ইরানের জব্দ হওয়া শত বিলিয়ন ডলার ঘিরে নতুন কূটনৈতিক টানাপোড়েন
আশরাফুর রহমান, তেহরান থেকে
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত ইস্যু। আর তা হলো- বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘিরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা এই প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, জব্দ সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে এটি এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
১৯৭৯: সংঘাতের সূচনা
ইরানের সম্পদ জব্দ হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ ঘোষণা করে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেন। এই পদক্ষেপ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে একটি কার্যকর ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
এই ঘটনার পরপরই আন্তর্জাতিক ব্যাংক ও করপোরেশনগুলো ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করতে শুরু করে, যা দেশটির অর্থনীতিকে দ্রুত বিচ্ছিন্নতার দিকে ঠেলে দেয়।
আলজিয়ার্স চুক্তি: আংশিক মুক্তি
১৯৮১ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে কিছু সম্পদ ছাড় দেওয়া হয়। তবে পুরো অর্থ ফেরত আসেনি। উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন আইনি দাবি ও ক্ষতিপূরণের নামে আটকে রাখা হয়।
এই অভিজ্ঞতা ইরানের মধ্যে একটি দীর্ঘস্থায়ী অবিশ্বাসের জন্ম দেয়—বিশেষ করে পশ্চিমা শক্তিগুলোর প্রতিশ্রুতি ও আন্তর্জাতিক আইনি কাঠামোর নিরপেক্ষতা নিয়ে।
নিষেধাজ্ঞার বিস্তার ও সম্পদ বৃদ্ধি
পরবর্তী দশকগুলোতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। এর ফলে তেল বিক্রির আয়সহ বিপুল সম্পদ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জমা হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
বর্তমানে বিভিন্ন হিসাব অনুযায়ী, এই জব্দ সম্পদের পরিমাণ ১০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি। বিশ্লেষকদের মতে, এই অর্থ ইরানের বার্ষিক জ্বালানি রপ্তানি আয়ের প্রায় তিন গুণ—যা একটি দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞাগ্রস্ত অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ।
কোথায় আছে এই অর্থ ?
ইরানের এই সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এবং এর সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন এবং জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এ ছাড়া কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, সেটিও কার্যত অচল। ইউরোপে লুক্সেমবার্গে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জব্দ রয়েছে।
এই অর্থের বড় অংশই তেল বিক্রির আয়, যা আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়নি।
কাতার চুক্তি ও পুনরায় অচলাবস্থা
২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি লেনদেনে মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আঞ্চলিক উত্তেজনার পর সেই অর্থে ইরানের প্রবেশাধিকার আবার স্থগিত করা হয়, যা এই ইস্যুর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।
জেসিপিওএ: আশার জানালা, দ্রুত বন্ধ
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। এতে ইরান কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আংশিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হয় এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
‘জব্দ সম্পদ’ কী এবং কেন ?
ফ্রোজেন অ্যাসেট বা জব্দ সম্পদ বলতে বোঝায় এমন অর্থ বা সম্পদ, যা কোনো দেশ, ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনি বা রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয় না। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব সম্পদ আটকে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব সম্পদ জব্দ করার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা কাজ করেছে।
তবে সমালোচকদের মতে, অনেক ক্ষেত্রেই এটি ভূরাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের একটি কার্যকর উপায় হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে।
অর্থনীতিতে প্রভাব
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে রয়েছে। তেল রপ্তানি কমেছে, বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে এবং শিল্প খাতে আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জব্দ সম্পদ ইরানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার দেশটির মোট দেশজ উৎপাদনের একটি বড় অংশের সমান। অর্থনীতিবিদদের মতে, এই অর্থ ছাড় হলে ইরান মুদ্রার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করতে এবং অবকাঠামো উন্নয়নে বিনিয়োগ বাড়াতে পারবে।
তেল, পানি সরবরাহ এবং বিদ্যুৎ খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়নেও এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিকল্প পথ: ক্রিপ্টো ও কৌশলগত অভিযোজন
নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার, যেখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
যদিও এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়, তবে আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার বাইরে একটি সীমিত বিকল্প তৈরি করতে সহায়তা করেছে এবং নিষেধাজ্ঞার প্রভাব আংশিকভাবে কমিয়েছে।
হরমুজ প্রণালি ও নতুন সমীকরণ
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আবার সামনে এসেছে। বিশ্বে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, যা একে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর বানিয়েছে।
ইরান এই কৌশলগত অবস্থানকে আলোচনায় চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে, যা জব্দ সম্পদ মুক্তির প্রশ্নকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে এবং কূটনৈতিক সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।
ইসলামাবাদ আলোচনা ও অচলাবস্থা
১০ এপ্রিলের আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্টভাবে বলেন, আলোচনা শুরুর আগে জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।
২২ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে এই ইস্যু আবার আলোচনায় আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করে তুলেছে।
কূটনৈতিক বার্তা ও অনিশ্চয়তা
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সম্পদ মুক্ত করে, তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা—যা ইরানের ওপর চাপ কমানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
তবে একই সঙ্গে অনিশ্চয়তাও রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নীতিগত ধারাবাহিকতা নিয়ে প্রশ্ন থাকায়, যেকোনো সিদ্ধান্তই ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা হতে পারে।
সংঘাতের বহুমাত্রিক বাস্তবতা
৪৭ বছরের এই অর্থনৈতিক সংঘাত দেখিয়েছে যে, জব্দ সম্পদের প্রশ্ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি ক্ষমতা, আস্থা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রতিফলন। ইরানের জন্য এটি জাতীয় সম্পদের পুনরুদ্ধারের লড়াই আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি উপায়।
এই বাস্তবতায়, জব্দ সম্পদের ভবিষ্যৎ শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নির্ধারণ করবে না; বরং এটি আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার ন্যায্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপরও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।*
লেখক: ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় (আইআরআইবি) কর্মরত সাংবাদিক
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দ্বিতীয় দফা আলোচনার প্রস্তুতি যত এগোচ্ছে, ততই সামনে আসছে একটি পুরোনো কিন্তু অমীমাংসিত ইস্যু। আর তা হলো- বিদেশে জব্দ হয়ে থাকা ইরানের বিপুল সম্পদ। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি ঘিরে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনা এই প্রশ্নকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। তেহরান স্পষ্ট করেছে, জব্দ সম্পদ মুক্ত না হলে কোনো অর্থবহ আলোচনা সম্ভব নয়। ফলে এটি এখন কেবল অর্থনৈতিক নয়, বরং রাজনৈতিক আস্থা, কৌশলগত সমীকরণ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা একটি প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।
ইরানের সম্পদ জব্দ হওয়ার ইতিহাস শুরু হয় ১৯৭৯ সালে ইসলামিক বিপ্লবের পর। তেহরানে মার্কিন দূতাবাসে জিম্মি সংকটের প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার ইরানকে ‘জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি’ ঘোষণা করে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করেন। এই পদক্ষেপ শুধু তাৎক্ষণিক রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ছিল না; এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে একটি কার্যকর ভূরাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৯৮১ সালে আলজিয়ার্স চুক্তির মাধ্যমে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে কিছু সম্পদ ছাড় দেওয়া হয়। তবে পুরো অর্থ ফেরত আসেনি। উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন আইনি দাবি ও ক্ষতিপূরণের নামে আটকে রাখা হয়।
নিষেধাজ্ঞার বিস্তার ও সম্পদ বৃদ্ধি
পরবর্তী দশকগুলোতে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর হয়। এর ফলে তেল বিক্রির আয়সহ বিপুল সম্পদ বিদেশি ব্যাংকগুলোতে জমা হলেও তা ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়ে।
ইরানের এই সম্পদ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে আছে এবং এর সুনির্দিষ্ট হিসাব পাওয়া কঠিন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চীনে অন্তত ২০ বিলিয়ন ডলার, ভারতে প্রায় ৭ বিলিয়ন, ইরাকে ৬ বিলিয়ন এবং জাপানে প্রায় ১.৫ বিলিয়ন ডলার আটকে আছে। এ ছাড়া কাতারে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার, যা দক্ষিণ কোরিয়া থেকে স্থানান্তর করা হয়েছিল, সেটিও কার্যত অচল। ইউরোপে লুক্সেমবার্গে প্রায় ১.৬ বিলিয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রে সরাসরি প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার জব্দ রয়েছে।
২০২৩ সালে বন্দি বিনিময় চুক্তির আওতায় দক্ষিণ কোরিয়ায় আটকে থাকা ৬ বিলিয়ন ডলার কাতারে স্থানান্তর করা হয়। তবে এই অর্থ কেবল মানবিক খাতে ব্যবহারের শর্তে দেওয়া হয়েছিল এবং প্রতিটি লেনদেনে মার্কিন অনুমোদন প্রয়োজন ছিল। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আঞ্চলিক উত্তেজনার পর সেই অর্থে ইরানের প্রবেশাধিকার আবার স্থগিত করা হয়, যা এই ইস্যুর অনিশ্চয়তা ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে তোলে।
২০১৫ সালে পারমাণবিক চুক্তি ইরানের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড় ছিল। এতে ইরান কিছু সম্পদ ব্যবহারের সুযোগ পায় এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে আংশিকভাবে ফিরে আসার সুযোগ তৈরি হয়।
কিন্তু ২০১৮ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন চুক্তি থেকে সরে গিয়ে পুনরায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই সুযোগও বন্ধ হয়ে যায়। ফলে ইরানের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থার সংকট আরও গভীর হয় এবং ভবিষ্যৎ যেকোনো আলোচনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ে।
ফ্রোজেন অ্যাসেট বা জব্দ সম্পদ বলতে বোঝায় এমন অর্থ বা সম্পদ, যা কোনো দেশ, ব্যাংক বা আন্তর্জাতিক সংস্থা আইনি বা রাজনৈতিক কারণে ব্যবহার করতে দেয় না। সাধারণত নিষেধাজ্ঞা, আদালতের আদেশ বা আন্তর্জাতিক নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব সম্পদ আটকে রাখা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, এসব সম্পদ জব্দ করার পেছনে নিরাপত্তা উদ্বেগ, পারমাণবিক কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক কার্যকলাপ নিয়ে দীর্ঘদিনের আশঙ্কা কাজ করেছে।
দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞায় ইরানের অর্থনীতি ব্যাপক চাপে রয়েছে। তেল রপ্তানি কমেছে, বিদেশি বিনিয়োগ স্থবির হয়েছে এবং শিল্প খাতে আধুনিকায়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে। উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও মুদ্রার অবমূল্যায়ন সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে।
বিকল্প পথ: ক্রিপ্টো ও কৌশলগত অভিযোজন
নিষেধাজ্ঞার চাপে ইরান বিকল্প অর্থনৈতিক কৌশলও গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ক্রিপ্টোকারেন্সির ব্যবহার, যেখানে বিটকয়েন মাইনিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক আয় অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনায় হরমুজ প্রণালির গুরুত্ব আবার সামনে এসেছে। বিশ্বে পরিবাহিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথ দিয়ে যায়, যা একে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ করিডর বানিয়েছে।
১০ এপ্রিলের আগে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ স্পষ্টভাবে বলেন, আলোচনা শুরুর আগে জব্দ সম্পদ মুক্ত করতে হবে। যদিও কিছু প্রতিবেদনে আংশিক ছাড়ের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র তা অস্বীকার করে। ফলে আলোচনা অচলাবস্থায় পড়ে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র যদি এই সম্পদ মুক্ত করে, তা হবে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক বার্তা—যা ইরানের ওপর চাপ কমানোর ইঙ্গিত দিতে পারে। এতে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
৪৭ বছরের এই অর্থনৈতিক সংঘাত দেখিয়েছে যে, জব্দ সম্পদের প্রশ্ন শুধু অর্থনৈতিক নয়; এটি ক্ষমতা, আস্থা এবং বৈশ্বিক রাজনীতির প্রতিফলন। ইরানের জন্য এটি জাতীয় সম্পদের পুনরুদ্ধারের লড়াই আর যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এটি কৌশলগত চাপ প্রয়োগের একটি উপায়।
লেখক: ইরানের জাতীয় সম্প্রচার সংস্থায় (আইআরআইবি) কর্মরত সাংবাদিক
আন্তর্জাতিক
সারাদেশের বিভিন্ন স্থানে কালবৈশাখী ঝড়, বজ্রপাতে পাঁচ জেলায় ১১ জনের মৃত্যু
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।
হাওরাঞ্চলে বোরো ধান কাটার মৌসুমে এমন আকস্মিক বজ্রপাতে কৃষকদের মৃত্যুতে এলাকাগুলোতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি জানিয়েছেন, এই জেলায় সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। ধর্মপাশা উপজেলায় বজ্রপাতে হবিবুর রহমান (২২) ও রহমত উল্লাহ (১৩) নামে দুজন নিহত হয়েছেন। হবিবুর রহমান বাদশাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি দুপুরে চাচার সাথে হাওরে ধান কাটতে গিয়েছিলেন। অন্যদিকে রহমত উল্লাহ তার বাবার সাথে হাওরে থাকাকালীন বজ্রপাতের শিকার হয়।
এই ঘটনায় আহত জয়নাল হক ও শিখা মনিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাহিরপুর উপজেলায় আবুল কালাম ওরফে কালা মিয়া (২৮) নামে এক হাঁসের খামার শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার জামলাবাজ গ্রামে বজ্রপাতের সময় তিনি কাজ করছিলেন।
এই ঘটনায় নূর মোহাম্মদ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন, যাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেটে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া দিরাই উপজেলায় কালিয়াগোটার হাওরে ধান কাটার সময় লিটন মিয়া (৩৮) নামে এক কৃষক এবং জামালগঞ্জ উপজেলার পাগনার হাওরে ধান ট্রলিতে তোলার সময় নুর জামাল (২৬) নামে এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে। জামালগঞ্জে বজ্রপাতে তোফাজ্জল হোসেন নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং দুটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।
ময়মনসিংহ ও রংপুর জেলা থেকেও বজ্রপাতে মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ময়মনসিংহে পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ২ জন এবং রংপুরে ঝড়ের সময় মাঠে কাজ করতে গিয়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়া নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে হাওরে কাজ করার সময় ১ জন করে মোট ২ জন প্রাণ হারিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশ ও উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানা গেছে।
আবহাওয়াবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন বলছে, কালবৈশাখীর এই মৌসুমে বজ্রপাতের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। বিশেষ করে হাওর এলাকায় খোলা জায়গায় কাজ করার সময় কৃষকদের বেশি সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কালবৈশাখী ঝড়ের তাণ্ডবে সারা দেশে পৃথক বজ্রপাতের ঘটনায় অন্তত ১১ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দেশের পাঁচটি জেলায় আজ শনিবার দুপুরের পর থেকে এই প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ জেলায় ৫ জন, রংপুরে ২ জন, ময়মনসিংহে ২ জন এবং নেত্রকোণা ও হবিগঞ্জে ১ জন করে মারা গেছেন।
জাতীয়
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদি হত্যার অস্ত্র বিক্রেতা মাজেদুলের দায় স্বীকার
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল এবার আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আজ শনিবার তিন দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হওয়ায় তা রেকর্ড করার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা।
আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তবে তিনি দায় স্বীকার করে কি বলেছেন, তা জানানো হয়নি।
বিষয়টি ঢাকা মহানগর প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক রুকনুজ্জামান নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, গত মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের চকবাজার থানাধীন এলাকা থেকে আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা চলন্ত রিকশায় থাকাবস্থায় ওসমান হাদিকে গুলি করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয় ওসমান হাদিকে। তবে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় গত ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে ১২০(বি)/৩২৬/৩০৭/১০৯/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়।
পরবর্তীতে ৬ দিনের মাথায় গত ২০ ডিসেম্বর তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ এ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা (হত্যা) সংযোজনের আদেশ দেন।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আগ্নেয়াস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলাল এবার আদালতে দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।
আলোচিত খবর
এনসিপি তাদের দলে যোগ দিতে আহ্বান জানিয়েছে এর কোন ভিত্তি নেই: রুমিন ফারহানা
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এনসিপিতে (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) যোগদানের গুঞ্জনের একেবারেই কোনো ভিত্তি নেই। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা বা প্রচার হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
জার্মানভিত্তিক গণমাধ্যম ডয়েচে ভেলের (বাংলা) টক শো’তে অংশ নিয়ে তিনি গতকাল শুক্রবার এ কথা বলেন। রুমিন ফারহানা বলেন, এটা একেবারেই গুঞ্জন, একেবারেই গুজব। এটার সঙ্গে ন্যূনতম কোনো সত্যতা নেই।
রুমিন ফারহানা বলেন, “বিএনপি ছেড়ে দেওয়া বা বিএনপি থেকে বহিষ্কার হয়ে যাওয়ার পরে অবশ্যই অন্য অনেক দল এপ্রোচ করবে। সেই ধারাবাহিকতায় এনসিপিও কিছুটা করেছে। ওরা বারবারই বলেছে আপা চলে আসেন আমাদের সাথে। আসেন আমরা একসাথে কাজ করি। আপনি জুলাই মাঠে ছিলেন। আপনার বাসা ভাঙচুর হয়েছে। আপনি একজন ফ্রন্টলাইনার। সো আপনি আমাদের সঙ্গে যুক্ত হন। আমি তাদের এপ্রোচে হেসেছি। এটা নিয়ে কথা বাড়াইনি।”
এনসিপিতে যোগ দিলে সংসদে কথা বলার আরও স্পেস তৈরি হবে কিনা- এম প্রশ্নের জবাবে রুমিন ফারহানা বলেন, শুধু কথা বলার সুযোগের জন্য আমি কোনো জোটে যোগ দেব না। কথা বলার জন্য অসংখ্য প্ল্যাটফর্ম আছে’ সেখানে আমি কথা বলতে পারি। কিন্তু আমার নিজস্ব রাজনৈতিক আদর্শ, চিন্তাভাবনা ও পরিকল্পনা বিসর্জন দিয়ে কেবল সংসদে দুই মিনিট কথা বলার সুযোগ পাওয়ার জন্য কোনো দলে যোগ দেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সাবেক নেত্রী রুমিন ফারহানা জানিয়েছেন, তাকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো এনসিপিতে (ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি) যোগদানের গুঞ্জনের একেবারেই কোনো ভিত্তি নেই। এনসিপিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে যে আলোচনা বা প্রচার হচ্ছে, তা ভিত্তিহীন। তার বক্তব্য, বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর স্বাভাবিকভাবেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেছে। এনসিপির পক্ষ থেকেও তাকে দলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রাজনীতি
ইন্দোনেশিয়ায় বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ সব যাত্রী নিহত!
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তথ্যনুযায়ী হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ৮ জন ছিলেন।
পশ্চিম কালিমান্তান প্রদেশের মেলাউই জেলায় গতকাল বৃহস্পতিবার এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখা আজ শুক্রবার দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছে। সংবাদমাধ্যম গালফ নিউজ ও এএফপি এর প্রতিবেদনে এমন তথ্য জানা গেছে।
বিধ্বস্ত হেলিকপ্টারটি ছিল একটি এয়াবাস এইচ১৩০ এয়ারক্রাফট এবং সেটির মালিক ছিল স্থানীয় একটি বিমান পরিষেবাদাতা সংস্থা। দুর্যোগ মোকাবিলা দপ্তরের মেলাউই শাখার উদ্ধারাকরী বাহিনীর প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ সায়াফি জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার মেলাউইর একটি পাম-বাগান থেকে উড্ডয়নের ৫ মিনিট পরেই হেলিকপ্টারটি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল।
“যে এলাকায় হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে, সেটি খাড়া পাহাড়ি এবং ঘন জঙ্গলে আবৃত একটি অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী সেকাদাও জেলার অন্তর্গত”, এএফপিকে বলেছেন মোহাম্মদ সায়াফি।দুর্গম পথ এবং ঘন বনাঞ্চলের জন্য দুর্ঘটনাস্থলে যেতে উদ্ধারকারী বাহিনীর বেশ সময় লেগেছে বলে জানিয়েছেন মোহাম্মদ সায়াফি। তিনি আরও জানিয়েছেন, বিমানটিতে ২ জন ক্রু এবং ৬ জন যাত্রী ছিলেন; তাদের সবাইকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। যাত্রীদের মধ্যে একজন মালয়েশিয়ার নাগরিক ছিলেন।
কী কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে, তা এখনও জানা যায়নি। তবে হেলিকপ্টারটির লেজের অংশ সেটির মূল অংশ থেকে আলাদা হয় কয়েক কিলোমিটার দূরে পড়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লেজের অংশটি হেলিকপ্টারের মূল অংশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল; কিন্তু কী কারণে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল সেটি- তার উত্তর মেলেনি।
দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখতে ইতোমধ্যে একটি কমিটি গঠন করে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
ইন্দোনেশিয়ায় একটি বেসামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে চালকসহ ৮ জন যাত্রী নিহত হয়েছেন। তথ্যনুযায়ী হেলিকপ্টারটিতে চালকসহ মোট ৮ জন ছিলেন।
আন্তর্জাতিক
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোট বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলের ১৫ দিনের কর্মসূচি
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল কার্যকরের দাবিতে টানা ১৫ দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১ দল। ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে গণমিছিল, সেমিনার ও সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, নির্ধারিত দিনে শুনানি না হওয়ায় আন্দোলনের দ্বিতীয় ধাপে এই কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল ঢাকায় গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ২৫ এপ্রিল বিভাগীয় শহরগুলোতে এবং ২ মে দেশের সব জেলা সদরে একই ধরনের কর্মসূচি পালিত হবে। পাশাপাশি ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে লিফলেট বিতরণ এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার অভিযোগ করেন, “জনগণ নতুন রাষ্ট্র কাঠামোর আশায় ভোট দিলেও সরকার তা বাস্তবায়ন করছে না। বরং নানা অজুহাতে গণরায়ের ভিন্ন ব্যাখ্যা দেওয়া হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “জুলাই সনদে প্রতিশ্রুত সংস্কারগুলো উপেক্ষিত রয়ে গেছে।”
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, “জ্বালানি সংকট তীব্র হলেও সরকার তা অস্বীকার করছে। পেট্রোল পাম্পে দীর্ঘ লাইন, সার সংকটে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে।” একই সঙ্গে প্রশাসনে দলীয়করণের অভিযোগও তোলেন তিনি।
তিনি জানান, এই কর্মসূচির পরবর্তী ধাপে ১২টি সিটি করপোরেশন ও বিভাগীয় শহরে বড় সমাবেশ আয়োজন করা হবে। সবশেষে রাজধানীতে একটি জাতীয় মহাসমাবেশ করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা মামুনুল হক। এ সময় বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন ও গণভোটের ফল কার্যকরের দাবিতে টানা ১৫ দিনের দেশব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ সমমনা ১১ দল। ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত এই কর্মসূচির আওতায় সারা দেশে গণমিছিল, সেমিনার ও সমাবেশ আয়োজন করা হবে।
রাজনীতি
আইএমএফ এর শর্ত পূরণে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর হিসাব শুরু করেছে বিদ্যুৎ বিভাগ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দাতা গোষ্ঠি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের সাথে বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে তার হিসাব শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে হিসাব বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন হিসাব কষছেন।
ওই হিসাব অনুযায়ী বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ বাড়ালে সরকারের ১০ হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত আয় বা ভর্তুকি কম লাগবে। পাশাপাশি বিদ্যুতের দাম কতো ভাগ কোন গ্রাহকের বাড়ালে কতো টাকা আয় হবে তার হিসাবও করা হচ্ছে। এখন বিদ্যুতের প্রাথমিক হিসাব করা হচ্ছে। তবে কোনো কিছুই চূড়ান্ত নয়। মূলত আইএমএফের কাছে ওই হিসাব তুলে ধরা হবে। যদিও দেশের বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকার বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াবে কিনা তা নিশ্চিত নয়।
আগামী ১৩ এপ্রিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলার ঋণ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের বৈঠক হবে। ওই বৈঠকে উঠবে বিদ্যুৎ, তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রসঙ্গ। আর ওই কারণেই বিদ্যুৎ বিভাগ প্রাথমিকভাবে বিদ্যুতের দাম সমন্বয় বা বাড়ানোর কাজ শুরু করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয় এবং বিদ্যুৎ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, পাইকারি বিদ্যুতের দাম (বিতরণ কোম্পানির জন্য নির্ধারিত) সাড়ে ৮ শতাংশ বিগত ২০২৪ সালের প্রথম প্রান্তিকে বাড়ানো হয়েছিল। তারপর বিদ্যুতের দাম বাড়ায়নি অন্তর্বর্তী সরকার। আর বর্তমান বিএনপি নির্বাচনি ইশতেহারে জানিয়েছে, আগামী দুই বছর (২০২৬-২০২৭) তারা বিদ্যুতের কোনো দাম বাড়াবে না। ইতিমধ্যে বিদ্যুতের দাম না বাড়ানোর বিষয়ে বেশ কয়েকবাজার বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। কিন্তু সরকার জ্বালানি তেল এবং গ্যাসের দাম বাড়াতে আইএমএফের চাপে পড়তে যাচ্ছে ।
সূত্র জানায়, দেশের বিদ্যুতে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে বিপাকে আছে সরকার। গত বছর বিদ্যুৎ খাতে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা ভতুর্কি দেয়া হয়েছে। তারপরও গত অর্থবছরে পিডিবি ১৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান করেছে। তার মধ্যে আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী বিদ্যুৎ খাতে এ বছর ভর্তুকি কমিয়ে ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ ১২ টাকা ৩৬ পয়সায় কিনে ৬ টাকা ৬৩ পয়সা বিক্রি করে। যে কারণে বেড়েই চলেছে বিপিডিবির লোকসানের বোঝা। এ বছর বিদ্যুতের দাম না বাড়ালেও ৬০ হাজার কোটি টাকার বেশি পিডিবির লোকসান হবে। যা গত বছর ছিল ৫৭ হাজার কোটি টাকা। বর্তমানে দেশে পাঁচ কোটির বেশি বিদ্যুতের গ্রাহক আছে। তার মধ্যে আড়াই কোটি হচ্ছে স্বল্প ব্যবহার বা লাইফ লাইন গ্রাহক। যারা মাসে মাত্র ৭৫ ইউনিট বিদ্যুৎ ব্যবহার করে।
সূত্র আরো জানায়, দাতা সংস্থা আইএমএফের শর্তানুযায়ী জ্বালানি বিভাগ প্রতি মাসের ১ তারিখে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করে। বাংলাদেশ এখন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে প্রতি লিটার ডিজেল ১৮০ টাকার বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে। কিন্তু বিক্রি করা হচ্ছে ১০০ টাকায়। তেল বিক্রিতে সরকারের প্রতিদিন ১৬৭ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে। তবুও সরকার তেলের দাম বাড়াবে না। প্রধানমন্ত্রী তেলের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব নাকচ করে দিয়েছেন। জ্বালানি তেল আমদানি করতে যুদ্ধের আগে সরকারের বছরে ৬০০ কোটি ডলার ব্যয় হতো। এখন তা ৮০০ থেকে ৯০০ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়াতে পারে।
এদিকে মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের আগে প্রতি কার্গো এলএনজি পেট্রোবাংলার কেনা পড়তো ৫০০ কোটি টাকা। কিন্তু ওই কার্গো এখন কেনা পড়ছে ১০০০ থেকে এক হাজার ৩০০ কোটি টাকা। গত বছর গ্যাস বিক্রি করে পেট্রোবাংলা লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকা। এখন মার্চ, এপ্রিল এবং জুন ওই তিন মাস এলএনজি এনে ১৫ হাজার কোটি টাকা পেট্রোবাংলার লোকসান হতে পারে।
অন্যদিকে গত ২৪ থেকে ২৬ মার্চ আইএমএফের একটি দল ঢাকা সফর করেছে। ওই দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। আইএমএফের শর্ত এবং ঋণের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে দলটি বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বিগত ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি আইএমএফ বাংলাদেশের জন্য ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণ মঞ্জুর করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকারের অনুরোধে আইএমএফ ওই ঋণের পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করে। তার মধ্যে ১ দশমিক ৮৬ বিলিয়ন ডলারের কিস্তি ছাড়ের ব্যাপারে ওয়াশিংটনে বৈঠক করবেন অর্থমন্ত্রী।
এ প্রসঙ্গে পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান মো. এরফানুল হক জানান, যুদ্ধের কারণে এখন প্রতি মাসে জ্বালানি খাতে ৫ হাজার কোটি লোকসান হচ্ছে। তবে গ্যাসের দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারের কোনো ইঙ্গিত এখনো পাওয়া যায়নি।
দাতা গোষ্ঠি আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পূরণে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে। ইতিমধ্যে আইএমএফের সাথে বৈঠকের আগে বিদ্যুতের দাম ৫ বা ১০ শতাংশ বাড়ানো হলে সরকারের কত টাকা অতিরিক্ত আদায় হবে তার হিসাব শুরু হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের চাপে হিসাব বিভাগসহ কয়েকটি দপ্তর বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিভিন্ন হিসাব কষছেন।
জাতীয়
অরাজকতা নয়, একটু শান্তি ও ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা চায় সাধারণ মানুষ
মোঃ অলি উদ্দিন মিলন, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়টি ছিল এক বড় সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে। তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষায় কোনো বদল আসেনি। রাজপথের উত্তাপ আর রাজনীতির মারপ্যাঁচের ভিড়ে সাধারণ মানুষের একটাই আকুতি "আমরা অরাজকতা চাই না, শান্তিতে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।"
জনগণের নাভিশ্বাস ও অর্থনীতির চ্যালেঞ্জ গত কয়েক বছরের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ব অর্থনীতির টালমাটাল অবস্থায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ। ২০২৬ সালের শুরুর দিকেও দেশের বার্ষিক মূল্যস্ফীতি প্রায় ৮.৫৮ শতাংশে পৌঁছেছে। নিত্যপণ্যের বাজারের চিত্র ভয়াবহ; চাল, ডাল, তেল ও চিনির দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারগুলো সঞ্চয় ভেঙে দিনাতিপাত করছে।
রাজধানীর একটি বাজারে কেনাকাটা করতে আসা এক বেসরকারি চাকরিজীবী আক্ষেপ করে বলেন, "রাজনীতিতে কে এল আর কে গেল, তাতে আমাদের পেট ভরে না। আমরা চাই স্থিতিশীল বাজার আর শান্তিতে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা। অরাজকতা মানেই হরতাল, অবরোধ আর দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি।"
২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে সরকার গঠন করলেও তাদের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। দীর্ঘ দেড় দশক পর ক্ষমতার বাইরে থেকে আসা এই দলের জন্য প্রথম পরীক্ষাই হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং ভঙ্গুর অর্থনীতিকে সচল করা। বিশ্লেষকদের মতে, নতুন সরকার যদি দ্রুত বাজার নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে না পারে, তবে জনগণের মধ্যে তৈরি হওয়া ক্ষোভ দমানো কঠিন হবে।
অন্যদিকে, দেশের রাজনৈতিক সংস্কারের দাবিতে যে 'জুলাই সনদ' বা সংবিধান সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, তা বাস্তবায়নে নতুন সরকার কতটা আন্তরিক থাকে, সেদিকেও নজর রাখছে তরুণ প্রজন্ম।
বিশ্ব রাজনীতির দাবার চাল ও বাংলাদেশ বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এখন বিশ্বশক্তির প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারত, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের ত্রিমুখী ভূ-রাজনৈতিক লড়াইয়ের কেন্দ্রে রয়েছে বাংলাদেশ।
ভারতের সাথে সম্পর্ক: শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সাথে সম্পর্কের শীতলতা কাটানো নতুন সরকারের জন্য বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা।
চীন ও বিনিয়োগ: অবকাঠামো উন্নয়নে চীনের বিপুল বিনিয়োগের পাশাপাশি 'ঋণের ফাঁদ' নিয়ে এক ধরনের শঙ্কা কাজ করছে।
পাশ্চাত্যের চাপ: গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা এবং মানবাধিকার প্রশ্নে পশ্চিমা দেশগুলোর কড়া নজরদারি বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য ও রেমিট্যান্স প্রবাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিনিয়ত চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মানেই দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।
শান্তির খোঁজে ক্লান্ত জনপদ সাধারণ মানুষের দাবি খুবই সামান্য। তারা চায় না কোনো জ্বালাও-পোড়াও, চায় না ক্ষমতার দ্বন্দ্বে রাজপথে প্রাণ দিতে। তাদের চাওয়া কেবল তিনটি:
বাজার স্থিতিশীলতা: ডাল-ভাতের নিশ্চয়তা।
নিরাপত্তা: অরাজকতামুক্ত শান্তিময় পরিবেশ।
সুশাসন: ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা।
বাংলাদেশের রাজনীতি এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। দীর্ঘ সময় পর মানুষ একটি গণতান্ত্রিক পরিবেশের আশা করছে। রাজনীতিকদের মনে রাখতে হবে, সাধারণ জনগণের ধৈর্য অসীম নয়। ক্ষমতার লড়াইয়ে যদি জনস্বার্থ উপেক্ষিত হয় এবং অরাজকতা আবার জেঁকে বসে, তবে দেশের ভবিষ্যৎ সংকটাপন্ন হতে পারে। সাধারণ মানুষ এখন উন্নয়ন আর গালভরা বুলির চেয়ে শান্তির সাথে বেঁচে থাকার নিশ্চয়তাকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়টি ছিল এক বড় সন্ধিক্ষণ। দীর্ঘ চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হয়েছে। তবে ক্ষমতার পালাবদল হলেও সাধারণ মানুষের মৌলিক আকাঙ্ক্ষায় কোনো বদল আসেনি। রাজপথের উত্তাপ আর রাজনীতির মারপ্যাঁচের ভিড়ে সাধারণ মানুষের একটাই আকুতি "আমরা অরাজকতা চাই না, শান্তিতে ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকতে চাই।"
মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশগুলো প্রতিনিয়ত চাপে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতা মানেই দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেওয়া।
নিরাপত্তা: অরাজকতামুক্ত শান্তিময় পরিবেশ।
সুশাসন: ঘুষ ও দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা।
জাতীয়
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অস্ত্র বিক্রেতা হেলাল ৩ দিনের রিমান্ডে
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত।
আজ বুধবার (১৫ এপ্রিল, ২০২৬) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
একই দিন আসামিকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা। রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর হারুন-অর-রশীদ রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। আদালতের প্রশ্নে হেলাল জানান, তার কোনো বক্তব্য নেই। পরে বিচারক তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, হাদি হত্যায় ব্যবহৃত পিস্তলটি নরসিংদী এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। ফরেনসিক পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলি ও কার্তুজ ওই পিস্তল থেকেই ছোড়া হয়েছিল। মাইক্রো বিশ্লেষণের মাধ্যমে অস্ত্রটির সিরিয়াল নম্বরও শনাক্ত করা হয়েছে।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, অস্ত্রটি ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান আমদানি করে পরে বিভিন্ন পর্যায়ে বিক্রি হয়ে চট্টগ্রামের একটি অস্ত্রের দোকানে পৌঁছায়। ওই দোকানের মালিকই গ্রেপ্তার হওয়া হেলাল। তার লাইসেন্স ২০১৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত নবায়ন ছিল, এরপর আর তা নবায়ন করা হয়নি। কীভাবে এই অস্ত্রটি আসামিদের হাতে গেল, তা জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংস্থা।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) চট্টগ্রামের চকবাজার থানার হারেছ শাহ মাজার লেন এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তায় সিআইডি তাকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে আসে।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয়নগর এলাকায় চলন্ত রিকশায় থাকা অবস্থায় মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা শরিফ ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ১৫ ডিসেম্বর এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
এই ঘটনায় প্রথমে হত্যাচেষ্টা মামলা হলেও পরবর্তীতে তা হত্যা মামলায় রূপ নেয়। তদন্ত শেষে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি ও ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় গোয়েন্দা পুলিশ। তবে অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে মামলার বাদী নারাজি দিলে আদালত অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেয়।
তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, “অস্ত্রটি কীভাবে হাতবদল হয়ে হামলাকারীদের কাছে পৌঁছেছে, সেটিই এখন তদন্তের মূল বিষয়।” এজন্য হেলালকে জিজ্ঞাসাবাদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য মিলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার অস্ত্র বিক্রেতা মো. মাজেদুল হক হেলালকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে আদালত।
জাতীয়
বর্ণিল আয়োজনে পুরান ঢাকায় বাংলা নববর্ষ ‘পহেলা বৈশাখ’ উদযাপন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
পুরান ঢাকায় বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকটি।
আজ মঙ্গলবার সকালের সূর্য ওঠার সঙ্গে সঙ্গে রাজধানীজুড়ে শুরু হয় নববর্ষের আয়োজন। বিশেষ করে পুরান ঢাকার বিভিন্ন স্থানে ছিলো বর্ণিল আয়োজন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঐতিহ্য ধরে রাখতে নানা কর্মসূচির আয়োজন করে।
গেন্ডারিয়ার কিশোলয় চারুকারু মেলা প্রতিষ্ঠানে গানে ও কবিতায় নতুন বছরকে স্বাগত জানায় শিক্ষার্থীরা। সন্তানের আয়োজনে অংশ নেন অভিভাবকরাও।
ঐতিহ্যবাহী আহসান মঞ্জিলে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয় বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। শিশুদের গান ও নৃত্যে মেতে ওঠে উপস্থিত দর্শনার্থীরা। একইসঙ্গে পান্তা ভাত ও মাছের আয়োজন ছিলো দর্শনার্থীদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ। নববর্ষকে ঘিরে মানুষের প্রত্যাশা; নতুন বছর বয়ে আনুক সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি।
এসময় দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুস সালাম মেহেদি উৎসব ও পান্তা ভাতের আয়োজনে অংশ নেন। তিনি বলেন, ‘বৈশাখের আনন্দ ধরে রাখতে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ রাখতে হবে।’ পাশাপাশি ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধে আগাম প্রস্তুতির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অন্যদিকে, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। এতে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নেচে-গেয়ে অংশ নেন। ক্যাম্পাসে বসে বৈশাখী মেলা, যেখানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের খাবারের দোকান ছিলো দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু।
পুরান ঢাকায় বর্ণিল আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ পহেলা বৈশাখ। শিশু-কিশোরসহ সব বয়সী মানুষের রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণী, শিক্ষার্থীর উপস্থিতিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকটি।
জাতীয়
টাঙ্গাইলে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
নিজস্ব প্রতিনিধি:
পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী ২২ হাজার কৃষকের কাছে পৌঁছে গেল কৃষক কার্ডের সুবিধা।
টাঙ্গাইলে আয়োজিত আজ মঙ্গলবার সকালে এক বিশাল জনসভা থেকে দেশব্যাপী ডিজিটাল ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেনে তিনি।
এই প্রকল্পের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের দোরগোড়ায় সরকারি সেবা ও ভর্তুকি পৌঁছে দেওয়ার নতুন পথ প্রশস্ত হলো।
বেলা ১১টার কিছু পরে প্রধানমন্ত্রী সমাবেশস্থলে পৌঁছালে উপস্থিত জনতা তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। ডিজিটাল পদ্ধতিতে কার্ড বিতরণের এই মহতী উদ্যোগের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী উপস্থিত জনতাকে সাথে নিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি করেন।
কম্পিউটারের মাউসে ক্লিক করার আগে তিনি উপস্থিত সবার উদ্দেশ্যে বলেন, "এখানে এই কম্পিউটারের একটি সুইচ টিপলে আমাদের সারা বাংলাদেশের প্রায় ২২ হাজার কৃষকের কাছে সরকারের দেওয়া এই সুবিধা পৌঁছে যাবে। আমরা আল্লাহর নাম নিয়ে শুরু করবো।" এরপর জনতাকে সাথে নিয়ে উচ্চস্বরে 'বিসমিল্লাহ' এবং 'ওয়ান-টু-থ্রি' কাউন্টডাউনের মাধ্যমে তিনি সুইচ টিপে ঐতিহাসিক এই কার্যক্রমের সূচনা করেন।
এর আগে সকালে ঢাকা থেকে সড়ক পথে টাঙ্গাইলের উদ্দেশে রওয়ানা করেন প্রধানমন্ত্রী। তার যাত্রাপথে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার সমর্থক ও সাধারণ মানুষ ভিড় জমান। প্রধানমন্ত্রীও সহাস্যে গাড়ির ভেতর থেকে হাত নেড়ে সমর্থকদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
এদিকে গতকাল সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে। টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে। এগুলো হলো, প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম। প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি বা আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খাতে নিয়োজিত খামারি ও দুগ্ধ খামারিসহ ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রযোজ্য ক্ষেত্রে লবণচাষিও এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
প্রাক-পাইলটিংয়ের জন্য ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিংয় শেষ হওয়ার পর আগামী আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু করা হবে। এর অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে এই কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ পর্যায়ক্রমে সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ওই ১১টি ব্লকের কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি ও লবণ চাষিকে ‘কৃষক কার্ড’ দেয়া হবে। এটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় পর্যায়ের শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে এই কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ এবং বড় কৃষক ৯১ জন।
এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
কার্ড পাওয়া কৃষকরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এগুলো হলো ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ, ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা সুবিধা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা পাবেন কৃষকরা।
পহেলা বৈশাখের প্রথম দিনে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এরই মধ্যে দিয়ে দেশব্যাপী ২২ হাজার কৃষকের কাছে পৌঁছে গেল কৃষক কার্ডের সুবিধা।
এর মধ্যে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকাও নগদ দেয়া হবে। ২২ হাজার ৬৫ জনের মধ্যে এই সংখ্যা ২০ হাজার ৬৭১ জন।
জাতীয়
সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড়ে কে এগিয়ে...কনকচাঁপা না বেবী নাজনীন?
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দেশের দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন।
শনিবার ১১ এপ্রিল, ২০২৬ রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে তারা মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কনকচাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি আগামীকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) ফরম জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
প্রতিক্রিয়ায় কনকচাঁপা জানান, দলে দীর্ঘদিনের নিষ্ঠা ও অবদানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদী।
অন্যদিকে বেবী নাজনীন বলেন, দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক আনুগত্য এবং দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বিবেচনায় তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আশা রাখেন। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে যোগ্য হিসেবে গড়ে তুলতে ভূমিকা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীনও একই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বিএনপির মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দেশের দুই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা ও বেবী নাজনীন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কনকচাঁপা সিরাজগঞ্জ-১ (কাজীপুর) আসনের জন্য মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। অন্যদিকে বেবী নাজনীন নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর ও কিশোরগঞ্জ) আসনের জন্য ফরম সংগ্রহ করেন। তিনি আগামীকাল রবিবার (১২ এপ্রিল) ফরম জমা দেবেন বলে জানা গেছে।
এদিকে কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীনও একই আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
রাজনীতি
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনা ব্যর্থ, সমঝোতা ছাড়াই শেষ হলো ইরান-যুক্তরাষ্ট্র বৈঠক
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক শেষ হয়েছে অচলাবস্থার মধ্যেই। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান, বরং কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে দেশটি।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় শুরু হওয়া এই ত্রিপক্ষীয় আলোচনা শুরু হয়েছিল শনিবার (১২ এপ্রিল) বিকেলে। এতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এবং ইরানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। আলোচনায় পারমাণবিক কর্মসূচি, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি এবং আঞ্চলিক সংঘাতসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু উঠে আসে।
তবে দীর্ঘ আলোচনার পরও দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আসেনি। সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স বলেন, “আমরা ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি, বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে, কিন্তু কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারিনি। ইরান আমাদের প্রস্তাব গ্রহণ করেনি।” তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র চেয়েছিল ইরান স্পষ্টভাবে প্রতিশ্রুতি দিক যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না, কিন্তু সেই নিশ্চয়তা মেলেনি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র মূলত আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে চায়নি।” একইসঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা আলোচনায় তাড়াহুড়ো করছে না এবং পরবর্তী বৈঠকের কোনো তারিখও নির্ধারিত হয়নি।
এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ছিল অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে এই প্রণালি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার অন্যদিকে এটিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখছে। ফলে এই দ্বৈত অবস্থান সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই আলোচনাকে সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, “এই আলোচনা শেষ হলেও যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়নি। বরং এটি একটি সুযোগ, যাতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্ত করে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা যায়।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান চায় সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাক।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু একসঙ্গে থাকায় স্বল্প সময়ে কোনো বড় অগ্রগতি পাওয়া কঠিনই ছিল। তবে এই আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরবর্তী ধাপে কতটা নমনীয় অবস্থান নেয় এবং নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মত হয় কি না।
দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার টানা আলোচনার পরও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কোনো সমঝোতা হয়নি। ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত এই বহুল প্রত্যাশিত বৈঠক শেষ হয়েছে অচলাবস্থার মধ্যেই। তবে আলোচনার দরজা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি বলে জানিয়েছে পাকিস্তান, বরং কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখার ওপরই জোর দিচ্ছে দেশটি।
অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়েছে। দেশটির ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানায়, “যুক্তরাষ্ট্র মূলত আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার অজুহাত খুঁজছিল। তারা নিজেদের অবস্থান থেকে একচুলও সরে আসতে চায়নি।” একইসঙ্গে ইরান স্পষ্ট করে দিয়েছে, তারা আলোচনায় তাড়াহুড়ো করছে না এবং পরবর্তী বৈঠকের কোনো তারিখও নির্ধারিত হয়নি।
এই আলোচনায় হরমুজ প্রণালি ছিল অন্যতম বড় বিতর্কের বিষয়। যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে। একদিকে ওয়াশিংটন বলছে এই প্রণালি তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, আবার অন্যদিকে এটিকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখছে। ফলে এই দ্বৈত অবস্থান সমাধানের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পাকিস্তান শুরু থেকেই এই আলোচনাকে সফল করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। দেশটির এক জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক বলেন, “এই আলোচনা শেষ হলেও যোগাযোগের পথ বন্ধ হয়নি। বরং এটি একটি সুযোগ, যাতে আঞ্চলিক দেশগুলোকে যুক্ত করে নতুন করে আলোচনার পথ তৈরি করা যায়।” তিনি আরও জানান, পাকিস্তান চায় সব পক্ষ আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথে এগিয়ে যাক।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও উভয় পক্ষের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করেন এবং সংলাপ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আলোচনা ভবিষ্যতে আঞ্চলিক শান্তির ভিত্তি গড়ে তুলতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, এত গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু একসঙ্গে থাকায় স্বল্প সময়ে কোনো বড় অগ্রগতি পাওয়া কঠিনই ছিল। তবে এই আলোচনা ভবিষ্যতের জন্য একটি ভিত্তি তৈরি করেছে। এখন দেখার বিষয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরবর্তী ধাপে কতটা নমনীয় অবস্থান নেয় এবং নতুন করে আলোচনায় বসতে সম্মত হয় কি না।
আন্তর্জাতিক
পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে আর ছাড় নয়: হুঁশিয়ারি আইজিপির
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে হুঁশিয়ারি করে বললেন, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে ছাড় দেয়া হবে না।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে আইজিপি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে ছাড় দেয়া হবে না। তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ সময় প্রত্যেক জেলার সদর থানাকে ‘জিরো কমপ্লেইন’ থানা ঘোষণা করা হয়েছে জানিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ ঘুরে দাঁড়াবে বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
বৃত্তিপ্রাপ্ত মেধাবী শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে আইজিপি বলেন, জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি তোমাদের দেশ ও জনগণের কল্যাণে কাজ করতে হবে। আইন জানা এবং আইন মেনে চলার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। সবসময় ইতিবাচক চিন্তা করতে হবে। ব্যক্তি স্বার্থকে বিসর্জন দিয়ে সমাজের কল্যাণে এগিয়ে আসতে হবে, সবাই মিলে সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।এ সময় অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসারদের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানিয়ে শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদানের পাশাপাশি তাদের জন্য আয়-বৃদ্ধিমূলক উদ্যোগ গ্রহণের পরামর্শ দেন আইজিপি।
এদিন অনুষ্ঠানে আইজিপির অনুরোধে ‘কেমন পুলিশ চাই’ এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া হয়। এ সময় শহিদ পুলিশ স্মৃতি কলেজের সৌমিক সরকার দুর্জয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাহিন আল হোসেন ও এপিবিএন স্কুল অ্যান্ড কলেজের মাহজাবিন জেরিন পুষ্পিতা নিজেদের মতামত ব্যক্ত করে পুলিশকে বন্ধুসুলভ ও জনবান্ধব পুলিশ হিসেবে দেখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সেই সঙ্গে জনগণের সঙ্গে পুলিশের আচরণের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক দিক বিবেচনার বিষয়টিও তাদের মতামতে উঠে আসে।
ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ শনিবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগে বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি কমপ্লেক্সের সেমিনার হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যকালে হুঁশিয়ারি করে বললেন, বাংলাদেশ পুলিশের কোনো সদস্য অপরাধ করলে ছাড় দেয়া হবে না।
জাতীয়
লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন এর পদত্যাগ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল, ২০২৬) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের ভেরিফায়েড আইডি থেকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

ওই পোস্টে আকবর হোসেন লিখেছেন, “Dear all—লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে আমি পদত্যাগ করেছি। একান্ত ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কারণে সেখানে দায়িত্ব পালন করা আমার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টির সঙ্গে অন্য কোনো কিছুর সম্পর্ক নেই। ধন্যবাদ।”
জানা যায়, ২০২৪ সালের নভেম্বরে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার হিসেবে তাকে নিয়োগ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে দুই বছরের জন্য চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল।
প্রেস মিনিস্টার হিসেবে যোগদানের আগে তিনি দীর্ঘদিন বিবিসি বাংলার ঢাকা অফিসে জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
যুক্তরাজ্যের লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের প্রেস মিনিস্টার আকবর হোসেন।

জাতীয়
হরমুজ প্রণালিতে কেন অনুমতি পায়নি বাংলাদেশি জাহাজ ?
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ ৪০ দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আটকে থাকার পর দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটি আবারও ফিরে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ।
তথ্যনুযায়ী, গত বুধবার সৌদি আরবের রাস আল খায়ের বন্দর থেকে হরমুজ প্রণালির উদ্দেশে রওনা দেয় জাহাজটি। টানা প্রায় ৪০ ঘণ্টা যাত্রা শেষে শুক্রবার সকালে প্রণালির কাছাকাছি পৌঁছে ইরান সরকারের কাছে পারাপারের অনুমতি চাওয়া হয়। তবে তেহরান সেই অনুমতি দেয়নি। ফলে জাহাজটিকে ঘুরিয়ে নিরাপদে শারজায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিএসসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর মাহমুদুল মালেক বলেন, ইরানের নির্দেশনা অনুযায়ী অনুমতি চাওয়া হলেও তা প্রত্যাখ্যাত হয়েছে। কূটনৈতিকভাবে অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে জাহাজটি হরমুজের কাছাকাছি অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি বিবেচনায় শারজায় ফিরে যেতে বলা হয়েছে। তিনি জানান, জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিকের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য মজুত রয়েছে। প্রতিদিন ১৮ টন সামুদ্রিক পানি পরিশোধনের সক্ষমতা থাকলেও ইঞ্জিন চালু রাখতে হওয়ায় রেশনিং করে পানির ব্যবহার দৈনিক ৬ টনে নামিয়ে আনা হয়েছে। নাবিকদের মনোবল ধরে রাখতে জনপ্রতি দৈনিক খাবারের বরাদ্দ ৭ ডলার থেকে বাড়িয়ে ১২ ডলার করা হয়েছে। পাশাপাশি বেসিক বেতনের সমপরিমাণ ওয়ার অ্যালাউন্স দেওয়া হচ্ছে।
বিএসসির তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে পণ্য নিয়ে গত ২ ফেব্রুয়ারি হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করে ‘বাংলার জয়যাত্রা’। পরে কাতার থেকে স্টিল কয়েল নিয়ে ২৭ ফেব্রুয়ারি সংযুক্ত আরব আমিরাতের জেবেল আলী বন্দরে পৌঁছে। পরদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
দীর্ঘ ৪০ দিন মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আটকে থাকার পর দেশের উদ্দেশে যাত্রা করে আবারও বাধার মুখে পড়েছে বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) জাহাজ ‘বাংলার জয়যাত্রা’। জাহাজটি আবারও ফিরে গেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের শারজা বন্দরে ।
আন্তর্জাতিক
বহুল আলোচিত তনু হত্যার ১০ বছর পর সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ আদালতের
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. মুমিনুল হক আজ সোমবার এ আদেশ দেন। আদালতে হাজির হতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিলে মামলার অগ্রগতির বিষয়ে তথ্য তুলে ধরেন তদন্ত কর্মকর্তা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ঢাকার পরিদর্শক তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
ডিএনএ পরীক্ষা করার আদেশ করা ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। তবে তিনজনই সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বলে জানা গেছে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, তনু হত্যা মামলার তদন্তের অগ্রগতি জানতে সম্প্রতি কুমিল্লার সংশ্লিষ্ট আদালত থেকে পিবিআইকে চিঠি দেওয়ার পরই ৬ এপ্রিল, ২০২৬ সোমবার ওই তদন্ত কর্মকর্তা আদালতে হাজির হয়ে মামলার তদন্তের বিষয়ে আদালতে লিখিত প্রতিবেদন দেন। এতে বিচারক সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ করার নির্দেশ দেন।মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআই-ঢাকার পরিদর্শক মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, আগেই তনুর ব্যবহারের কিছু কাপড় থেকে ৩ জন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল করা হয়। এগুলো পরে আর ম্যাচিং করা হয়নি। তাই আজ আদালত বলেছে, সন্দেহভাজন ৩ জনের ডিএনএ টেস্ট করতে। ওই ৩ জন এরই মধ্যে সেনাবাহিনী থেকে অবসরে গিয়েছেন। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, মামলার পরবর্তী তারিখে তদন্তের অগ্রগতি জানাতে বলেছেন আদালত।
তনুর বাবা ইয়ার হোসেনও আজ আদালতে আসেন। তিনি বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান লন্ডনে থাকার সময় বলেছিলেন বিএনপি ক্ষমতার আসল তনু হত্যার বিচার করবেন। আমি এখন প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে মেয়ে হত্যার বিচার চাইব। মেয়ের ছবি নিয়ে ঘুরছি। দেশের সকল হত্যার বিচার হইলেও আমার তনুর কেন বিচার হবে না। গত ১০ বছর ধরে বিচারের আশায় তনুর মাকে নিয়ে যে যেখানে বলেছে ছুটে গিয়েছি। এখন আর পারছি না।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যায় কুমিল্লা সেনানিবাসের ভেতরে একটি বাসায় টিউশনি করাতে গিয়ে আর বাসায় ফেরেননি তনু। পরে বহু খোঁজাখুঁজি করে সেনানিবাসের পাওয়ার হাউসের অদূরে একটি জঙ্গলের মধ্যে তার মরদেহ পাওয়া যায়।
কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের ইতিহাস বিভাগের ছাত্রী ও নাট্যকর্মী সোহাগী জাহান তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর নতুন মোড় নিয়েছে। মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন তিনজনের ডিএনএ পরীক্ষা করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
আলোচিত খবর
সাবেক প্রধান উপদেষ্টাসহ সব উপদেষ্টার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আইনী নোটিশ
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আজ সোমবার এ নোটিশ পাঠান।
হামের টিকাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে বেসরকারি খাতে দেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তুলে এ লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়। নোটিশে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়েছে।
নোটিশ দাতা ব্যারিস্টার মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম জানান, সারাদেশে অকস্মাৎ বিলুপ্ত রোগ হাম-এর মারাত্মক প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং অগণিত শিশু ও সাধারণ নাগরিক হাম-এ আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।
হামের মত টিকা করণের ব্যবস্থাকে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা থেকে প্রাইভেট খাতে দেওয়ার অশুভ অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ডের স্বার্থে জড়িত থাকায় এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠনপূর্বক তদন্তের দাবি জানিয়ে এবং ড. মুহাম্মদ ইউনুস, ড. আসিফ নজরুল, সৈয়দ রেজওয়ানা হাসান, আদিলুর রহমান খাঁন শুভ্র, নূর জাহান বেগম, ব্রিগেডিয়ার সাখাওয়াত হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, মোস্তফা সরয়ার ফারুকীসহ সকল উপদেষ্টা, সাবেক প্রধান উপদেষ্টার প্রেস-সচিব শফিকুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট সকল সাবেক ব্যক্তিগত সহকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সরকারের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
নোটিশে কেবিনেট সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিবসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য সচিবদের নোটিশ প্রদান করা হয়েছে এবং নোটিশ প্রাপ্তির ৫ (পাঁচ) দিনের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন ও ড. মুহাম্মদ ইউনুসসহ উপদেষ্টা পরিষদের সকল সদস্যদের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করার আহ্বান জানানো হয়েছে, অন্যথায় ব্যারিস্টার এম. আশরাফুল ইসলাম প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিতে সরকারের সংশ্লিষ্টদের প্রতি আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এম আশরাফুল ইসলাম আজ সোমবার এ নোটিশ পাঠান।
আলোচিত খবর
দেশে ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে ৭ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১ হাজার ৪৬২ জন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
যতই দিন যাচ্ছে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৮২ জন এবং গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা আট হাজার ৫৩৪ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১৮০ জন, গত ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯৯ জন।
এতে আরও জানানো হয়েছে, ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হাম রোগে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৪০ জন। একই সময়ে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছে ৬ হাজার ১৬ জন। মৃত্যুর হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় হাম সন্দেহে সবচেয়ে বেশি পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে।
একই সময়ে জেলার তালিকাতেও ঢাকায় সর্বোচ্চ পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় হামে নিশ্চিত দুইজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত নিশ্চিত হামে মৃত্যু হয়েছে ২০ জনের।
গত ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনক হামে পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ১৫ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত সন্দেহজনক হামে মৃত্যু হয়েছে ১১৮ জনের।
যতই দিন যাচ্ছে হামের উপসর্গে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যাও বাড়ছে। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত হয়ে দুজন এবং উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন মারা গেছে। একই সময়ে সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৬২ জন।
জাতীয়
সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর, সংসদে বিল পাস
অনলাইন নেউজ ডেস্ক:
সরকারি চাকরির প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। এর ফলে বিসিএসসহ সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগে নতুন এই বয়সসীমা কার্যকর হবে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
আজ রোববার ০৫ এপ্রিল, ২০২৬ বিকেলে সংসদ অধিবেশনে ‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যান্সিয়াল কর্পোরেশনসহ স্ব-শাসিত সংস্থাগুলোতে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
নতুন আইনে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের সব ক্যাডার এবং বিসিএস বহির্ভূত সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা সর্বোচ্চ ৩২ বছর নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে যেসব পদে বয়সসীমা ৩০ বা অনূর্ধ্ব ৩২ ছিল, সেগুলোতেও এখন থেকে ৩২ বছর প্রযোজ্য হবে। তবে যেসব পদে আগে থেকেই ৩২ বছরের বেশি বয়সসীমা নির্ধারিত আছে, যেমন ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর, সেগুলো অপরিবর্তিত থাকবে। প্রতিরক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়োগ তাদের নিজস্ব বিধিমালার আওতায় চলবে।
বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে স্থায়ী আইনি কাঠামো গড়তেই এই বিল আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আগের অধ্যাদেশে কিছু কারিগরি অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে কিছু বিশেষায়িত পদে বয়সসীমা কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন আইনের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে আগের উচ্চতর বয়সসীমা বহাল রেখে সুযোগ সংকোচনের আশঙ্কা দূর হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য তরুণরা আরও সময় পাবে, যা সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে।
সরকারি চাকরির প্রবেশের সর্বোচ্চ বয়সসীমা বাড়িয়ে ৩২ বছর নির্ধারণ করে জাতীয় সংসদে একটি বিল পাস হয়েছে। এর ফলে বিসিএসসহ সব সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানে সরাসরি নিয়োগে নতুন এই বয়সসীমা কার্যকর হবে। দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন চাকরিপ্রার্থীরা।
বিলের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং শ্রমবাজারে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” তিনি জানান, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে জারি করা সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশ বাতিল করে স্থায়ী আইনি কাঠামো গড়তেই এই বিল আনা হয়েছে।
এ ছাড়া আগের অধ্যাদেশে কিছু কারিগরি অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছিল বলে উল্লেখ করা হয়। বিশেষ করে কিছু বিশেষায়িত পদে বয়সসীমা কমে যাওয়ার বিষয়টি নতুন আইনের মাধ্যমে সংশোধন করা হয়েছে। ফলে আগের উচ্চতর বয়সসীমা বহাল রেখে সুযোগ সংকোচনের আশঙ্কা দূর হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে উচ্চশিক্ষা শেষ করে প্রতিযোগিতায় নামার জন্য তরুণরা আরও সময় পাবে, যা সামগ্রিকভাবে কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রকে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক করবে।



















































