টাঙ্গাইলদর্পন.কম নিউজ ডেস্ক :

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রেসক্রিপশনের প্রেক্ষিতে তৎকালিন বিএনপি সরকারের জনবান্ধব রেলকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্ত ছিল দেশের জন্য আত্মঘাতী।


তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, রেল বন্ধ করে দেওয়া, আমাদের দেশের জন্য একটা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত ছিল। একটা দেশের যোগোযোগের জন্য রেলপথ, সড়ক পথ এবং নৌপথ এবং সেই সাথে বিমান- সবগুলো পথই চালু থাকা দরকার।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কোন এক আন্তর্জাতিক সংস্থার নির্দেশনা ছিল যে, যেটা লাভজনক নয় তা বন্ধ করে দেয়ার। সেই নির্দেশনায় বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে রেল যোগাযোগটাকেই সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়ার জন্য অনেকগুলো রেললাইন এবং রেল স্টেশন বন্ধ করে দেয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ বেলা সাড়ে ১১টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে কুড়িগ্রাম-ঢাকা-কুড়িগ্রাম রুটে নতুন আন্তঃনগর ট্রেন ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেসে’র আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনকালে প্রদত্ত ভাষণে একথা বলেন।

তিনি একই সঙ্গে রংপুর এক্সপ্রেস ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপনেরও উদ্বোধন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অত্যন্ত দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ হলো এদেশের সাধারণ এবং মধ্যবিত্তের অন্যতম একটি চলাচলের মাধ্যম। যারা ক্ষমতায় ছিল (বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার) তারা রেলকে ধ্বংসের এবং একে বন্ধ করে দেয়ার পরিকল্পনা করেছিল।

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই সিলেট এবং চট্টগ্রামে দু’টি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর চালুসহ রেলকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা প্রহণ করে।
তিনি বলেন, ‘রেল যোগাযোগটা যাতে আরো উন্নত হয় তার ব্যবস্থা হিসেবে আমরা উত্তরবঙ্গসহ সমগ্র বাংলাদেশেরই রেল যোগাযোগ স্থাপনের একটি উদ্যোগ গ্রহণ করি।’

এ সময় বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতু নির্মাণের সময় সেটাতে রেল লাইন স্থাপনসহ সেতুটিতে বহুমুখীকরণে তাঁর সরকার উদ্যোগে গ্রহণ করে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা যমুনা সেতুর মূল নকশা প্রণয়ন হয়ে যাওয়ার পর সরকারে আসলেও আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি এই সেতুর সাথে আমাদের রেলের লাইন, গ্যাস এবং বিদ্যুতের লাইন থাকতে হবে। এটি মাল্টিপারপাস হবে এবং সেই মোতাবেকই আমরা এর সঙ্গে রেল সংযোগ সম্পৃক্ত করি।’

তিনি বলেন, ‘এই রেল লাইন স্থাপনের ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে আমাদের রাজধানী ঢাকার ভাল যোগাযোগের সুব্যবস্থা হয়ে যায়।’

তিনি বলেন, ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর যেসব রেলপথ বা লিংক বন্ধ হয়ে গিয়েছিল সেসবও তাঁর সরকার নতুনভাবে চালু করার উদ্যোগ নিয়েছে। পাশাপাশি, যেসব স্থানে রেল যোগাযোগ ছিল না সেখানেও রেল যোগাযোগ চালু করা হচ্ছে। ফলে, সাধারণের যোগাযোগ বৃদ্ধির মাধ্যমে স্বল্প খরচে পণ্য পরিবহনের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্য পরিবহন এবং বাজারজাত সহজ করে দিলে আমাদের দেশের কৃষকরাই সব থেকে লাভবান হবে।

তিনি এ সময় চিলমারী বন্দর পুনরায় চালুকরণসহ উত্তরাঞ্চলের ভাওয়াইয়া গানের প্রচার প্রসার এবং সংরক্ষণেও তাঁর সরকার এগিয়ে আসবে বলে উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় কুড়িগ্রামে একটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার এবং লালমনিরহাটে একটি অ্যারোস্পেস এন্ড এরোনটিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের মাধ্যমে তাঁর সরকার সেখানে প্লেন তৈরি করার স্বপ্ন দেখছে বলেও উল্লেখ করেন।

তিনি বলেন, ‘যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক উন্নতিটাও প্রয়োজন। আর যেন উত্তরবঙ্গবাসীকে মঙ্গা শব্দটা শুনতে না হয় সে ব্যবস্থা আমরা করেছি।’
অনুষ্ঠানে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন স্বাগত বক্তৃতা করেন এবং রেল বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়নের বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন এবং ভিডিও চিত্র পরিবেশন করেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, বাণিজ্য মন্ত্রী টিপু মুনশি এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদ গণভবন প্রান্তের মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। রেলপথ মন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন কুড়িগ্রাম স্টেশন থেকে যুক্ত হয়ে অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন।

কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট এবং রংপুর রেলস্টেশন প্রান্তের সংযুক্ত জনগণের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী পরে মতবিনিময় করেন।

বক্তব্য শেষ করে বাঁশি ফুঁকে ও সবুজ পতাকা উড়িয়ে নতুন ট্রেনের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে রংপুর ও লালমনি এক্সপ্রেস ট্রেনের র‌্যাকে নতুন কোচ প্রতিস্থাপন করেন শেখ হাসিনা।
রেল কর্তৃপক্ষ জানায়, ‘কুড়িগ্রাম এক্সপ্রেস’ বুধবার ছাড়া সপ্তাহের বাকি ৬ দিন সকাল ৭টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম রেলস্টেশন থেকে ছেড়ে বিকেল ৫টা ২৫ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছবে। ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে ছেড়ে সকাল ৬টা ২০ মিনিটে কুড়িগ্রাম স্টেশনে পৌঁছবে।

ট্রেনটি ১৪টি বগি নিয়ে যাতায়াতে রংপুর-বদরগঞ্জ-পার্বতীপুর-জয়পুরহাট-সান্তাহার-নাটোর-মাধনগর-টাঙ্গাইল-মৌচাক-বিমানবন্দরসহ মোট ১০টি স্টেশনে যাত্রী ওঠানামা করাবে। আগামী ১৭ অক্টোবর থেকে ট্রেনটির বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হবে।

আন্তঃনগর ট্রেনটি প্রতিদিন ঢাকা-কুড়িগ্রামের ২৮৬ দশমিক ৮ মাইল বা ৪৬১ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেবে। কুড়িগ্রাম থেকে ঢাকা যাত্রায় মোট ৬৫৭টি আসন সুবিধা এবং ঢাকা থেকে কুড়িগ্রাম যাত্রায় ৬৩৮টি আসন সুবিধা থাকবে। শোভন চেয়ার ৫১০ টাকা, এসি চেয়ার ৯৭২ টাকা, এসি সিট ১১৬৮ টাকা এবং এসি বাথ ১৮০৪ টাকা আসন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

তথ্যসূত্র : বাসস।  
আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে শান্তি এবং নিরাপত্তা রক্ষার বিষয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান যে উদ্যোগ নিয়েছেন তাকে আরো সামনে এগিয়ে নেয়ার ব্যাপারে সৌদি আরব সম্মত হয়েছে। শান্তি প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত থাকতে এবং এ বিষয়ে ঘনিষ্ঠভাবে পরামর্শ করার জন্য পাকিস্তান ও সৌদি আরব একমত হয়েছে।


গতকাল (মঙ্গলবার) পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান সৌদি আরব সফরে যান এবং তিনি সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং রাজা সালমান বিন আবদুল আজিজের সঙ্গে আলাদা আলাদা বৈঠকের পর এ বিষয়ে একটি সমঝোতা হয়।

পাক প্রধানমন্ত্রী আজ সকালে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে ফিরে আসেন। সৌদি সফরের সময় ইমরান খান ইরানের সঙ্গে সৌদি আরবের চলমান উত্তেজনা নিরসন করার ব্যাপারে পাকিস্তানের আগ্রহ ও প্রচেষ্টার কথা জোরালোভাবে তুলে ধরেন।

সদ্য সমাপ্ত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের চতুর্থ বার্ষিক অধিবেশনের সময় পাক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান জানিয়েছিলেন, সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরান ইস্যুতে তাকে মধ্যস্থতা করার প্রস্তাব দিয়েছেন। নিউইয়র্ক থেকে দেশে ফেরার কয়েকদিন পর ইমরান খান প্রথম ইরান সফর করেন। এরপর গতকাল তিনি সৌদি আরব সফরে যান।#

তথ্যসূত্র : পার্সটুডে।  
স্টাফ রিপোর্টার :


টাঙ্গাইলের সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয়, সখীপুর উপজেলা চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু ও তার দুই ভগ্নিপতি আবদুল আজিজ এবং আবদুস সাত্তারকে সরকারি খাস জমিতে নির্মিত স্থাপনা উচ্ছেদে নোটিশ দেয়া হয়েছে। গত ৯ অক্টোবর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোছা. মোস্তারী কাদেরী স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত নোটিশ তাদের হাতে পৌঁছে দেয়া হয়েছে বলে সখীপুর উপজেলা ভূমি অফিস থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।

জানা যায়, নোটিশ পাওয়া এই চার ব্যক্তি সখীপুর পৌরশহরের তালতলা চত্বরের উত্তর পাশে ১ নম্বর খাস খতিয়ানের ৬৯ নম্বর দাগে ২ দশমিক ২৫ শতাংশ সরকারি জমি দখল করে সেখানে দুইতলা ভবন নির্মাণ করে মার্কেন্টাইল ব্যাংকসহ বেশকিছু দোকান ভাড়া দিয়েছেন। এ কারণে নোটিশ পাওয়ার সাতদিনের মধ্যে তাদের খাসজমি থেকে অবৈধ স্থাপনা ও ইমারত সরিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

এদিকে, সরকারি খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণ এবং তা উচ্ছেদের নোটিশের খবর ছড়িয়ে পড়ায় সখীপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে। তালুকদার পরিবারের সাবেক এমপি অনুপম শাহজাহান জয় ও তার চাচা বর্তমান উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের নামে সখীপুর পৌরশহরের প্রাণকেন্দ্রে সরকারি খাস জমি দখল করে ভবন নির্মাণের বিষয়টি এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে সখীপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আয়শা জান্নাত তাহেরা জানান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের (রাজস্ব) কার্যালয় থেকে আসা নোটিশ ওই চারজনের কাছে পৌঁছে দেয়া হয়েছে।

এ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান জুলফিকার হায়দার কামাল লেবু নোটিশ পাওয়ার কথা স্বীকার করে জানান, প্রায় ৪০ বছর আগে সেটেলম্যান্ট রেকর্ডভুক্ত ওই জমি রেজিস্ট্রিমূলে কিনে সেখানে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এরমধ্যে স্থানীয় ভূমি কার্যালয় একটি নোটিশও দেয়নি। রাজনৈতিকভাবে আমাদের হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য ষড়যন্ত্র করে ভূমি প্রশাসনকে ভুল বুঝিয়ে ওই নোটিশ করা হয়েছে। বিষয়টি আলোচনায় মীমাংসা না হলে আইনিভাবে লড়াই করা হবে।
টাঙ্গাইলদর্পন.কম নিউজ ডেস্ক :

চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলায় মাদরাসাছাত্রীকে অপহরণের পর ধর্ষণের ঘটনায় এক রাজমিস্ত্রিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।


বুধবার চট্টগ্রামের প্রথম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মশিউর রহমান খান এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুর রহমান হায়দার পেশায় একজন রাজমিস্ত্রি। তিনি কক্সবাজার জেলার পেকুয়া উপজেলার শীলখালী ওয়ার্ডের বজল আহমদের ছেলে। রায় ঘোষণার পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ৪ আগস্ট বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল গ্রাম থেকে নিখোঁজ হন দশম শ্রেণির এক মাদরাসাছাত্রী। এ ঘটনায় তার বাবা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।

পরে পুলিশ চট্টগ্রামের কালুরঘাট হামিদচর এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে এবং মাহমুদুরকে গ্রেফতার করে।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি জেসমিন আক্তার জানান, মাহমুদুর ওই মাদরাসাছাত্রীর বাড়ি নির্মাণের কাজ করছিলেন।  এ ঘটনায় কিশোরীর বাবা অপহরণ, ধর্ষণ ও মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে মাহমুদুরকে আসামি করে মামলা করেন।

ওই মামলায় ২০১৬ সালের ২৭ অক্টোবর অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২৭ আগস্ট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলায় সাতজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

আদালত আসামিকে অপহরণের দায়ে ১৪ বছর এবং ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন। একই সঙ্গে পৃথক দুই ধারায় ২০ হাজার টাকা করে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
শিক্ষাক্ষণ ডেস্ক :


মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অমান্য করে বেতন বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। বুধবার (১৬ অক্টোবর) দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচি হিসেবে দেশের সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করা হয়েছে। এ সময় শিক্ষার্থীদের অলস সময় কাটাতে ক্লাসে বেঞ্চের ওপর মাথা রেখে ঘুমাতে দেখা যায়।

আন্দোলনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিতে যাচ্ছে মন্ত্রণালয়। জানা গেছে, নির্দেশনা অমান্য করে যেসব শিক্ষক আন্দোলনে যুক্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। এজন্য আন্দোলকারী শিক্ষকদের তালিকা তৈরি করতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরকে (ডিপিই) নির্দেশনা দেয়া হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (বিদ্যালয়) বদরুল হাসান বাদল বুধবার বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি নিয়ে মন্ত্রণালয় কাজ করছে। বিষয়টি নিয়ে কোনো ধরনের আন্দোলন না করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তারপরও আমাদের নির্দেশনা উপেক্ষা করে যে সব শিক্ষক আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন এবং হবেন, তাদের তালিকা তৈরি করা হবে। এজন্য ডিপিইকে নির্দেশনা দেয়া হবে। তাদের শনাক্ত করে চাকরিবিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি।

বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে সর্বাত্মক আন্দোলনে নেমেছেন সারাদেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় পৌনে চার লাখ শিক্ষক। এজন্য প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকদের মোট ১৪টি সংগঠন মিলে সম্প্রতি গঠিত হয়েছে ‘বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদ’। এ পরিষদের মাধ্যমে আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণার পর গত সোমবার থেকে তারা আন্দোলনে নেমেছেন।

প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রধান শিক্ষকদের জাতীয় বেতন স্কেলের দশম গ্রেডে ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেডে বেতন দেয়ার দাবিতে গত সোমবার (১৪ অক্টোবর) সারাদেশের প্রায় ৬৬ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন করা হয়। পরদিন দুই ঘণ্টা ও আজ বুধবার (১৬ অক্টোবর) অর্ধদিবস কর্মবিরতি পালন করেন তারা। তাদের এ কর্মসূচি পালনের ফলে অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস নেননি শিক্ষকরা।

সকাল থেকেই তারা আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নেয়া শুরু করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত তারা কর্মবিরতি পালন করেন। এ কারণে বুধবার শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস না করে ফিরে গেছে। এ সময় কোনো কোনো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের ক্লাসে বেঞ্চের ওপর মাথা রেখে ঘুমিয়ে অলস সময় কাটাতে দেখা যায়।

এদিকে ক্লাস না নিয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরা। তাওহীদ নামে তৃতীয় শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীর বাবা আব্দুল সালাম উদ্বেগ প্রকাশ করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘সন্তানকে স্কুলে পাঠাই পড়ালেখা শেখার জন্য, কিন্তু স্কুলের স্যাররা তাদের আন্দোলন করেন আর শিক্ষার্থীরা ঘুমিয়ে সময় পার করে। ঘুমানের জন্য স্কুলে যাওয়ার দরকার কী? বাড়িতে বিছানা আছে, প্রয়োজনে বাড়িতে সারাদিন ঘুমালেও কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’ আগামীকাল থেকে ছেলেকে স্কুলে পাঠাবেন না বলে জানান এই অভিভাবক।

আগামীকাল বৃহস্পতিবার পূর্ণ দিবস কর্মবিরতি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষকরা। এরপরও দাবি আদায় না হলে ২৩ অক্টোবর ঢাকায় মহাসমাবেশ করে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত লাগাতার কর্মসূচিতে যাবেন বলেও জানানো হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটে সংবাদ সম্মেলন করে শিক্ষকরা এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।



এদিকে গত ১৩ অক্টোবর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের (ডিপিই) অতিরিক্ত মহাপরিচালক সোহেল আহমেদের স্বাক্ষরিত একটি নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক ঐক্য পরিষদ নামে একটি সংগঠনের ব্যানারে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বেতন বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে সক্রিয় বিবেচনাধীন। এ পর্যায়ে কোনো ধরনের দাবি আদায়ের কর্মসূচি পালন করা হলে তা সরকারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এ ধরনের কর্মসূচি ঘোষণা বা অংশগ্রহণ করা সরকারি শৃঙ্খলা ও আপিল বিধিমালা-২০১৮ এর সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এ ধরনের কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেয়া হয়।

জানা গেছে, এ নির্দেশনা জারির ফলে দেশের কিছু কিছু বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা আন্দোলন থেকে বিরত থেকে ক্লাসে নিয়মিত পাঠদান করাচ্ছেন। তবে তাদেরকে আন্দোলনে যুক্ত হতে শিক্ষক নেতৃবৃন্দদের পক্ষ থেকে চাপ দেয়া হচ্ছে। এ কারণে তারা দ্বিধাদ্বন্দ্বে রয়েছেন বলে একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন।

আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ প্রাথমিক বিদ্যালয় ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুদ্দীন মাসুদ বুধবার জাগো নিউজকে বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতনবৈষম্য নিরসনে প্রাথমিক এবং গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বারবার প্রতিশ্রুতি দেয়া হলেও তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। এ মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে যে প্রস্তাব পাঠানো হলেছিল তাতেও আমাদের দাবির বাস্তবায়ন করা হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের ১১তম গ্রেড দিতে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দাবি করে এলেও এ প্রস্তাবনায় প্রধান শিক্ষকদের ১০তম গ্রেড দেয়া হলেও সহকারীদের ১২তম গ্রেড দিতে বলা হয়েছে।’
মির্জাপুর উপজেলা প্রতিনিধি, টাঙ্গাইলদর্পন.কম :


গত ১৪ অক্টোবর, ২০১৯ রোজ সোমবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেলে উপজেলার গোড়াইল ও চাকলেশ্বর গ্রামের উদ্যোগে বংশাই নদীতে এই নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।

মির্জাপুর সদরসহ আশপাশের গ্রাম থেকে ৮টি নৌকা এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। দুই গ্রুপে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী একতা যুব সংঘ এবং বহুরিয়া ইউনিয়নের বুধিরপাড়া একতা সংঘ চ্যাম্পিয়ন হয়।



প্রতিযোগিতা শেষে মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সায়েদুর রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের মধ্যে দুটি ফ্রিজ এবং অংশগ্রহণকারী অন্যদের মধ্যে ৬টি এলইডি টিভি বিতরণ করেন।



ফতেপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. শহিদুর রহমান মৃধার সভাপতিত্বে এ সময় থানার এসআই খোকন কুমার সাহা, এসআই মিজান, উপজেলা কৃষকলীগের সাধারণ সম্পাদক ভিপি আবু সাঈদ শিকদার, মুক্তিযোদ্ধা সাহাদত হোসেন, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক তাজ উদ্দিন শিকদার, ভাতগ্রাম ইউপির সাবেক সদস্য শহিদুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এই নৌকাবাইচ দেখতে নদীর দুই পাড়ে প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিপুল সংখ্যক লোক সমাগম হয়। এছাড়া ছোট-বড় নৌকা যোগেও বিপুল সংখ্যক মানুষ নৌকাবাইচ উপভোগ করেন।