মঙ্গলবার ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৮ ১৫:৫২:৪৯
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রকে একে অপরের পরিপূরক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, আইনের শাসন নিশ্চিত না হলে কোনো দেশই প্রকৃত অর্থে মানবিক ও গণতান্ত্রিক হতে পারে না। রাজধানীর শাহবাগে অনুষ্ঠিত ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল, ২০২৬) শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি ন্যায়বিচার, মানবাধিকার এবং সবার জন্য সমান আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা টেকসই করতে হলে আইন ও ন্যায়বিচারের শাসন প্রতিষ্ঠা জরুরি। তাঁর ভাষায়, “যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।” তিনি আরও দাবি করেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের পর দেশ আবার গণতন্ত্রের পথে অগ্রসর হচ্ছে।
লিগ্যাল এইড ও বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ নিয়ে সরকারের উদ্যোগ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে কেউ যেন ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্যেই সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, “অ্যাক্সেস টু জাস্টিস নিশ্চিত করা প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার।”
তিনি আরও জানান, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিচারপ্রাপ্তির সুযোগ বাড়াতে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার কেবল আদালতের ভেতরের বিষয় নয়, এটি একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনের ভিত্তি।
বক্তব্যে তিনি নিজ অভিজ্ঞতার কথাও তুলে ধরেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তাঁকেও দীর্ঘদিন কারাগারে থাকতে হয়েছে। সেই সময়ে তিনি এমন অনেক মানুষের সঙ্গে পরিচিত হন, যারা শুধু আর্থিক অক্ষমতার কারণে দীর্ঘদিন বিচার না পেয়ে কারাগারে ছিলেন।
তিনি বলেন, এই বাস্তবতা একটি রাষ্ট্রের বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা তুলে ধরে। তাঁর মতে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা না গেলে সমাজে সমতা ও আস্থা প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।
অনুষ্ঠানে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান এবং প্রধানমন্ত্রীর কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানসহ অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা বিচারব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সাধারণ মানুষের আইনি সহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে মত দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সরকারের এ ধরনের বক্তব্য বিচারপ্রাপ্তি সহজ করার রাজনৈতিক অঙ্গীকারকে সামনে আনে, তবে বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জও রয়েছে।