বুধবার ২০ মে ২০২৬, ৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

যশোরের সব পশুর হাট সিসি ক্যামেরার আওতায় আনার নির্দেশ জেলা প্রশাসকের

প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-১৯ ২৩:৩৪:৩১

News Image

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসানের সভাপতিত্বে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। 

 

সভায় জেলা প্রশাসক বলেন, “যশোর জেলার প্রতিটি পশুর হাট ইজারাদার মালিকদের নিজ খরচে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে হবে।” তিনি জানান, সরকারি তথ্য অনুযায়ী যশোরে মোট ৩১টি পশুর হাট রয়েছে। এর মধ্যে ১০টি স্থানীয় পশুর হাট ইতোমধ্যে সিসি ক্যামেরার আওতায় আছে। বাকি ২১টি হাট, যেগুলো ইজারাদাররা ইজারা নিয়েছেন, সেগুলোতেও বাধ্যতামূলকভাবে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করতে হবে। 

 

কোরবানির পশু জবাই, চামড়া সংরক্ষণ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, “যশোরের সকল মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানাগুলোতে কোরবানির পশু জবাইয়ের প্রস্তুতি, চামড়া সংরক্ষণসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে জুমার নামাজে আলোচনা করতে হবে।” প্রতিটি উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য অপসারণের কাজ শেষ করার নির্দেশনা দেন তিনি। 

 

প্রান্তিক পর্যায়ে মাদ্রাসা, এতিমখানা ও মসজিদগুলোতে চামড়া সংরক্ষণ বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক। 

 

পশুর হাট ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কোরবানির পশুর হাট কোনোভাবেই জাতীয় ও আঞ্চলিক সড়কের পাশে বসানো যাবে না। যানচলাচল ও জনজীবন যাতে বিঘ্নিত না হয়, সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। কোনো অস্থায়ী পশুর হাট স্থাপন করা যাবে না। এর ব্যত্যয় ঘটলে সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
 
ছিনতাই ও জাল টাকার কারবার রোধে পুলিশ এবং বাজার কমিটিকে নিজস্ব ভলেন্টিয়ার নিয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়। জেলা প্রশাসক হুঁশিয়ার করে বলেন, “কোনো প্রকার টোল বা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” 

 

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রতিটি পশু ও চামড়াবাহী গাড়িতে বাধ্যতামূলক ‘মুভমেন্ট ব্যানার’ লাগাতে হবে। এতে পুলিশ বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো হয়রানি করবে না বলে আশ্বস্ত করা হয়। 
 
যশোর সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ায় চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। বর্জ্য অপসারণে হটলাইন চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। চামড়ার গুণগতমান ঠিক থাকলে প্রতি বর্গফুট চামড়ার সরকার নির্ধারিত মূল্য ৬২ টাকা।

 

সভায় যশোর রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, কোরবানির দিন থেকে কয়েক দিন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা যারা বাজারে চামড়া আনা-নেওয়া করবেন, তারা যেন পুলিশি বাধার মুখে না পড়েন। জেলা প্রশাসন এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেয়।  

 

সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, জেলা পর্যায়ে ৭ দিন চামড়া সংরক্ষণ করে এরপর ঢাকার মূল ট্যানারি কারখানাগুলোতে পাঠাতে হবে। তবে আন্তঃবিভাগীয় জেলাসমূহের মোকামে চামড়া বেচা-বিক্রিতে কোনো বাধা থাকবে না। 

 

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমাদের ও সোনালী ব্যাংকের মোট ৫৮টি জাল টাকা শনাক্তকরণ মেশিন আছে। বাজার কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী জনগণের সুবিধার্থে আমরা পশুর হাটে এগুলো ব্যবহার করব। পশুর হাটে চাঁদাবাজি, ছিনতাই ও জাল টাকার কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”  

 

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক সৈয়দ রফিকল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সুজন সরকার, ৪৯ বিজিবির সহকারী পরিচালক সোহেল আল মাহমুদ, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সেলিমুজ্জামান, নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের কর্মকর্তা আব্দুর রহমান, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন।  

 

এছাড়া জেলা রাজার হাট চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক মুমিনুল মুজিদ পলাশ ও বৃহত্তর যশোর চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য আলাউদ্দিন মুকুলসহ ব্যবসায়ী নেতারা সভায় অংশ নেন।  

 

জেলা প্রশাসন জানায়, সুষ্ঠু ও নিরাপদ ঈদুল আজহা উদযাপনে সব পক্ষের সমন্বিত প্রচেষ্টা জরুরি। সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠ পর্যায়ে মনিটরিং জোরদার করা হবে।  
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭