলবন্দরে অপরিকল্পিত অবকাঠামো এবং দুর্বল পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। তিনি বলেন, এই বন্দর থেকে সরকার বছরে হাজার হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করলেও অবকাঠামোগত উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের প্রতি বছর বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।
ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারক আল মামুন জানান, গুদামে পানি ঢুকে বিভিন্ন পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। একদিকে পণ্যের ক্ষতি, অন্যদিকে ডেমারেজ বা অতিরিক্ত সংরক্ষণ ফি পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকশিল্পের কাঁচামাল আমদানিকারকেরা বেশি ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণেরও দাবি জানান।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে অতীতে কমিটি গঠন করা হলেও তার কার্যকর কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। বর্ষা এলেই সাময়িক কিছু উদ্যোগ নেওয়া হলেও স্থায়ী সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এদিকে কাস্টমস ও বন্দর কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজী রতন বলেন, টানা বৃষ্টিতে কয়েকটি গুদামে পানি প্রবেশ করেছে। পানি দ্রুত অপসারণের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টির কারণে কাজ কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, বৃষ্টি কমে গেলে পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর ব্যবহারকারীদের দাবি, দেশের গুরুত্বপূর্ণ এই স্থলবন্দরে আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কার্যকর পানি নিষ্কাশন অবকাঠামো এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের জন্য ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না হলে প্রতি বর্ষায় একই ধরনের ক্ষয়ক্ষতির পুনরাবৃত্তি ঘটতেই থাকবে।