বুধবার ০১ এপ্রিল ২০২৬, ১৮ চৈত্র ১৪৩২

Logo
Add Image
Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইস্টার সানডেতে সরকারী ছুটির দাবীতে আজ (মঙ্গলবার ৩১ মার্চ,) সকাল ১১ ঘটিকায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও র্যা লী অনুষ্ঠিত হয়। 

 

এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মি. নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানবন্ধন ও র্যা লীতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের মহাসচিব মি. হেমন্ত আই কোড়াইয়া, আর্চ-বিশপ্স হাউজের পরিচালক ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা (ঢাকা ক্রেডিট) এর সেক্রেটারি মিসেস মঞ্জু মারীয়া পালমা, এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জোনাস গমেজ, যুগ্ম-মহাসচিব মি. জেমস সুব্রত হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মি. নিপুন সাংমা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মি. থিউফিল রোজারিও, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মি. টমাস রোজারিও, নির্বাহী সদস্য মি. ভিক্টর রে, বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা এড. প্রভাত টুডু, বিসিএ তেজগাঁও শাখার সহ-সভাপতি মি. গিলবার্ট গমেজ, ভাটার শাখার সেক্রেটারি মি. ডেভিড অসীম সরকার, মিরপুর শাখার সভাপতি মি. স্বপন চৌধুরী, দারুসালাম শাখার আহ্বায়ক মি. উজ্জল ফ্রান্সিস বিরেরু, গসপেল ফর দি ওয়ার্ল্ড চার্চের চেয়ারম্যান রেভা. আনন্দ রয়, ঢাকা ক্রেডিটের ডিরেক্টর মিসেস মনিকা গমেজ, মি. নিরাপদ হালদার, মি. সলোমন আই রোজারিও, ক্রেডিট কমিটির চেয়ারম্যান মিসেস উমা ম্যাগডেলিন গমেজ, সেক্রেটারি মি. মলয় নাথ, সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান মিসেস মারীয়া ডি’কুনা, সদস্য রাজকুমার মন্ডল, মি. জেফরী জর্জ কস্তা, দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: এর লোন কমিটির সদস্য মি. রনি ফ্রান্সিস গমেজ, অডিট কমিটির সদস্য মিসেস মায়া মনিকা গাঙ্গুলী, গাসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য সাংমা, বিসিএ যুব এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক মি. সাগর পান্ডে প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, ইস্টার সানডে সরকারী ছুটি এ দেশের খ্রিস্টান জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে এ দাবী সরকারের নিকট তুলে ধরা হয়েছে। পরিতাপের বিষয়, এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বক্তাগণ ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে এ বৎসর ৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করত: আগামী বৎসর থেকে সরকারী ছুটির তালিকায় তা সংযুক্তকরণের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

 

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট ইস্টার সানডেতে সরকারী ছুটি ঘোষণার একটি অুনরোধপত্র প্রদান করা হয়েছে।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট DonaldTrump। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনও সমঝোতা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালি যদি অবিলম্বে উন্মুক্ত না করা হয়, তাহলে ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ বোমা হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।

 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Kharg Island ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মাত্র কয়েক কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে রয়েছে বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, পাইপলাইন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা, যেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

 

ব্রিটিশ দৈনিক Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা খারগ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি—আমাদের সামনে অনেক বিকল্প খোলা আছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানে এখনও হাজারো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে সক্ষম।

 

এদিকে, Al Jazeera ও EuronewsEuronews–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে শুরু করে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে—যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 

Pic

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির সোমবার দুপুরে হাইকোর্টে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ।”

 

শিশির মনির আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে ৩০ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত হয়েছিলো। সেসব বিষয়েও বিএনপি মানতে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলে অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিল হলে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলও বাতিল হয়ে যাবে।”

 

‘সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে আগের ব্যবস্থায় ফিরতে চাচ্ছে সরকার। ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকলে আরেকটি নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুদক সংস্কার অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বিশের অধিক অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন চায় না সরকার।
 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ খ্রীষ্টান এসোসিয়েশনের উদ্যোগে ইস্টার সানডেতে সরকারী ছুটির দাবীতে আজ (মঙ্গলবার ৩১ মার্চ,) সকাল ১১ ঘটিকায়, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এক মানববন্ধন ও র্যা লী অনুষ্ঠিত হয়। 

 

এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মি. নির্মল রোজারিও’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ মানবন্ধন ও র্যা লীতে উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন এসোসিয়েশনের মহাসচিব মি. হেমন্ত আই কোড়াইয়া, আর্চ-বিশপ্স হাউজের পরিচালক ফাদার আলবার্ট টি. রোজারিও, দি খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লি:, ঢাকা (ঢাকা ক্রেডিট) এর সেক্রেটারি মিসেস মঞ্জু মারীয়া পালমা, এসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট বীর মুক্তিযোদ্ধা জোনাস গমেজ, যুগ্ম-মহাসচিব মি. জেমস সুব্রত হাজরা, সাংগঠনিক সম্পাদক মি. নিপুন সাংমা, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মি. থিউফিল রোজারিও, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মি. টমাস রোজারিও, নির্বাহী সদস্য মি. ভিক্টর রে, বিশিষ্ট আদিবাসী নেতা এড. প্রভাত টুডু, বিসিএ তেজগাঁও শাখার সহ-সভাপতি মি. গিলবার্ট গমেজ, ভাটার শাখার সেক্রেটারি মি. ডেভিড অসীম সরকার, মিরপুর শাখার সভাপতি মি. স্বপন চৌধুরী, দারুসালাম শাখার আহ্বায়ক মি. উজ্জল ফ্রান্সিস বিরেরু, গসপেল ফর দি ওয়ার্ল্ড চার্চের চেয়ারম্যান রেভা. আনন্দ রয়, ঢাকা ক্রেডিটের ডিরেক্টর মিসেস মনিকা গমেজ, মি. নিরাপদ হালদার, মি. সলোমন আই রোজারিও, ক্রেডিট কমিটির চেয়ারম্যান মিসেস উমা ম্যাগডেলিন গমেজ, সেক্রেটারি মি. মলয় নাথ, সুপারভাইজরি কমিটির চেয়ারম্যান মিসেস মারীয়া ডি’কুনা, সদস্য রাজকুমার মন্ডল, মি. জেফরী জর্জ কস্তা, দি মেট্রোপলিটান খ্রীষ্টান কো-অপারেটিভ হাউজিং সোসাইটি লি: এর লোন কমিটির সদস্য মি. রনি ফ্রান্সিস গমেজ, অডিট কমিটির সদস্য মিসেস মায়া মনিকা গাঙ্গুলী, গাসুর আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আদিত্য সাংমা, বিসিএ যুব এসোসিয়েশনের যুগ্ম-সম্পাদক মি. সাগর পান্ডে প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে বক্তাগণ বলেন, ইস্টার সানডে সরকারী ছুটি এ দেশের খ্রিস্টান জনগণের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবী। ইতোপূর্বে বিভিন্ন সময়ে এ দাবী সরকারের নিকট তুলে ধরা হয়েছে। পরিতাপের বিষয়, এ বিষয়টিকে বিবেচনায় নেয়া হয়নি। বক্তাগণ ‘ইস্টার সানডে’ উপলক্ষে এ বৎসর ৫ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দে নির্বাহী আদেশে ছুটি ঘোষণা করত: আগামী বৎসর থেকে সরকারী ছুটির তালিকায় তা সংযুক্তকরণের প্রয়োজনীয় নির্দেশ প্রদানের দাবী জানিয়েছেন।

 

এখানে উল্লেখ্য যে, গত ৩০ মার্চ, ২০২৬ খ্রীষ্টাব্দে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মহোদয়ের নিকট ইস্টার সানডেতে সরকারী ছুটি ঘোষণার একটি অুনরোধপত্র প্রদান করা হয়েছে।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রশ্নে নতুন করে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট DonaldTrump। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, তেহরান দ্রুত এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, তেলক্ষেত্র ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ খারগ দ্বীপে সামরিক হামলা চালানো হতে পারে।

 

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, আলোচনা প্রক্রিয়ায় অগ্রগতি হলেও দ্রুত কোনও সমঝোতা না হলে কঠোর সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তিনি লেখেন, হরমুজ প্রণালি যদি অবিলম্বে উন্মুক্ত না করা হয়, তাহলে ইরানের সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, তেলকূপ এবং খারগ দ্বীপ বোমা হামলায় ধ্বংস করে দেওয়া হতে পারে।

 

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ Kharg Island ইরানের তেল রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র। দেশটির মোট অপরিশোধিত তেল রপ্তানির প্রায় ৯০ শতাংশ এই দ্বীপের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। মাত্র কয়েক কিলোমিটার আয়তনের এই দ্বীপে রয়েছে বিশাল তেল সংরক্ষণ ট্যাংক, পাইপলাইন এবং গভীর সমুদ্রবন্দর সুবিধা, যেখান থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ ব্যারেল তেল আন্তর্জাতিক বাজারে পাঠানো হয়।

 

ব্রিটিশ দৈনিক Financial Times-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প আরও বলেন, প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র এই দ্বীপের নিয়ন্ত্রণও নিতে পারে। তার ভাষায়, “আমরা খারগ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি—আমাদের সামনে অনেক বিকল্প খোলা আছে।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, ইরানে এখনও হাজারো সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু রয়েছে, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে সক্ষম।

 

এদিকে, Al Jazeera ও EuronewsEuronews–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে তেহরান হরমুজ প্রণালিতে কার্যত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করলে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বাড়তে শুরু করে।

 

বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট। প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল এই পথ দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে এখানে সামান্য অস্থিরতাও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।

 

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা থাকলেও, অন্যদিকে সামরিক উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে—যা পুরো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
 

Pic

আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
এবার ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।

 

আজ ২৮ মার্চ, ২০২৬ শনিবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।

 

ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছে, আইডিএফ ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।

 

ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্রের ঘোষণার পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে হুথিরা সতর্ক করেছিল যে, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রবেশ করবে।

 

টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর (ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর হুথি অংশ) মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, অন্যান্য যেকোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিলে, লোহিত সাগরকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এবং যেকোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের শত্রুতামূলক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করা হলে, ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের আঙুল ট্রিগারে রাখা রয়েছে।

 

বিবৃতিতে বলা হয়ে, এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান, ফিলিস্তিন, ইরাক ও লেবাননের বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরায়েলি শত্রুদের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব দেবে।
 

Pic

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের হামলায় এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনারা এখন অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
 
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালায় ইরান।

 

তাদের দাবি, ঐ অঞ্চলে বহু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বারবারই ইরানের দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবে মার্কিন সেনা এবং বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ইরান। এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলা করেছে ইরান। অন্য দিকে, সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তারা যদি আমেরিকা এবং ইসরাইলকে সহযোগিতা করে, তা হলে তাদেরও রেহাই করা হবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
 
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরাক এবং আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সেনাঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল আমেরিকা। কিন্তু এই হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আটকানোর মতো পরিকাঠামো ছিল না ওই সেনাঘাঁটিগুলোতে।

 

এই পরিস্থিতির মধ্যেও পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা মোতায়েন করা জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহে এসে অঞ্চলটিতে মার্কিন উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরইমধ্যে বিমান হামলায় ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

 

বর্তমানে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মেরিন বাহিনী ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে।
 

Add

Site Counter

Online

72

Total

46k

Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ‘৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে মহা সড়কে সোনালু জারুল নিম চারার বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইলের সড়ক বিভাগ বুধবার (১ এপ্রিল, ২০২৬ সকালে টাঙ্গাইলের সড়ক বিভাগের উদ্যোগে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং সড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

 

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, দেশের বিভিন্ন সড়ক ও মহাসড়কের পাশে পরিকল্পিতভাবে গাছ লাগানো হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি এসব বৃক্ষ পথচারী ও যাত্রীদের জন্য ছায়া প্রদানেও সহায়ক হবে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের টাঙ্গাইল সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সিনথিয়া আজমেরী বলছেন, “সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিকল্পিতভাবে সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এটি পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে এবং যাত্রীদের জন্যও উপকারী হবে।” 

 

এ সময় সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থেকে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপণ করেন। এর মধ্যে আজকে সোনালু,জারুল ও নিম গাছের ৫ শতাধিক চারা রোপন করা হচ্ছে। 

 

পরিশেষে, বিভাগীয় বন কর্মকর্তা ড. আবু নাসের মোহসিন হোসেন আশা প্রকাশ করেন, ধারাবাহিকভাবে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি পরিবেশবান্ধব সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।
 


Pic

সাহাফ আল তাইফ, স্পোর্টস রিপোর্টার:
ফুটবল বিশ্বের দুই মহাতারকা Lionel Messi এবং Cristiano Ronaldo আবারও ইতিহাস গড়ার পথে এগিয়ে চলেছেন। তাদের দুজনেরই লক্ষ্য এখন এক অবিশ্বাস্য মাইলফলক—ক্যারিয়ারে ৯০০ গোল।

 

২০২৬ সালের শুরু পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ইতোমধ্যেই ৮৫০+ অফিসিয়াল গোল করে ফুটবল ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার আসনে অবস্থান করছেন। বর্তমানে Al-Nassr-এর হয়ে খেলা এই পর্তুগিজ তারকা এখনো দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন।

 

অন্যদিকে, লিওনেল মেসি ইতোমধ্যে ৮০০+ গোল পূর্ণ করেছেন। বর্তমানে Inter Miami CF-এর হয়ে খেলা এই আর্জেন্টাইন তারকা গোল করার পাশাপাশি প্লেমেকার হিসেবেও সমানভাবে অবদান রাখছেন।

 

যদিও এখনো কেউই ৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করতে পারেননি, তবে রোনালদো সেই লক্ষ্যের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। মেসির ক্ষেত্রেও এটি সম্ভব, তবে তা নির্ভর করছে তার ভবিষ্যৎ খেলার ধারাবাহিকতার ওপর।

 

একসময় যে ৯০০ গোল ছিল প্রায় অসম্ভব একটি লক্ষ্য, এখন সেটিই বাস্তবের খুব কাছাকাছি—যা সম্ভব হয়েছে এই দুই কিংবদন্তির দীর্ঘদিনের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, ফিটনেস এবং অসাধারণ দক্ষতার কারণে।
 

গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ: শিশির মনির

অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদের সদস্য ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার শিশির মনির সোমবার দুপুরে হাইকোর্টে জামায়াতের আইনজীবীদের সংবাদ সম্মেলনে বলেন, “গণভোট অধ্যাদেশের সাথে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই গণভোট বাতিল হলে আইনগত হুমকির মুখে পড়বে নির্বাচিত সংসদ।”

 

শিশির মনির আরও বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত জাতীয় ঐক্যমত কমিশনে ৩০ বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐক্যমত হয়েছিলো। সেসব বিষয়েও বিএনপি মানতে টালবাহানা করছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের আইন অনুযায়ী ঘোষিত তফসিলে অনুষ্ঠিত গণভোট বাতিল হলে সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলও বাতিল হয়ে যাবে।”

 

‘সংস্কার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে আগের ব্যবস্থায় ফিরতে চাচ্ছে সরকার। ক্ষমতার ভারসাম্য না থাকলে আরেকটি নতুন স্বৈরাচারের উত্থান ঘটবে’-উল্লেখ করেন তিনি।

 

এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, গুম প্রতিকার অধ্যাদেশ, দুদক সংস্কার অধ্যাদেশ, সুপ্রিমকোর্ট বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ বিশের অধিক অধ্যাদেশ বাস্তবায়ন চায় না সরকার।
 

সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান

অনলাইন ডেস্ক:
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। 

 

আজ ২৩ মার্চ, ২০২৬ সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।

 

তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। “এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।

 

ঈদযাত্রার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকের জন্যই ম্লান হয়ে গেছে।

 

সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও নানা অনিয়মের পরও জনগণ দেশের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না ফেরে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

 

বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পাওয়া সরকারি বাসভবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন না। বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে, বিশেষ করে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা হবে।

 

চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সরকার যদি এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

 

অনুষ্ঠানে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এলাকায় প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
 

বিএনপি’র দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

অনলাইন ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
 
আজ সোমবার ২৩ মার্চ, ২০২৬ বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব (রাজনৈতিক) আতিকুর রহমান।
 
তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম সচল রাখতে সহসভাপতি এসএম তাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
 
আতিকুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
 
তিনি আরও জানান, ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি এ পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭