গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ, বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্টে রিট
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়। রিটকারী জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হতে পারে।
১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দেশজুড়ে আয়োজিত ভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ফল ঘোষণা করেন। পরে গেজেটও প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯। ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
রিটে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও সংবিধানে গণভোট আয়োজনের বিধান নেই। “এই গণভোট আয়োজন পুরোপুরি সংবিধান পরিপন্থী”, এমন দাবি তুলে ফল বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণায় অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।
রিটকারী আইনজীবী তৌহিদ বলেন, “জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকলে তার ফলও বৈধ হতে পারে না।” রিটে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।
ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৬ (৩) ধারা অনুযায়ী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।
এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।
জাতীয়
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান, উপনেতা তাহের ও হুইপ নাহিদ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকেলে ১১ দলীয় জোটের সভার পর এই তথ্য জানান জামায়াত আমির। বিরোধীদলীয় উপনেতা হিসেবে দায়িত্ব পাচ্ছেন কুমিল্লা-১১ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং চিফ হুইপের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন নাহিদ ইসলাম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা ও গণভোটের রায়কে সম্মান জানানো সবার দায়িত্ব। সে কারণেই আমরা সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ নিয়েছি।” তিনি বিএনপি শপথ না নিয়ে জুলাইয়ের চেতনা এবং গণভোটের সিদ্ধান্তকে উপেক্ষা ও অবজ্ঞা করেছে বলে মন্তব্য করেন। “তারেক রহমান গণভোটে হ্যাঁ বলার পরও শপথ না নেওয়াকে আমরা দুঃখজনক মনে করি,” যোগ করেন তিনি।
বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদে শপথ না নিয়ে বিএনপি তাদের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। বিএনপির দেয়া ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়। এতে আইনি ও সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।”
সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গাইবান্ধা জেলার জামায়াতের আমির মো. আব্দুল করিম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শিগগিরই ১১ দলীয় জোটের যৌথ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতৃত্বে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান নির্বাচিত হয়েছেন।
জাতীয়
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৪০ জন মন্ত্রী নিয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদ, কে কোন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেলেন?
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিপরিষদে ৪০ জন কখনো পূর্বে কোনো মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি।
আজ মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকেলে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার শপথ গ্রহণ করে। মন্ত্রিসভায় ২৫ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পেয়েছেন।
নতুন মন্ত্রিপরিষদে ২৫ পূর্ণমন্ত্রীর মধ্যে ১৬ জনই নতুন। এদের মধ্যে আছেন এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ড. খলিলুর রহমান, আব্দুল আউয়াল মিন্টু, মিজানুর রহমান মিনু, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, আরিফুল হক চৌধুরী, জহির উদ্দিন স্বপন, মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ইয়াছিন, আফরোজা খানম রিতা, মো. শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, মো. আসাদুজ্জামান, জাকারিয়া তাহের, দীপেন দেওয়ান, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, ফকির মাহবুব আনাম এবং শেখ রবিউল আলম। বাকি ৯ জন পূর্বে মন্ত্রি বা প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে অভিজ্ঞ।
প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়া ২৪ জনের কেউই পূর্বে মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি। প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, মো. শরীফুল আলম, শামা ওবায়েদ ইসলাম, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, কায়সার কামাল, ফরহাদ হোসেন আজাদ, মো. আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট), মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, হাবিবুর রশিদ, মো. রাজীব আহসান, মো. আব্দুল বারী, মীর শাহে আলম, জোনায়েদ সাকি, ইশরাক হোসেন, ফারজানা শারমিন, শেখ ফরিদুল ইসলাম, মো. নুরুল হক নুর, ইয়াসের খান চৌধুরী, এম ইকবাল হোসেইন, এম এ মুহিত, আহম্মদ সোহেল মঞ্জুর, ববি হাজ্জাজ ও আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম।
দপ্তর বণ্টনের ভিত্তিতে নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্বগুলোও চূড়ান্ত হয়েছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়, অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দায়িত্বে আছেন সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় ইকবাল হাসান মাহমুদ, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীর বিক্রম, মহিলা ও শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ড. খলিলুর রহমান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় আব্দুল আউয়াল মিন্টু।
ধর্ম মন্ত্রণালয় পেয়েছেন কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ, ভূমি মন্ত্রণালয় মিজানুর রহমান মিনু, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিতাই রায় চৌধুরী। বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় আরিফুল হক চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় জহির উদ্দিন স্বপন, কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয় মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ।
বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় আফরোজা খানম, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় মো. শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় আসাদুল হাবিব দুলু, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় মো. আসাদুজ্জামান, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত জাকারিয়া তাহের এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় দীপেন দেওয়ান।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নতুন মন্ত্রিপরিষদে ৪০ জন কখনো পূর্বে কোনো মন্ত্রিপরিষদে দায়িত্ব পালন করেননি।
জাতীয়
বুধবার জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানাবেন প্রধানমন্ত্রী, বিকেলে মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠক
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় কাটাবেন।
আগামিকাল বুধবার ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১০টায় তিনি সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর দুপুরে সচিবালয়ে পৌঁছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচিতি এবং মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন। বিকেল ৩টায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে বিশেষ বৈঠক এবং বিকেল ৪টায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে।
আজ মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ পাঠ করান। এই শপথ গ্রহণের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার ও প্রায় দুই যুগ পর বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের যাত্রা শুরু হলো।
শপথ অনুষ্ঠানে চীন, ভারত, পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, মালয়েশিয়া, ব্রুনাই, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মালদ্বীপ ও ভুটানসহ ১৩টি দেশের বিশ্বনেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতি, প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, সংসদ সদস্য, রাজনৈতিক নেতা, তিন বাহিনীর প্রধান, কূটনৈতিক কোরের সদস্য ও উচ্চপদস্থ বেসামরিক ও সামরিক কর্মকর্তারা।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম অফিসকে কেন্দ্র করে সচিবালয়ের তৃতীয় তলায় প্রস্তুতি চলছিল মঙ্গলবার দুপুর থেকে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা প্রধানমন্ত্রীর কক্ষ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে আসবাবপত্র, দেওয়াল ও মেঝে মুছে প্রস্তুত করছেন। এ ফ্লোরে মন্ত্রিসভার বৈঠকের জন্যও কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখানে সন্ধ্যা পর্যন্ত ফুলের টব আনা এবং বিভিন্ন সৌন্দর্য বর্ধন কার্যক্রম চলেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, “নতুন প্রধানমন্ত্রীর প্রথম কর্মদিবস সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পরিচয় এবং প্রথম বৈঠক পরিচালনার মাধ্যমে নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়ায় নতুন গতিশীলতা আনবে। এটি রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রশাসনিক সমন্বয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ হবে।”
নতুন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর প্রথম কর্মদিবসে দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ব্যস্ত সময় কাটাবেন।
জাতীয়
শুল্কমুক্ত গাড়ি ও সরকারি প্লট নেবেন না বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরাও
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোনো ডিউটি-ফ্রি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন না এবং সরকারি বরাদ্দে কোনো প্লটও নেবেন না।
আজ মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকালে জাতীয় সংসদে অনুষ্ঠিত সংসদীয় দলের প্রথম বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন দলের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা। এই সভায় তাঁদের মধ্যে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমান কে সংসদীয় দলের নেতা ও প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, “জনগণের প্রত্যাশা এবং রাজনৈতিক নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে রেখেই এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। আমরা শুল্কমুক্ত সুবিধা গ্রহণ করব না এবং সরকারি প্লটও নেব না।”
এর আগে সকাল পৌনে ১১টার দিকে বিএনপির নবনির্বাচিত এমপিরা শপথ নেন। তবে তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করেননি। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “এ বিষয়ে পদক্ষেপ সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর নেওয়া হবে।”
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানায়, নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের ব্যবহারের জন্য ৪৯টি গাড়ি ইতিমধ্যেই সচিবালয় থেকে সংসদ ভবনে পাঠানো হয়েছে। শপথ গ্রহণের পর মন্ত্রিসভার সদস্যরা এই গাড়ি ব্যবহার করে নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে যাবেন। যেহেতু সংসদ সদস্যরা বর্তমানে সংসদ ভবনে অবস্থান করছেন, তাই নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের বাসায় সরাসরি গাড়ি পাঠানো হবে না।
বিএনপির এই সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক নৈতিকতা ও জনগণের প্রত্যাশাকে সামনে রেখে নেওয়া হয়েছে, যা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তারা কোনো ডিউটি-ফ্রি বা শুল্কমুক্ত গাড়ি ব্যবহার করবেন না এবং সরকারি বরাদ্দে কোনো প্লটও নেবেন না।
জাতীয়
বিএনপি সংস্কার পরিষদে শপথ না নিলে জামায়াতও কোনো শপথ নেবে না: আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ঘিরে শপথ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির। এতে সংসদে যোগদানের আগে রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকালে গণমাধ্যমকে এ কথা জানান সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের। তিনি বলেন, দুপুর ১২টায় তাঁদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের সময় নির্ধারিত রয়েছে এবং তাঁরা সেখানে যাবেন। তবে শর্ত জুড়ে দেন তিনি।
তাহেরের ভাষায়, “বিএনপি যদি সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেন, জামায়াতের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না। কারণ আমরা মনে করি, সংস্কারবিহীন সংসদ অর্থহীন।”
সংসদ সচিবালয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণের প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু এরই মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল জানিয়ে দিয়েছে, তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে না।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়টি সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হলে এবং সংশ্লিষ্ট বিধান নির্ধারিত হলে তবেই সেই শপথের প্রসঙ্গ আসবে। তার আগে এ ধরনের শপথ গ্রহণের সাংবিধানিক ভিত্তি নেই বলে দলটি মনে করে।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে জানিয়েছে, সংস্কার প্রশ্নে আপস না করেই তারা সংসদে যাবে। ফলে বিএনপির সিদ্ধান্তের ওপর এখন জামায়াতের শপথ গ্রহণ নির্ভর করছে।
ত্রয়োদশ সংসদের শপথ ঘিরে এ অবস্থান ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণে কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদকে ঘিরে শপথ প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে। বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ না নিলে জামায়াতে ইসলামীর নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা কোনো শপথই নেবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন দলটির নায়েবে আমির। এতে সংসদে যোগদানের আগে রাজনৈতিক অবস্থান আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
জাতীয়
সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি বিএনপির এমপিরা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর নবনির্বাচিতরা। তবে একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তারা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাই এ শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এএমএম নাসির উদ্দিন বিএনপির সদস্যদের শপথ বাক্য পাঠ করান। শপথ অনুষ্ঠানের আগে দলীয় অবস্থান তুলে ধরেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।
হাতে একটি ফর্ম দেখিয়ে তিনি বলেন, “সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠিত হলে সেটা সংবিধানে আগে ধারণ করতে হবে এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যকে কে শপথ নেওয়াবেন, সেটা বিধান করতে হবে। কোনো এরকম ফর্ম সংবিধানে নেই।”
তিনি আরও বলেন, “এই ফর্মটি তৃতীয় তফসিলে আছে, সাদাটা। এই রকম তখন একটা ফর্ম সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আসবে। সেগুলো সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদে গৃহীত হওয়ার পরে তখন জাতীয় সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিধান করা যাবে বিধায় আমরা এখন সাংবিধানিকভাবে এই পর্যন্ত আমরা এসেছি।”
দলের চেয়ারম্যানের নির্দেশেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, “আমরা সংবিধান মেনে এ পর্যন্ত চলছি, সামনের দিনেও চলবো।”
এর আগে সংসদ সচিবালয় জানিয়েছিল, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রথমে এমপি হিসেবে শপথ নেওয়ার পর সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেবেন। জুলাই জাতীয় সনদ অনুযায়ী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের দায়িত্ব থাকবে এই পরিষদের ওপর।
তবে বিএনপির অবস্থান স্পষ্ট, বিষয়টি আগে সংবিধানে সংশোধনের মাধ্যমে যুক্ত করতে হবে। কে শপথ পাঠ করাবেন, সেটিও নির্ধারণ করতে হবে। এসব প্রক্রিয়া শেষ না হলে পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণের প্রশ্নই আসে না বলে দলটি মনে করছে।
শপথ অনুষ্ঠানে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ডান পাশে ছিলেন খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং বাম পাশে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সামনের সারিতে উপস্থিত ছিলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ড. মঈন খান, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মির্জা আব্বাস, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও আন্দালিভ রহমান পার্থসহ অন্য নেতারা।
প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে শপথ পাঠ করে তারা বলেন, “সংসদ সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ করিতেছি যে, আমি যে কর্তব্যভার গ্রহণ করিতে যাইতেছি, তাহা আইন-অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত পালন করিব; আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব এবং সংসদ-সদস্যরূপে আমার কর্তব্য পালনকে ব্যক্তিগত স্বার্থের দ্বারা প্রভাবিত হইতে দিব না।”
পরে সবাই নিজ নিজ আসনের নাম লিখে শপথপত্রে সই করেন। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নির্বাচিত হয়ে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল এর নবনির্বাচিতরা। তবে একই দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেননি তারা। দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিষয়টি এখনো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়নি, তাই এ শপথ নেওয়ার সাংবিধানিক ভিত্তি নেই।
জাতীয়
শপথ নিলেন তারেক রহমানসহ বিএনপির সংসদ সদস্যরা, বিকেলে প্রধানমন্ত্রীর শপথ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বেলা পৌনে ১১টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে শপথ নেন তারেক রহমানসহ দলটির এমপিরা। শপথের পর তাঁরা শপথপত্রে সই করেন।
শপথ অনুষ্ঠান শুরু হয় পবিত্র কোরআনের সুরা আন নাহলের ৯১ নম্বর আয়াত তেলাওয়াতের মাধ্যমে। রেওয়াজ অনুযায়ী সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে বিএনপির সদস্যদের শপথ আগে পড়ানো হয়। পরে অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা শপথ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিএনপি জোট। বেসরকারি ফলাফলে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বিএনপি পেয়েছে ২০৯টি আসন, অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন। এছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়লাভ করেছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত ফলাফলে বিএনপি জোটের ২১২টি আসনে জয়লাভের তথ্য জানানো হয়।
পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার নতুন এমপিরা প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছ থেকে শপথ নেন। আগের সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী প্রকাশ্যে না থাকায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়। শপথ অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সংসদ সচিব কানিজ মওলা।
শপথ অনুষ্ঠানে দেশি ও বিদেশি অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন। শুরুতে এমপিদের সামনে বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি সংবিধান সংস্কার পরিষদ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।
সূচি অনুযায়ী, শপথের পর বেলা সাড়ে ১১টায় বিএনপির সংসদীয় দলের বৈঠকে তারেক রহমানকে আনুষ্ঠানিকভাবে সংসদ নেতা নির্বাচিত করার কথা রয়েছে। এরপর বিকেল ৪টায় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এর কাছে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ নেবেন। সন্ধ্যায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে নতুন মন্ত্রীদের দফতর বণ্টন ও প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।
সব কিছু ঠিক থাকলে বুধবার ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বসতে পারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন।
জাতীয়
নির্বাচিত নতুন সরকারের শপথ আজ, থাকবেন দেশি-বিদেশি বিশেষ প্রতিনিধিরা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ফলাফলে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শপথের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সরকারের প্রধান হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের (এমপি) শপথগ্রহণ জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে। এই শপথবাক্য পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। এ বিষয় নিশ্চিত করে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, সংসদ সদস্যদের শপথবাক্য পড়াবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
এদিকে আজ বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি
জানা গেছে, শপথ অনুষ্ঠানে কমবেশি ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি যোগ দিতে পারেন। এই হিসাব ধরেই সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি চলে।
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। আসছেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।’
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপি সংসদীয় বোর্ডের সভা করবে। সেখানে সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাই দলটি সরকারগঠন করতে যাচ্ছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে ফলাফলে নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)। তারই ধারাবাহিকতায় আজ শপথের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করতে যাচ্ছে। সরকারের প্রধান হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘একই দিন সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
শপথে অংশ নিচ্ছেন প্রায় ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথি
বিদেশি অতিথিদের মধ্যে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবালসহ দক্ষিণ এশিয়ার পাঁচ দেশের প্রতিনিধিরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন। আসছেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও।
এদিকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দুই দিন পর শনিবার থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও সংসদ সচিবালয় শপথ অনুষ্ঠান আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু করেছে।’
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিনের প্রচলিত রীতি ভেঙে এবার শপথ অনুষ্ঠান বঙ্গভবনের পরিবর্তে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজন করা হচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করছে।
নিয়ম অনুযায়ী, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের পর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনকারী দল বিএনপি সংসদীয় বোর্ডের সভা করবে। সেখানে সংসদীয় নেতা নির্বাচন করা হবে। পরবর্তী সময়ে দলীয় নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক দাবি জানাবেন এবং প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগের আবেদন করবেন। রাষ্ট্রপতি সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন, যিনি পরবর্তী সময়ে মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচন করবেন।
রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে এবং পরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করাবেন।
সংবিধান অনুসারে, গেজেট প্রকাশের তিন দিনের মধ্যে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ করতে হয়।
উল্লেখ্য, শুক্রবার রাতে নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৯টি আসনের মধ্যে ২৯৭টির গেজেট প্রকাশ করেছে। এ নির্বাচনে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে। তাই দলটি সরকারগঠন করতে যাচ্ছে।
জাতীয়
৪৫ জন ঋণখেলাপী প্রার্থীর মধ্যে এমপি নির্বাচিত হয়ে ১১ জন যাচ্ছেন সংসদে
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। তবে চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের দুজনের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। শপথ অনুষ্ঠানেও তারা আমন্ত্রণ পাননি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারে। ফলে যেসব প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সেই স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তাদের এমপি পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অবশ্য পুনঃতপশিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিত করলে বা আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালে সাময়িকভাবে তারা স্বস্তিতে থাকবেন।
মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো নির্বাচন কমিশনে দুটি তালিকা পাঠায়। একটিতে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যটিতে ৩১ জনের নাম ছিল, যারা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছিলেন। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে আরও ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর তপশিল ঘোষণার আগে বলেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও সিআইবিতে খেলাপি দেখানো হবে। তবে আইন পরিবর্তন না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগস্টে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের শনাক্ত করা।” কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।”
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থিতা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আদালত কি তাহলে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ারই যোগ্য নয়, তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন?” তার মতে, এতে জয় পরাজয়ের সমীকরণ বদলে গেছে।
চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম ৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তার ক্ষেত্রেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাকে বলেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ৬, কুমিল্লা ১০, কুমিল্লা ৯, বগুড়া ১, বগুড়া ৫, টাঙ্গাইল ৪, ময়মনসিংহ ৫, মৌলভীবাজার ৪ ও সিলেট ১ আসনের নির্বাচিতদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। অথচ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের অনেক সময় জেলে যেতে দেখা যায়। আর প্রভাবশালীরা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন করা একটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা প্রয়োজন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিজয় এবং আইনি অনিশ্চয়তা মিলিয়ে নতুন সংসদের শুরুতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও প্রশ্নের আবহ।
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। তবে চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের দুজনের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। শপথ অনুষ্ঠানেও তারা আমন্ত্রণ পাননি।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারে। ফলে যেসব প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সেই স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তাদের এমপি পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অবশ্য পুনঃতপশিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিত করলে বা আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালে সাময়িকভাবে তারা স্বস্তিতে থাকবেন।
মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো নির্বাচন কমিশনে দুটি তালিকা পাঠায়। একটিতে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যটিতে ৩১ জনের নাম ছিল, যারা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছিলেন। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে আরও ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।
এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর তপশিল ঘোষণার আগে বলেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও সিআইবিতে খেলাপি দেখানো হবে। তবে আইন পরিবর্তন না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগস্টে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের শনাক্ত করা।” কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।”
সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থিতা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আদালত কি তাহলে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ারই যোগ্য নয়, তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন?” তার মতে, এতে জয় পরাজয়ের সমীকরণ বদলে গেছে।
চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।
চট্টগ্রাম ৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তার ক্ষেত্রেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাকে বলেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”
এ ছাড়া চট্টগ্রাম ৬, কুমিল্লা ১০, কুমিল্লা ৯, বগুড়া ১, বগুড়া ৫, টাঙ্গাইল ৪, ময়মনসিংহ ৫, মৌলভীবাজার ৪ ও সিলেট ১ আসনের নির্বাচিতদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। অথচ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের অনেক সময় জেলে যেতে দেখা যায়। আর প্রভাবশালীরা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।”
বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন করা একটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা প্রয়োজন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিজয় এবং আইনি অনিশ্চয়তা মিলিয়ে নতুন সংসদের শুরুতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও প্রশ্নের আবহ।
রাজনীতি
বিদায়ী সাক্ষাৎ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ও সেনাপ্রধানের
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রেস উইং জানিয়েছে, তেজগাঁওস্থ প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সৌজন্য সাক্ষাতে উভয়ে পারস্পরিক শুভেচ্ছা বিনিময় এবং দায়িত্বকালীন বিভিন্ন বিষয়ে সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেন।
এ সময় প্রধান উপদেষ্টা তার দায়িত্ব পালনকালে বিশেষ করে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়, সেনাবাহিনীর সহযোগিতার জন্য সেনাপ্রধানকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বিদায়ী সাক্ষাৎ করেছেন।
জাতীয়
নোয়াখালী-২ আসনে ধানের শীষে ভোট দেওয়ায় ৩ সন্তানের জননীকে তালাক
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সেনবাগ উপজেলার ২ নং কেশারপাড় ইউনিয়নের স্বামী মোঃ ইদ্রিসের (৪০) এর প্রচন্দের ম্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম (২৭) কে তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় দারুণ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের তিন সন্তান রয়েছে এরা হছ্ছে বিবি মরিয়ম, নাসরিন জাহান মীম ও মোঃ ইসমাইল।
সরেজমিনে জানাগেছে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে (নোয়াখালী ২ সেনবাগ সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনে সেনবাগ উপজেলার ২ নং কেশারপাড় ইউনিয়নের ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন কেশারপাড় আকল আলী মজুমদার বাড়ির মোঃ রফিকের ছেলে মোঃ ইদ্রিস স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী মফিজুর রহমান কাপ পিরিচ মার্কার ভোট করে।
ভোটের দিন স্বামী মোঃ ইদ্রিস স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দেওয়ার জন্য কেন্দ্রে পাঠায়। কিন্তু ফাতেমা কেন্দ্রে গিয়ে কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেন। সে ভোট দিয়ে কেন্দ্রে থেকে বাহির হয়ে বাড়িতে পৌছলে স্বামী তাকে জিজ্ঞেসা করেন কাপ পিরিচ মার্কায় ভোট দিয়েছে কিনা। প্রতি উত্তরে স্ত্রী বলেন না সে ধানের শীষ মার্কায় ভোট দিয়েছে এতে সে স্ত্রীর ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। এরেই মধ্যে ভোট গননা শেষে দেখা যায় কাপ পিরিচ মার্কার প্রাথী পরাজিত হয়।
তিনদিন পর রবিবার সে বাড়িতে ফিরেএলে স্ত্রী সন্ধ্যায় অসুস্থ মেয়েক ডাক্তার দেখানোর জন্য স্বামী মোঃ ইদ্রিসকে সে ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রীকে বলে তুই যাকে ভোট দিয়েছিস ওই বাপদের নিকট থেকে টাকা নিয়ে চিকিৎসা করা। এক পর্যাযে সে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে দেয়। বর্তমানে তালাক প্রাপ্ত স্ত্রী তার পিতার বাড়ি কেশারপাড় ৭নং ওয়ার্ডে অবস্থান করছে। তালাকের বিষয়টি ফাতেমা বেগম নিজে জনকণ্ঠে নিশ্চিত করেন।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মোঃ ইদ্রিসের মুঠোফোনে একাধিক বার ফোন দেওয়া হলেও ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। এ কারণে তান বক্তব্য নেওয়া সম্বভ হয়নি। তবে, সরেজমিনে তার বাড়িতে গেলে ইদ্রিসের পিতা মোঃ রফিক বলেন, ভোট নিয়ে তালাকের ঘটনা ঘটেনি। তবে, তৃতীয় বিয়ে করায় এবং মাদকাসক্ত হয়ে পড়ার কারণে সাংসারিক ঝড়গার জেরে ওই তালাকের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করলে সেনবাগ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি মোঃ আবুল বাশার বিষয় কেউ থানায় অভিযোগ করেননি বলে জানান তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-২ (সেনবাগ-সোনাইমুড়ী আংশিক) আসনের সেনবাগ উপজেলার ২ নং কেশারপাড় ইউনিয়নের স্বামী মোঃ ইদ্রিসের (৪০) এর প্রচন্দের ম্বতন্ত্র প্রার্থীর কাপ-পিরিচ মার্কায় ভোট না দিয়ে বিএনপির ধানের শীষ মার্কায় ভোট দেওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে স্ত্রী তিন সন্তানের জননী ফাতেমা বেগম (২৭) কে তালাক দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
আলোচিত খবর
এবারের নির্বাচনে বিজয়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি আর ১৩ জন শতকোটিপতি: টিআইবি
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বিগত চারটি সংসদের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে কমে গেছে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা। ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য, আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি, আর ১৩ জন শতকোটিপতি।
রাজধানীর ধানমন্ডিতে সংস্থাটির কার্যালয়ে সোমবার সকালে ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রক্রিয়া ও হলফনামাভিত্তিক পর্যবেক্ষণ’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।
টিআইবি’র প্রতিবেদন বলছে, ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশই স্নাতক-স্নাতকোত্তর বা এর উচ্চ ডিগ্রিধারী। তবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সবচেয়ে কম। এছাড়া সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ, প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন (৭০ শতাংশ)। এমনকি সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতার দু’জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, আর নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি উল্লেখ করেছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং দলটির কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেও দলটি নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থানে অনড় ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে । এমনকি দলটি জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা এবং তা প্রতিহত করার আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে নির্বাচন ও নির্বাচনী পরিবেশে দলটির নেতিবাচক ভূমিকা এবং সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। একটি অংশ ভোট বর্জন করে থাকতে পারেন, যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক আকর্ষণের লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলে যোগ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নেন।
ফলে, আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতাকর্মী-সমর্থকেরা ভোট প্রদানসহ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় ছিল। পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের পরিপন্থি আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি মান্য করার অঙ্গীকার করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। এমনকি প্রার্থীরাও তাদের নির্ধারিত খরচের সীমা অতিক্রমের চর্চা অব্যাহত রেখেছে।
টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, প্রচারণা ব্যয়ের সীমা অনলাইন ও অফলাইন একক ও যৌথভাবে ব্যাপক লঙ্ঘিত হয়েছে। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক। অফলাইন বা প্রত্যক্ষ প্রচারণা ব্যয় লঙ্ঘন হয়েছে নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে বিএনপি (৩২৭ দশমিক ৫ শতাংশ), স্বতন্ত্র (৩১৫ দশমিক ২ শতাংশ), জামায়াত (১৫৯ দশমিক ১ শতাংশ), জাতীয় পার্টি (১২৮ দশমিক ৬ শতাংশ) ও এনপিপি (১৯ দশমিক শূন্য শতাংশ)।
টিআইবির মতে, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনে পরিপূর্ণ সফল হয়নি। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অনেকের মধ্যে ‘বিজয়ী হতেই হবে’ এই চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন নির্বাচন করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।
বিগত চারটি সংসদের তুলনায় এবারই সবচেয়ে বেশি শিক্ষক সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তবে সবচেয়ে কমে গেছে পেশায় রাজনীতিবিদের সংখ্যা। ৭৯ দশমিক ৪৬ শতাংশ কোটিপতি সংসদ সদস্য, আর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের বর্তমান মূল্য অনুযায়ী ২৩৬ জন সংসদ সদস্য কোটিপতি, আর ১৩ জন শতকোটিপতি।
টিআইবি’র প্রতিবেদন বলছে, ত্রয়োদশ সংসদের ৮৪ দশমিক ৮৩ শতাংশই স্নাতক-স্নাতকোত্তর বা এর উচ্চ ডিগ্রিধারী। তবে সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব মাত্র ২ দশমিক ৩৬ শতাংশ, যা ২০০৮ সালের নবম সংসদের অর্ধেক এবং সবচেয়ে কম। এছাড়া সংসদ অপেক্ষাকৃত তরুণ, প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন ২০৯ জন (৭০ শতাংশ)। এমনকি সম্ভাব্য সংসদ নেতা ও বিরোধী দলীয় নেতার দু’জনই প্রথমবারের মতো সংসদে যাচ্ছেন। অন্যদিকে এবারের সংসদেও ব্যবসায়ী পেশার প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি প্রায় ৬০ শতাংশ, যদিও দ্বাদশ সংসদের তুলনায় ত্রয়োদশ সংসদে ব্যবসায়ীদের সংখ্যা ৫ শতাংশ কমেছে, আর নবম সংসদের তুলনায় ৩ শতাংশ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে টিআইবি উল্লেখ করেছে, ত্রয়োদশ সংসদের অর্ধেক সংসদ সদস্যই দায় বা ঋণ রয়েছে, সদস্যদের মোট দায় বা ঋণের পরিমাণ ১১ হাজার ৩৫৬ কোটি টাকা। যা বিগত চার সংসদের তুলনায় সর্বোচ্চ। দলগতভাবে বিএনপিতে এই হার ৬২ শতাংশ এবং জামায়াতে ইসলামীতে ১৬ শতাংশ।
এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের নিবন্ধন স্থগিত এবং দলটির কার্যক্রম ও ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেও দলটি নির্বাচনের বিরুদ্ধে অবস্থানে অনড় ছিল বলে সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে । এমনকি দলটি জুলাই অভ্যুত্থান ও অন্তর্বর্তী সরকারকে অবৈধ ও ষড়যন্ত্রমূলক বলে উল্লেখ করেছে বলেও উল্লেখ করা হয় প্রতিবেদনে।
এতে বলা হয়, আওয়ামী লীগ দলীয়ভাবে নির্বাচনকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অবৈধ ঘোষণা এবং তা প্রতিহত করার আহ্বান জানায়। একইসঙ্গে নির্বাচন ও নির্বাচনী পরিবেশে দলটির নেতিবাচক ভূমিকা এবং সক্রিয় উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
তবে প্রাতিষ্ঠানিক অবস্থানের বিপরীতে মাঠপর্যায়ে আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের একটি অংশ ভোটার হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেন। একটি অংশ ভোট বর্জন করে থাকতে পারেন, যা সাধারণ ভোটারদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য বলে জানিয়েছে টিআইবি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক আকর্ষণের লক্ষ্যে নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রভাবশালী রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে প্রতিযোগিতা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াত জোট, জাতীয় পার্টিসহ বিভিন্ন দল ও প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। এতে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাও সাড়া দেন। অনেক ক্ষেত্রে তারা নির্বাচনে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দলে যোগ দিয়ে প্রচারণায় অংশ নেন।
ফলে, আওয়ামী লীগ একদিকে দল হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনের বিরোধিতা করলেও অন্যদিকে অনানুষ্ঠানিকভাবে দলটির নেতাকর্মী-সমর্থকেরা ভোট প্রদানসহ রাজনৈতিক অধিকার প্রয়োগ করেছেন। উভয় ক্ষেত্রেই দলটির প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভূমিকা ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচন আয়োজনে সম্পৃক্ত সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ করে, প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের একাংশের মধ্যে সুস্থ ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতে ব্যাপক অনিয়ম ও নিষ্ক্রিয়তা লক্ষণীয় ছিল। পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি প্রতিপালনে রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের নির্বাচন কমিশনকে অসহযোগিতার মনোভাবও প্রকাশ পেয়েছে। রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অনেকের ক্ষেত্রে সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিতের মূল্যবোধের পরিপন্থি আচরণ ক্রমাগত দৃশ্যমান হয়েছে। এছাড়া নির্বাচনি আচরণবিধি মান্য করার অঙ্গীকার করলেও প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো সেই অঙ্গীকার রক্ষা করেনি। এমনকি প্রার্থীরাও তাদের নির্ধারিত খরচের সীমা অতিক্রমের চর্চা অব্যাহত রেখেছে।
টিআইবি আরও উল্লেখ করেছে, প্রচারণা ব্যয়ের সীমা অনলাইন ও অফলাইন একক ও যৌথভাবে ব্যাপক লঙ্ঘিত হয়েছে। শীর্ষ দুই দল বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীদের ক্ষেত্রে এই লঙ্ঘনের মাত্রা সর্বাধিক। অফলাইন বা প্রত্যক্ষ প্রচারণা ব্যয় লঙ্ঘন হয়েছে নির্ধারিত সীমার তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ থেকে ৩২৮ শতাংশ। এ ক্ষেত্রে শীর্ষে বিএনপি (৩২৭ দশমিক ৫ শতাংশ), স্বতন্ত্র (৩১৫ দশমিক ২ শতাংশ), জামায়াত (১৫৯ দশমিক ১ শতাংশ), জাতীয় পার্টি (১২৮ দশমিক ৬ শতাংশ) ও এনপিপি (১৯ দশমিক শূন্য শতাংশ)।
টিআইবির মতে, সার্বিকভাবে নির্বাচন গ্রহণযোগ্য মাত্রায় সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক, প্রতিযোগিতামূলক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক হলেও নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বী দল ও প্রার্থীরা অনেক ক্ষেত্রে আচরণবিধি প্রতিপালনে পরিপূর্ণ সফল হয়নি। কর্তৃত্ববাদী সরকারের পতন হলেও রাজনৈতিক দল এবং প্রার্থীদের অনেকের মধ্যে ‘বিজয়ী হতেই হবে’ এই চর্চা অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণের জন্য মোট ৩০০টি সংসদীয় আসনের মধ্যে প্রতিনিধিত্বশীল নমুনায়ন পদ্ধতিতে দৈবচয়নের ভিত্তিতে ৭০টি আসন নির্বাচন করে পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়।
আলোচিত খবর
সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না জামায়াতের এমপিরা: শিশির মনির
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সরকারি কোনো প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জামায়াতের নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।
শিশির মনির পোস্টে উল্লেখ করেন, “পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়গণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।”
মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নেওয়া আগের সিদ্ধান্তের আলোকেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে সিলেটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চালাবেন না।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সরকারি কোনো প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজনীতি
রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় বন্ধের আদেশ স্থগিত
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সোমবার এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার অনীক আর হক। তাকে সহযোগিতা করেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারিয়া তানজিমা।
এর আগে রোববার ১৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ পুরো রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে নির্দেশ দেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মো. ইলিয়াস আলী মন্ডল, অ্যাডভোকেট তানজিনা ববি লিজা।তার আগে রমজান মাসে স্কুল বন্ধ রাখার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. ইলিয়াছ আলী মন্ডল হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ রিট দায়ের করেন।
গত ৫ জানুয়ারি পবিত্র রমজানে স্কুল বন্ধ রাখতে সরকারকে আইনি নোটিশ দেন সুপ্রিম কোর্টের ওই আইনজীবী।
রমজান মাসে সরকারি-বেসরকারি নিম্ন মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক স্কুল বন্ধ রাখতে হাইকোর্টের দেওয়া আদেশ স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত। আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সোমবার এ আদেশ দেন।
জাতীয়
অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতে নিয়োগে কোন দুর্নীতি হয়নি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’-তে পুলিশ অধিদপ্তর আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে কোনো দুর্নীতি হয়নি।
মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, “নিয়োগে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে সম্পন্ন করা হয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। নিয়োগের ক্ষেত্রে অন্তত আমার দপ্তর থেকে কোনো ধরনের তদবির করা হয়নি তা হলফ করে বলতে পারি।”
‘সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যা ব, আনসার, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিরপেক্ষ, দায়িত্বশীল ও অনন্য ভূমিকার কারণে জাতীয় নির্বাচন প্রশংসিত হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের নির্বাচনের ইতিহাসে রোল মডেল হয়ে থাকবে যা দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে। সেজন্য আমি পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি’-উল্লেখ করেন তিনি।
এ সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রোববার অনুষ্ঠিত বিশেষ কেবিনেট বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দায়িত্বশীল ভূমিকার অকুণ্ঠ প্রশংসা করেছেন তিনি।
জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী আরও যোগ করে বলেন, “২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পুলিশ যে অবস্থায় নিপতিত হয়েছিল, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পুলিশের অবস্থান আজ যথেষ্ট সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে। সেজন্য সন্তোষ প্রকাশ করেন ও পুলিশের এ সম্মানজনক অবস্থানকে আরও উন্নীত করতে সচেষ্ট হওয়ার জন্য উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সোমবার পুলিশ সদরদপ্তরে ‘হল অব ইন্টেগ্রিটি’-তে পুলিশ অধিদপ্তর আয়োজিত বিদায়ী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য নিয়োগে কোনো দুর্নীতি হয়নি।
জাতীয়
বগুড়া-৬ আসন ছেড়ে দিলেন তারেক রহমান, শূণ্য ঘোষণা করে ইসির গেজেট
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনে জয়ী হয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, তিনি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আজ সোমবার ইসি সচিবালয় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ আজ সোমবার সন্ধ্যায় স্বাক্ষরিত গেজেটে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তারেক রহমান সংবিধানের বিধান অনুযায়ী দুটি আসনের মধ্যে ঢাকা-১৭ আসনটি রাখার পক্ষে ইসিতে ঘোষণাপত্র দিয়েছেন। এর ফলে সোমবার থেকেই বগুড়া-৬ আসনটি আনুষ্ঠানিকভাবে শূন্য বলে গণ্য হবে।
তারেক রহমান গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ঢাকার গুলশান-বনানী এলাকা নিয়ে গঠিত ঢাকা-১৭ এবং তার পৈতৃক এলাকা বগুড়া-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, একজন প্রার্থী একাধিক আসনে জয়ী হলেও তাকে শপথ নেওয়ার আগে একটি নির্দিষ্ট আসন বেছে নিয়ে বাকি আসনগুলো ছেড়ে দিতে হয়। আগামীকাল মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে, যেখানে তারেক রহমান ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ এবং ঢাকা-১৭ আসনে জয়ী হয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, তিনি ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করেছেন। এর প্রেক্ষিতে আজ সোমবার ইসি সচিবালয় বগুড়া-৬ আসনটি শূন্য ঘোষণা করে আনুষ্ঠানিক গেজেট প্রকাশ করেছে।
জাতীয়
ছাত্র-জনতার অনুরোধে দায়িত্ব নিয়েছিলাম—আজ বিদায় নিচ্ছি: প্রধান উপদেষ্টা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বললেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার অনুরোধে ১৮ মাস আগে আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এখন আমার যাওয়ার পালা।”
ভাষণে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আজ বিদায়ের দিনে ৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে আপনাদের কিছু কথা বলবো। কী মহামুক্তির দিন ছিল সেদিনটি! সে কী আনন্দের দিন! বাংলাদেশিরা দেশে-বিদেশে যে যেখানে ছিল আনন্দে চোখের পানি ফেলেছিল। দৈত্যের গ্রাস থেকে তরুণ ছাত্রছাত্রীরা দেশকে বের করে এনেছে। দেশ মুক্ত হয়েছে। কিন্তু দেশ সম্পূর্ণ অচল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে সেটা ছিল সবার মনে।”
‘অভ্যুত্থানের ছাত্রনেতারা ঠিক করলো দেশকে সচল করার জন্য একটি সরকার লাগবে। সরকার গঠন ও চালাবার জন্য তারা আমাকে খবর দিলো। আমি তখন বিদেশে। আমি দায়িত্ব নিতে রাজি না। তারা জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের কথা বলে আমাকে রাজি করালো। ১৮ মাস পর এখন আমার যাওয়ার পালা। আমি আজ আমার কাজ হতে বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি’-উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “আমাদের প্রথম কাজ ছিল দেশকে সচল করা। এটা ছিল সবচাইতে কঠিন কাজ। যারা দেশকে লুটেপুটে খেত তারাই দেশের এই যন্ত্র চালাতো। তাদের একান্ত অনুগত লোক নিয়ে অভ্যুত্থানের সঙ্গে সঙ্গে সবাই পালিয়েছে। বড় কর্তা পালিয়েছে। মাঝারি কর্তা পালিয়েছে। অন্যরা ভোল পাল্টিয়েছে। অথবা আত্মগোপনে চলে গেছে। কেউ নানাজনের সুপারিশ নিয়ে আসছে তারা অভ্যুত্থানের গোপন সৈনিক ইত্যাদি।
সরকারের ভেতরে যারা পালিয়ে যায়নি তাদের মধ্যে কাকে বিশ্বাস করবেন, কাকে করবেন না- এটি মহাসংকট হয়ে দাঁড়াল। যতই মৃতদেহের, অঙ্গপ্রত্যঙ্গহীন দেহের সন্ধান আসছিল ততই তারা চিহ্নিত হচ্ছিল। সেই থেকে ১৮ মাস চলে গেছে। অবশেষে ১২ ফেব্রুয়ারি আসলো। দেড় যুগ পর দেশে একটি জাতীয় নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য সর্বসম্মত জুলাই সনদের ওপর গণভোট অনুষ্ঠান হলো। এই নির্বাচনে উৎসবমুখর পরিবেশ, দেশের সর্বত্র একটা ঈদের পরিবেশ ছিল যা আমাদের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।”
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এই প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনে যারা জয়ী হয়েছেন তাদের আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। যারা পরাজিত হয়েছেন তাদেরও আমি অভিনন্দন জানাচ্ছি। হারজিতই হলো গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও মোট ভোটের অর্ধেক পেয়েছেন। যারা জয়ী হতে পারেননি তারা এই জেনে আশ্বস্ত হবেন যে প্রায় অর্ধেক ভোটার আপনাদের ওপর আস্থা রেখেছে। আগামী দিন নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করবে- এর মাধ্যমে আমাদের ১৮ মাসের দায়িত্বের সমাপ্তি হবে।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “এই নির্বাচন কেবল একটি ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া নয়- এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার নতুন অভিযাত্রার সূচনা। নতুন বাংলাদেশের জন্ম। এই অর্জনের পেছনে যারা ছিলেন- জুলাইয়ে রাস্তায় নেমে আসা প্রতিবাদকারী তরুণ-তরুণীরা, সেই সাহসী মানুষগুলো, শহীদ ও আহতরা- তাদের প্রতি আমি গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। তাদের অভূতপূর্ব ত্যাগ ছাড়া এই পরিবর্তন সম্ভব হতো না। এই প্রক্রিয়া সফল করতে দেশের আবালবৃদ্ধবণিতা সকলেই সহযোগিতা করেছেন।
প্রাতিষ্ঠানিক দিক থেকে দেশের রাজনৈতিক দলসমূহ, নির্বাচন কমিশন, সকল আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশাসনের প্রতিটি স্তরের সদস্যরা আন্তরিক সহযোগিতা করেছেন। আপনাদের প্রতি আমার আন্তরিক কৃতজ্ঞতা রইলো। আপনাদের ধৈর্য, পেশাদারিত্ব ও আস্থার ওপর ভর করেই এই পথচলা সম্ভব হয়েছে।”
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সোমবার রাত সোয়া ৯টার দিকে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে বললেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর ছাত্র-জনতার অনুরোধে ১৮ মাস আগে আমি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছিলাম। এখন আমার যাওয়ার পালা।”
জাতীয়
শপথ অনুষ্ঠানে ঢাকায় আসছেন এশিয়ার ৬ দেশের প্রতিনিধিরা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)। এবার শপথ নেওয়ার পালা।
তথ্যনুযায়ী, এই শপথে অংশ নিতে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের সিনিয়র মন্ত্রী আহসান ইকবাল (পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগের ফেডারেল মন্ত্রী) ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগেসহ দক্ষিণ এশিয়ার ৬ দেশের প্রতিনিধিরা ঢাকায় আসছেন। মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় এই শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে ঢাকায় আসছেন যুক্তরাজ্যের ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রাও।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) চ্যা নেল ২৪ কে জানিয়েছেন, আমন্ত্রণ পাওয়া আরও একাধিক দেশের অংশগ্রহণের বিষয়টি পরে নিশ্চিত হতে পারে।
এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানান, “ভারতের পক্ষ থেকে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে দেশটির লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি অংশ নেবেন। ভুটানের পক্ষে অংশ নেবেন সেই দেশের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে। পাকিস্তানের পক্ষে মন্ত্রিসভার এক জ্যেষ্ঠ সদস্য আহসান ইকবাল, তিনি মূলত দেশটির পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও বিশেষ উদ্যোগের ফেডারেল মন্ত্রী। এ ছাড়া, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দা শর্মা, মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ খলিল ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নালিন্দা জয়াতিসা অংশ নিতে যাচ্ছেন।”
তবে কূটনৈতিক একটি সূত্র আভাস দিয়েছে, শেষ মুহুর্তে মালদ্বীপের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ খলিলের পরিবর্তে সেই দেশের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু অংশ নিতে পারেন।
বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস গত শনিবার চীন, ভারত, পাকিস্তানসহ ১৩ দেশের সরকার প্রধানকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। আগামী মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্ব গঠিত নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদি দল (বিএনপি)। এবার শপথ নেওয়ার পালা।
জাতীয়
শপথ অনুষ্ঠানে উপদেষ্টারা যাবেন পতাকাবাহী গাড়িতে, ফেরার পথে থাকছে না জাতীয় পতাকা
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে করে যাবেন। তবে শপথ শেষে ফেরার সময় সেই গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না।
রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এ তথ্য জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদের শেষ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টাদের শপথসংক্রান্ত প্রটোকল তুলে ধরেন প্রেস সচিব।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা যারা, তারা শপথের দিন উপস্থিত থাকবেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। শপথ শেষ হলে একই গাড়িতে বাসায় ফিরবেন, তবে তখন গাড়িতে পতাকা থাকবে না।”
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, “তাঁরা সবাই দেশেই আছেন। তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেবেন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনের পর আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পতাকাবাহী গাড়িতে যাওয়া এবং পতাকা ছাড়া ফেরা প্রতীকীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রটোকল নির্দেশ করে। এটি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে জাতীয় পতাকাবাহী গাড়িতে করে যাবেন। তবে শপথ শেষে ফেরার সময় সেই গাড়িতে আর জাতীয় পতাকা থাকবে না।
তিনি বলেন, “উপদেষ্টা যারা, তারা শপথের দিন উপস্থিত থাকবেন। শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পতাকাবাহী গাড়িতে যাবেন। শপথ শেষ হলে একই গাড়িতে বাসায় ফিরবেন, তবে তখন গাড়িতে পতাকা থাকবে না।”
ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের দেশত্যাগের প্রসঙ্গ টেনে এক প্রশ্নের উত্তরে শফিকুল আলম বলেন, “তাঁরা সবাই দেশেই আছেন। তাঁরা দেশের গর্বিত সন্তান। ভবিষ্যতে দেশকে এগিয়ে নিতে তাঁরা সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা দেবেন।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। দেড় বছর দায়িত্ব পালনের পর গত বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নির্বাচনের পর আগামী মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। ওই অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে অন্তর্বর্তী সরকারের দায়িত্বকাল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পতাকাবাহী গাড়িতে যাওয়া এবং পতাকা ছাড়া ফেরা প্রতীকীভাবে দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রটোকল নির্দেশ করে। এটি ক্ষমতার ধারাবাহিকতা ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।






















































