বৃহস্পতিবার ১৬ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Logo
Add Image

জেলা খবর

জমেছে ঐতিহাসিক ৫০০ বছরের পুরোনো ঘোড়ার হাট, ‘যুবরাজের’ দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ

প্রকাশিত: ২০২৬-০৩-০৮ ১৩:৫৫:৩০

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
ধূসর রঙের ঘোড়াটির নাম যুবরাজ, বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। 

 

৬ ফেব্রুয়ারী শুক্রবার বিকেলে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় ধূসর রঙের ঘোড়াটির নাম যুবরাজ, বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর।  

 

জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী গোপীনাথপুর দোলপূর্ণিমা মেলায় জমে উঠেছে ‘ঘোড়ার হাট’। সেখানে পছন্দের ঘোড়া ঘিরে দর-কষাকষি, হাঁকডাক আর দর্শনার্থীদের ভিড়ে সরগরম পরিবেশ। ৫০০ বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসা এ মেলায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপস্থিতিতে হাটে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য।

 

এবার মেলায় মোটামুটি–সংখ্যক ঘোড়া আনা হয়েছে। তবে দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে একটি ঘোড়া, উঁচু ও লম্বা গড়নের ঘোড়াটির নাম রাখা হয়েছে ‘যুবরাজ’। ভারতীয় তাজি জাতের এই ঘোড়ার দাম হাঁকা হচ্ছে ১১ লাখ টাকা। তবে কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় আজ শুক্রবার সকাল পর্যন্ত সেটি বিক্রি করেননি মালিক।

 

ঘোড়াটির মালিক নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার শাহরিয়ার ইসলাম সাগর। তিনি জানান, ধূসর রঙের ঘোড়াটির বয়স প্রায় সাড়ে পাঁচ বছর। এটি অত্যন্ত দ্রুতগতির এবং বিভিন্ন ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পুরস্কারও পেয়েছে। নিজের তত্ত্বাবধানেই তিনি ঘোড়াটির যত্ন নিয়েছেন। এখন পর্যন্ত ঘোড়াটির সর্বোচ্চ দর উঠেছে সাড়ে ৭ লাখ টাকা। তিনি বলেন, ১০ লাখ টাকা হলে ঘোড়াটি ছেড়ে দেবেন।

 

একাধিক ঘোড়া ব্যবসায়ী ও ক্রেতা জানান, তাঁদের পূর্বপুরুষেরাও এই মেলায় ঘোড়া কেনাবেচা করতেন। সেই পারিবারিক ঐতিহ্য ধরে রাখতেই তাঁরা এখনো এ মেলায় অংশ নেন। তবে আগে ঘোড়দৌড়ের জন্য বিস্তীর্ণ মাঠ থাকলেও এখন তা সংকুচিত হয়ে যাওয়ায় বেচাকেনায় কিছুটা সমস্যা হচ্ছে।

 

তবে দিন দিন ঘোড়ার মেলার জৌলুশ কমে আসছে বলে জানান সেখানে ঘোড়া নিয়ে আসা ব্যবসায়ী ইমদাদুল হক। তিনি বলেন, আগের মতো বিস্তীর্ণ মাঠ না থাকায় ঘোড়দৌড় আয়োজন করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে কেনাবেচাতেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে।

 

দিনাজপুর থেকে ঘোড়া কিনতে আসা সাজু হোসেন বলেন, অন্য বছরের তুলনায় এবার মেলায় ঘোড়ার আমদানি ভালো হয়েছে। তবে ভালো জাতের ঘোড়া খুব বেশি নেই। ভারতীয় তাজি জাতের বড় ঘোড়াটি মেলার প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

গোপীনাথপুর মন্দিরের সেবায়েত রণেন্দ্র কৃষ্ণ প্রিয়া বলেন, প্রতিবছর দোলপূর্ণিমা উপলক্ষে এ মেলা বসে। এবার মেলার ৫১৯তম আয়োজন চলছে ৩ মার্চ থেকে। নির্ধারিত সময় ১৩ দিন হলেও পরিস্থিতি অনুযায়ী সময় বাড়ানো হয়। জয়পুরহাটের জেলা প্রশাসকও মেলা পরিদর্শনে এসেছেন। উত্তরাঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী মেলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।

 

আক্কেলপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা জান্নাত বলেন, গোপীনাথপুরের মেলাটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী। মেলাকে ঘিরে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে আছে।
 

Logo
Logo





Logo

আরো পড়ুন

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭