বুধবার ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-১১ ১১:১৪:৫৯
নিজস্ব প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলে শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের মুঈদ নামে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় জেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত মুঈদ ভূঞাপুরে উপজেলার গোলাবাড়ি গ্রামের সোহেল রানার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, মঙ্গলবার(১০ মার্চ) সকাল সাড়ে ৯টায় শহরের সাবালিয়াস্থ শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভবনের নিচ থেকে মুঈদ নামে ওই শিক্ষার্থীকে অসুস্থ অবস্থায় উদ্ধার করে প্রতিষ্ঠানের এক আয়া হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মুইদকে মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী লুৎফর রহমান জানান, সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে ক্লাস খোলা রাখায় এতবড় ধরনের দুঘর্টনা ঘটেছে।
ইতোপূর্বেও টাঙ্গাইলের একাধিক বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে হত্যাসহ একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও সেগুলো ধামাচাপা পড়েছে। পথচারী রাসেল মিয়া জানান, মুঈদের মৃত্যুর দায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এড়াতে পারে না। কারণ একজন অভিভাবক যখন শিক্ষার্থীকে আবাসিকে রেখে যান, তখন ওই শিক্ষার্থীর দায়ভার প্রতিষ্ঠানের ওপরই বর্তায়। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
মুঈদের মা লায়লা বেগম জানান, তার ছেলে অনেক সময় ফোন করে বলতো, স্কুলের সজীব স্যার ভালো না। সজীব স্যারের কারনে সে মারাও যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করতো। সজিব নামের শিক্ষকও লায়লা বেগমকে ফোন করে মুঈদের বিষয়ে নানা অভিযোগ দিতেন।
শহীদ একাডেমিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান শহীদুল আলম শহীদ জানান, মুঈদের সাথে তার বাবা-মায়ের ঝগড়া হয়েছে। সে আবাসিক থেকে পালাতে গিয়ে ভবনের ছাদ থেকে পড়ে মারা গেছে। তিনি আরও জানান, স্কুল ও আবাসিক বন্ধ রাখলে অভিভাবকরা বেতন দেন না। তাই শিক্ষার্থীদের বেতন তোলার জন্য সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে প্রতিষ্ঠান খোলা রাখা হয়েছে।
টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। মর্গে গিয়ে মরদেহটিও দেখে এসেছেন। ছেলেটির মুখ-মন্ডল থেতলে গিয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।