জুয়েল রানা, সখীপুর প্রতিনিধি, টাঙ্গাইলদর্পণ.কম :

সখীপুরে প্রেমিকা ধর্ষিত হলো প্রেমিকের সামনে ধর্ষণের ভিডিও ধারণ। একজন গ্রেপ্তার।
 
অভিভাবকদের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেমিক-প্রেমিকার বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার দূরে একটি খেলার মাঠে বসে গল্প করছিল। মেয়ের পরিচিত পাঁচ বন্ধু মিলে তিনটি মোটরসাইকেল নিয়ে ওদের জোরপূর্বক তুলে নিয়ে উপজেলার বহেড়াতৈল রেঞ্জের আওতাধীন কাকড়াজান বিটের একটি গহিন বনে ঢোকে। নির্জন ওই বনের একটি খালি জায়গায় প্রেমিক-প্রেমিকাকে ওরা বিবস্ত্র করে চর-থাপ্পর মারে। একে অপরকে জড়িয়ে ধরতে বলে। না ধরায় আবারও চর-থাপ্পর মারে। এক পর্যায়ে ওরা ওদেরকে ধর্ষণে লিপ্ত হতে চাপ দেয়। 

 পরে এক সময় সাদ্দাম হোসেন, মো. জালাল ও আশরাফুল ইসলাম প্রেমিকের সামনেই প্রেমিকাকে ধর্ষণ করে। নজরুল ইসলাম ও আফাজ উদ্দিন ধর্ষণের সুযোগ না পেলেও তাঁরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে এসব ঘটনার ভিডিও ধারণ করে। এক পর্যায়ে ওই প্রেমিক ডাক-চিৎকার শুরু করে। চিৎকারে এক ব্যক্তি টর্চ লাইট নিয়ে এগিয়ে এলে মোটরসাইকেল যোগে ওই পাঁচ বন্ধু পালিয়ে যায়।

এ ঘটনাটি ঘটেছে গত ১১ মার্চ টাঙ্গাইলের সখীপুরের বহেড়াতৈল ইউনিয়নের একটি বনে। বিষয়টি জানাজানি হলে গ্রাম্য সালিসে বিচার হওয়ার চেষ্টা চলে। এক পর্যায়ে কোনো বিচার না পেয়ে গত শনিবার রাতে মেয়েটি বাবা ( আমিনুল ইসলাম) বাদী হয়ে পাঁচজনকে আসামি করে সখীপুর থানায় ধর্ষণ ও পর্ণগ্রাফী আইনে মামলা করেন। সখীপুর থানার পুলিশ গতকাল রোববার সকালে দুই নম্বর আসামি জালালকে (২৫) গ্রেপ্তার করে। পুলিশ জালালের কাছ থেকে ধর্ষণের ও প্রেমিক- প্রেমিকাকে বিবস্ত্র করার ভিডিও উদ্ধার করে। বাকি আসামিদের কাছে আরও ভিডিও রয়েছে বলে পুলিশের কাছ থেকে জানা যায়।

 গ্রেপ্তার হওয়া জালাল থানার হাজতে থেকে জানায়, মেয়েটি আমাদের পাড়ার। সে মাঝে মধ্যেই ওই ছেলেকে নিয়ে মাঠে বসে গল্প করে। আমাদের সঙ্গে প্রেম না করে অন্য গ্রামের ছেলের সঙ্গে প্রেম করায় হিংসাত্মকভাবে তাঁদের জোর করে তুলে নেওয়া হয়।

 মেয়েটির বাবা জানায়, আমার কপাল খারাপ,মেয়ের বাবা হয়ে। লোক লজ্জার ভয়ে কাউকে মুখ দেখাতে পারিনা। এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় জড়িত পশুদের বিচার দাবি করছি।

সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) লুৎফুল কবির বলেন, বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে। মেয়েটিকে রোববার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হযেছে।



Share To:

Tangail Darpan

Post A Comment: