শুক্রবার ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image

ডি-এক্স কর্নার

রেডিও জাপানের N. H. K বাংলা বিভাগ: আমার জীবনের গানের কলি ও স্মৃতির ঠিকানা

প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-০৫ ১২:০১:০৬

News Image

আকবর হায়দার কিরন

আকবর হায়দার কিরন, যুক্তরাষ্ট্র থেকে
শৈশব থেকে শোনা, চিঠি লেখা, রেডিও জাপান লিসনার্স ক্লাব প্রতিষ্ঠা করা, বহু বছর প্রোগ্রাম মনিটর হিসেবে কাজ করা, ইয়ামাদা সানের সাথে শেরাটন হোটেলে বিশেষ সাক্ষাৎকার, ‘সংগীতের তালে তালে’ অনুষ্ঠানে শতবার চিঠির উল্লেখ—এতোকিছু মিলিয়েই রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগ (NHK) আমার কাছে কেবল একটি অনুষ্ঠান নয়, এটি আমার বেড়ে ওঠার, স্বপ্ন দেখার ও ভালোবাসা পাওয়ার জায়গা। যৌবনে যখন ‘সংগীতের তালে তালে’তে আমার প্রতিটি চিঠির উত্তর দিতেন আনোয়ারুল করিম ভাই ও জয়শ্রী চট্টোপাধ্যায় দিদি। আমাকে ‘তুমি’ বলে সম্বোধন করতেন—এই আন্তরিকতা আজও আমাকে তরুণ রাখে। 

 

আনোয়ারুল করিম ভাই বাংলা বিভাগের পত্তন থেকেই ছিলেন। তিনি এখন অবসরপ্রাপ্ত, কিন্তু এখনো টোকিও ও ঢাকায় বসবাস করেন এবং আমার সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখেন। জয়শ্রী দিদি এখন কলকাতায় থাকেন। 

 

আরও মজার কথা, এসএসসি পরীক্ষার আগেই রেডিও জাপানের এক পত্রিকায় আমার সাদা-কালো ছবি ছাপা হয়েছিল। তখনই আমি আরও অনেক শ্রোতা বন্ধু মিলে প্রতিষ্ঠা করি রেডিও জাপান লিসনার্স ক্লাব। পরে বহু বছর এই বাংলা বিভাগের প্রোগ্রাম মনিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করি এবং সম্মাননাও পাই। তখন টাকা জমা হতো আমার জনতা ব্যাংকের ফরেন এক্সচেঞ্জ অ্যাকাউন্টে। পাশাপাশি এনএইচকে থেকে ডাকযোগে আসত বিরাট সাইজের বই—বইগুলোর ওজনের কারণে ডাক হরকরাকে টিপস দিতেও হয়েছে মাঝে মাঝে। বাংলা বিভাগের প্রধান ঢাকায় এলে দেখা-সাক্ষাৎ হতো। 

 

রেডিও বাংলাদেশ থেকে যাঁরা রেডিও জাপানের বাংলা বিভাগের জন্য কাজ করতে টোকিও যেতেন, তাঁরা ছিলেন আমার অনেক চেনাজানা—কারণ আমিও তখন রেডিও বাংলাদেশে অনেক অনুষ্ঠান উপস্থাপন করতাম। স্বাধীন বাংলা বেতারের বাবুল আখতার এই বাংলা বিভাগের জন্য কাজ করেছেন, চিঠি লিখেছিলেন, আর ঢাকায় এলে এলিফ্যান্ট রোডের বাসায় বসে তাঁর সঙ্গে কত গল্প! গোলাম রাব্বানী খান, আবু তাহের, হাসান মীর—তারাও টোকিও গিয়ে বাংলা ভাষার অনুষ্ঠানে কাজ করেছেন। বিখ্যাত লেখক শংকরের ‘এপার বাংলা ওপার বাংলা’ বইতে জালাল আহমেদের গল্পে আছে এই রেডিও জাপানের বাংলা অনুষ্ঠানের স্মৃতি। বছর কয়েক আগে তিনি যখন নিউ ইয়র্ক এসেছিলেন, তখন জ্যাকসন হাইটসে তাঁর সঙ্গে রেডিও জাপান নিয়ে অনেক গল্প করেছিলাম, কেটেছিল অনেক সময়। 

 

আজ ৩ এপ্রিল, রেডিও জাপান বাংলা বিভাগের ৬৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই উপলক্ষে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আর সেইসব মানুষকে আন্তরিক প্রণাম—যাঁরা এই বিভাগকে বাঁচিয়ে রেখেছেন আমার মতো হাজারো মানুষের হৃদয়ে।

 

শুভ ৬৫ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী রেডিও জাপান বাংলা বিভাগ।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭