আজ মন্ত্রিসভায় দুই গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব: আগারগাঁওয়ে নতুন সচিবালয়, বদলাচ্ছে মন্ত্রণালয়ের নাম
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা উঠছে আজ রোববার। বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপন/স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন এর জন্য উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়াও আজকের সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে 'নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়' নামকরণের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
মন্ত্রিপরিষদ সূত্র জানায়, এই দুইটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছাড়াও আরও ৪ বিষয় রয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বৈঠকের এজেন্ডায়। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৭ খ্রিষ্টাব্দের সরকারি ছুটির খসড়া তালিকা অনুমোদন, গত ৭ হতে ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেয়াদে তিমুর লেস্তের দিলিতে অনুষ্ঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কমিটির ৭৯তম অধিবেশনে (RC79) স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ এবং গত ১৫ হতে ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ মেয়াদে গ্লোবাল হেলথ ফোরামের একটি কনফারেন্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের অংশগ্রহণ সম্পর্কে মন্ত্রিসভাকে অবহিতকরণ।
গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বেশ কয়েকবার শেরেবাংলা নগরে সচিবালয় স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০১৫ সালে সচিবালয় সরাতে ২ হাজার ২০৯ কোটি টাকার একটি প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়। বলা হয়, ২০১৮ সালের জুন মাসের মধ্যে কাজ শেষ হবে।
জিয়া উদ্যানের উত্তর ও বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের পশ্চিম দিকে, যেখানে প্রতিবছর বাণিজ্য মেলা হয়, সেখানেই ৩২ একর জমির ওপর সচিবালয় তৈরি করার কথা তখন বলা হয়েছিল। আরও বলা হয়েছিল, জাতীয় সংসদ ভবনের স্থপতি লুই আই কানের মূল পরিকল্পনা অনুসারে এ সচিবালয় হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চার লাখ ডলার খরচ করে মার্কিন স্থপতি লুই আই কানের করা জাতীয় সংসদ ভবনসহ পুরো শেরেবাংলা নগরের মূল নকশা দেশে আনা হয়েছিল। নকশা অনুযায়ী, শেরেবাংলা নগরে ১৪ তলা ভিতের ওপর ৯ তলাবিশিষ্ট ৪টি মূল ভবন করার কথা ছিল। অবশ্য পরে সচিবালয় স্থানান্তর হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের দেড় বছরে সচিবালয়কে সরানো নিয়ে আলোচনা হয়নি। বিএনপি সরকারের আমলে সচিবালয়ের ভেতর ২১ তলা একটি ভবন করতে সাড়ে ৬০০ কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্প নেওয়া হয়। গত ২৬ এপ্রিল একনেক সভায় এ প্রকল্পটি উত্থাপন করা হলে তা অনুমোদন না দিয়ে ফেরত পাঠানো হয়।
এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব পরবর্তী মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠবে বলে জানিয়েছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, অনুমোদন পেলে দ্রুতই নতুন সচিবালয়ের নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। এ বিষয়ে সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। বর্তমান সরকারের মেয়াদেই কাজ শেষ করার চেষ্টা থাকবে।
জাকারিয়া তাহের বলেন, প্রায় চার মাস আগে সচিবালয় স্থানান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়। প্রথমে বর্তমান সচিবালয়ের এক নম্বর ভবন ভেঙে নতুন ভবন নির্মাণের চিন্তা ছিল। পরে মন্ত্রিসভার আলোচনায় সংসদ ভবন ও আগারগাঁও এলাকাকে দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলার বিষয়টি আসে। এরপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়। বর্তমান সচিবালয়ে জায়গার সংকট, পার্কিংয়ের অপর্যাপ্ত ব্যবস্থা এবং পুরনো ভবনগুলোকে নতুন সচিবালয় নির্মাণের কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দপ্তর সচিবালয়ের বাইরে রয়েছে। অধিকাংশ ভবন ১৯৬০-এর দশকে নির্মিত। এ ক্ষেত্রে নতুন সচিবালয়ের প্রাথমিক পরিকল্পনায় ৩০ থেকে ৩২ লাখ বর্গফুট জায়গা রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর চূড়ান্ত পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
এদেকে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে ‘নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়’ করার প্রস্তাব মন্ত্রিপরিষদে উঠছে আজ। এর আগে গত বছরের ২৭ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশাসনিক উন্নয়নসংক্রান্ত সচিব কমিটির সভার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
প্রস্তাবে বলা হয়, বাংলাদেশের সংবিধান, নারীবিষয়ক অন্যান্য আইন, বিধিমালা ও নীতিমালায় এবং দেশে-বিদেশে সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে সব ক্ষেত্রে ‘মহিলা’ শব্দের পরিবর্তে ‘নারী’ শব্দটি বেশি ব্যবহৃত হয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি (আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে) মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির (জাতীয় সংসদের) বৈঠকে নারী ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় নামকরণের সুপারিশ করা হয়। ওই বছরের ৭ জুলাই প্রথম আন্তমন্ত্রণালয় সভা এবং ২৭ অক্টোবর দ্বিতীয় আন্তমন্ত্রণালয় সভায় মন্ত্রণালয় ও এর অধীন সংস্থা ও দপ্তর এবং মহিলাবিষয়ক কর্মকর্তা পদের নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত হয়।
রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পুরনো বাণিজ্যমেলার মাঠে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভা উঠছে আজ রোববার। বিকাল ৪ টায় বাংলাদেশ সচিবালয়ে নবনির্মিত ১ নম্বর ভবনের চতুর্থ তলায় অনুষ্ঠেয় মন্ত্রিসভা-বৈঠকে ঢাকার শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ সচিবালয় স্থাপন/স্থানান্তরের প্রস্তাব নীতিগত অনুমোদন এর জন্য উপস্থাপন করবে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়। এছাড়াও আজকের সভায় মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের নাম পরিবর্তন করে 'নারী ও শিশু মন্ত্রণালয়' নামকরণের প্রস্তাবও অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করবে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জাতীয়
সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ২ প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ডের কারণ জানতে চাইল বাংলাদেশ
টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
সৌদি আরবে ২ প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করে সরকার।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এ সময় রাষ্ট্রদূতকে ২ বাংলাদেশি প্রবাসীর শিরশ্চেদের ঘটনা ও এ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য জানতে চেয়েছে সরকার।
এর আগে, শনিবার বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম এ প্রসঙ্গে বলেন, দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ নিয়ে সরকার এখনো কিছু জানতে পারেনি। তবে বাংলাদেশ চিঠি দিয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে। এ সময় সৌদি আরবে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড ‘আমাদের জন্য’ বড় শিক্ষা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শামা ওবায়েদ বলেন, সৌদি আরবে বাংলাদেশ মিশনের শ্রম উইং থেকে যে বার্তা এসেছে, মক্কা নগরীর একটি মসজিদের অভ্যন্তরে ‘ব্যভিচারে’ লিপ্ত ছিলেন ২ বাংলাদেশি, যা সৌদি আইনে একটি গর্হিত কাজ হিসেবে গণ্য। ওই আইন অনুযায়ী আদালত ব্যবস্থা নিয়েছে; কিন্তু আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের সরকার কোনো কিছুই পায়নি। বাংলাদেশ তাই ২ জনের বিস্তারিত জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে।
সৌদি আরব চিঠির জবাব দিলে মৃতদেহগুলো কীভাবে ফেরত আনা যাবে সে বিষয়ে জানতে পারবেন বলে উল্লেখ করেছেন শামা ওবায়েদ।
প্রসঙ্গত, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। এই ২ বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।
সৌদি আরবে ২ প্রবাসীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার ঘটনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। রোববার (১৮ অক্টোবর) মন্ত্রণালয়ে তাকে তলব করে সরকার।
প্রসঙ্গত, সৌদি প্রেস এজেন্সি (এসপিএ) গত বুধবার দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাতে ২ বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার তথ্য নিশ্চিত করে। এই ২ বাংলাদেশি হলেন নজরুল ইসলাম ও সুইটি আখতার।
জাতীয়
গ্রামপুলিশের বেতন-ভাতা ও মর্যাদা বৃদ্ধির দাবি, মন্ত্রণালয়ে স্মারকলিপি প্রদান
শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন, স্টাফ রিপোর্টার:
ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এ দাবিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।
স্মারকলিপিতে ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা, হিসাব সহকারী কাম গ্রামপুলিশ বাহিনীর দফাদার ও মহল্লাদারদের বেতন কাঠামোর বৈষম্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বাংলাদেশ জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী দফাদারদের ১৯তম গ্রেড এবং মহল্লাদারদের ২০তম গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
স্মারকলিপিতে বলা হয়, ইউনিয়ন পরিষদের বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নির্ধারিত বেতন কাঠামো অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা পেলেও গ্রামপুলিশ সদস্যরা তুলনামূলকভাবে সীমিত বেতনে দায়িত্ব পালন করছেন। একজন মহল্লাদারের মাসিক বেতন ৭ হাজার ৫০০ টাকা এবং একজন দফাদারের বেতন ৮ হাজার টাকা বলে স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এ অবস্থায় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা তাঁদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনের নেতারা।
স্মারকলিপিতে আরও উল্লেখ করা হয়, গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে ইউনিয়ন পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ প্রতিরোধ, প্রশাসনিক কাজে সহযোগিতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। অথচ তাঁদের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এ কারণে দীর্ঘদিন ধরে ন্যায্য দাবি আদায়ের আন্দোলন করেও প্রত্যাশিত সমাধান পাওয়া যায়নি বলে স্মারকলিপিতে অভিযোগ করা হয়েছে।
এতে অতীতের বিভিন্ন সময়ের আন্দোলন ও দাবিদাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলা হয়, গ্রামপুলিশ সদস্যদের বেতন বৃদ্ধি এবং উৎসব ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি। তাঁদের আর্থিক নিরাপত্তা ও সামাজিক মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় সরকারের কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।
স্মারকলিপিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যদের জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী নির্ধারিত গ্রেডে বেতন-ভাতা প্রদান এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যদের দাবি, তাঁদের দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হলে তাঁরা আরও উৎসাহ ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন। এখন তাঁদের এই দাবির বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন তাঁরা।
ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত গ্রামপুলিশ বাহিনীর সদস্যদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি, জাতীয় বেতন স্কেলে অন্তর্ভুক্তি এবং পদমর্যাদা অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে। এ দাবিতে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন বাংলাদেশ গ্রামপুলিশ বাহিনী কর্মচারী ইউনিয়নের নেতারা।
জাতীয়
রাষ্ট্রদ্রোহ-সাইবার মামলায় রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক দুই সেনা কর্মকর্তা দেবাশীষ ও গুলশান আরা
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ঢাকার পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মেহেদী হাসান এই আদেশ দিয়েছেন।
গত ১১ অক্টোবর রাতে ঢাকার দুটি এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। পরে তাদের বিরুদ্ধে ডিবি পুলিশের পল্লবী জোনাল টিমের ইন্সপেক্টর আলী আকবর এই মামলা দায়ের করেন। পরদিন গত ১২ অক্টোবর তাদের ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
রিমান্ড শেষে আজ তাদের আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের ইন্সপেক্টর শেখ বশির আহমেদ।
আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মো. আতাউর রহমান খান রুকু, মো. মশিউর রহমান জামিন চেয়ে শুনানি করেন। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, আসামিরা নিজ বাসায় অবস্থান করে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সাপোর্টারস আলফা এবং বিবিএম ট্রান্সপারেন্সি নামে সরকার বিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সাথে যুক্ত থেকে তহবিল সংগ্রহ ও সহিংস উস্কানিমূলক ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি করে বিভিন্ন সামাজিক প্লাটফর্মে প্রচার করছেন। এছাড়া অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত ইউনিটি কেয়ার ও পাবলিক পার্লামেন্ট প্লাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান (অব.) আজিজ, সাবেক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী ও পলাতক শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ রেখে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন ও রাষ্ট্র বিরোধী সংগঠিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কালআজকাল.কম নামক পেজ তৈরি করে সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতা উস্কে দেওয়ার মতো কন্টেন্ট তৈরি করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যক্রম প্রচার ও পরিচালনা করছেন।
এতে আরও বলা হয়, কাজী গুলশান আরা ২০১৮ সালের ২৭ নভেম্বর নির্বাচনের প্রাক্কালে দেড় শতাধিক অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের সাথে গণভবনে গিয়ে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি প্রকাশ্যে একাত্মতা ও আনুগত্য প্রকাশ করেন। আসামিদের সহযোগী ১০১ জন আসামিদের নিয়ে যথাক্রমে সেনা পরিষদ নামে একটি কমিটি প্রতিষ্ঠা করেন। সংগঠনের কাজ মূলত দেশের বিভিন্ন শ্রেণি-গোষ্ঠীর ভেতরে বিদ্বেষ ছড়িয়ে দাঙ্গা-হাঙ্গামা সৃষ্টি করা এবং তারা সুপরিকল্পিতভাবে নিজেরা অংশগ্রহণ করে দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের সার্বভৌমত্ব নস্যাৎ করা ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এবং বিভিন্ন উৎসবেতে অংশগ্রহণ করে আইনভাবে প্রতিষ্ঠিত সরকারের প্রতি ঘৃণা ও অবজ্ঞা প্রকাশ করে বিদ্বেষ সৃষ্টি করেছেন।
ঢাকার পল্লবী থানার রাষ্ট্রদ্রোহ, সন্ত্রাসবিরোধী আইন ও সাইবার সুরক্ষা আইনের মামলায় অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল দেবাশীষ কুমার বড়ুয়া ও অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট গুলশান আরাকে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ শুক্রবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রট মেহেদী হাসান এই আদেশ দিয়েছেন।
জাতীয়
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল
কামরুজ্জামান সরকার বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের আয়োজনে সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজি মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, তাতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রতিষ্ঠতা সভাপতি, বিএনপি।
প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা এন এইচ রুবেল, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।
বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন মোঃ মাসুদ রানা ভাই, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইফতি আহমেদ শাহীন, ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ)।
উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের আয়োজনে সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।
রাজনীতি
সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম টফি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ আট বছর পর দেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উন্মাদনা—সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আসন্ন এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’। সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলালিংকের ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম টফির সঙ্গে স্পোর্টস মার্কেটিং এজেন্সি টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
টফির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, স্মার্ট ডিভাইস ও কানেক্টেড টিভিতে হাই-ডেফিনিশন (এইচডি) মানের সম্প্রচারের মাধ্যমে দেশের দূর-দূরান্তের দর্শকরাও বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের খেলা উপভোগ করতে পারবেন।
চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যারা: রাজধানীর বাংলালিংকের প্রধান কার্যালয় ‘টাইগার্স ডেনে’ সম্প্রতি এই চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এতে উপস্থিত ছিলেন—
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, টফির ডেপুটি ডিরেক্টর মোদাসসের আহমেদ, টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব রশিদ, সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কম্পিটিশনস বিভাগের প্রধান সৈয়দ আসিফ হুসাইন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম, দর্শকদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল পাস ও অফার: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সবগুলো খেলা উপভোগ করার জন্য দর্শকদের জন্য ৯৯ টাকার একটি বিশেষ ডিজিটাল পাস চালু করেছে টফি। তবে ‘আর্লি বার্ড’ অফারের আওতায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন পর্যন্ত মাত্র ৪৯ টাকায় এই পাসটি কিনতে পারবেন দর্শকরা। যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে টফি অ্যাপের মাধ্যমেই পাসটি সংগ্রহ করা যাবে।
সম্প্রচারের প্রযুক্তিগত অভিজ্ঞতা ও সুযোগ: ফিফা বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে বিভিন্ন ঘরোয়া লিগ, ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ এবং আসিয়ান কাপের মতো বড় বড় ক্রীড়া ইভেন্ট সফলভাবে সম্প্রচারের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে টফির। এই চুক্তির ফলে আসন্ন সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ ও ভুটানের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রতিটি ম্যাচ ভক্তদের কাছে আরও সহজে পৌঁছে যাবে।
অ্যান্ড্রয়েড ও আইওএস স্মার্টফোনের পাশাপাশি অ্যান্ড্রয়েড টিভি, স্যামসাং টাইজেন এবং এলজি ওয়েবওএস প্ল্যাটফর্মেও টুর্নামেন্টের খেলাগুলো উপভোগ করা যাবে। খেলাপ্রেমীরা ঘরে বসেই জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে এবং সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের রোমাঞ্চকর মুহূর্তগুলো ভাগ করে নিতে টফিতে যুক্ত হতে পারেন।
দীর্ঘ আট বছর পর দেশের মাটিতে ফিরছে দক্ষিণ এশিয়ার ফুটবল উন্মাদনা—সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। আসন্ন এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটি বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য সরাসরি সম্প্রচার করবে দেশের শীর্ষস্থানীয় ওটিটি (OTT) প্ল্যাটফর্ম ‘টফি’। সম্প্রতি এ বিষয়ে বাংলালিংকের ডিজিটাল এন্টারটেইনমেন্ট প্ল্যাটফর্ম টফির সঙ্গে স্পোর্টস মার্কেটিং এজেন্সি টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
বাংলালিংকের চিফ করপোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স অফিসার তাইমুর রহমান, টফির ডেপুটি ডিরেক্টর মোদাসসের আহমেদ, টিএসএ স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা সজিব রশিদ, সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের (সাফ) কম্পিটিশনস বিভাগের প্রধান সৈয়দ আসিফ হুসাইন, বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সহসভাপতি ফাহাদ মোহাম্মদ আহমেদ করিম, দর্শকদের জন্য বিশেষ ডিজিটাল পাস ও অফার: সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের সবগুলো খেলা উপভোগ করার জন্য দর্শকদের জন্য ৯৯ টাকার একটি বিশেষ ডিজিটাল পাস চালু করেছে টফি। তবে ‘আর্লি বার্ড’ অফারের আওতায় টুর্নামেন্ট শুরুর আগের দিন পর্যন্ত মাত্র ৪৯ টাকায় এই পাসটি কিনতে পারবেন দর্শকরা। যেকোনো মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট করে টফি অ্যাপের মাধ্যমেই পাসটি সংগ্রহ করা যাবে।
জাতীয়
নাটোর জেলা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপ হস্তান্তর করলেন আইজিপি
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
নাটোর জেলা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার উইবারের (১৮) হারানো ল্যাপটপটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর হাতে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম।
গত ০৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে নাটোর রেলওয়ে স্টেশন থেকে জার্মান পর্যটক কিরিলের ল্যাপটপটি হারিয়ে যায়। নাটোর জেলা পুলিশের তৎপরতা, পেশাদারিত্ব ও তথ্যপ্রযুক্তির কার্যকর ব্যবহারের মাধ্যমে গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে ল্যাপটপটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়।

পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম এবং রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, পিপিএম-এর উদ্যোগ ও সমন্বিত কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে ল্যাপটপটি হস্তান্তর করা হয়।
এ সময় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ এবং জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
জার্মান পর্যটক কিরিলের হাতে ল্যাপটপটি হস্তান্তরের পাশাপাশি ভালো কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নাটোর সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ও জিডির তদন্তকারী কর্মকর্তাকে আর্থিক প্রণোদনা প্রদান করেন আইজিপি।
উল্লেখ্য, জার্মান নাগরিক কিরিল বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানসমূহ পরিদর্শনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশে আসেন। গত ০৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে তিনি নাটোর রেলস্টেশনে পৌঁছে দর্শনা সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করছিলেন।
এ সময় তিনি তাঁর ল্যাপটপ ও ক্যামেরা ওয়েটিং রুমে রেখে পাশের একটি এটিএম বুথে টাকা উত্তোলন করতে যান। ফিরে এসে ল্যাপটপ ও ক্যামেরা খুঁজে না পেয়ে তিনি নাটোর থানায় উপস্থিত হয়ে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেন। তাঁর লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে নাটোর থানায় জিডি নং-৫১২, তারিখ ০৭-১০-২০২৬ খ্রি. লিপিবদ্ধ করা হয়।
ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নাটোর জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শরীফুল হকের সার্বিক দিকনির্দেশনায় নাটোর সদর থানা ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)সহ জেলা পুলিশের একাধিক চৌকস টিম হারানো ল্যাপটপ ও ক্যামেরা উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করে। ধারাবাহিক অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় গত ১১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ২১:৩০ ঘটিকায় নাটোর সদর থানাধীন কাপুড়িয়াপট্টি এলাকার নূর ক্লোথিং স্টোর থেকে জার্মান পর্যটকের ল্যাপটপটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার-পরবর্তী কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আজ ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার, ২০২৬ তারিখ সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে জার্মান নাগরিক কিরিলের হাতে উদ্ধারকৃত ল্যাপটপটি হস্তান্তর করা হয়।
এ কার্যক্রম বিদেশি পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, তাঁদের অভিযোগের কার্যকর প্রতিকার এবং হারানো সম্পদ উদ্ধারে বাংলাদেশ পুলিশের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার পরিচায়ক।
এ ধরনের কার্যক্রম দেশি-বিদেশি নাগরিকদের কাছে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
নাটোর জেলা পুলিশ জনগণের জানমাল ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, অপরাধ প্রতিরোধ এবং দেশি-বিদেশি নাগরিকদের যেকোনো অভিযোগের দ্রুত ও কার্যকর প্রতিকার প্রদানে সর্বদা আন্তরিক ও পেশাদার।
পেশাদারিত্ব, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ নাটোর গড়ে তুলতে নাটোর জেলা পুলিশ অঙ্গীকারবদ্ধ।
নাটোর জেলা পুলিশ কর্তৃক উদ্ধারকৃত জার্মান পর্যটক কিরিল ল্যান্ডার উইবারের (১৮) হারানো ল্যাপটপটি মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকায় পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে তাঁর হাতে হস্তান্তর করেন বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির, বিপিএম।

আলোচিত খবর
না ফেরার দেশে চলে গেলেন ভয়েস অব আমেরিকার সাবেক বাংলাদেশ প্রতিনিধি আমির খসরু
চার দশকের সাংবাদিকতা জীবনের অবসান, শোকের ছায়া দুই বাংলার শ্রোতা-সাংবাদিক মহলে
নিজস্ব প্রতিবেদক | টাঙ্গাইল দর্পণ
বাংলাদেশে ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) বাংলা বিভাগের সাবেক প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক ‘বুধবার’-এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক আমির খসরু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আজ শনিবার (১০ অক্টোবর, ২০২৬) সন্ধ্যা ৭টার দিকে রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন মেয়ে সাদিয়া আফরিন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স ৬৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিক অঙ্গনসহ ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক ও বর্তমান সহকর্মী, শ্রোতা-বন্ধু এবং শুভানুধ্যায়ীরা শোকাহত।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনি ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন আমির খসরু। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কয়েক দিন আগে তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যুতে সাংবাদিকতার একটি দীর্ঘ ও অভিজ্ঞ অধ্যায়ের অবসান ঘটল।
চার দশকেরও বেশি সময় সাংবাদিকতায়
আমির খসরু ছিলেন অভিজ্ঞতায় ও পেশাদারিত্বে সমৃদ্ধ একজন সাংবাদিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’-য় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন।
দৈনিক ‘সংবাদ’ ও দৈনিক ‘ইত্তেফাক’-এ তিনি রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া বিভিন্ন গণমাধ্যমে কাজ করার পাশাপাশি সাপ্তাহিক ‘বুধবার’-এর নির্বাহী সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। সংবাদমাধ্যমে তাঁর দীর্ঘ কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আন্তর্জাতিক সম্প্রচারমাধ্যম ভয়েস অব আমেরিকার (ভিওএ) বাংলাদেশ প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন।
দেশের রাজনীতি, কূটনীতি ও সমসাময়িক ঘটনাবলি নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ এবং তা আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের ব্যাপ্তি ছিল দেশীয় সংবাদমাধ্যম থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রচার সাংবাদিকতা পর্যন্ত।
রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক চিত্র তুলে ধরেছিলেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও আমির খসরুর কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০১৭-১৮ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে গিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা ও মানবিক সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত।
শরণার্থীশিবিরে আশ্রয় নেওয়া মানুষের বাস্তব পরিস্থিতি আন্তর্জাতিক শ্রোতাদের কাছে তুলে ধরতে মাঠপর্যায়ের সাংবাদিকতার গুরুত্ব অপরিসীম। রোহিঙ্গা সংকটের মতো আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত মানবিক বিপর্যয়ের সংবাদ সংগ্রহে তাঁর সম্পৃক্ততা সেই দায়িত্বের কথাই স্মরণ করিয়ে দেয়।
দুই বাংলার অগণিত শ্রোতার স্মৃতিতে আমির খসরু
ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষী শ্রোতাদের কাছে আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। এই সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে আমির খসরুর সম্পৃক্ততা তাঁকে বহু শ্রোতার কাছে পরিচিত করে তুলেছিল।
তাঁর মৃত্যুর খবরে বাংলাদেশ ও ভারতের দুই বাংলার অসংখ্য শ্রোতা-বন্ধু, নিয়মিত অনুষ্ঠান-অনুসারী এবং গণমাধ্যমসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে শোকের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে বলে তাঁর শুভানুধ্যায়ীরা জানিয়েছেন। অনেকের কাছে তিনি কেবল একজন সংবাদদাতা ছিলেন না; বরং আন্তর্জাতিক সংবাদজগতের সঙ্গে বাংলাভাষী মানুষের সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা রাখা একজন পরিচিত সাংবাদিক।
বিশেষ করে ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের পুরোনো শ্রোতাদের কাছে তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি, সংবাদ পরিবেশনের অভিজ্ঞতা এবং আন্তর্জাতিক ঘটনাবলি সম্পর্কে তাঁর প্রতিবেদন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে। দীর্ঘদিনের পরিচিত এই সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত একজন সাংবাদিকের চলে যাওয়া তাঁদের জন্যও বেদনাদায়ক।
প্রধানমন্ত্রীর শোক প্রকাশ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় আমির খসরুর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অবদান স্মরণ করা হয়।
সহকর্মী ও সাংবাদিক মহলে শোক
আমির খসরুর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিক অঙ্গনে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতারাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
ভয়েস অব আমেরিকা বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, বাংলা বিভাগের নিউইয়র্ক সংবাদদাতা, লেখক ও ব্রডকাস্টার আকবর হায়দার কিরণ, ভয়েস অব আমেরিকা ফ্যান ক্লাব বাংলাদেশের সভাপতি জাকারিয়া চৌধুরী যুবরাজ, টাঙ্গাইল দর্পণের সম্পাদক আবু তাহের, চুয়াডাঙ্গার প্রবাহ অনলাইন-এর সম্পাদক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ, নিউইয়র্ক বাংলার সাংবাদিক এম আব্দুর রাজ্জাকসহ ভয়েস অফ আমেরিকা বাংলার একনিষ্ঠ শ্রোতা ও শুভানুধ্যায়ীরা তার রূহের মাগফেরাত কামনাসহ ও গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। সেই সাথে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনাও জানিয়েছেন।
সাংবাদিকতা অঙ্গনে রেখে গেলেন স্মৃতি ও অবদান
একজন সাংবাদিকের সাফল্য শুধু তাঁর প্রকাশিত সংবাদ বা দায়িত্ব পালন করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর সংগ্রহ করা তথ্য, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সংবাদ পরিবেশনের দক্ষতা এবং মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যেও তাঁর পেশাগত পরিচয় গড়ে ওঠে।
আমির খসরুর চার দশকের বেশি সময়ের সাংবাদিকতা জীবন সেই দীর্ঘ অভিজ্ঞতারই পরিচায়ক। সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’য় লেখালেখি দিয়ে শুরু করে দৈনিক সংবাদ, দৈনিক ইত্তেফাক, সাপ্তাহিক ‘বুধবার’ এবং ভয়েস অব আমেরিকার মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত থাকার মধ্য দিয়ে তিনি দেশের সাংবাদিকতা জগতে নিজের অবস্থান তৈরি করেছিলেন।
তাঁর মৃত্যুতে পরিবার-পরিজন, সহকর্মী, শ্রোতা-বন্ধু ও শুভানুধ্যায়ীরা একজন অভিজ্ঞ সাংবাদিককে হারালেন। তাঁর কর্মজীবনের স্মৃতি এবং সংবাদমাধ্যমে অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
টাঙ্গাইল দর্পণ পরিবারের পক্ষ থেকে প্রয়াত সাংবাদিক আমির খসরুর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন। মহান আল্লাহ তাঁকে ক্ষমা করুন, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করুন। আমিন।
বাংলাদেশে ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) বাংলা বিভাগের সাবেক প্রতিনিধি, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সাপ্তাহিক ‘বুধবার’-এর সাবেক নির্বাহী সম্পাদক আমির খসরু আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
আমির খসরু ছিলেন অভিজ্ঞতায় ও পেশাদারিত্বে সমৃদ্ধ একজন সাংবাদিক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে সাপ্তাহিক ‘বিচিত্রা’-য় লেখালেখির মধ্য দিয়ে তাঁর সাংবাদিকতা জীবনের সূচনা। পরবর্তী সময়ে তিনি দেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে কাজ করে নিজের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার পরিচয় দেন।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সংকট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তুলে ধরার ক্ষেত্রেও আমির খসরুর কাজ বিশেষভাবে স্মরণীয়। ২০১৭-১৮ সালে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থীশিবিরে গিয়ে বাস্তুচ্যুত মানুষের জীবনসংগ্রাম, দুঃখ-দুর্দশা ও মানবিক সংকট নিয়ে প্রতিবেদন তৈরির বিষয়টি তাঁর কর্মজীবনের উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে বিবেচিত।
ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশ ও ভারতের বাংলাভাষী শ্রোতাদের কাছে আন্তর্জাতিক সংবাদ, বিশ্লেষণ ও নানা গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার তথ্য পৌঁছে দিয়েছেন। এই সম্প্রচারমাধ্যমের সঙ্গে আমির খসরুর সম্পৃক্ততা তাঁকে বহু শ্রোতার কাছে পরিচিত করে তুলেছিল।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন। শোকবার্তায় আমির খসরুর দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনের অবদান স্মরণ করা হয়।
আমির খসরুর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিক অঙ্গনে শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে), ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) এবং জাতীয় প্রেস ক্লাবের নেতারাও তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোক জানিয়েছেন। শোকবার্তায় তাঁরা মরহুমের রুহের মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন।
একজন সাংবাদিকের সাফল্য শুধু তাঁর প্রকাশিত সংবাদ বা দায়িত্ব পালন করা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। তাঁর সংগ্রহ করা তথ্য, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা, সংবাদ পরিবেশনের দক্ষতা এবং মানুষের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাবলি পৌঁছে দেওয়ার প্রচেষ্টার মধ্যেও তাঁর পেশাগত পরিচয় গড়ে ওঠে।
জাতীয়
চতুর্থ শ্রেণি থেকে বাধ্যতামূলক হচ্ছে খেলাধুলার বই: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক
পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলাকে শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ করে নতুন প্রজন্মকে সুস্থ, মাদকমুক্ত ও শৃঙ্খলাপূর্ণ হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণির পাঠ্যক্রমে ‘খেলাধুলা’ নামে নতুন বই যুক্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। পর্যায়ক্রমে পঞ্চম ও ষষ্ঠ শ্রেণিতেও এ বই চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ঢাকা-১৬ আসনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমিনুল হক এসব কথা বলেন।
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, জীবনের লক্ষ্য এখনই নির্ধারণ করতে হবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তবে সুস্থ শরীর ও সুস্থ জাতি গঠনে খেলাধুলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। নতুন বইয়ে খেলাধুলার উপকারিতা, পুষ্টি এবং সুস্থ থাকার জন্য প্রয়োজনীয় খাবার সম্পর্কে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে।
এর পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন ও শিক্ষকদের আবাসনের ব্যবস্থা করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পল্লবী ও রূপনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়নে ইতিমধ্যে ডিও লেটার দিয়েছেন। শিক্ষকদের জন্য পৃথক আবাসনের ব্যবস্থা করতে শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠাবেন।
রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরিহার করে ঐক্যবদ্ধ ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, বিগত ১৭ বছরের ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি তাঁরা চান না। শিক্ষার্থীদের জন্য সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, সরকার ও সমাজের সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
অনুষ্ঠানে মিরপুর বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল খোশনবিশের সভাপতিত্বে ঢাকা-১৬ আসনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্ষদের সভাপতি মইনুল হক মঈন, এমডিসি মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের সভাপতি হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে কৃতী শিক্ষার্থীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন আমিনুল হক।
জাতীয়
তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎসহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে: খেলাফত মজলিস
ঢাকা, ৮ অক্টোবর ২০২৬: খেলাফত মজলিস কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ জ্বালানী তেল, সিলিন্ডার গ্যাস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, সরকার জ্বালানি তেল, সিলিন্ডার গ্যাসের দাম বাড়িয়ে জনজীবনকে বিপর্যস্তকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। ইতিমধ্যে বাস ভাড়া সহ দ্রব্যমূল্য আরেক দফা বৃদ্ধি পেয়েছে। মূল্যস্ফীতি আরেক দফা বেড়েছে।
বিগত ৬ মাসে সরকার দফায় দফায় জ্বালানি তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের টিকে থাকা চরম কঠিন। আমরা অবিলম্বে জ্বালানি তেল, বিদ্যুৎ সহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবি জানাচ্ছি। বর্ধিত জ্বালানি মূল্য প্রত্যাহারের দাবি জানাচ্ছি। সাম্প্রতিক সময়ে শিশু-কিশোর হত্যা, ধর্ষণ ও নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে। অবিলম্বে কিশোর গ্যাং, মাদক সরবরাহকারী ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স গ্রহণের জন্য আমরা জোর দাবি জানাচ্ছি।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বিগত গণভোটে জনগণের সুস্পষ্ট রায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে একতরফা ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’র মাধ্যমে সরকার ৭২এর বিতর্কিত সংবিধান রক্ষার পাঁয়তারা করছে। এখন নতুন করে গণভোট আয়োজনের কথা বলছে। আমরা সরকারকে বলবো, জনগণ একবার রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করুন। এসব নাটক বন্ধ করে অবিলম্বে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন।
গতকাল সন্ধ্যা ৭টায় পল্টনস্থ কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে নায়েবে আমীর মাওলানা আহমদ আলী কাসেমীর সভাপতিত্বে ও মহাসচিব ড. আহমদ আবদুল কাদেরের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত মাসিক কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবদুল্লাহ ফরিদ, যুগ্ম-মহাসচিব এডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন, অধ্যাপক মো: আবদুল জলিল, সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট মিজানুর রহমান, অধ্যাপক কাজী মিনহাজুল আলম, প্রশিক্ষণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মাওলানা রুহুল আমিন সাদী, প্রচার ও তথ্য সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, যুব বিষয়ক সম্পাদক তাওহিদুল ইসলাম তুহিন, ডা. আবদুর রাজ্জাক আসাদ, খন্দকার শাহাবুদ্দিন আহমদ, মুফতি আবদুল হক আমিনী, জিল্লুর রহমান, অধ্যাপক মাওলানা আজিজুল হক, মাওলানা সাইফুদ্দিন আহমদ খন্দকার, মাওলানা ফারুক আহমদ ভূঁইয়া।
কেন্দ্রীয় নির্বাহী বৈঠকে নেতৃবৃন্দ ক্ষোভ জানিয়ে বলেন, বিগত গণভোটে জনগণের সুস্পষ্ট রায় ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে উপেক্ষা করে একতরফা ‘সংবিধান সংশোধন কমিটি’র মাধ্যমে সরকার ৭২এর বিতর্কিত সংবিধান রক্ষার পাঁয়তারা করছে। এখন নতুন করে গণভোট আয়োজনের কথা বলছে। আমরা সরকারকে বলবো, জনগণ একবার রায় দিয়েছে, তা বাস্তবায়ন করুন। এসব নাটক বন্ধ করে অবিলম্বে সংসদে প্রতিনিধিত্বকারী সকল রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ গঠন করে গণরায় অনুযায়ী সংবিধানের পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিন।
জাতীয়
লন্ডনে গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র জাতীয় সম্মেলন সফল করার আহবান
শেখ নুরুল ইসলাম, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) প্রতিনিধি:
আগামি ১১ অক্টোবর রবিবার দুপুর ২ ঘটিকায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ইনঅগুরেশন সেরিমনি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় সম্মেলন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সফল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে রিজিওনাল কমিটির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অব্যাহত রয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর রাত ১১ ঘটিকায় ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ বাংলাদেশ সেন্টারে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা ও ডিনার পার্টি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সংগঠনের সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান মুজিবের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি রকিবুর রহমান ও ট্রেজারার এ বি রুনেলের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ফাউন্ডার্স কনভেনর ও বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, আসকর আলী, আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, শাহ শাফী, আব্দুর রুউফ তালুকদার, মফিকুল ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, বদরউদ্দিন চৌধুরী বাবর, মোহাম্মদ মুজিব মিয়া, আলমগীর আলম, সাইফুল ইসলাম সিপু, সৈয়দ কাহের, জহির আলী, ফয়সল রহমান, বসর সিকদার, ইকবাল হোসেন, সুমন তরফদার, আব্দুল বাছিত বাচ্চু, আনোয়ার আলী, মাহমুদ মিয়া, শাহ আব্দুল ওয়াহাব জাহাঙ্গীর, শামসুল হক রানু, এম এ রউফ, আব্দুল কাইয়ুম জহির, আব্দুল আজিজ মাখন, এম এ সামাদ, বদরুল হক মনসুর, সাজেল আহমেদ, আব্দুল বসর, পারভেজ খান, ফয়ছল চৌধুরী, জাভেদ আহমেদ, ফয়সল মনসুর, এনামুল হোসেন সুয়েব, আজম সবুজ, মহারাজ ও গিয়াস আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফয়েজ মিয়া।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডার্স কনভেনর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ঐক্যের বন্ধনে একত্রিত হয়ে সিলেটের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আমাদের এই কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত, আরও সফল ও আরও স্মরণীয়।
তিনি আরও জানান, সম্মেলনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সফলভাবে এই মহা-উৎসব সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সকল সিলেটবাসীকে দলমত নির্বিশেষে দলে দলে যোগদানের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
আগামি ১১ অক্টোবর রবিবার দুপুর ২ ঘটিকায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ইনঅগুরেশন সেরিমনি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় সম্মেলন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সফল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে রিজিওনাল কমিটির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অব্যাহত রয়েছে।
আন্তর্জাতিক
বাংলাদেশে ডিজিটাল সাংবাদিকতা ও অনলাইন পত্রিকার পথিকৃত তৌফিক ইমরোজ খালিদীর চিরবিদায়
লন্ডন থেকে চিরবিদায় নিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক
বাংলাদেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখা সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব তৌফিক ইমরোজ খালিদী আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মাত্র ৫৯ বছর বয়সে শুক্রবার (২ অক্টোবর ২০২৬) লন্ডনের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তাঁর অকাল প্রয়াণে টাঙ্গাইল দর্পণ পরিবারের পক্ষ থেকে গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করছে।
লন্ডনের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুর ২টা ২৩ মিনিটে সেন্ট বার্থোলোমিউ’স হাসপাতালে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বৃহস্পতিবার রাতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার পর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণজনিত কারণে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। তিনি ব্যক্তিগত সফরে লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ দেশে আনা, জানাজা ও দাফনের সময়-স্থান পরে জানানো হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোকবার্তায় তাকে বাংলাদেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশের একজন পথিকৃৎ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাষ্ট্রপতি বলেন, তার মৃত্যুতে দেশ একজন অভিজ্ঞ, সজ্জন ও বরেণ্য গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বকে হারিয়েছে; সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যমে তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ডিজিটাল সাংবাদিকতার পথ দেখানো মানুষ
বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদসেবার বিকাশের ইতিহাসে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০৫ সালে ‘বিডিনিউজ’ সংবাদ সংস্থা হিসেবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহ শুরু করে। পরের বছর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন রূপ নেয়।
২০০৬ সালের ২৩ অক্টোবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নতুন আঙ্গিকে ২৪ ঘণ্টার সংবাদসেবা হিসেবে যাত্রা শুরু করে। সে সময় দেশে সংবাদ পরিবেশনের প্রচলিত মাধ্যম ছিল মূলত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও প্রচলিত বার্তা সংস্থা। ইন্টারনেটকে কেন্দ্র করে সার্বক্ষণিক সংবাদকক্ষ পরিচালনার উদ্যোগটি বাংলাদেশের গণমাধ্যমে নতুন যুগের সূচনা করে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমে পরিণত হয়। ‘সবার আগে নির্ভুল খবর’—এই দর্শনকে সামনে রেখে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে দ্রুততার পাশাপাশি তথ্য যাচাই ও বস্তুনিষ্ঠতার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বিভিন্ন স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে।
সাংবাদিকতায় ৩৭ বছরের পথচলা
১৯৬৭ সালের ১৪ জুন জন্ম নেওয়া তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতা জীবনের শুরু ১৯৮৯ সালে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগে পড়াশোনা শেষে তিনি সাংবাদিকতায় প্রবেশ করেন।
কর্মজীবনের শুরুতে তিনি ‘সানডে এক্সপ্রেস’-এ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তী সময়ে দেশের অন্যতম প্রধান ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার এবং দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। ডেইলি স্টারে তিনি কূটনৈতিক প্রতিবেদক, বিজনেস এডিটর, উইকেন্ড এডিশনের বার্তা সম্পাদক ও যুগ্ম বার্তা সম্পাদকের মতো দায়িত্বে ছিলেন।
২০০০ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি যোগ দেন বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসে। ২০০৫ সালের জুন পর্যন্ত সেখানে সংবাদ ও কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স অনুষ্ঠান প্রযোজনা ও উপস্থাপনা করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে বিশেষ প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি বিবিসির আলোচিত ‘ডিবেট’ অনুষ্ঠানও সঞ্চালনা করেছেন তিনি।
২০০৫ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যবর্তী সময়ে বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক ও পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেন তিনি।
বিডিনিউজের সঙ্গে দুই দশকের সম্পর্ক
২০০৬ সালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নতুন যাত্রা শুরু করার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
মৃত্যুর মাত্র কয়েক সপ্তাহ পরই বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের প্রস্তুতি চলছিল। প্রতিষ্ঠানের সহকর্মীরা জানিয়েছেন, খালিদী নিজেই প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছিলেন। আকস্মিক মৃত্যুতে সেই আয়োজনের আগেই থেমে গেল তার দীর্ঘ কর্মযাত্রা।
তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম শুধু একটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম হিসেবে নয়, বাংলাদেশের ডিজিটাল সংবাদসেবার বিকাশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিতি পায়।
সাংবাদিকতার স্বাধীনতা ও বস্তুনিষ্ঠতার পক্ষে অবস্থান
সহকর্মী ও দীর্ঘদিনের পরিচিতদের স্মৃতিচারণে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব, তথ্য যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
সাবেক সহকর্মী ও সাংবাদিক আফসান চৌধুরী তাকে বাংলাদেশের অনলাইন সাংবাদিকতার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা একজন সাংবাদিক হিসেবে স্মরণ করেছেন। অন্যদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ মুশতাক হোসেন বলেন, তৌফিক খালিদী অনলাইন সাংবাদিকতাকে একটি মানসম্মত ও প্রতিশ্রুতিশীল জায়গায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সংবাদ প্রকাশে যাচাই করা তথ্যের ওপর গুরুত্ব দিতেন।
সুপ্রিম কোর্ট রিপোর্টার্স ফোরামও তাকে দেশের অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার ‘পথিকৃৎ’ হিসেবে উল্লেখ করেছে। চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের শোকবার্তায় তাকে ‘আপসহীন সাংবাদিকতার পথিকৃৎ’ হিসেবে স্মরণ করা হয় এবং তার মৃত্যু দেশের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অঙ্গনের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বলে উল্লেখ করা হয়।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি
সাংবাদিকতার পাশাপাশি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।
২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন। ২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ সম্মেলনে প্যানেল আলোচক ছিলেন।
২০১৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত সাউথ-টু-সাউথ মিডিয়া ডায়ালগে তাকে এশিয়া-প্যাসিফিক, লাতিন আমেরিকা ও পশ্চিম এশিয়ার নির্বাচিত ডিজিটাল মিডিয়া উদ্ভাবকদের একজন হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। ২০১৭ সালে জাতীয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকেও তিনি বিশেষ সম্মাননা পান।
নীতিনির্ধারণেও ছিল সম্পৃক্ততা
শুধু সংবাদকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তৌফিক ইমরোজ খালিদী। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির ২০১২ ও ২০১৫ সালের কার্যক্রমে তিনি সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে বার্তা সংস্থাগুলোর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি এবং ২০০৭ সালে ঢাকার নদী রক্ষার জন্য গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সেও কাজ করেছেন।
শোকের ছায়া সাংবাদিকতা অঙ্গনে
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক, সহকর্মী, বন্ধু, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়।
রাষ্ট্রপতি তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে বলেন, তৌফিক ইমরোজ খালিদী ছিলেন অনলাইন ও ডিজিটাল সাংবাদিকতার বিকাশের একজন পথিকৃৎ। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকেও তাকে দীর্ঘ সাংবাদিকতা জীবনে পেশাদারিত্ব, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং তথ্যভিত্তিক সাংবাদিকতার চর্চায় অবদানের জন্য স্মরণ করা হয়েছে।
তার সাবেক সহকর্মী ও বন্ধুদের স্মৃতিচারণে উঠে এসেছে একজন সাংবাদিক, সম্পাদক, সংগঠক ও সহকর্মী হিসেবে তার দীর্ঘ পথচলার নানা অধ্যায়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সহপাঠী ও পরবর্তী সময়ে তথ্য সচিব মাহবুবা ফারজানা তাকে প্রতিভাবান সাংবাদিক এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধু হিসেবে স্মরণ করেছেন।
রেখে গেলেন একটি প্রতিষ্ঠান, রেখে গেলেন একটি ধারার উত্তরাধিকার
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত একটি পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে—প্রচলিত সংবাদসেবা থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক ২৪ ঘণ্টার সংবাদসেবায় বাংলাদেশের উত্তরণ।
দুই দশক আগে যখন ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদমাধ্যমের ধারণা ছিল অনেকটাই নতুন, তখন তার নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম যাত্রা শুরু করে। সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের সংবাদ গ্রহণের অভ্যাস বদলেছে, বদলেছে প্রযুক্তি, সংবাদ পরিবেশনের ধরন এবং পাঠকের প্রত্যাশা। সেই পরিবর্তনের দীর্ঘ যাত্রায় তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নাম ও কর্মজীবন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
শুক্রবার লন্ডনের হাসপাতালে তার জীবনাবসানের মধ্য দিয়ে শেষ হলো প্রায় ৩৭ বছরের সাংবাদিকতা জীবনের পথচলা। তবে তার হাতে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল সাংবাদিকতার যে অধ্যায়ের সঙ্গে তার নাম অবিচ্ছেদ্যভাবে যুক্ত, সেটিই হয়তো তার দীর্ঘ কর্মজীবনের সবচেয়ে বড় উত্তরাধিকার।
তৌফিক ইমরোজ খালিদীর মৃত্যুতে সাংবাদিকতা অঙ্গনে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়।
বাংলাদেশে ইন্টারনেটভিত্তিক সংবাদসেবার বিকাশের ইতিহাসে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ২০০৫ সালে ‘বিডিনিউজ’ সংবাদ সংস্থা হিসেবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে সংবাদ সরবরাহ শুরু করে। পরের বছর মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় পরিবর্তনের পর তার নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি নতুন রূপ নেয়।
সাংবাদিকতায় ৩৭ বছরের পথচলা
২০০৬ সালে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নেতৃত্বে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নতুন যাত্রা শুরু করার পর থেকে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি প্রতিষ্ঠানটির নেতৃত্বে ছিলেন। তিনি প্রধান সম্পাদক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং প্রতিষ্ঠানের মালিকানা কাঠামোর সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন।
সহকর্মী ও দীর্ঘদিনের পরিচিতদের স্মৃতিচারণে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সাংবাদিকতায় পেশাদারিত্ব, তথ্য যাচাই এবং বস্তুনিষ্ঠতার বিষয়টি বিশেষভাবে উঠে এসেছে।
জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে পরিচিতি
২০১৬ সালে ইউনেস্কো আয়োজিত বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসের অনুষ্ঠানে তিনি সভাপতিত্ব করেন। ২০০৯ সালে কোপেনহেগেনে জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলনে পর্যবেক্ষক হিসেবে অংশ নেন। ২০১০, ২০১৬, ২০১৭ ও ২০১৯ সালে জার্মানির বন শহরে অনুষ্ঠিত গ্লোবাল মিডিয়া ফোরামেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ রাইজিং’ সম্মেলনে প্যানেল আলোচক ছিলেন।
শুধু সংবাদকক্ষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না তৌফিক ইমরোজ খালিদী। অনলাইন গণমাধ্যম নীতিমালা প্রণয়ন ও পর্যালোচনার জন্য গঠিত জাতীয় কমিটির ২০১২ ও ২০১৫ সালের কার্যক্রমে তিনি সদস্য হিসেবে যুক্ত ছিলেন। ২০০৮ সালে বার্তা সংস্থাগুলোর নীতিমালা প্রণয়ন কমিটি এবং ২০০৭ সালে ঢাকার নদী রক্ষার জন্য গঠিত জাতীয় টাস্কফোর্সেও কাজ করেছেন।
তার মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর সাংবাদিক, সহকর্মী, বন্ধু, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সংগঠনের পক্ষ থেকে শোক জানানো হয়।
বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমের ইতিহাসে তৌফিক ইমরোজ খালিদীর সবচেয়ে বড় পরিচয় সম্ভবত একটি পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে—প্রচলিত সংবাদসেবা থেকে ইন্টারনেটভিত্তিক ২৪ ঘণ্টার সংবাদসেবায় বাংলাদেশের উত্তরণ।
জাতীয়
বিএনপি’র সংরক্ষিত নারী এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করায় আসন শূন্য ঘোষণা
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬) জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর তাঁর সংসদীয় আসনটি শূন্য ঘোষণা করেছে জাতীয় সংসদ সচিবালয়।
বিকেলে সংসদ সচিবালয়ের লেজিসলেটিভ সাপোর্ট উইংয়ের আইন প্রণয়ন শাখা-২ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ফেরদৌসী আহমেদ পদত্যাগ করায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩২৩ নম্বর মহিলা আসন-২৩ সংবিধানের ৬৭(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১ অক্টোবর থেকে শূন্য হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র পৌঁছানোর পর সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়েছে, শূন্য আসন পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বিষয়টি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়কে জানানো হয়েছে। আসনটি বাংলাদেশ গেজেটের অতিরিক্ত সংখ্যায় প্রকাশের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেও নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হয়েছে।
এর আগে জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। সাক্ষাৎ শেষে সংসদ ভবনের টানেলে সাংবাদিকেরা তাঁর পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি স্পিকারের সঙ্গে কথা বলতে এসেছি, কথা বলেছি।” পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ হবে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের ঘটনার পর মিষ্টির পদত্যাগের বিষয়টি সামনে আসে। গত ২৪ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে অবস্থিত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে হামলা চালায় দুই শতাধিক ব্যক্তি। দেশীয় অস্ত্র ও ভাঙার সরঞ্জাম নিয়ে হামলার পর কেন্দ্রটির পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
ঘটনাটিতে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তদন্তে মিষ্টির ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত কয়েকজনের নামও আলোচনায় আসে। তবে মিষ্টি হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত চলমান রয়েছে।
এ ঘটনার পর প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান মিষ্টিকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন বলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব জানিয়েছেন। দলীয় সিদ্ধান্তের বিষয়টিও সংশ্লিষ্ট পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তাধীন বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।
ঘটনার পর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়েও আলোচনা হয়। গত বুধবার রাতে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে দেওয়া তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জমি এবং ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’-এর কার্যক্রম নিয়েও মিষ্টির নাম আলোচনায় এসেছে। ২০০৬ সালে শাহ আলী থানার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কমিশনার থাকাকালে তিনি ওই সমিতির সভাপতি ছিলেন। ওই সময় সমিতির নামে রাড্ডা সেন্টারের জায়গা বরাদ্দ চেয়ে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে করা আবেদনে সভাপতি হিসেবে তাঁর স্বাক্ষর ছিল। তবে বর্তমানে সমিতিটির সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে মিষ্টি দাবি করেছেন।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি ১৯৭৪ সাল থেকে মিরপুরের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের স্বাস্থ্যসেবা দিয়ে আসছিল। হামলা ও ভাঙচুরের পর সেটি ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। কেন্দ্রটিকে আবার ব্যবহার উপযোগী করতে সংস্কারকাজ দ্রুতগতিতে চলছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসন রয়েছে ৫০টি। সরাসরি নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সংখ্যার অনুপাতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এসব আসন বণ্টন করা হয়। এবারের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়নে ৩৬ জন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত ৩০ এপ্রিল তাঁদের গেজেট প্রকাশ এবং ৩ মে শপথ অনুষ্ঠিত হয়। সে হিসাবে প্রায় পাঁচ মাসের মধ্যে সংসদ সদস্য পদ ছাড়লেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। সংসদের বর্তমান সদস্য তালিকাতেও তিনি ৩২৩ নম্বর, মহিলা আসন-২৩-এর সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ঘটনা নিয়ে সরকারও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, তদন্তে কারও সম্পৃক্ততা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। মিষ্টির সংশ্লিষ্টতার বিষয়টিও তদন্তাধীন বলে এর আগে জানানো হয়েছিল।
জাতীয়
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
সবীর আহমেদ ভূঁইয়া ফোরকান, পরশুরাম (ফেনী) প্রতিনিধি:
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।
আজ বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর, ২০২৬) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার সুবার বাজার সড়কের পাশে মুহুরী নদীর তীরে মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনুর দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শুধু পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করা নয়, দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হবে।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ ও সেচ পুনর্বাসন প্রকল্পের ফলক উন্মোচন এবং নদী খনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। পরে ঘাটঘর জামে মসজিদের পাশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতেও অংশ নেন তিনি।
অনুষ্ঠানে তারেক রহমান বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ বিএনপিকে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে এবং দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের চেষ্টা করা হয়েছে। অতীতে কলকারখানা বন্ধ হয়ে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের সমর্থন নিয়ে বিএনপি দেশকে একটি উন্নত রাষ্ট্রে পরিণত করতে কাজ করবে। এ সময় তিনি ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং নদী-খাল খনন কর্মসূচির কথাও তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু তালেব অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বন ও পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের সুমন, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ফেনী-১ আসনের সংসদ সদস্য মুন্সি রফিকুল আলম মজনু এবং পরশুরাম উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবদুল হালিম।
দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে পর্যায়ক্রমে ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, গ্রামের মানুষকে চিকিৎসার জন্য যাতে শহরে যেতে না হয়, সে লক্ষ্যেই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা ও সুযোগ-সুবিধায় স্বয়ংসম্পূর্ণ করা হবে।
জাতীয়
দাম বাড়ালেই জ্বালানি তেলের সংকট কেটে যায়! কিন্তু কেন? এ বিষয়ে বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা জানতে চেয়েছে সংসদীয় কমিটি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দেশে ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে—তা জানতে চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বিপিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে জ্বালানির দাম সাধারণ মানুষের সহনীয় পর্যায়ে রাখতে যুগোপযোগী ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য বিপিসিকে সুপারিশ করেছে কমিটি।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠক শেষে সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
এপ্রিলে জ্বালানি সংকট নিয়ে প্রশ্ন
বৈঠকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ সম্পর্কেও বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
কমিটি সূত্রে জানা গেছে, গত এপ্রিলে দেশের বিভিন্ন পেট্রলপাম্পে জ্বালানি তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যায়। পরে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর পর ওই সংকট অনেকটা কেটে যায়।
তবে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও দাম বাড়ানোর পর কীভাবে সংকট কেটে গেল, তা জানতে চায় কমিটি। এ বিষয়ে বিপিসির দেওয়া তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যায় কমিটি সন্তুষ্ট হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সময়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার জন্য বিপিসিকে বলা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির প্রভাব
বৈঠকে বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেয় সংস্থাটি।
এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় কয়েকটি সম্ভাব্য পদক্ষেপের কথাও বৈঠকে তুলে ধরে বিপিসি।
এর মধ্যে রয়েছে:
• আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সহনীয় মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসিকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া;
• সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর কমানো অথবা আগের মতো ট্যারিফ ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর নির্ধারণ;
• জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ‘ফুয়েল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠন;
• দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
ভবিষ্যৎ চাহিদা ও মূল্য স্থিতিশীলতায় গুরুত্ব
সংসদীয় কমিটি ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানির চাহিদা কতটা বাড়তে পারে এবং সেই চাহিদা পূরণে বিপিসির সক্ষমতা কতটা—তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সংস্থাটিকে বলা হয়েছে।
কমিটি একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতা ও সম্ভাব্য সংকট বিবেচনায় নিয়ে জ্বালানির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে বাস্তবভিত্তিক দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে।
দেশে ভবিষ্যতে জ্বালানির চাহিদা কীভাবে মোকাবিলা করা হবে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) কী ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে—তা জানতে চেয়েছে সরকারি প্রতিষ্ঠান-সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটি। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে বিপিসিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বৈঠকে বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরপর দেশে জ্বালানি সংকট সৃষ্টির কারণ সম্পর্কেও বিপিসির কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়।
বৈঠকে বিপিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধপরিস্থিতির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবেই দেশে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর প্রয়োজন হয়েছে বলে ব্যাখ্যা দেয় সংস্থাটি।
এর মধ্যে রয়েছে:
• আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে সহনীয় মূল্যে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিপিসিকে প্রয়োজনীয় ভর্তুকি দেওয়া;
• সাময়িকভাবে জ্বালানি তেল আমদানিতে ইনভয়েস ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর কমানো অথবা আগের মতো ট্যারিফ ভ্যালুর ভিত্তিতে শুল্ক-কর নির্ধারণ;
• জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে ‘ফুয়েল স্ট্যাবিলাইজেশন ফান্ড’ বা জ্বালানি তেলের মূল্য স্থিতিশীলকরণ তহবিল গঠন;
• দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৯০ দিনের জ্বালানি মজুত সক্ষমতা গড়ে তোলা।
সংসদীয় কমিটি ভবিষ্যতে দেশে জ্বালানির চাহিদা কতটা বাড়তে পারে এবং সেই চাহিদা পূরণে বিপিসির সক্ষমতা কতটা—তা নিয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা চেয়েছে। আগামী বৈঠকে এ বিষয়ে প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য সংস্থাটিকে বলা হয়েছে।
জাতীয়
দেশে মাল্টার আমদানী মূল্য ৮৭ টাকা কেজি হলেও বাজারে ৫২০ টাকা, কিন্তু কেন?
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে আমদানি করা মাল্টার প্রতি কেজির গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সেই মাল্টাই এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ আমদানি মূল্য থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত দাম বেড়ে যাচ্ছে পাঁচ গুণেরও বেশি।
ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে এবং আমদানি থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাল্টার দাম বাড়ার পেছনে অন্যতম বড় কারণ উচ্চ শুল্ক-কর।
এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে পরিবহন ও বন্দরসংক্রান্ত ব্যয়, ফল নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি এবং সাম্প্রতিক সময়ে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেড়ে যাওয়া।
বাংলাদেশ কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, কমলা ও মাল্টাজাতীয় তাজা ফল আমদানিতে বর্তমানে মোট করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ। এর মধ্যে রয়েছে আমদানি শুল্ক, নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক, সম্পূরক শুল্ক, মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) ও অগ্রিম আয়কর।
চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের আমদানি তথ্য অনুযায়ী, প্রতি কেজি মাল্টার গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। এর সঙ্গে শুল্ক-কর বাবদ দিতে হয় প্রায় ১০৭ টাকা। ফলে বন্দর থেকে খালাসের সময়ই প্রতি কেজি মাল্টার ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ১৯৩ থেকে ১৯৪ টাকা।
এরপর হিমায়িত কনটেইনারে আসা মাল্টা বন্দর থেকে গুদামে নেওয়া, কনটেইনার ও পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ যুক্ত হয়। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, এসব খাতে কেজিতে আরও ১০ থেকে ১৫ টাকা ব্যয় হয়। এতে সরাসরি হিসাবেই খরচ দাঁড়ায় ২০৪ থেকে ২০৯ টাকা।
তবে আমদানিকারকদের দাবি, পচনশীল ফল হওয়ায় নষ্ট হওয়া পণ্য, বন্দর ও কনটেইনারসংক্রান্ত অতিরিক্ত খরচসহ প্রকৃত ব্যয় আরও বেশি। সব মিলিয়ে তাদের ক্ষেত্রে প্রতি কেজি মাল্টার ব্যয় ২৩০ থেকে ২৪০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
কমেছে মাল্টা আমদানি
উচ্চ শুল্ক-কর আরোপের পর দেশে মাল্টা আমদানির পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৪ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছিল। পরের অর্থবছরে শুল্ক-কর বাড়ার পর আমদানি কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ২০ হাজার টনে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরও কমে ১ লাখ ৭৩ হাজার টনে নেমে আসে।
এরপর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১ লাখ ৬৮ হাজার এবং ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ১ লাখ ৫৩ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছে। অর্থাৎ চার বছরের ব্যবধানে আমদানির পরিমাণ প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।
চলতি অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম প্রায় তিন মাসে দেশে মাল্টা এসেছে মাত্র ২১ হাজার টন।
পাইকারি থেকে খুচরা বাজারে বড় ব্যবধান
বন্দর থেকে খালাসের পর মাল্টা যায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে। এরপর আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে তা পৌঁছায় ভোক্তার কাছে। প্রতিটি পর্যায়েই চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হয়।
চট্টগ্রামের ফলমন্ডির ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে পাইকারিতে মাল্টা ২২০ থেকে ২৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। এরপর দাম দ্রুত বাড়তে থাকে।
একপর্যায়ে ১৫ কেজির একটি কার্টন ৬ হাজার থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে। সে হিসাবে পাইকারিতেই কেজিপ্রতি দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় উঠে যায়।
এরপর গত বুধবার চট্টগ্রামের বিভিন্ন খুচরা বাজারে মাল্টা ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে।
রেলওয়ে মেন্স সুপার মার্কেটের ফল ব্যবসায়ী মো. বাবুল বলেন, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত অনেক আমদানিকারক লোকসানে ছিলেন। এ কারণে পরবর্তী সময়ে আমদানি কমে যায়।
সেপ্টেম্বরে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় দাম দ্রুত বেড়ে যায়। তবে নতুন চালান আসায় এখন দাম কমতে শুরু করেছে। আগামী সপ্তাহে সরবরাহ বাড়লে দাম আরও কমতে পারে।
মাল্টা আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এইচআর করপোরেশনের কর্ণধার মোহাম্মদ কুতুব উদ্দিন বলেন, শুল্ক-কর, বন্দর মাশুল ও কনটেইনার পরিবহনসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে।
তবে তার দাবি, আমদানিকারক বা পাইকারি পর্যায়ের দামের তুলনায় খুচরা বাজারে অনেক সময় কেজিতে প্রায় ১০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে।
বিগত কয়েক বছরে বেড়েছে ফলের উপর করভার
আমদানি করা ফলে সব সময় এত বেশি করভার ছিল না। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টাসহ কয়েক ধরনের ফলের ওপর মোট করভার ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ।
ডলার-সংকটের সময় আমদানি নিরুৎসাহিত করতে ২০২২ সালের মে মাসে ফলসহ বিভিন্ন পণ্যের ওপর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক আরোপ করা হয়। পরে বিভিন্ন সময়ে ফলের ওপর করভার আরও বাড়ানো হয়।
২০২৪-২৫ অর্থবছরের একপর্যায়ে ফলের করভার ১৩৬ দশমিক ২০ শতাংশে পৌঁছেছিল। পরে তা কিছুটা কমানো হয়। বর্তমানে কমলা, মাল্টা, আপেল ও আঙুরের মতো ফল আমদানিতে মোট করভার ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ।
অর্থাৎ বিদেশের বাজারে মাল্টার দাম না বাড়লেও শুধু শুল্ক-কর কাঠামোর কারণে দেশে প্রবেশের আগেই এর দাম দ্বিগুণের বেশি হয়ে যাচ্ছে।
ডেঙ্গুর সময় বাড়তি চাহিদাও প্রভাব ফেলে
মাল্টার দাম বাড়ার সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৭৯ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৪৫ জনের। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
ফল ব্যবসায়ীরা বলছেন, জ্বর ও ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য মাল্টা ও কমলার মতো ফল কেনার প্রবণতা বেড়েছে। ফলে সরবরাহ কম থাকা অবস্থায় বাড়তি চাহিদা বাজারে দাম আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এদিকে উচ্চ করভার নিয়ে ভোক্তাদের মধ্যেও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বর্তমানে প্রায় ৮৭ টাকা আমদানি মূল্যের এক কেজি মাল্টার ওপরই সরকারকে দিতে হচ্ছে প্রায় ১০৭ টাকা শুল্ক-কর।
এর সঙ্গে পরিবহন, সংরক্ষণ, নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি, ব্যবসায়ীদের মুনাফা এবং চাহিদা-সরবরাহের প্রভাব যুক্ত হয়ে খুচরা বাজারে দাম পৌঁছাচ্ছে ৫০০ টাকার কাছাকাছি বা তারও বেশি।
এ বিষয়ে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপপরিচালক মোহাম্মদ ফয়েজ উল্যাহ বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতিমধ্যে বাজারে অভিযান চালানো হয়েছে।
বুধবার ফলমন্ডিতে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ১৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ বিষয়ে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
দক্ষিণ আফ্রিকা ও মিসর থেকে আমদানি করা মাল্টার প্রতি কেজির গড় আমদানি মূল্য প্রায় ৮৭ টাকা। কিন্তু চট্টগ্রামের খুচরা বাজারে সেই মাল্টাই এখন বিক্রি হচ্ছে ৪৮০ থেকে ৫২০ টাকা কেজি দরে। অর্থাৎ আমদানি মূল্য থেকে ভোক্তার হাতে পৌঁছানো পর্যন্ত দাম বেড়ে যাচ্ছে পাঁচ গুণেরও বেশি।
উচ্চ শুল্ক-কর আরোপের পর দেশে মাল্টা আমদানির পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে কমেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশে ২ লাখ ৯৪ হাজার টন মাল্টা আমদানি হয়েছিল। পরের অর্থবছরে শুল্ক-কর বাড়ার পর আমদানি কমে দাঁড়ায় ২ লাখ ২০ হাজার টনে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তা আরও কমে ১ লাখ ৭৩ হাজার টনে নেমে আসে।
চলতি অর্থবছরেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অর্থবছরের প্রথম প্রায় তিন মাসে দেশে মাল্টা এসেছে মাত্র ২১ হাজার টন।
বন্দর থেকে খালাসের পর মাল্টা যায় চট্টগ্রাম ও ঢাকার পাইকারি বাজারে। এরপর আমদানিকারক, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার হাত ঘুরে তা পৌঁছায় ভোক্তার কাছে। প্রতিটি পর্যায়েই চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে দাম পরিবর্তিত হয়।
আমদানি করা ফলে সব সময় এত বেশি করভার ছিল না। ২০২১-২২ অর্থবছরে মাল্টাসহ কয়েক ধরনের ফলের ওপর মোট করভার ছিল প্রায় ৮৯ শতাংশ।
ডেঙ্গুর সময় বাড়তি চাহিদাও প্রভাব ফেলে
মাল্টার দাম বাড়ার সময়ে দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপও বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলতি বছরে ডেঙ্গুতে ৭৯ হাজার ৬২০ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ সময়ে মৃত্যু হয়েছে ২৪৫ জনের। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে রোগী ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে।
জাতীয়
মিরপুরের রাড্ডা এমসিএইচ-এফপিতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় এমপি পদ হারালেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
আজ ১ অক্টোবর, ২০২৬, বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। তিনি বলেন, স্পিকারের সঙ্গে দেখা করতে এসেছি। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মেনে নেবো।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর লিখিত নির্দেশনা পাওয়ার পরই জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন মিষ্টি। বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি সংসদে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।
রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুর
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির টিনশেড ও সেমিপাকা স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন সামগ্রী ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও ওঠে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ওই ঘটনায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির প্রায় ১ কোটি ৯ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এ ঘটনায় ইতোমধ্যে কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনায় যারাই জড়িত থাকুক, তদন্তের ভিত্তিতে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঘটনার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টির নামও আলোচনায় আসে। স্থানীয় রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগের পাশাপাশি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠে। তবে মিষ্টি এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্তাধীন ছিল।
৩০ সেপ্টেম্বর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছিলেন, রাড্ডা সেন্টারে হামলার ঘটনায় একজন সংসদ সদস্যের কথিত সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
দলীয় পর্যায়েও সাংগঠনিক পরিবর্তন
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও পরিবর্তন এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর এসেছে।
ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিটি বিলুপ্তির পর তার দলীয় পদ এবং সংসদ সদস্য পদ নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে তাকে সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। পরে দুপুরেই তিনি জাতীয় সংসদে গিয়ে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।
সীমিত পরিসরে চলছে স্বাস্থ্যসেবা
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার চেষ্টা চলছে।
মিষ্টির পদত্যাগের পর এখন রাড্ডা সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় চলমান তদন্ত কোন পর্যায়ে যায়, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টিও সামনে রয়েছে।
রাজধানীর মিরপুরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় অভিযোগ ওঠার পর সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করেছেন।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। পরে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির টিনশেড ও সেমিপাকা স্থাপনাও গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। হামলার সময় স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বিভিন্ন সামগ্রী ও সরঞ্জাম লুটের অভিযোগও ওঠে।
রাড্ডা সেন্টারের ঘটনা ঘিরে বিএনপির সাংগঠনিক পর্যায়েও পরিবর্তন এসেছে। ৩০ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির ৫১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। একই সময়ে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের কমিটিও বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে জানা যায়। দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধেও সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার খবর এসেছে।
রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারটি দীর্ঘদিন ধরে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, টিকাদান ও পরিবার পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন সেবা দিয়ে আসছিল। হামলা, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার পরও সীমিত পরিসরে স্বাস্থ্যসেবা চালু রাখার চেষ্টা চলছে।
জাতীয়
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি উৎসব-২০২৬ অনুষ্ঠিত
মো: খাদেমুল ইসলাম, নিজস্ব সংবাদদাতা:
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘ভাষা প্রশিক্ষণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে দেশ-বিদেশের ছয় শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক, পাঠাগার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে ‘সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ভাষার দক্ষতা বিকাশে করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত পরিবেশনের আয়োজন ছিল। দেশ-বিদেশের কবি, সাহিত্যিক, চিন্তাবিদ, প্রকাশক, পাঠাগার প্রতিনিধি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও গবেষকেরা আলোচনায় অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খায়েম। উদ্বোধন করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কামরুল আহসান।
প্রধান আলোচক ছিলেন একুশে পদকপ্রাপ্ত ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. জসীম উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ আলোচক ছিলেন সিআরপির প্রতিষ্ঠাতা ও স্বাধীনতা পুরস্কারপ্রাপ্ত ভ্যালেরি অ্যান টেইলর।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইরান দূতাবাসের সাংস্কৃতিক উপদেষ্টা মাহদি মোলারি আরানি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কনফুসিয়াস ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. ইয়াং হুই, সাবেক সচিব ও কবি অ্যাডভোকেট গরিব নেওয়াজ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কল্যাণ ও পরামর্শ কেন্দ্রের পরিচালক অধ্যাপক মো. জামাল উদ্দিন রুন্ন এবং অন্যরা।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পার্বত্য চট্টগ্রাম ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের পরিচালক (উপসচিব) ড. অশোক কুমার বিশ্বাস। বিশেষ বক্তা ছিলেন নেপালের কাঠমান্ডুর ইউনিক প্রো কেয়ারের পরিচালক তিলক জং খদ্রা এবং আন্তর্জাতিক কবি, প্রাবন্ধিক, কথাসাহিত্যিক, মুক্তিযুদ্ধের লেখক ও গবেষক, অনুবাদক এবং সাহিত্য সংগঠক সৈয়দ মজহারুল পারভেজ।
অনুষ্ঠানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ইসলাম উদ্দিন, আনোয়ারুল হোসেন ফকির, আনোয়ার হোসেন ফকির, প্রিন্সিপাল তমিজ উদ্দিন, রিয়াজ মাহমুদ, রহমান রাজীব, মাহফুজ উল হক শুভ, আবদুল্লাহ আল মাহমুদ, শাহনাজ পারভিন বেবী, ছিদ্দিক আলী, অমর চন্দ্র মণ্ডল, ফজলুর রহমান বকুল, দেওয়ান মুকুল, মাহবুব আলম, সোহেল আমলিগোলা ও খোকন।
অনুষ্ঠানের সভাপতি ও ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন লেখক ও অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান। আয়োজক সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কবি শ্যামসুল হক বাবু এবং আয়োজক কমিটির সভাপতি বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক এম মিরাজ হোসেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কবি ও গীতিকার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারের বান্দরবান শাখার শিল্পী প্রকাশ চন্দ্র বড়ুয়া, আবৃত্তিশিল্পী ও বাংলাদেশ বেতারের উপস্থাপক-সংবাদ পাঠক জেবুন্নেসা মুনিয়া এবং বান্দরবানের প্রধান শিক্ষক জয়নাব।
অনুষ্ঠানে জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলা থেকে উপস্থিত ছিলেন শ্রদ্ধেয় মামা, শিক্ষক ও আমেরিকাপ্রবাসী মো. মাহমুদুল হক দুলাল, শিক্ষক ও কবি বিশ্বজিৎ কুমার দাস, সাবেক মহাব্যবস্থাপক আবদুল জলিল, বড় ভাই রাজু সরকার, ছোট ভাই ইমরান দেওয়ান এবং তমালিকা দাস।
আলোচনায় অতিথিরা বাংলা ভাষার পাশাপাশি চীনা ও ইরানি ভাষাকে তৃতীয় ভাষা হিসেবে শেখার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। আয়োজকদের মতে, ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির পারস্পরিক বিনিময়ের মাধ্যমে দেশ-বিদেশের কবি, লেখক ও সংস্কৃতিকর্মীদের মধ্যে যোগাযোগ ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই ছিল এ আয়োজনের অন্যতম উদ্দেশ্য।
রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ‘ভাষা প্রশিক্ষণ, সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক উৎসব-২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। আয়োজনে দেশ-বিদেশের ছয় শতাধিক কবি, সাহিত্যিক, প্রকাশক, পাঠাগার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন পেশার মানুষ অংশ নেন।
জাতীয়
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬ এ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়-মাভাবিপ্রবির ৬ উদ্ভাবনী প্রকল্প
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’—‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস-চ্যান্সেলরদের সঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে দেশের ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন স্টার্টআপ, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করছেন। মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া প্লেনারি সেশন, প্যারালাল সেশন ও গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় মাভাবিপ্রবির ছয় উদ্ভাবনী প্রকল্প
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের এসব প্রকল্পে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
মেলায় প্রদর্শিত মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্প হলো—
১. ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. শাহীন উদ্দীন।
২. প্রফেসর ডঃ একে ওবায়দুল হক ও তার ২ জন তরুণ গবেষকবৃন্দের উদ্ভাবিত বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রকল্প NutriCare Software for Dietary Management and Health Care Model. উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। মাননীয় উপাচার্য মহোদয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সফটওয়্যার মেলায় প্রথমবারের মতো উদ্বোধন এবং উন্মোচন করেন।
৩. ক) সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক।
খ) ডুমুরের (Ficus carica) অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নির্ণয়ে ইন সিলিকো স্ক্রিনিং এবং ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম।
৪. পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার।
৫. মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ
উপস্থাপক: অধ্যাপক আবীর হোসেন।
৬. স্মার্টফোন-সহায়িত ডিস্ট্রিবিউটেড নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
উপস্থাপক: আরিফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক।
মাভাবিপ্রবির প্রদর্শনীতে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও স্বাস্থ্য, পাটের আঁশের বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশেষ করে ‘পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ’প্রকল্পের মাধ্যমে পাটের আঁশকে আধুনিক, টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় উপকরণে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি’এবং ডুমুরভিত্তিক খাদ্যপণ্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ‘ড্রাইভ গার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে বুদ্ধিমান চালক সহায়তা প্রযুক্তি, মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণের সম্ভাবনা এবং স্মার্টফোন-সহায়িত মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত নোড ব্যবহার করে ইন্টারনেটবিহীন যোগাযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলার স্টলে মাভাবিপ্রবির গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারিক প্রয়োগ, সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণ এবং সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে দর্শনার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অবহিত করছেন।

ভাইস-চ্যান্সেলরের স্টল পরিদর্শন
মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
এ সময় মাভাবিপ্রবির শিক্ষক, গবেষক ও উদ্ভাবকরা তাঁদের গবেষণার বিভিন্ন দিক ভাইস-চ্যান্সেলরের কাছে তুলে ধরেন। মেলার স্টলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্ভাবন থেকে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্য
'Innovate to Market' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে শুধু নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্পের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ মাভাবিপ্রবির অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফলকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’—‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের এসব প্রকল্পে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
১. ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক।
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম।
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার।
উপস্থাপক: অধ্যাপক আবীর হোসেন।
উপস্থাপক: আরিফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক।

মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
'Innovate to Market' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে শুধু নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
জাতীয়
জাতিসংঘের ঘোষিত ছয় অগ্রাধিকার ও বিশ্ব বাস্তবতা; নেতৃত্বে বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান
-নিকোলাস বিশ্বাস
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এই সম্মানজনক পদে প্রত্যাবর্তন করল।
গত ২ জুনের নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী অ্যান্ড্রেয়াস এস. কাকুরিসকে পরাজিত করে ড. রহমান সভাপতির পদটি নিশ্চিত করেন। জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক সম্পূর্ণ অধিবেশনজুড়ে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।
এছাড়া, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ সভাও ড. রহমান সভাপতিত্ব করবেন, যা জাতিসংঘের বার্ষিক সূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একজন সভাপতি নির্বাচিত হন।
প্রতিবার নতুন সভাপতি একটি ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে আসেন। এই কর্মসূচিকে আলাদা করে তোলা মূল বিষয়বস্তু নয়; কারণ - শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বহুপাক্ষিকতার সংস্কার; এগুলো জাতিসংঘের পরিচিত শব্দভাণ্ডার। এই অধিবেশনের প্রকৃত প্রশ্ন এই নয় যে, ড. রহমান কী-কী অগ্রাধিকার দিতে চান, বরং প্রশ্নটি হলো - সাধারণ পরিষদ একটি বিশ্ব মঞ্চ বা বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদৌ কোন ক্ষমতা রাখে কিনা? জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতির ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো আগামী বারো মাসে কাঠামোগতভাবে অর্জনযোগ্য হবে কিনা তা নির্ভর করবে বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতি, বৈশ্বিক চাহিদা ও আচরণ, বিভিন্ন রাষ্ট্রবলয়ের ভূমিকা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ধরণ ও আন্তরিকতার উপর।
মূল সংকট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম অভূতপূর্ব বিশ্ব অস্থিরতা
বিশ্ব আজ তার যৌথ ইতিহাসের আরেকটি সংকটময় অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। সশস্ত্র সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মানবিক সংকট, জলবায়ু জরুরি অবস্থা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস এমন সব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে যা কোনো দেশের পক্ষেই একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এমন একটি নির্ধারণী মুহূর্তে, জাতিসংঘ আজও এমন একটি অন্যতম বিশ্বমঞ্চ যেখানে দেশগুলো একত্র হয়ে আলোচনা করতে এবং যৌথ সমাধান খুঁজতে পারে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। প্রধান আলোচনাকারী, নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিত্বকারী অঙ্গ হিসেবে সাধারণ পরিষদ ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে, যেখানে প্রতিটি দেশের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি জাতিসংঘের একমাত্র অঙ্গ যেখানে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদায় অংশগ্রহণ করে। এর দায়িত্বের পরিধি শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, মানবিক বিষয়াবলি, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং জাতিসংঘের বাজেট পর্যন্ত বিস্তৃত।
এই পটভূমিতে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ছয়টি মূল অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছেন:
১) শান্তি ও নিরাপত্তা; ২) টেকসই উন্নয়ন; ৩) জলবায়ু পদক্ষেপ; ৪) মানবাধিকার ও মানবিক বিষয়াবলি; ৫) প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI); ৬) বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন
যদিও এই অগ্রাধিকারগুলো আমাদের সময়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তাগুলোকে প্রতিফলিত করে, তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যায়: সাধারণ পরিষদ কি এসব অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারবে, নাকি বৈশ্বিক অস্থিরতা এই বাস্তবায়নকে থমকে দেবে? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে প্রতিটি অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করলে বাস্তবায়নের একটি পরিষ্কার পথরেখা পাওয়া যায়। ছয়টি অগ্রাধিকারের বিশ্লেষণ: অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়নে রূপান্তর:
১. শান্তি ও নিরাপত্তা: সংকটের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর জোর
শান্তি ও নিরাপত্তা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে, অথচ নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক ভেটো ক্ষমতার ব্যবহারে প্রায়শই আন্তর্জাতিক ঐক্যমত অচল হয়ে পড়ে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে রূপ দিতে সংঘাত ঘটার পর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আগাম সংঘাত প্রতিরোধ, দ্রুত মধ্যস্থতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। সাধারণ পরিষদের সম-অধিকারের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে - যেখানে কোনো একক দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই - জাতিসংঘ রাজনৈতিক সংলাপ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সংকট বড় আকারের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
২. টেকসই উন্নয়ন: বাস্তবায়নের ঘাটতি পূরণ
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অগ্রাধিকারকে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে পরিণত করতে হলে জাতিসংঘকে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সম্পদ প্রদানে জোর দিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; এটি বৈষম্য হ্রাস, বৈশ্বিক বাজারে সবার সমান প্রবেশাধিকার এবং কেবল অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন পরিমাপের দাবি রাখে।
৩. জলবায়ু পদক্ষেপ: দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়; চরম আবহাওয়া প্রতিনিয়ত বহু বছরের উন্নয়ন অগ্রগতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। জলবায়ু লক্ষ্যকে পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হলে কেবল নামমাত্র অঙ্গীকার থেকে বেরিয়ে এসে বাধ্যতামূলক জবাবদিহিতা, 'ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি' (Loss and Damage) তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষাকে যুক্ত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পদক্ষেপ একটি টিকে থাকার লড়াই। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সম্পদ হস্তান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সাধারণ পরিষদকে কাজ করতে হবে।
৪. মানবাধিকার ও মানবিক সাড়াদান: মানুষকে প্রাধান্য প্রদান
বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে, যা শরণার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। মানবাধিকার নীতিগুলোকে বাস্তব সুরক্ষায় রূপান্তর করতে মানবিক সহায়তাকে ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে মুক্ত করতে হবে। জাতিসংঘকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আন্তর্জাতিক আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় - কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়াই - যাতে সংঘাত যেখানেই ঘটুক না কেন মানবিক সহায়তা ও তহবিল সুরক্ষিত থাকে।
৫. প্রযুক্তি ও এআই শাসন: ডিজিটাল বৈষম্য প্রতিরোধ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে, তবে কয়েকটা ধনী দেশের হাতে প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হলে নতুন প্রযুক্তির জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এআই নীতি নির্ধারণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বৈশ্বিক বিভাজনের কারণ না বানিয়ে যৌথ অগ্রগতির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
৬. বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন: সাফল্যের মূল নিয়ামক
পূর্ববর্তী পাঁচটি অগ্রাধিকারের সফলতা সম্পূর্ণভাবে জাতিসংঘের নিজস্ব সংস্কার এবং ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করছে। যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অকার্যকর বা পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করে, তখন বহুপাক্ষিকতা ব্যর্থ হয়। এই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জোরালো কণ্ঠস্বর প্রদান করা প্রয়োজন। আস্থা পুনর্গঠন কেবল কোনো প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূল শর্ত।
বাস্তবায়নের ব্যবধান কমানোর উপায়
৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের এই ছয়টি অগ্রাধিকার বর্তমান বিশ্ব সংকট মোকাবিলার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করে। নিরাপত্তা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, উন্নয়ন জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ায়, জলবায়ু স্থায়িত্ব মানবিক সংকট কমায় এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি এই সবগুলোকে গতিশীল করে।
তবে কেবল ঘোষণাপত্র প্রকাশ বিশ্ব অস্থিরতা সমাধান করতে পারবে না। ৮১তম অধিবেশন তখনই এই ছয়টি অগ্রাধিকারকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারবে, যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাধারণ পরিষদের গণতান্ত্রিক মঞ্চকে - যেখানে প্রতিটি দেশের সমান ভোট রয়েছে - রাজনৈতিক ঐক্যমত তৈরি, আর্থিক সম্পদ সংস্থান এবং যৌথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করবে।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো বিশাল, তবে রাজনৈতিক মানসিকতা এবং বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিসংঘ এই ছয়টি অগ্রাধিকারকে একটি স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য বাস্তব সমাধানে রূপান্তর করতে পারে যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অতীত সাফল্য খুবই নগন্য।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এই সম্মানজনক পদে প্রত্যাবর্তন করল।
বিশ্ব আজ তার যৌথ ইতিহাসের আরেকটি সংকটময় অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। সশস্ত্র সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মানবিক সংকট, জলবায়ু জরুরি অবস্থা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস এমন সব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে যা কোনো দেশের পক্ষেই একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এমন একটি নির্ধারণী মুহূর্তে, জাতিসংঘ আজও এমন একটি অন্যতম বিশ্বমঞ্চ যেখানে দেশগুলো একত্র হয়ে আলোচনা করতে এবং যৌথ সমাধান খুঁজতে পারে।
১) শান্তি ও নিরাপত্তা; ২) টেকসই উন্নয়ন; ৩) জলবায়ু পদক্ষেপ; ৪) মানবাধিকার ও মানবিক বিষয়াবলি; ৫) প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI); ৬) বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন
যদিও এই অগ্রাধিকারগুলো আমাদের সময়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তাগুলোকে প্রতিফলিত করে, তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যায়: সাধারণ পরিষদ কি এসব অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারবে, নাকি বৈশ্বিক অস্থিরতা এই বাস্তবায়নকে থমকে দেবে? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে প্রতিটি অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করলে বাস্তবায়নের একটি পরিষ্কার পথরেখা পাওয়া যায়। ছয়টি অগ্রাধিকারের বিশ্লেষণ: অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়নে রূপান্তর:
শান্তি ও নিরাপত্তা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে, অথচ নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক ভেটো ক্ষমতার ব্যবহারে প্রায়শই আন্তর্জাতিক ঐক্যমত অচল হয়ে পড়ে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে রূপ দিতে সংঘাত ঘটার পর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আগাম সংঘাত প্রতিরোধ, দ্রুত মধ্যস্থতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। সাধারণ পরিষদের সম-অধিকারের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে - যেখানে কোনো একক দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই - জাতিসংঘ রাজনৈতিক সংলাপ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সংকট বড় আকারের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অগ্রাধিকারকে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে পরিণত করতে হলে জাতিসংঘকে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সম্পদ প্রদানে জোর দিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; এটি বৈষম্য হ্রাস, বৈশ্বিক বাজারে সবার সমান প্রবেশাধিকার এবং কেবল অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন পরিমাপের দাবি রাখে।
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়; চরম আবহাওয়া প্রতিনিয়ত বহু বছরের উন্নয়ন অগ্রগতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। জলবায়ু লক্ষ্যকে পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হলে কেবল নামমাত্র অঙ্গীকার থেকে বেরিয়ে এসে বাধ্যতামূলক জবাবদিহিতা, 'ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি' (Loss and Damage) তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষাকে যুক্ত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পদক্ষেপ একটি টিকে থাকার লড়াই। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সম্পদ হস্তান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সাধারণ পরিষদকে কাজ করতে হবে।
৪. মানবাধিকার ও মানবিক সাড়াদান: মানুষকে প্রাধান্য প্রদান
বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে, যা শরণার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। মানবাধিকার নীতিগুলোকে বাস্তব সুরক্ষায় রূপান্তর করতে মানবিক সহায়তাকে ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে মুক্ত করতে হবে। জাতিসংঘকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আন্তর্জাতিক আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় - কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়াই - যাতে সংঘাত যেখানেই ঘটুক না কেন মানবিক সহায়তা ও তহবিল সুরক্ষিত থাকে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে, তবে কয়েকটা ধনী দেশের হাতে প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হলে নতুন প্রযুক্তির জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এআই নীতি নির্ধারণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বৈশ্বিক বিভাজনের কারণ না বানিয়ে যৌথ অগ্রগতির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।
পূর্ববর্তী পাঁচটি অগ্রাধিকারের সফলতা সম্পূর্ণভাবে জাতিসংঘের নিজস্ব সংস্কার এবং ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করছে। যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অকার্যকর বা পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করে, তখন বহুপাক্ষিকতা ব্যর্থ হয়। এই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জোরালো কণ্ঠস্বর প্রদান করা প্রয়োজন। আস্থা পুনর্গঠন কেবল কোনো প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূল শর্ত।
৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের এই ছয়টি অগ্রাধিকার বর্তমান বিশ্ব সংকট মোকাবিলার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করে। নিরাপত্তা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, উন্নয়ন জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ায়, জলবায়ু স্থায়িত্ব মানবিক সংকট কমায় এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি এই সবগুলোকে গতিশীল করে।


























































