সোমবার ২৫ মে ২০২৬, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-২৫ ২৩:০৫:২৯
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে যশোরের চৌগাছা উপজেলার পাশাপোল ইউনিয়নের বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের আয়োজনে পাঠচক্র, আবৃত্তি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকালে পাঠাগার হলরুমে বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে স্থানীয় শিক্ষক, সংগঠক ও তরুণ পাঠকরা অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পাঠাগারের সভাপতি রওশন আলী। সঞ্চালনা করেন পাঠাগারের সম্পাদক হারুন অর রশিদ মন্টু।
প্রধান অতিথি ছিলেন পাশাপোল আম-জামতলা মডেল কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক মাহামুদুর রহমান। তিনি বলেন, “নজরুল শুধু বিদ্রোহের কবি নন, তিনি প্রেম, সাম্য ও মানবতার কবি। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙার পাশাপাশি তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষকে ভালোবাসার মন্ত্র শিখিয়েছেন। তরুণ প্রজন্মকে নজরুলের অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও দ্রোহের দীপ্তি ধারণ করতে হবে। বর্তমান সময়ে নজরুল চর্চা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাজড়ীয়ালী হাউলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক আব্দুল্লাহ আল মামুন, ইসলামিক ব্যাংক পাশাপোল আউটলেট শাখার ম্যানেজার জুবায়ের হোসেন, পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য নুরুল ইসলাম ও পাঠাগারের গ্রন্থাগারিক হাবিবুর রহমান।
বক্তারা বলেন, গ্রামীণ জনপদে নজরুলকে নিয়ে এমন আয়োজন তরুণদের মনন বিকাশে ভূমিকা রাখবে। নজরুলের সাহিত্যকর্ম পাঠের মাধ্যমে যুবসমাজ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে শিখবে। তারা বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগারের নিয়মিত পাঠচক্র আয়োজনের প্রশংসা করেন এবং এ ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।
আলোচনা পর্ব শেষে অনুষ্ঠিত হয় মনোজ্ঞ আবৃত্তি আসর। পাঠাগারের সদস্য ও স্থানীয় শিক্ষার্থীরা নজরুলের ‘বিদ্রোহী’, ‘মানুষ’, ‘কান্ডারী হুঁশিয়ার’, ‘নারী’সহ বিখ্যাত কবিতা আবৃত্তি করে শোনান। ক্ষুদে আবৃত্তিকারদের কণ্ঠে নজরুলের কবিতা উপস্থিত সবাইকে মুগ্ধ করে।
পাঠচক্রে ‘সঞ্চিতা’ ও ‘অগ্নিবীণা’ থেকে নির্বাচিত কবিতা ও গানের পটভূমি নিয়ে আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা নজরুলের জীবন, সাহিত্য ও সংগীত নিয়ে মতবিনিময় করেন।
সভাপতির বক্তব্যে রওশন আলী বলেন, “বাড়ীয়ালী যুব পাঠাগার শুধু বই ধার দেওয়ার জায়গা নয়, এটি একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের কেন্দ্র। আমরা চাই, আমাদের ছেলেমেয়েরা মোবাইলের আসক্তি ছেড়ে বই ও মননশীল চর্চায় ফিরে আসুক। নজরুলের জন্মবার্ষিকীতে এই আয়োজন তারই অংশ।”
তিনি আরও জানান, পাঠাগারের পক্ষ থেকে নিয়মিত পাঠচক্র, বিতর্ক, চিত্রাঙ্কন ও কুইজ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। গ্রামের তরুণদের জ্ঞানচর্চায় সম্পৃক্ত করাই তাদের মূল লক্ষ্য।
অনুষ্ঠানে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।
a