শনিবার ০৯ মে ২০২৬, ২৬ বৈশাখ ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ঢাকায় বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নেওয়া তরুণ জলবায়ুকর্মীরা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টর মহাপরিকল্পনায় (ইপিএসএমপি) নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তরুণেরা।

 

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব দাবি জানানো হয়। ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ইয়ুথ ফর এনডিসির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক তরুণ জলবায়ুকর্মী অংশ নেন। ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির আর্থিক চাপ এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ‘ভুয়া সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি চাই’—এমন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। 

 

সমাবেশে ইয়ুথনেট গ্লোবাল নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, দ্রুত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে। খসড়া ইপিএসপিএম-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর ব্যয়বহুল এলএনজির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।

 

ইয়ুথ ফর এনডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমানউল্লাহ পরাগ বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মূল্য আমরা আর দিতে পারি না। বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচ বহন করতে গিয়ে আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিন বেঁচে থাকা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। আমাদের আরও সাশ্রয়ী জ্বালানি দরকার, আর সে জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

 

এবারের জলবায়ু ধর্মঘট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে উচ্চমূল্যে এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় রুপ্তানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশকে বারবার বৈশ্বিক সংকটে চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। দাম বাড়ছে এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। তাঁরা সতর্ক করেন, নতুন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

 

জলবায়ুকর্মীরা স্মরণ করিয়ে দেন, সরকারি ভবনগুলোতে ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

 

জলবায়ুকর্মীরা বলেন, সৌর সরঞ্জামের ওপর উচ্চ কর, বিনিয়োগে জটিলতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাধা তৈরি করছে। তাই সৌর সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের দাবি জানান তাঁরা। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক সরকারি ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তরুণেরা বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়—বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানসিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আমাদের স্বাধীনতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

 

আয়োজকেরা জানান, একই সময়ে দেশের ৫০টি জেলায়ও অনুরূপ জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। 

 

আজ ০৯ মে, ২০২৬ শনিবার এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার এ তথ্য জানিয়েছে।

 

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই সমগ্র কলকাতা শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। ব্রিগেডের ময়দানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানের শুরুতে হুডখোলা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য সভাস্থলে প্রবেশ করেন। এ সমং উপস্থিত জনতার অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়েন।

 

মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কার্যত ভারতীয় রাজনীতির নক্ষত্র সমাবেশে পরিণত হয়েছিল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি ও শিবরাজ সিংহ চৌহানের মতো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা-যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, চন্দ্রবাবু নায়ডু, মানিক সাহা ও সম্রাট চৌধরি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতি মঞ্চের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বিধানসভায় তার দাপ্তরিক কক্ষ সাজানোর কাজ সম্পন্ন করেছেন। সেখান থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আজকের এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি এবং কড়া পুলিশি পাহারায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই বর্ণাঢ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বললেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে। 

 

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

 

তাঁর ভাষায়, “জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। তারা এটাকে এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে।” 

 

অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় আসার পর তারা এর বিরোধিতা করছে। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে।”
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ঢাকায় বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটে অংশ নেওয়া তরুণ জলবায়ুকর্মীরা ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সরকারি পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দাবি করেছেন তাঁরা। একই সঙ্গে খসড়া জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সেক্টর মহাপরিকল্পনায় (ইপিএসএমপি) নবায়নযোগ্য জ্বালানির অংশ বাড়ানো এবং ধীরে ধীরে জীবাশ্ম জ্বালানিনির্ভরতা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন তরুণেরা।

 

আজ শুক্রবার জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক কর্মসূচিতে এসব দাবি জানানো হয়। ইয়ুথনেট গ্লোবাল ও ইয়ুথ ফর এনডিসির উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে দুই শতাধিক তরুণ জলবায়ুকর্মী অংশ নেন। ব্যানার, পোস্টার ও স্লোগানের মাধ্যমে তাঁরা তেল, গ্যাস ও কয়লা আমদানির আর্থিক চাপ এবং পরিবেশগত ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরেন। ‘ভুয়া সমাধান নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নবায়নযোগ্য জ্বালানি চাই’—এমন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা। 

 

সমাবেশে ইয়ুথনেট গ্লোবাল নির্বাহী সমন্বয়কারী সোহানুর রহমান বলেন, দ্রুত ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করতে হবে। খসড়া ইপিএসপিএম-এ নবায়নযোগ্য জ্বালানিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। আমদানিনির্ভর ব্যয়বহুল এলএনজির আর কোনো ভবিষ্যৎ নেই, এখান থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে হবে।

 

ইয়ুথ ফর এনডিসির প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক আমানউল্লাহ পরাগ বলেন, বিশ্বব্যাপী অস্থিরতা, অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ ও ভূরাজনৈতিক বিশৃঙ্খলার মূল্য আমরা আর দিতে পারি না। বিদ্যুৎ-জ্বালানির খরচ বহন করতে গিয়ে আমাদের অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে এবং প্রতিদিন বেঁচে থাকা আরও ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে। আমাদের আরও সাশ্রয়ী জ্বালানি দরকার, আর সে জন্য এখনই নবায়নযোগ্য জ্বালানির দিকে দ্রুত অগ্রসর হতে হবে।

 

এবারের জলবায়ু ধর্মঘট এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক সংকটের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারকে উচ্চমূল্যে এলএনজি, তেল ও কয়লা আমদানি করতে হচ্ছে। এতে সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ার পাশাপাশি অর্থনীতির ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ না থাকায় রুপ্তানিমুখী শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে।

 

সমাবেশে বক্তারা বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতার কারণে বাংলাদেশকে বারবার বৈশ্বিক সংকটে চ্যালেঞ্জে পড়তে হচ্ছে। দাম বাড়ছে এবং বাড়তি জ্বালানি ব্যয়ের চাপে সাধারণ মানুষ ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত। তাঁরা সতর্ক করেন, নতুন করে জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্য বাড়ানো হলে এর সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়বে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর।

 

জলবায়ুকর্মীরা স্মরণ করিয়ে দেন, সরকারি ভবনগুলোতে ডিসেম্বর ২০২৫ সালের মধ্যে ৩ হাজার ৩০০ মেগাওয়াট রুফটপ সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের পূর্বঘোষিত লক্ষ্য এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

 

জলবায়ুকর্মীরা বলেন, সৌর সরঞ্জামের ওপর উচ্চ কর, বিনিয়োগে জটিলতা ও নীতিগত অনিশ্চয়তা নবায়নযোগ্য জ্বালানির প্রসারে বাধা তৈরি করছে। তাই সৌর সরঞ্জামের ওপর কর কমানো, দ্রুত প্রকল্প অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদারের দাবি জানান তাঁরা। এ ছাড়া নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) সম্প্রসারণের সাম্প্রতিক সরকারি ঘোষণাকে স্বাগত জানালেও তরুণেরা বলেন, শুধু নীতিগত ঘোষণা যথেষ্ট নয়—বাস্তব পদক্ষেপ নিতে হবে।

 

তরুণদের আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে ইনস্টিটিউট ফর এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড ফাইন্যানসিয়াল অ্যানালাইসিসের (আইইইএফএ) লিড এনার্জি অ্যানালিস্ট শফিকুল আলম বলেন, বাসযোগ্য পৃথিবী গড়তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প নেই। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে এর গুরুত্ব আরও বেশি, কারণ দেশটি এখনো জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর অত্যন্ত নির্ভরশীল। তিনি বলেন, সরকার নবায়নযোগ্য জ্বালানি উন্নয়নে নানা পরিকল্পনা নিচ্ছে, যা ইতিবাচক। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট কৌশল ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা থাকতে হবে।

 

ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল বলেন, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিতে অবরোধের বাস্তবতায় নবায়নযোগ্য জ্বালানির উন্নয়নের মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন আমাদের স্বাধীনতার প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

 

আয়োজকেরা জানান, একই সময়ে দেশের ৫০টি জেলায়ও অনুরূপ জলবায়ু ধর্মঘট কর্মসূচি পালিত হয়েছে, যেখানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
তৃণমূল কংগ্রেসের দেড় দশকের শাসনের অবসান ঘটিয়ে পশ্চিমবঙ্গের প্রথম বিজেপি সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ শনিবার দুপুর ১২টায় ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে এই ঐতিহাসিক শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সশরীরে উপস্থিত ছিলেন। 

 

আজ ০৯ মে, ২০২৬ শনিবার এক প্রতিবেদনে আনন্দবাজার এ তথ্য জানিয়েছে।

 

শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে আজ সকাল থেকেই সমগ্র কলকাতা শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা ছিল। ব্রিগেডের ময়দানে লাখো মানুষের সমাগম ঘটে। অনুষ্ঠানের শুরুতে হুডখোলা গাড়িতে চড়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, শুভেন্দু অধিকারী ও শমীক ভট্টাচার্য সভাস্থলে প্রবেশ করেন। এ সমং উপস্থিত জনতার অভিবাদনের জবাবে হাত নাড়েন।

 

মঞ্চে উঠে প্রধানমন্ত্রী প্রথমেই বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শুভেন্দু অধিকারীর এই শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানটি কার্যত ভারতীয় রাজনীতির নক্ষত্র সমাবেশে পরিণত হয়েছিল। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ, জেপি নড্ডা, স্মৃতি ইরানি ও শিবরাজ সিংহ চৌহানের মতো শীর্ষ নেতৃবৃন্দ। এ ছাড়াও বিজেপি শাসিত বিভিন্ন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীরা-যোগী আদিত্যনাথ, হিমন্ত বিশ্বশর্মা, চন্দ্রবাবু নায়ডু, মানিক সাহা ও সম্রাট চৌধরি এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী ও অগ্নিমিত্রা পালের উপস্থিতি মঞ্চের জৌলুস আরও বাড়িয়ে দেয়।

 

নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী ইতোমধ্যেই বিধানসভায় তার দাপ্তরিক কক্ষ সাজানোর কাজ সম্পন্ন করেছেন। সেখান থেকে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নামফলক সরিয়ে ফেলা হয়েছে। আজকের এই ঐতিহাসিক ক্ষণের সাক্ষী হতে দূর-দূরান্তের জেলা থেকে শিয়ালদহ ও হাওড়া স্টেশনে কর্মী-সমর্থকদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ড্রোনের মাধ্যমে কড়া নজরদারি এবং কড়া পুলিশি পাহারায় অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে এই বর্ণাঢ্য শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়েছে।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছাল। পড়ালেখা শেষ করে পিএইচডি ডিগ্রি নিয়ে স্বপ্নভরা চোখে দেশে ফেরার কথা ছিল নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির। কিন্তু সেই ফেরা হলো কফিনবন্দি লাশ হয়ে। স্বপ্ন যেন বিষাদে পরিণত হয়েছে।


হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আজ শনিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছালে কফিন ধরে বাবা-মায়ের আহাজারি আর স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে ওঠে পুরো পরিবেশ।

 

মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা-বাবা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা। সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটের দিকে একটি হায়েস গাড়িতে করে তারা বিমানবন্দরে আসেন। এ সময় তাদের শোকে বিহ্বল দেখা যায়।

 

জানা গেছে, মরদেহবাহী কফিনটি বিমানবন্দরে আনার পর স্বজনদের কান্নায় পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে ডাকছিলেন, আবার কেউ নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন।

 

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মাদারীপুরে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে দাদা-দাদির কবরের পাশেই তাকে দাফন করা হবে।

 

ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটসের ইকে-০২২০ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে ট্রানজিট শেষে এমিরেটসের ইকে-০৫৮২ ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুেলটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।


এর আগে স্থানীয় সময় বুধবার টাম্পায় বৃষ্টির প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ গত ৪ মে দেশে পৌঁছায়।


খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক জামিল আহমেদ লিমন (২৭) যুক্তরাষ্ট্রে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন। অন্যদিকে, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি (২৭) একই বিশ্ববিদ্যালয়ে কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ও এর আশপাশের এলাকায় আবারও সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দীর্ঘ এক মাসব্যাপী যুদ্ধবিরতির পর বৃহস্পতিবার (৭ মে) রাতে শুরু হওয়া এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে উঠেছে। 

 

এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম সিএনএন এ তথ্য জানিয়েছে।

 

ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে মার্কিন বাহিনী তাদের ভূখণ্ড ও জলসীমায় বিনা উস্কানিতে হামলা চালিয়েছে। 

 

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালির কেশম দ্বীপ, বন্দর খামির ও সিরিক সংলগ্ন বেসামরিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান হামলা চালানো হয়েছে। 

 

এর প্রতিবাদে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে এবং চাবাহার বন্দরের দক্ষিণে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর ওপর আক্রমণ চালায়।

 

অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার সময় মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌকার মাধ্যমে হামলা চালায় ইরান। ইউএসএস ট্রক্সটুন, ইউএসএস রাফায়েল পেরাল্টা ও ইউএসএস মেসন নামক তিনটি ডেস্ট্রয়ারকে লক্ষ্য করে এই আক্রমণ চালানো হয়েছিল বলে পেন্টাগন নিশ্চিত করেছে। 

 

সেন্টকমের দাবি, মার্কিন বাহিনী কেবল আত্মরক্ষার স্বার্থে ইরানের সেই সামরিক স্থাপনাগুলোতে আঘাত হেনেছে যেখান থেকে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হচ্ছিল। তবে এই হামলায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সম্পদের ক্ষতি হয়নি বলে দাবি করা হয়েছে।

 

পুরো ঘটনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে মন্তব্য করেছেন। এবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই হামলাকে ‘জাস্ট আ লাভ ট্যাপ’ (সামান্য আঘাত) হিসেবে অভিহিত করেন। ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর আছে। তবে কেউ আমাদের সঙ্গে ছিনিমিনি খেললে আমরা বসে থাকব না।
 

Add

Site Counter

Online

34

Total

49k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আসন্ন ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে কোরবানির পশু হাট ও পশুবাহী গাড়িতে যাতে চাঁদাবাজি না হয় সে ব্যাপারে আমরা সজাগ রয়েছি এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণীসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।

 

আজ ০৮ মে, ২০২৬ শুক্রবার বিকেলে টাঙ্গাইল শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে নতুন কুড়ি স্পোর্টসের ফাইনাল খেলা উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

 

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, চাহিদার চেয়ে বেশি পরিমাণে পশু আমাদের মজুত রয়েছে। কাজেই বাইরে থেকে কোরবানির পশু আনার দরকার নেই। চাহিদা অনুযায়ী পশু আমাদের দেশে রয়েছে। 

 

তিনি বলেন, পশুর বাজার ব্যবস্থাপনা যাতে সঠিক থাকে, সে অনুযায়ী প্রত্যেক হাটে ভেটেরিনারি ডাক্তাররা দায়িত্ব পালন করবে।

 

চোরাই পথে পশু আসা বন্ধের বিষয়ে তিনি বলেন, কোরবানির পশু কোনোভাবেই বাইরের থেকে অবৈধ পথে যাতে প্রবেশ করাতে না পারে। সে লক্ষ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সীমান্ত এলাকায় দায়িত্বরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিডিআর) অবহিত আছে। 

 

এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সঞ্চয় কুমার মহন্ত, টাঙ্গাইল সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহীন মিয়াসহ জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
 


Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ স্পোর্টস ডেস্ক:
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ, বিপিএলে দুর্নীতি ও ফিক্সিংয়ের অভিযোগে এবার কঠোর অবস্থানে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড, বিসিবি। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজার ও ফ্র্যাঞ্চাইজি সংশ্লিষ্টসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা ও বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে। অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ম্যাচ বেটিং, তদন্তে অসহযোগিতা এবং প্রমাণ গোপনের মতো গুরুতর অনিয়ম।

 

বৃহস্পতিবার বিসিবির পক্ষ থেকে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়। এর আগে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, বিপিএলে ফিক্সিংয়ে জড়িতদের নাম শিগগিরই প্রকাশ করা হবে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেই তালিকা প্রকাশ করে বোর্ড।

 

বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্তে উঠে আসে ২০২৫ ও ২০২৬ বিপিএল ঘিরে নানা অনিয়মের চিত্র। প্রায় ৯০০ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুয়া সংক্রান্ত কার্যক্রম, দুর্নীতির প্রস্তাব, ডিমান্ড নোটিশ উপেক্ষা এবং তদন্তে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগের প্রমাণ মিলেছে।

 

বিসিবির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রাম রয়্যালসের টিম ম্যানেজার মোহাম্মদ লাবলুর রহমান, নোয়াখালী এক্সপ্রেসের সহ মালিক মোহাম্মদ তৌহিদুল হক তৌহিদ, ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার, টিম ম্যানেজার রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী এবং ক্রিকেট সংগঠক সামিনুর রহমান।

 

তাদের মধ্যে অমিত মজুমদার ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ম্যাচের ফলাফল নিয়ে বাজি ধরা বা বেটিংয়ে অংশ নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে। অন্যদিকে লাবলুর রহমান ও তৌহিদের বিরুদ্ধে তদন্তে সহযোগিতা না করা, তথ্য গোপন ও প্রমাণ নষ্ট করার অভিযোগ রয়েছে।

 

বিসিবির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, “কিছু অভিযুক্ত ব্যক্তি ড্যাকো পরিচালিত তদন্তে সহযোগিতা করেননি, বরং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন ও ধ্বংস করেছেন।”

 

সামিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও বিস্তৃত। বিসিবি জানিয়েছে, নবম, দশম ও একাদশ বিপিএলসহ একাধিক আসরে তিনি দুর্নীতিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। সেই কারণে তার বিরুদ্ধে ‘বিসিবি এক্সক্লুডেড পারসন পলিসি’ অনুযায়ী বহিষ্কারাদেশ জারি করা হয়েছে।

 

বোর্ড আরও জানিয়েছে, অভিযুক্ত পাঁচজনকে আপাতত সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং তাদের ১৪ দিনের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। এ সময়ের মধ্যে বিসিবি এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করবে না।

 

বিশ্লেষকদের মতে, বিপিএলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হলেও, দীর্ঘদিন ধরে চলা অনিয়ম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কঠোর নজরদারির প্রয়োজন রয়েছে। ক্রিকেট প্রশাসনের অভ্যন্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে এমন ঘটনা পুনরাবৃত্তি হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

 

ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনটি এখনো পুরোপুরি জনসমক্ষে আসেনি, তবে বিস্তৃত এই তদন্ত ভবিষ্যতে বিপিএল পরিচালনায় বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
 

জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে ইতিবাচক সাড়া না পেলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি নাহিদের

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম আজ শনিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সংস্কারে অচলাবস্থা সমাধানে করণীয় কী’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় যোগ দিয়ে বললেন, জুলাই সনদ ও সাংবিধানিক সংস্কার ইস্যুতে সরকার ছলচাতুরী করছে। 

 

তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সংসদের ভেতরে ও বাইরে আলোচনার পাশাপাশি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি চলবে। তবে সরকার যদি ইতিবাচক সাড়া না দেয়, তবে কঠোর আন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করা হবে।

 

তাঁর ভাষায়, “জুলাই সনদ নিয়ে সরকার টালবাহানা করছে। তারা এটাকে এড়িয়ে যেতে চায়। কিন্তু জনগণের অংশগ্রহণমূলক, স্বচ্ছ এবং সার্বভৌম ক্ষমতার ভিত্তিতেই সাংবিধানিক সংস্কার হতে হবে।” 

 

অবিলম্বে গণভোটের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘সাংবিধানিক সংস্কার কাউন্সিল’ গঠনের দাবি জানান বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।

 

বিএনপির সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, “নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রীসহ বিএনপির শীর্ষ নেতারা প্রকাশ্যে গণভোটের পক্ষে প্রচারণা চালালেও ক্ষমতায় আসার পর তারা এর বিরোধিতা করছে। এর মাধ্যমে বিএনপি মূলত জনগণের আকাঙ্ক্ষাকেই প্রত্যাখ্যান করছে।”
 

দেশে একটি হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে, তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়: নওগাঁর আত্রাইয়ে মির্জা ফখরুল

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নওগাঁর আত্রেইয়ে পতিসর রবীন্দ্র কাচারি বাড়িতে জেলা প্রশাসন আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বললেন, আমাদের দেশে একটি হতাশাবাদী গোষ্ঠী আছে তারা সারাক্ষণ হতাশ হয়ে যায়। তারা বিভিন্নভাবে সমাজকে অস্থির করে রাখতে চায়। 

 

আমি কোনো নির্দিষ্ট দল বা ব্যক্তির কথা বলতে চাই না। আমি শুধু বলতে চাই আমাদের যে মূল জায়গাটা ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ। আমাদের যে স্বকীয়তা, আমাদের যে স্বতন্ত্র পরিচয় আমরা বাংলাদেশি এই কথাটা আমাদের সবার আগে মনে রাখতে হবে। আমরা এমনি এমনি স্বাধীনতা পাইনি। নয় মাস যুদ্ধ করেছি। এই যুদ্ধ করেই আমরা স্বাধীনতা নিয়ে এসেছি। আবার গণতন্ত্র ফিরিয়ে পেয়েছি লড়াই করেই। এমনি এমনি গণতন্ত্র ফিরে পাইনি।

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, জুলাইয়ে আমাদের সন্তানেরা সবাই মিলে যে লড়াইটা করল। আমরা একে বলি জুলাই যুদ্ধ। পরিবর্তন এসেছে, নতুন নির্বাচন হয়েছে। মানুষ নতুন সরকারের প্রতি আশা নিয়ে আছে। যারা ফ্যাসিস্ট ছিল তারা দেশটাকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। অর্থনীতিকে বিদেশে লুটপাট করে নিয়ে গেছে। ব্যাংকগুলোকে লুটপাট করেছে। প্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এর বিরুদ্ধে লড়ায়ই করেই আমরা আজকে এই অবস্থাতে এসেছি। অনেকেই চেষ্টা করছে এই পরিবর্তনটাকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে। ছোটখাটো ইস্যু নিয়ে গোলযোগ সৃষ্টি করত। আমরা কেউ চাই না আর দেশে কোনো গোলযোগ হোক।

 

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি। 

 

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রবীন্দ্রনাথ এখানে যখন আসতেন তিনি কৃষকদের দুঃখ-দুর্দশা দেখে ব্যাংক স্থাপন করেছিলেন। কৃষিকে আধুনিক করার জন্য আধুনিক পদ্ধতিতে কৃষি কাজ শুরু করেছিলেন। এটি তার জীবনের সঙ্গে, কাজের সঙ্গে, কবিতার সঙ্গের বাইরের ব্যাপার ছিল। আমি কোনো তাত্ত্বিক নই, পন্ডিতও নই, সাহিত্যের ওপর বিশেষ কোনো পাণ্ডিত্য নেই। আমি সাহিত্য ভালোবাসি, রবীন্দ্রনাথের সাহিত্য ভালোবাসি, নজরুলের সাহিত্য ভালোবাসি সব ধরনের সাহিত্যই আমি ভালোবাসি। কিন্তু আমি নিজে কোনোকিছু লিখতে পারি না। যে মানুষ সাহিত্য চর্চা করে, কবিতা শুনে, কবিতা লিখে অথবা যে মানুষটি গান শুনে, গান গায় সে নিঃসন্দেহে ভালো মানুষ হয়। 

 

তিনি বলেন, আমার বাবা দাপুটে একজন রাজনৈতিক ছিলেন এবং তিনি মুসলিম লীগ করতেন। প্রতিদিন সকালবেলা হাঁটতে বের হতেন। ফিরে এসে তিনি রবিন্দ্রনাথের শাজাহান কবিতা আবৃত্তি করতেন। কবিতা, পদ্য, গদ্য, নাটক, গান সকল ক্ষেত্রে রবিন্দ্রনাথের অবাধ বিচরণ ছিল। তিনি গীতাঞ্জলি লিখে গোটা বিশ্বকে নাড়িয়ে দিয়েছিলেন। আমার প্রায় মনে হয় রবিন্দ্রনাথকে সারাজীবন পড়লেও পড়া যায় না। আমরা রাজনীতি করি, সারাজীবন রাজনীতির মধ্যে কাটিয়ে দিয়েছে। আমাদের রাজনীতি সুন্দর না, পরিচ্ছন্ন না। বারবার এখানে মানুষেরা পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছে, প্রাণ দিয়েছে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করেছে। কিন্তু দূর্ভাগ্যক্রমে পরিবর্তন আসেনি।
 

‘আ.লীগ ৫ বছরে যা করতে পারেনি, আমরা তা ২ মাসেই করেছি’: হুইপ জি কে গউছ

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছ বলেছেন, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ মানুষকে ধোঁকা দিয়ে বোকা বানিয়েছে। আমরা মানুষের কাছে তার বিপরীত চিত্র উপহার দেব। এখন মানুষ আর ধোঁকা খাবেন না। আওয়ামী লীগ পাঁচ বছরে যে উন্নয়ন করতে পারেনি, আমরা তা দুই মাসেই করেছি।

 

তিনি বলেন, আমরা উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর সঠিক বাস্তবায়ন চাই। নিজেরা কেউ দুর্নীতি করব না, অন্যকেও দুর্নীতি করতে দেব না। 
বুধবার (৬ মে) বিকেলে হবিগঞ্জে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ইতোমধ্যেই শুরু হওয়ায় জেলা বিএনপি আয়োজিত আনন্দ র্যা লিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

এখন নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটের সময় দেওয়া অমোচনীয় কালি আঙুল থেকে মুছার আগেই আমরা নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছি। বিএনপি ওয়াদা করেছিল ১০ হাজার টাকা কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করবে। ইতোমধ্যেই আমাদের প্রিয় নেতা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সেই ওয়াদা পালন করেছেন।

 

তিনি আরও বলেন, আমাদের দল বলেছিল দেশের মায়েদের ক্ষমতায়নের জন্য ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। সেটিও দেওয়া শুরু হয়েছে। আগামী মাস থেকে হবিগঞ্জেও ইনশাআল্লাহ ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু হবে। বিএনপি ওয়াদা করেছিল ক্ষমতায় গেলে কৃষক কার্ড চালু করা হবে। পহেলা বৈশাখ সারা দেশে কৃষক কার্ড চালু হয়েছে। এভাবে বিএনপি মানুষের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে।

 

হবিগঞ্জ কেন্দ্রীয় ঈদগাহ থেকে র্যা লিটি বের হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে। এতে উপস্থিত ছিলেন- জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাজী নুরুল ইসলাম, হাজী এনামুল হক, শ্রমিক দল সভাপতি ইসলাম তরফদার তনু, সাধারণ সম্পাদক এসএম বজলুর রহমান, পৌর বিএনপির সভাপতি তাজুল ইসলাম চৌধুরী ফরিদ, যুবদল আহ্বায়ক জালাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব সফিকুর রহমান সিতু প্রমুখ।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭