শুক্রবার ২৯ মে ২০২৬, ১৫ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

টাঙ্গাইল নিউজ ডেস্ক:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে দেশবাসী ও বিশ্ব মুসলিদের প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

 

আজ বুধবার (২৭ মে, ২০২৬) দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় তিনি কোরবানির প্রকৃত শিক্ষা হিসেবে আত্মশুদ্ধি, ত্যাগ এবং মানবিক সহমর্মিতার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।  

 

ভিডিও বার্তার শুরুতেই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ত্যাগের পরাকাষ্ঠা, তাকওয়ার মহিমান্বিত পথনির্দেশনা এবং আত্মশুদ্ধির অনন্য বার্তা নিয়ে বছর ঘুরে বিশ্ব মুসলিমের দুয়ারে আবারও হাজির পবিত্র ঈদুল আজহা।  

 

তিনি বলেন, কোরবানি কেবল পশু জবাইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং মানুষের ভেতরের লোভ-লালসা, হিংসা-বিদ্বেষ ও পশুত্বকে পরাভূত করার শিক্ষাই কোরবানির মূল তাৎপর্য। আল্লাহর কাছে আত্মসমর্পণের এই উৎসব সত্য ও সুন্দরের পথে মানুষকে এগিয়ে নেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

যাদের কোরবানি দেওয়ার সামর্থ্য রয়েছে, তাদের প্রতি দরিদ্র ও অসচ্ছল মানুষের সঙ্গে কোরবানির মাংস ভাগাভাগি করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী। তার কথায়, এটিও কোরবানির অন্যতম শিক্ষা।

 

একই সঙ্গে ঈদকে কেন্দ্র করে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি। কোরবানির পশুর চামড়া যথাযথ সংরক্ষণ এবং পশুর রক্ত ও বর্জ্য অপসারণে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। সম্ভব হলে সাধারণ মানুষকেও নিজ নিজ এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নেওয়ার অনুরোধ করেন।

 

ভিডিও বার্তার শেষে প্রধানমন্ত্রী দেশ, মুসলিম বিশ্ব এবং সমগ্র মানবজাতির শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে সম্প্রীতি ও শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি। শেষে আবারও দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান।
 

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশন (বিএএমএফ) আয়োজিত “BAMF Awards 2026” উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

 

নবান্ন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মূলধারার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছিল দৃষ্টিনন্দন ব্যাকড্রপ, আকর্ষণীয় ক্রেস্ট, সুভেনির ও সুপরিকল্পিত সাজসজ্জা।

পুরো সৃজনশীল আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক ও ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক নিহার সিদ্দিকী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন পরিচালক আনিসুল কবির জাসির এবং সাংবাদিক শাহ্ জে চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহকে সামনে রেখে ব্যানার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনে শিল্পী আবদুল্লাহ নোমানের শৈল্পিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

 

সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও অতিথিরা আগেভাগেই উপস্থিত হতে শুরু করেন। আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে কুশল বিনিময় ও হালকা আপ্যায়নের মাধ্যমে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাত সোয়া আটটার দিকে মঞ্চে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হায়দার কিরন এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন। এরপর আকবর হায়দার কিরনের সঞ্চালনায় শুরু হয় “বিএএমএফ এওয়ার্ডস ২০২৬”-এর সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অফ আমেরিকার (VOA) সাবেক প্রধান কিংবদন্তি রোকেয়া হায়দার। 

 

এ ছাড়া ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মনজুর আহমদ, শিক্ষাবিদ ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী মন্টু, ক্রীড়াবিদ ও লেখক সাঈদুর রব, মূলধারার বিশিষ্টজন মীর বাসার, প্রকাশনা উদ্যোক্তা মনিরুল হক এবং সাংবাদিক-লেখক মনিজা রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পী আলভান চৌধুরী “ও আমার দেশের মাটি” ও একটি ইংরেজি গান পরিবেশন করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন।

 

এবারের অনুষ্ঠানে লাইফ অ্যাচিভমেন্ট ও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় বেতার ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী, সরকার কবীর উদ্দিন, মাসুমা খাতুন এবং রোকেয়া হায়দারকে। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও মূলধারায় অবদানের জন্য সম্মাননা লাভ করেন মনজুর আহমদ, কাজী মন্টু, ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সাঈদুর রব, এম এম শাহীন, শাহ নেওয়াজ, মীর বাসার, হেলালুল করিম, মীর শিবলী, মনিজা রহমান, শিব্বীর আহমেদ, সাকিল মিয়া এবং সাহিত্য একাডেমি। 

 

সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী সংগঠনের সভাপতি সাকিল মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর রব ও তরুণ ব্যবসায়ী দুলাল বেহেদু। বিএএমএফ-এর অন্যতম উপদেষ্টা কাজী মন্টু সংগঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

 

প্রধান অতিথি রোকেয়া হায়দার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশনের আদর্শ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে শেকড়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 

Pic

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
দায়িত্বহীনতার কারণে হামে আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও হাজার হাজার হাম আক্রান্ত শিশু হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। আর এসবের দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বলে অভিযোগ তুলে বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ। 

 

আজ ১৯ মে, ২০২৬ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় যশোরের ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপিটি দিয়েছে সংগঠনটির জেলা শাখা। ডিসি মোহাম্মদ আশেক হাসান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদেরকে হামসহ ১০টি মারাত্মক রোগের টিকা দেওয়া হয়। টিকাদান কর্মসূচির সূচনা থেকেই সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অনুদান হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গাভি ইত্যাদি বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে নিয়মিতভাবে শিশুদের টিকা সংগ্রহ করে থাকে।

 

কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টিকার সংকটের বিষয়ে জেনেও ঠিকসময়ে ইউনিসেফ বা গ্যাভির মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থা থেকে টিকা সংগ্রহ করেনি। তৎকালীন সরকার কিছু এনজিও বা বাণিজ্যিক গোষ্ঠিকে সুবিধা দিতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যথাসময়ে টিকা কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে টিকার মজুত প্রায় ফুরিয়ে যায়। এতে সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি ২০২৫ সালে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ঠিকাদান না হওয়ায় এবছর মার্চ থেকে শিশুরা হামে আক্রান্ত হতে থাকে। এই সরকার দেরিতে হলেও সার্বজনীন টিকা কর্মসূচি চালু করে। কিন্তু  হামে আক্রান্ত সব শিশুর চিকিৎসা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 

এছাড়াও রয়েছে ঔষধ, শয্যা ও আইসিইউর সংকট। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানাই। একইসাথে শিশুমৃত্যু ও শিশুদের এই পরিস্থিতির জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং শিশু মৃত্যুর দায়ে গ্রেপ্তারসহ বিচার দাবি করছি।

 

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, দলটির  জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির  নেতা তসলিম-উর-রহমান, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস প্রমুখ।

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং দেশ বিদেশের জাতীয় গণমাধ্যমে তুমুল সাড়া জাগানো এবং আলোচনা-সমালোচনায় থাকা অ্যালবিনো জাতের সেই আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ শেষ পর্যন্ত আর কোরবানি হচ্ছে না। বিরল বৈশিষ্ট্য বিবেচনা করে মহিষটিকে সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। শেষ মুহূর্তে সেটিকে ক্রেতার কাছ থেকে নিয়ে রাজধানীর মিরপুরে অবস্থিত জাতীয় চিড়িয়াখানায় পাঠানো হয়েছে।

 

২৭ মে, ২০২৬, (বুধবার) সন্ধ্যায় মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আনুষ্ঠানিকভাবে ৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা মূল্যের বিনিময়ে মহিষটি গ্রহণ করেন এবং চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

 

এর আগে কোরবানির উদ্দেশ্যে নারায়ণগঞ্জ থেকে মহিষটি কিনেছিলেন কেরাণীগঞ্জের জিনজিরা এলাকার বাসিন্দা সামির। প্রায় ৭০০ কেজি ওজনের এই মহিষটিকে ভাইরাল হওয়ার আগেই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা দরে কিনেছিলেন তিনি। গত সোমবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় মহিষটিকে যখন ক্রেতার বাড়িতে পাঠানোর প্রস্তুতি নেওয়া হয়, তখন খামারে রীতিমতো লাল গালিচা বিছিয়ে রাজকীয় বিদায় সংবর্ধনা দেওয়া হয়। এই জমকালো বিদায়ের ছবি ও ভিডিও নেটদুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়।

 

অ্যালবিনো জাতের এই মহিষটির গায়ের রঙ, চুল ও চোখের গঠন অনেকটা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চেহারার সাথে মিলে যাওয়ায়, নারায়ণগঞ্জের পাইকপাড়ার ‘রাবেয়া এগ্রো ফার্ম’-এর মালিকের ছোট ভাই আদর করে এর নাম রেখেছিলেন ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’। ছবিটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিন উৎসুক মানুষ খামারে ভিড় করতে শুরু করেন। এমনকি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমেও মহিষটি খবর শিরোনাম হয় এবং স্বয়ং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও এটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন।

 

প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিরল অ্যালবিনো বৈশিষ্ট্যের কারণে মহিষটিকে কোরবানি না দিয়ে সংরক্ষণ ও গবেষণার আওতায় আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাধারণ দর্শনার্থীরাও প্রাণীটিকে দেখতে পাবেন।

 

এদিকে ঈদের ঠিক আগ মুহূর্তে বিরল এই প্রাণীটি কোরবানি না হওয়ার সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রাণিপ্রেমীরা। সরকারের এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো উদাহরণ হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন তারা।
 

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
নিউ ইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশন (বিএএমএফ) আয়োজিত “BAMF Awards 2026” উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। 

 

নবান্ন মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মূলধারার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানস্থল জুড়ে ছিল দৃষ্টিনন্দন ব্যাকড্রপ, আকর্ষণীয় ক্রেস্ট, সুভেনির ও সুপরিকল্পিত সাজসজ্জা।

পুরো সৃজনশীল আয়োজনের নেপথ্যে ছিলেন বিশিষ্ট ফটোসাংবাদিক ও ফাউন্ডেশনের অন্যতম পরিচালক নিহার সিদ্দিকী। সার্বিক ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা করেন পরিচালক আনিসুল কবির জাসির এবং সাংবাদিক শাহ্ জে চৌধুরী। যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আবহকে সামনে রেখে ব্যানার ও গ্রাফিক্স ডিজাইনে শিল্পী আবদুল্লাহ নোমানের শৈল্পিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠানটিকে বিশেষ মাত্রা দেয়।

 

সন্ধ্যা সাতটায় অনুষ্ঠান শুরুর সময় নির্ধারিত থাকলেও অতিথিরা আগেভাগেই উপস্থিত হতে শুরু করেন। আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে কুশল বিনিময় ও হালকা আপ্যায়নের মাধ্যমে প্রাণবন্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়। রাত সোয়া আটটার দিকে মঞ্চে আসেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি আকবর হায়দার কিরন এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব মোশাররফ হোসেন। এরপর আকবর হায়দার কিরনের সঞ্চালনায় শুরু হয় “বিএএমএফ এওয়ার্ডস ২০২৬”-এর সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠান।

 

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি ছিলেন ভয়েস অফ আমেরিকার (VOA) সাবেক প্রধান কিংবদন্তি রোকেয়া হায়দার। 

 

এ ছাড়া ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন খ্যাতনামা সাংবাদিক ও লেখক মনজুর আহমদ, শিক্ষাবিদ ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র সাংবাদিক কাজী মন্টু, ক্রীড়াবিদ ও লেখক সাঈদুর রব, মূলধারার বিশিষ্টজন মীর বাসার, প্রকাশনা উদ্যোক্তা মনিরুল হক এবং সাংবাদিক-লেখক মনিজা রহমান।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রবাসে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তরুণ শিল্পী আলভান চৌধুরী “ও আমার দেশের মাটি” ও একটি ইংরেজি গান পরিবেশন করে দর্শকদের প্রশংসা অর্জন করেন।

 

এবারের অনুষ্ঠানে লাইফ অ্যাচিভমেন্ট ও বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয় বেতার ব্যক্তিত্ব ইকবাল বাহার চৌধুরী, সরকার কবীর উদ্দিন, মাসুমা খাতুন এবং রোকেয়া হায়দারকে। সাংবাদিকতা, সাহিত্য, সংস্কৃতি, সমাজসেবা ও মূলধারায় অবদানের জন্য সম্মাননা লাভ করেন মনজুর আহমদ, কাজী মন্টু, ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, সাঈদুর রব, এম এম শাহীন, শাহ নেওয়াজ, মীর বাসার, হেলালুল করিম, মীর শিবলী, মনিজা রহমান, শিব্বীর আহমেদ, সাকিল মিয়া এবং সাহিত্য একাডেমি। 

 

সমাজসেবায় বিশেষ অবদানের জন্য জ্যাকসন হাইটস এলাকাবাসী সংগঠনের সভাপতি সাকিল মিয়াকে বিশেষ সম্মাননা দেওয়া হয়।

 

এছাড়া সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আবদুর রব ও তরুণ ব্যবসায়ী দুলাল বেহেদু। বিএএমএফ-এর অন্যতম উপদেষ্টা কাজী মন্টু সংগঠনের লক্ষ্য ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।

 

প্রধান অতিথি রোকেয়া হায়দার তাঁর বক্তব্যে বাংলাদেশী আমেরিকান মিডিয়া ফাউন্ডেশনের আদর্শ, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম এবং কমিউনিটিভিত্তিক উদ্যোগের প্রশংসা করে বলেন, এ ধরনের আয়োজন প্রবাসে বাংলা ভাষা, সংস্কৃতি ও নতুন প্রজন্মের মধ্যে শেকড়ের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার (১৪ মে, ২৯২৬) ফক্স নিউজের দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ইরান হয় চুক্তি করবে, নাহয় 'ভয়াবহ পরিণতি' ভোগ করবে।

 

ট্রাম্প বলেন, 'আমি আর খুব বেশি ধৈর্য ধরছি না। তারা চুক্তি করতে পারে, না হলে ধ্বংস হয়ে যাবে।' তিনি দাবি করেন, যে কোনো বিবেকবান দেশ আলোচনায় বসতে চাইবে, তবে ইরান হয়তো ভিন্ন পথে যাচ্ছে। ইসরায়েলেভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য জেরুজালেম পোস্ট শুক্রবার এ তথ্য প্রকাশ করে। 

 

ট্রাম্প আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন বা উন্নয়ন করতে দেবে না, কারণ “তারা এটি ব্যবহার করবে”। ইরানের ইতিমধ্যে থাকা সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিয়েও তিনি মন্তব্য করেন, সেটি ধ্বংসস্তূপের নিচে পড়ে থাকার চেয়ে যুক্তরাষ্ট্রের হাতে থাকাই ভালো।

 

তিনি অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতির পরও ইরান সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প বলেন, “তারা যা-ই করছে, আমরা সব জানি। আমরা একদিনেই সব শেষ করে দিতে পারি।”

 

এদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এর সঙ্গে বৈঠকের পর হোয়াইট হাউস জানায়, দুই নেতা একমত হয়েছেন যে ইরান কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে পারবে না। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা হয়।

 

ট্রাম্প বলেন, বৈঠকে চীন জানিয়েছে তারা ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেবে না এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে আরও তেল কেনার আগ্রহও প্রকাশ করেছে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
আন্তর্জাতিক আকাশপথে বড় ধরনের সমন্বয় করেছে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থা এয়ার ইন্ডিয়া। জুন থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত তাদের একাধিক আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট কমানো ও কিছু রুটে সম্পূর্ণ স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে সংস্থাটি। এর মধ্যে মুম্বাই থেকে ঢাকার সরাসরি ফ্লাইটও সাময়িকভাবে বন্ধ করা হয়েছে, যা বাংলাদেশি যাত্রীদের জন্য সরাসরি প্রভাব ফেলবে।

 

বৃহস্পতিবার (১৪ মে) এক বিজ্ঞপ্তিতে এয়ার ইন্ডিয়া জানায়, জেট ফুয়েলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং আকাশপথে চলমান বিধিনিষেধের কারণে এই সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, শেষ মুহূর্তে ফ্লাইট বাতিল করে যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ানোর চেয়ে আগেই সূচি সমন্বয় করে শিডিউল স্থিতিশীল রাখাই তাদের লক্ষ্য।

 

এই সিদ্ধান্তের ফলে শুধু ঢাকা নয়, শিকাগো, সাংহাই, সিঙ্গাপুর এবং মালের মতো গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক গন্তব্যও প্রভাবিত হচ্ছে। বিশেষ করে এশিয়া, ইউরোপ এবং উত্তর আমেরিকার বহু রুটে ফ্লাইট সংখ্যা কমানো বা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

 

এয়ার ইন্ডিয়ার নতুন সূচি অনুযায়ী, মুম্বাই থেকে ঢাকা রুটের সরাসরি ফ্লাইট পুরোপুরি স্থগিত থাকবে নির্ধারিত সময় পর্যন্ত। পাশাপাশি দিল্লি থেকে ঢাকা, কাঠমান্ডু, কলম্বো, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর এবং সিঙ্গাপুর রুটেও সাপ্তাহিক ফ্লাইট কমানো হয়েছে। উত্তর আমেরিকার ক্ষেত্রে দিল্লি থেকে শিকাগো রুট আগস্ট পর্যন্ত বন্ধ থাকবে, একই সঙ্গে টরন্টো ও ভ্যাঙ্কুভার রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা কমছে।

 

তবে কিছু রুটে সম্প্রসারণও করা হয়েছে। মুম্বাই থেকে নেওয়ার্ক রুটে এখন প্রতিদিন ফ্লাইট চলবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। ইউরোপের প্যারিস, রোম, জুরিখ, ভিয়েনা ও কোপেনহেগেন রুটেও ফ্লাইট সংখ্যা কিছুটা পুনর্বিন্যাস করা হয়েছে।

 

এয়ার ইন্ডিয়া আরও জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া “সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ” সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয়। সংস্থাটি দাবি করেছে, তারা এখনো প্রতি মাসে পাঁচ মহাদেশে ১ হাজার ২০০টির বেশি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনা করছে। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং যুক্তরাজ্য রুটেও নির্দিষ্ট সংখ্যক ফ্লাইট সচল থাকবে।

 

কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আশ্বস্ত করে বলেছে, যাদের ফ্লাইট বাতিল বা সময় পরিবর্তন হয়েছে, তারা বিকল্প ফ্লাইট, বিনামূল্যে তারিখ পরিবর্তন অথবা সম্পূর্ণ অর্থ ফেরতের সুবিধা পাবেন। যাত্রীদের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট ও যাচাইকৃত চ্যানেলের মাধ্যমে তথ্য যাচাই করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং আকাশপথ ব্যবস্থাপনার চাপ এখন বৈশ্বিক বিমান পরিবহন খাতকে নতুন করে কৌশল পুনর্বিন্যাসে বাধ্য করছে। এয়ার ইন্ডিয়ার এই সিদ্ধান্ত তারই একটি অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি, হিন্দুস্তান টাইমস

 

Add

Site Counter

Online

75

Total

51k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
পবিত্র ঈদ-উল-আযহা-২০২৬ উপলক্ষে টাঙ্গাইল জেলা পুলিশের আয়োজনে পুলিশ লাইন্স মেসে এক আন্তরিক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ প্রীতিভোজ (বড়খানা) অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উৎসবমুখর পরিবেশে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, পুনাক সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মুহম্মদ শামসুল আলম সরকার মহোদয় এবং পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), টাঙ্গাইল-এর সভানেত্রী ফাতেমা খাতুন মহোদয়া। এ সময় তারা উপস্থিত সকল কর্মকর্তা ও ফোর্সদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং ঈদের আনন্দ একসাথে ভাগাভাগি করেন।

পুলিশ সুপার তাঁর বক্তব্যে বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি পারস্পরিক সহযোগিতা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বন্ধন আরও সুদৃঢ় করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি সকলকে সততা, নিষ্ঠা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মোঃ রবিউল ইসলাম, পিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ আদিবুল ইসলাম, পিপিএম-সেবা; অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) কাজী শাহনেওয়াজ, পিপিএম-সেবা-সহ জেলা পুলিশের অন্যান্য কর্মকর্তা, পুলিশ নারী কল্যাণ সমিতি (পুনাক), টাঙ্গাইল-এর সদস্যবৃন্দ এবং বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা।

 

ঈদের আনন্দঘন এ আয়োজনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ, সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধের উজ্জ্বল প্রকাশ।
 


Pic

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
সবুজ ঘাসের মাঠজুড়ে ছুটে বেড়াচ্ছে খুদে ফুটবলাররা। কারও পায়ে বল, কেউ গোলের উদ্দেশে শট নিচ্ছে, আবার কেউ উল্লাসে মেতে উঠছে সতীর্থদের সঙ্গে। শিশুদের এই প্রাণচাঞ্চল্যে শনিবার মুখর হয়ে ওঠে যশোরের হামিদপুরে অবস্থিত শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি।

 

ফিফা ও এএফসির নির্দেশনায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) আয়োজনে পালিত হয় ‘এএফসি গ্রাসরুট ফুটবল ডে ও ওয়ার্ল্ড ফুটবল ডে ২০২৬’। দেশের পাঁচটি ভেন্যুর একটি ছিল যশোরের এই দৃষ্টিনন্দন একাডেমি।

 

দিনব্যাপী আয়োজনে অংশ নেয় অসংখ্য বালক ও বালিকা ফুটবলার। মাঠজুড়ে তাদের উৎসাহ-উদ্দীপনা যেন জানান দিচ্ছিল— ভবিষ্যতের লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা তৈরি হচ্ছে এখান থেকেই।

 

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাফুফের সহ-সভাপতি ও শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নাসের শাহরিয়ার জাহেদী। এ ছাড়া বাংলাদেশে নিযুক্ত আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোস এবং পাকিস্তানের ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাচি জায়ান আজিজও উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল।

 

স্বাগত বক্তব্যে নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অনেক আনন্দের। স্পিকার মহোদয়ের আগমনে এই একাডেমির শিশু ফুটবলাররা আরও অনুপ্রাণিত হবে। আমরা চাই এই ধারা অব্যাহত থাকুক।

 

শিশুদের খেলায় মুগ্ধ হয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ স্মৃতিচারণ করেন নিজের তারুণ্যের দিনগুলোর। তিনি বলেন, এখানে এসে আমি আমার তরুণ বয়সে ফিরে গেছি। যশোর আমার সবচেয়ে প্রিয় শহর। আমি যশোর ক্যান্টনমেন্টে যুদ্ধ করেছি, এখানে চাকরিও করেছি। শামসুল হুদার নামে স্টেডিয়াম ও একাডেমি হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ।

 

তিনি আরও বলেন, নাসের জাহেদীর মতো যদি দেশে আরও দশজন ক্রীড়ামোদী থাকতেন, তাহলে বাংলাদেশ হয়তো অনেক আগেই বিশ্বকাপের কাছাকাছি পৌঁছে যেত। আমি আশা করি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে যশোরের পাশাপাশি দেশের ফুটবলের মানও আরও উন্নত হবে।”

 

অনুষ্ঠানে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, দেশের গ্রাসরুট ফুটবল উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে আর্জেন্টিনা থেকে কোচ আনার। যারা ভালো খেলবে, তাদের আর্জেন্টিনায় পাঠানোর বিষয়ও ভাবা হচ্ছে।

 

আর্জেন্টিনার রাষ্ট্রদূত মার্সেলো চার্লোসও একাডেমির সুযোগ-সুবিধা দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন। শিশুদের অংশগ্রহণ ও আগ্রহ দেখে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, এখান থেকেই উঠে আসবে বাংলাদেশের আগামী দিনের ফুটবল তারকারা।

 

যশোর শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে হামিদপুরের শান্ত পরিবেশে গড়ে ওঠা শামস-উল-হুদা ফুটবল একাডেমি ইতোমধ্যেই ক্রীড়াপ্রেমীদের নজর কাড়ছে। আধুনিক সুযোগ-সুবিধা ও পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার মাধ্যমে এই একাডেমি হয়ে উঠতে পারে দেশের ফুটবলের অন্যতম সম্ভাবনার কেন্দ্র।

 

খুদে ফুটবলারদের হাসি, দৌড় আর স্বপ্নে ভরা এই আয়োজন যেন নতুন করে মনে করিয়ে দিল— বাংলাদেশের ফুটবলের ভবিষ্যৎ লুকিয়ে আছে তৃণমূলেই।
 

সারাদেশে হামে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় বিচারের দাবিতে কমিউনিস্ট লীগের স্মারকলিপি প্রদান

উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি: 
দায়িত্বহীনতার কারণে হামে আক্রান্ত পাঁচ শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও হাজার হাজার হাম আক্রান্ত শিশু হাসাপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। পাশাপাশি প্রতিদিন নতুন নতুন শিশু আক্রান্ত হচ্ছে। আর এসবের দায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বলে অভিযোগ তুলে বিচারের দাবি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী কমিউনিস্ট লীগ। 

 

আজ ১৯ মে, ২০২৬ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় যশোরের ডিসির মাধ্যমে স্মারকলিপিটি দিয়েছে সংগঠনটির জেলা শাখা। ডিসি মোহাম্মদ আশেক হাসান স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন।

 

স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে শিশুদেরকে হামসহ ১০টি মারাত্মক রোগের টিকা দেওয়া হয়। টিকাদান কর্মসূচির সূচনা থেকেই সরকার আন্তর্জাতিক সহায়তা ও অনুদান হিসেবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফ, গাভি ইত্যাদি বৈশ্বিক বিভিন্ন সংস্থা থেকে বিনামূল্যে বা স্বল্পমূল্যে নিয়মিতভাবে শিশুদের টিকা সংগ্রহ করে থাকে।

 

কিন্তু অন্তর্বর্তীকালীন সরকার টিকার সংকটের বিষয়ে জেনেও ঠিকসময়ে ইউনিসেফ বা গ্যাভির মতো প্রতিষ্ঠিত সংস্থা থেকে টিকা সংগ্রহ করেনি। তৎকালীন সরকার কিছু এনজিও বা বাণিজ্যিক গোষ্ঠিকে সুবিধা দিতে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে টিকা কেনার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এরপর আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় যথাসময়ে টিকা কেনা সম্ভব হয়নি। ফলে টিকার মজুত প্রায় ফুরিয়ে যায়। এতে সার্বজনীন টিকাদান কর্মসূচি ২০২৫ সালে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

 

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ঠিকাদান না হওয়ায় এবছর মার্চ থেকে শিশুরা হামে আক্রান্ত হতে থাকে। এই সরকার দেরিতে হলেও সার্বজনীন টিকা কর্মসূচি চালু করে। কিন্তু  হামে আক্রান্ত সব শিশুর চিকিৎসা এখনো নিশ্চিত করা যায়নি।

 

এছাড়াও রয়েছে ঔষধ, শয্যা ও আইসিইউর সংকট। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বাস্থ্যগত জরুরি অবস্থা ঘোষণার দাবি জানাই। একইসাথে শিশুমৃত্যু ও শিশুদের এই পরিস্থিতির জন্য তৎকালীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনুস ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগমের ইচ্ছাকৃত অবহেলা এবং শিশু মৃত্যুর দায়ে গ্রেপ্তারসহ বিচার দাবি করছি।

 

স্মারকলিপি দেওয়ার সময় উপস্থিত ছিলেন, দলটির  জেলা সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় কমিটির  নেতা তসলিম-উর-রহমান, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা জিল্লুর রহমান ভিটু, জেলা সম্পাদক মণ্ডলীর সদস্য মিজানুর রহমান, জেলা কমিটির নেতা পলাশ বিশ্বাস প্রমুখ।

শুধু ফেসবুক-সোশ্যাল মিডিয়ায় কথার যুদ্ধ না চালিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিন: জামায়াত আমির

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান আজ শনিবার জাপান ও থাইল্যান্ড সফর শেষে দেশে ফিরে বললেন, শুধু ফেসবুক-সোশ্যাল মিডিয়া কথার যুদ্ধ চালিয়ে গেলে হবে না। অপরাধীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকার অতিরিক্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে। রাজনৈতিক জায়গা দখলের চেয়ে দেশের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এখন সরকারের প্রধান দায়িত্ব হওয়া উচিত।

 

এসময় পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, পশ্চিমবঙ্গসহ বিশ্বের যেকোনো স্থানে নিরীহ জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন হলে তারা তার বিপক্ষে থাকবেন। এমনকি কোনো গোষ্ঠী তাদের ক্ষতি করে থাকলেও, সেই গোষ্ঠী যদি নির্যাতিত হয়, তাহলে তারা মজলুমের পক্ষেই অবস্থান নেবেন। ভারতের সংবিধান ধর্মনিরপেক্ষ। তাই সে দেশের সব ধর্মের মানুষের ধর্মীয় ও নাগরিক অধিকার ভোগের পূর্ণ অধিকার রয়েছে। বিশেষ কোনো ধর্ম, বর্ণ বা গোষ্ঠীকে টার্গেট করে যেন ক্ষতি সাধন করা না হয় এ বিষয়ে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবেন।

 

পুশইনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিষয়গুলো আরও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। যদি এমন কোনো ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে জামায়াতের ভূমিকা জনগণ দেখতে পাবে। কোনো অন্যায়ের ব্যাপারেই তারা নীরব থাকবেন না। প্রতিবেশী দেশকে সম্মান করা হলেও কেউ বাংলাদেশকে অপমান করুক সেটিও তারা চান না।


দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনের তিন মাস পরেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হয়নি। বিভিন্ন এলাকায় হত্যাকাণ্ড ঘটছে। নোয়াখালী, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে হত্যার ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। এসব ঘটনায় জড়িত কারা, তারা কোথায় পালিয়ে যায় এবং কারা আশ্রয় দেয় এসব খুঁজে বের করার দাবি জানান জামায়াত আমির।
 

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে ইতিবাচক সাড়া না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বললেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে। 

 

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

 

তাঁর ভাষায়, “জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। তারা এটাকে এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে।” 

 

অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় আসার পর তারা এর বিরোধিতা করছে। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে।”
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭