ইয়েমেন থেকে এবারই প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে ইসরায়েলে
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
এবার ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।
আজ ২৮ মার্চ, ২০২৬ শনিবার এক প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যম বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী টেলিগ্রামে এক পোস্টে লিখেছে, আইডিএফ ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। এই হুমকি প্রতিহত করতে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে।
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠীর এক মুখপাত্রের ঘোষণার পরই এই হামলার ঘটনা ঘটল। এর আগে হুথিরা সতর্ক করেছিল যে, ইরানে হামলা অব্যাহত থাকলে তারাও মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধে প্রবেশ করবে।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর (ইয়েমেনের সামরিক বাহিনীর হুথি অংশ) মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, অন্যান্য যেকোনো দেশ ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধে যোগ দিলে, লোহিত সাগরকে ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান এবং যেকোনো মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের শত্রুতামূলক অভিযান চালানোর জন্য ব্যবহার করা হলে, ইরানের বিরুদ্ধে উত্তেজনা বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা থাকলে সরাসরি সামরিক হস্তক্ষেপের জন্য আমাদের আঙুল ট্রিগারে রাখা রয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়ে, এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরান, ফিলিস্তিন, ইরাক ও লেবাননের বিরুদ্ধে আমেরিকান ও ইসরায়েলি শত্রুদের অব্যাহত আগ্রাসনের জবাব দেবে।
এবার ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, তারা ইয়েমেন থেকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইয়েমেন থেকে ইসরায়েলে প্রথমবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলো।
আন্তর্জাতিক
টাঙ্গাইলে ট্রেন দূর্ঘটনায় নিহত ৫ জনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুরে দাফন করা হয়েছে
নিজস্ব প্রতিনিধি:
গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৫ জন নিহত হন। আজ শনিবার বিকেলে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তারা সবাই গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নীজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
নিহতদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, নিহত সবাই গত কয়েক বছর ধরে টাঙ্গাইল জেলার মির্জাপুর উপজেলার একটি গার্মেন্টস কারখানায় কাজ করতেন। সম্প্রতি তারা নিকটাত্মীয়দের সাথে ঈদ উৎসব উদ্যাপন করতে নিজ গ্রামে এসেছিলেন।
ঈদের ছুটি শেষে গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা ধাপেরহাট থেকে বনশ্রী পরিবহণের একটি ঢাকাগামী বাসে করে কর্মস্থলে ফিরছিলেন। বাসটি টাঙ্গাইল জেলার কালিহাতি উপজেলার ধলাটেঙ্গর এলাকায় পৌঁছালে জ্বালানি তেল শেষ হয়ে যায়। এসময় যাত্রীরা বাস থেকে নেমে পাশের একটি রেললাইনে বসে গল্পগুজব করতে থাকেন। একইসময় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাওয়ার পথে তাদের চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
নিহতরা হলেন জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নীজপাড়া গ্রামের আজিজার রহমানের পুত্র সুলতান মাহমুদ (২৮), আবদুর রশিদের কন্যা রিফা (২৪), হামিদুল ইসলামের স্ত্রী নার্গিস বেগম (৪২), তাদের ১২ বছর বয়সী পুত্র নীরব এবং তাদের আত্মীয় (বেয়াইন) দোলা বেগম।
আজ সকালে নিহতদের মরদেহ গ্রামে আনা হলে স্থানীয় ও আত্মীয়-স্বজনদের মধ্যে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্যের অবতারণা হয়। এরপর মরদেহগুলো নিহতদের পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ নিহতদের জানাজায় অংশ নেন।
গতকাল শুক্রবার টাঙ্গাইলের কালিহাতি উপজেলায় সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস ট্রেনের চাকায় পিষ্ট হয়ে ৫ জন নিহত হন। আজ শনিবার বিকেলে তাদের নিজ নিজ পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। তারা সবাই গাইবান্ধা জেলার সাদুল্লাপুর উপজেলার নীজপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।
আলোচিত খবর
জনপ্রত্যাশা ও ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার করা হবে: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী
এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
আজ ২৮ মার্চ, ২০২৬ শনিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে ৪৩ তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন।
সংবিধানে জিয়াউর রহমানের নাম স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "এ সমস্ত বিষয়ে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং সেখানে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা করা হবে। জুলাই জাতীয় সনদের ভিত্তিতে আমরা সব কিছুই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রণয়ন করবো। সেখানে বাংলাদেশের মানুষের বর্তমান সময়ের প্রত্যাশা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্বপ্নকে গুরুত্ব দেওয়া হবে।"
মন্ত্রী আরো জানান, রাজনৈতিক সমঝোতার দলিল হিসেবে 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এ স্বীকৃত বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দিয়ে সংবিধান সংশোধন কমিটি তাদের খসড়া প্রণয়ন করবে। পরবর্তীতে জাতীয় সংসদে বিধি মোতাবেক প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় পাঠের মাধ্যমে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
পরে ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের নবীন কর্মকর্তাদের মাঝে সনদপত্র প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, "আজ থেকে আপনাদের জীবনের এক নতুন অধ্যায় শুরু হলো। এই ইউনিফর্ম কেবল ক্ষমতার প্রতীক নয়—এটি দায়িত্ব, ত্যাগ এবং সেবার প্রতীক।" তিনি নবীন কর্মকর্তাদের সততা, সাহস ও মানবিকতার সাথে দেশসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী ৪৩তম বিসিএস (পুলিশ) ব্যাচের সদস্যদের সফলভাবে প্রশিক্ষণ সমাপ্তিতে আন্তরিক অভিনন্দন জানান এবং তাদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনের সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির এবং বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির প্রিন্সিপাল (অ্যাডিশনাল আইজিপি) জি এম আজিজুর রহমান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংস্কারের ক্ষেত্রে জনপ্রত্যাশা এবং ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের আকাঙ্ক্ষাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে স্বাক্ষরিত 'জুলাই জাতীয় সনদ'-এর ভিত্তিতে সমঝোতার মাধ্যমে যাবতীয় সংশোধনী প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।
জাতীয়
জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিশ্চিত ও অবৈধ মজুদ রুখতে ডিপোতে বিজিবি মোতায়েন
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের ৯ জেলায় ১৯ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম আজ শনিবার এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সংকট ও দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় অননুমোদিতভাবে জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হচ্ছে। জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, জ্বালানি তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ডিপোর নিরাপত্তা নিশ্চিতে বিজিবি সদর দপ্তরের তত্ত্বাবধানে মোতায়েন কার্যক্রম একটি সুপরিকল্পিত কাঠামোর আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। ইউনিট সদর থেকে দূরবর্তী স্থানে দায়িত্ব পালনের সুবিধার্থে নিরাপদ স্থানে অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্প স্থাপন করে বিজিবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছে।
গত ২৫ মার্চ সকাল থেকে ঢাকা জেলায় ১টি, কুড়িগ্রাম জেলায় ২টি, রংপুর জেলায় ৩টি, রাজশাহী জেলায় ৩টি, সিলেট জেলায় ২টি, মৌলভীবাজার জেলায় ৩টি, কুমিল্লা জেলায় ৩টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় ১টি এবং সুনামগঞ্জ জেলায় ১টি ডিপোসহ সর্বমোট ৯টি জেলায় ১৯টি ডিপোতে বিজিবি মোতায়ন করা হয়েছে।
মোতায়েনকৃত সদস্যরা অস্থায়ী বেইজ ক্যাম্পে একজন কর্মকর্তার নেতৃত্বে নিয়মিত তদারকি, প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নে দায়িত্ব পালন করছে।
জ্বালানি তেল মজুতের অপচেষ্টা প্রতিরোধ, তেল বিপণনে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে দেশের ৯ জেলায় ১৯ ডিপোতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
জাতীয়
২০১৩ সালে রানা প্লাজার ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও পদ্মার বাসডুবি থেকে রক্ষা পায়নি নাসিমা
অনালাইন নিউজ ডেস্ক:
নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। সেদিন ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন নাসিমা বেগম।
দুই স্বজনসহ নাসিমার (৪০) মৃত্যুতে তার গ্রামের বাড়িতে এখন বিরাজ করছে শোকের ছায়া।
তথ্যনুযায়, দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার ৪নং পলাশবাড়ী ইউনিয়নের মধ্য আটরাই গ্রামের মৃত নুর ইসলামের স্ত্রী নাসিমা বেগম। জীবিকার সন্ধানে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ঢাকার সাভারে ভাগনি আজমিরা খাতুনের বাড়িতে যান। তবে দীর্ঘ এক মাস চেষ্টার পরও কোনো চাকরি পাননি তিনি। পরে ঈদ উপলক্ষ্যে তিনি আজমিরার শ্বশুরবাড়ি ফরিদপুরে যান।
ঈদ শেষে গত ২৫ মার্চ বুধবার বিকেলে নাসিমা, তার অন্তঃসত্ত্বা ভাগনি আজমিরা খাতুন, ভাগনির স্বামী আব্দুল আজিজ আজাদ ও চার বছরের শিশু আব্দুর রহমান বাসযোগে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন। রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া ফেরিঘাট এলাকায় বাসটি পদ্মা নদীতে পড়ে যায়। এ দুর্ঘটনায় তারা সবাই ডুবে যান।
কিছুক্ষণ পর আব্দুল আজিজ জীবিত উদ্ধার হলেও প্রায় ছয় ঘণ্টা পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নাসিমাসহ বাকি তিনজনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এদিকে স্বজনরা অ্যাম্বুলেন্সে করে নিহতদের লাশ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা দিলে কুষ্টিয়া এলাকায় লাশবাহী গাড়িটি আবারও দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে তেমন গুরুতর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি বলে জানান নাসিমার চাচাতো ভাই জুলফিকার আলী ভুট্টু। গতকাল শুক্রবার জুমার পর পারিবারিক কবরে তাদের দাফন করা হয়েছে।
নাসিমা বেগম ২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফেরা একটি আলোচিত নাম। সেদিন ঘটনার তিন দিন পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধার হয়েছিলেন তিনি। ১২ বছর আগে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডি থেকে বেঁচে ফিরলেও গত ২৫ মার্চ দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মায় বাসডুবিতে প্রাণ হারালেন নাসিমা বেগম।
জাতীয়
৫ আগস্টের আগে-পরে পুলিশ হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে: রাজশাহীতে আইজিপি
রাজশাহী প্রতিনিধি:
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ সদস্য হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ হত্যার বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আইজিপি বলেন, শুধু পুলিশ বলছেন কেন? পুলিশসহ অনেক মানুষই মারা গেছে। আইন অনুযায়ী এসব বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, কথায় কথায় তরুণরা রাস্তায় নেমে অবরোধ করে এটি ঠিক নয়। এতে সবারই ক্ষতি হয়।
আইজিপি বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করাই পুলিশের প্রধান লক্ষ্য। বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা অত্যন্ত জরুরি, আর এ ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার ইতিহাসে একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন হয়েছে।
মাদকবিরোধী অবস্থান তুলে ধরে আইজিপি বলেন, দেশে মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক এবং এর বিরুদ্ধে পুলিশের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি রয়েছে। তরুণ সমাজকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন- রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি ড. মোহাম্মদ শাহজাহান এবং রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার ড. জিল্লুর রহমান।
পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির আজ শুক্রবার বিকেল সোয়া ৫টায় রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের সদর দপ্তরে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে এক প্রশ্নোত্তর পর্বে জানিয়েছেন, ৫ আগস্টের আগে ও পরে পুলিশ সদস্য হত্যাসহ সব হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জাতীয়
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন: ইরানের হামলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইরানের হামলায় এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনারা এখন অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, যে ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বলা হচ্ছে, তার মধ্যে কুয়েতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালায় ইরান।
তাদের দাবি, ঐ অঞ্চলে বহু মার্কিন সামরিক ঘাঁটি গুঁড়িয়ে দিয়েছে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন বারবারই ইরানের দাবি ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে। কাতার, বাহরাইন, সৌদি আরবে মার্কিন সেনা এবং বিমান ঘাঁটিতে ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। এর মধ্যে নিউ ইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। যদিও মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, কাতারের আল উদেইদ বিমান ঘাঁটিতে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের শক্তিশালী রাডার ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে ইরান। এই ঘাঁটিটি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ডের আঞ্চলিক সদর দপ্তর। এছাড়া বাহরাইনে মার্কিন সেনাবাহিনীর ফিফ্থ ফ্লিটের সদর দপ্তরেও হামলা করেছে ইরান। অন্য দিকে, সৌদি আরবে প্রিন্স সুলতান বিমান ঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়।
উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিকে ইরান আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিল, তারা যদি আমেরিকা এবং ইসরাইলকে সহযোগিতা করে, তা হলে তাদেরও রেহাই করা হবে না। মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সামরিক অভিযান অব্যাহত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরাক এবং আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সেনাঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল আমেরিকা। কিন্তু এই হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আটকানোর মতো পরিকাঠামো ছিল না ওই সেনাঘাঁটিগুলোতে।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও পশ্চিম এশিয়ায় আরও সেনা মোতায়েন করা জারি রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। আলজাজিরার এক বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরুর প্রায় চার সপ্তাহে এসে অঞ্চলটিতে মার্কিন উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এরইমধ্যে বিমান হামলায় ইরানের ৯ হাজারের বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।
বর্তমানে অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীর বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনসহ বিভিন্ন স্ট্রাইক গ্রুপ সক্রিয় রয়েছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে মেরিন বাহিনী ও প্যারাট্রুপার মোতায়েন করছে।
ইরানের হামলায় এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের ১৩টি সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস হয়ে গেছে। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে। ঘাঁটি ছেড়ে মার্কিন সেনারা এখন অস্থায়ী শিবিরে আশ্রয় নিচ্ছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, কুয়েতের পোর্ট শুয়াইবা, আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটি এবং বুয়েরিং সামরিক ঘাঁটি পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে। উল্লেখ্য, যুদ্ধের শুরু থেকেই উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে একের পর এক হামলা চালায় ইরান।
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরাক এবং আফগানিস্তানে যুদ্ধের সময় উপসাগরীয় অঞ্চলে এই সেনাঘাঁটিগুলো তৈরি করেছিল আমেরিকা। কিন্তু এই হামলা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, ইরানের অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আটকানোর মতো পরিকাঠামো ছিল না ওই সেনাঘাঁটিগুলোতে।
আন্তর্জাতিক
বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে’, স্বীকারোক্তি সেনাপ্রধানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ ভেঙে পড়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। সৈন্য সংকট ও স্পষ্ট কৌশলের অভাবকে তারা এর কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন।
বিরোধী নেতা ইয়ার লাপিদ টেলিভিশনে বলেছেন, ‘আইডিএফকে ব্যবহার সীমা ছাড়িয়ে গেছে। সরকার আহত সেনাদের যুদ্ধক্ষেত্রে ফেলে রাখছে।’ এক দিন আগে সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল এয়াল জামির নিরাপত্তা ক্যাবিনেটেও একই সতর্কতা দিয়েছেন বলে ইসরাইলি গণমাধ্যমে খবর এসেছে।
লাপিদ বলেছেন, ‘সরকার কোনো কৌশল ছাড়া, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ছাড়া এবং অপ্রতুল সংখ্যক সেনা নিয়ে সেনাবাহিনীকে বহুমুখী যুদ্ধে পাঠাচ্ছে।’ গণমাধ্যমে জামিরের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, তিনি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভাকে বলেছেন ‘ইসরাইলি সেনাবাহিনী ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে।’
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনে বিবৃতিতে সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এফি দেফ্রিন বললেন, বিভিন্ন সীমান্তে ‘আরও যুদ্ধ সৈনিক প্রয়োজন।’ বিশেষ করে লেবানন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘লেবানন সীমান্তে আমরা যে সামনের প্রতিরক্ষা বলয় তৈরি করছি তাতে অতিরিক্ত আইডিএফ বাহিনী লাগবে।’ পশ্চিম তীর, গাজা ও সিরিয়াতেও চাহিদা বেড়েছে বলে জানান তিনি।
লাপিদ জানিয়েছেন, জামির মন্ত্রিসভাকে বলেছেন সংরক্ষিত সৈনিকরা পঞ্চম ও ষষ্ঠ দফা রোটেশনে কাজ করছেন। লাপিদ বললেন, ‘এই সংরক্ষিত সেনারা ক্লান্ত ও বিপর্যস্ত এবং আর আমাদের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মেটাতে পারছেন না। সেনাবাহিনীর কাছে তার মিশন পূরণের জন্য যথেষ্ট সৈনিক নেই।’
লাপিদ আল্ট্রা-অর্থোডক্স হারেদি সম্প্রদায়কে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ১৯৪৮ সালে ইসরাইল প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
লাপিদ বলেন, ‘সরকারকে কাপুরুষতা বন্ধ করতে হবে। হারেদি সম্প্রদায়ে যারা ড্রাফট ফাঁকি দেবে, তাদের সব অর্থায়ন অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে, সেনা পুলিশ পাঠিয়ে পলায়নকারীদের ধরতে হবে এবং দ্বিধা ছাড়াই হারেদিদের সেনায় নিতে হবে।’
ইসরাইলের সামরিক নেতৃত্ব ও বিরোধী দলের রাজনীতিবিদরা সতর্ক করেছেন, বহুমুখী যুদ্ধের চাপে ইসরাইল ডিফেন্স ফোর্সেস বা আইডিএফ ভেঙে পড়ার কাছাকাছি চলে এসেছে। সৈন্য সংকট ও স্পষ্ট কৌশলের অভাবকে তারা এর কারণ হিসেবে দেখাচ্ছেন।
আন্তর্জাতিক
যুক্তরাষ্ট্রের ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবে আনুষ্ঠানিক জবাব দিল ইরান
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
ওই সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতেই মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ওয়াশিংটনের প্রস্তাবের জবাব পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। এখন যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধ বন্ধে ইরান একাধিক শর্ত সংযুক্ত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে— ‘গুপ্তহত্যা ও আগ্রাসন’ সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংঘাত যাতে পুনরায় না ঘটে, সে বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নিশ্চয়তা প্রদান। একইসঙ্গে যুদ্ধের ফলে হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য স্পষ্ট ও কার্যকর ক্ষতিপূরণও দাবি করেছে তেহরান।
এছাড়া ইরান শুধু নিজস্ব ফ্রন্ট নয়, বরং পুরো অঞ্চলে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। বিশেষ করে ইরানপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকেও এই প্রক্রিয়ার অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়েছে, যাতে সামগ্রিকভাবে সংঘাত নিরসন সম্ভব হয়।
সূত্রটি আরও জানায়, হরমুজ প্রণালির ওপর ইরানের সার্বভৌম নিয়ন্ত্রণকে ‘স্বাভাবিক ও আইনগত অধিকার’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিষয়টিও তেহরানের শর্তগুলোর অন্যতম। এ বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য অবস্থান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইরান।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে যুদ্ধ শুরুর আগে জেনেভায় অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান যে দাবিগুলো উত্থাপন করেছিল, বর্তমান প্রস্তাবের জবাবে সেগুলোকেও পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো সন্দিহান তেহরান। ইরানি সূত্রের দাবি, ওয়াশিংটনের আলোচনার আহ্বানকে তারা পুরোপুরি বিশ্বাসযোগ্য মনে করছে না। তাদের মতে, এটি এক ধরনের কৌশলগত পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র নিজেকে শান্তিকামী হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাচ্ছে এবং একই সঙ্গে দক্ষিণ ইরানে সম্ভাব্য স্থল অভিযানের জন্য সময় নিয়ে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার করছে।
সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে ইরানের এই আনুষ্ঠানিক জবাব নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা বাড়ালেও যুদ্ধ পরিস্থিতি কতটা দ্রুত প্রশমিত হবে, তা এখনো অনিশ্চিতই রয়ে গেছে।
চার সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলমান সংঘাতের অবসান ঘটাতে যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ১৫ দফার শান্তি প্রস্তাবের আনুষ্ঠানিক জবাব দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে অবগত একটি সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য জানিয়েছে।
আন্তর্জাতিক
ঈদকে ঘিরে সড়কে গত সাত দিনে মৃত্যু ২০৪, গড়মিল সরকারি হিসাবের সাথে
নিউজ ডেস্ক:
ঈদ উৎসবের আনন্দে ভরপুর থাকার কথা, অথচ ঈদের সময় সড়ক যেন বারবারই বিষাদের কারণ হয়ে ওঠে। এবারের ঈদেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সরকারি সংস্থা বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর তথ্য অনুযায়ী, ঈদের সাত দিনের (১৭-২৩ মার্চ) ছুটিতে সারাদেশে ৯২টি সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০০ জন এবং আহত হয়েছেন ২১৭ জন। তবে বেসরকারি সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন-এর প্রাথমিক হিসাবে একই সময়ে ২৬৮টি দুর্ঘটনায় অন্তত ২০৪ জন নিহত এবং ছয় শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।
সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানের এই বড় পার্থক্য তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি তথ্যে অনেক দুর্ঘটনাই অন্তর্ভুক্ত হয়নি। উদাহরণ হিসেবে কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে সংঘটিত ভয়াবহ বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত হওয়ার ঘটনাও বিআরটিএর হিসাবে নেই। এমনকি ২১ মার্চের ২৪ ঘণ্টার তালিকায় কুমিল্লার কোনো ঘটনাই উল্লেখ করা হয়নি।
ঈদের ছুটিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে দুর্ঘটনায় আহতদের চাপ ছিল চোখে পড়ার মতো। রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) ঈদের আগের রাত থেকে পরদিন বিকেল পর্যন্তই ১৫১ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। অন্যান্য হাসপাতালেও ছিল একই চিত্র।
অধিকাংশ আহত হয়েছেন মোটরসাইকেল, ব্যাটারিচালিত রিকশা ও ইজিবাইক দুর্ঘটনায়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ঈদযাত্রা সাধারণত ১৫ দিন ধরে বিবেচনা করা হয়- ঈদের আগে সাত দিন, ঈদের দিন এবং পরের সাত দিন। গত বছর এই সময়ে ৩১৫টি দুর্ঘটনায় ৩২২ জন নিহত হন। ২০২৪ সালে একই সময়ে ৩৭২টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ৪১৬ জন, যা ছিল এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এবারের ঈদযাত্রা শুরু হয় ১৭ মার্চ এবং ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটি শেষ হলেও এখনও অনেক প্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি কাটেনি।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ১৭ মার্চ ১২টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হন। পরদিন ১৮ মার্চ ১৮টি দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান ১৩ জন এবং আহত হন ৬২ জন। ১৯ মার্চ ১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ৮ জন, আহত ৭ জন। ২০ মার্চ ছয়টি দুর্ঘটনায় ৮ জনের মৃত্যু ও ৩৬ জন আহত হওয়ার ঘটনা ঘটে। ২১ মার্চ ১৭টি দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ২৫ জন আহত হন। ২২ মার্চ ১৯টি দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ ৩২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হন। আর ২৩ মার্চ ৯টি দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত এবং ১২ জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত যে তথ্য পাওয়া গেছে তা প্রাথমিক। ছুটি শেষে পূর্ণাঙ্গ তথ্য সংগ্রহ করা হলে প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। তার আশঙ্কা, এবারের ঈদযাত্রায় দুর্ঘটনায় মৃত্যুর নতুন রেকর্ড হতে পারে।
অন্যদিকে, যাত্রীকল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরার সময় দুর্ঘটনা বাড়ার প্রবণতা থাকে। কারণ, এ সময় সড়কে নজরদারি ও আইন প্রয়োগ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।
জাতীয়
সরকার দেশের জনগণের সঙ্গে ধোঁকাবাজি করছে: ডা. শফিকুর রহমান
অনলাইন ডেস্ক:
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
আজ ২৩ মার্চ, ২০২৬ সোমবার দুপুরে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ভাটেরা ইউনিয়নে নিজ এলাকায় ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়কালে সাংবাদিকদের কাছে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, সরকার অতিরিক্ত ভাড়া ফেরত দেওয়ার কথা বললেও বাস্তবে তা কার্যকর করা সম্ভব নয়। “এত মানুষ ঢাকা ছেড়েছে, তাদের টাকা কীভাবে ফেরত দেওয়া হবে?”—এমন প্রশ্ন তুলে তিনি বর্তমান ব্যবস্থাপনা নিয়ে সমালোচনা করেন।
ঈদযাত্রার সময়কার পরিস্থিতি তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, টিকিট সংগ্রহ করতে গিয়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। সর্বত্র ছিল বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি। এতে ঈদের আনন্দ অনেকের জন্যই ম্লান হয়ে গেছে।
সরকারকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, নির্বাচন শেষ হলেও নানা অনিয়মের পরও জনগণ দেশের স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে। তবে সরকার যদি সঠিক পথে না ফেরে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে পাওয়া সরকারি বাসভবন প্রসঙ্গে তিনি জানান, সেটি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করবেন না। বরং রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে, বিশেষ করে বিদেশি অতিথিদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য ব্যবহার করা হবে।
চাঁদাবাজি ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, সরকার যদি এসব বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইতিবাচক উদ্যোগে তারা সহযোগিতা করবে। তবে জনস্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ এবং প্রয়োজনে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
অনুষ্ঠানে জামায়াতের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। ঈদের ব্যস্ততার মাঝেও নিজ এলাকায় আসায় স্থানীয়দের মধ্যে আনন্দের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এলাকায় প্রবেশের আগে তিনি নিজ গ্রামের কবরস্থানে জিয়ারত করেন এবং পরে মোটরসাইকেল শোভাযাত্রার মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানানো হয়।
সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে বলে অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
রাজনীতি
বাংলাদেশের সামনে এক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে: মির্জা ফখরুল
অনলাইন ডেস্ক:
বিশ্বের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সামনে এক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ ২৩ মার্চ, ২০২৬ সোমবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নে ‘নেহা নদী’ পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, “আমাদের সামনে সময় খুব একটা ভালো না। যুদ্ধটা আমাদের অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করছে। এর ফলে সামনে তেলের দাম এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম আরও বেড়ে যেতে পারে। আমাদের এই কঠিন বাস্তবতা সয়ে নিয়েই সামনের দিকে এগোতে হবে।”
জ্বালানি সংকট ও জনরোষ প্রসঙ্গে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ কম হতে পারে, কিন্তু তাই বলে পেট্রোল পাম্প ভাঙচুর করা কোনোভাবেই সমীচীন নয়। আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া বা ‘মব কালচার’ আমরা কঠোর হস্তে দমন করব। গায়ের জোরে আইনের বাইরে কোনো কাজ করতে দেওয়া হবে না।”
ধর্মকে রাজনৈতিক ব্যবসায় ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “সৎ পথ ও হালাল রুজি ছাড়া আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন সম্ভব নয়। কিছু রাজনৈতিক দল মা-বোনদের বেহেশতে নেওয়ার কথা বলে ভুলিয়ে দেয়, এসব প্রলোভনে পা দেবেন না।” তিনি আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার কৃষি ঋণ মওকুফ ও ফ্যামিলি কার্ডের মতো জনকল্যাণমূলক কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় সারাদেশে ২০ হাজার খাল খননের মহাপরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। এছাড়াও জেলা প্রশাসক ইসরাত ফারজানা, পুলিশ সুপার বেলল হোসেনসহ জেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বিশ্বের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশের সামনে এক কঠিন সময় অপেক্ষা করছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
জাতীয়
বিএনপি’র দলীয় পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম
অনলাইন ডেস্ক:
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
আজ সোমবার ২৩ মার্চ, ২০২৬ বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব (রাজনৈতিক) আতিকুর রহমান।
তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম সচল রাখতে সহসভাপতি এসএম তাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আতিকুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি এ পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও দলীয় কার্যক্রমের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি পদ থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
আজ সোমবার ২৩ মার্চ, ২০২৬ বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সচিব (রাজনৈতিক) আতিকুর রহমান।
তিনি জানান, দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির কার্যক্রম সচল রাখতে সহসভাপতি এসএম তাজুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
আতিকুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দলীয় সাংগঠনিক কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সেই বিবেচনা থেকেই তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন। তার এই পদক্ষেপ দলীয় শৃঙ্খলা ও কার্যকারিতাকে অগ্রাধিকার দেওয়ার একটি সুস্পষ্ট বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, ক্ষমতার অবস্থানে থেকেও সংগঠনের স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে তাৎপর্যপূর্ণ। দলের প্রতি গভীর অনুরাগ থেকেই তিনি এ পদত্যাগ করেছেন বলে মনে করা হচ্ছে, যা একটি বিরল উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
রাজনীতি
জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে যেকোনো সময় বন্ধ হতে পারে দেশের পেট্রোল পাম্প
অনলাইন ডেস্ক:
জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সারাদেশের পেট্রোল পাম্পগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক। তেল কোম্পানিগুলো থেকে যে পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ করা হচ্ছে, তা দিয়ে ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে পাম্পগুলোতে দীর্ঘ লাইন তৈরি হচ্ছে এবং মোটরসাইকেল চালকদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অন্যদিকে, দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করতে গিয়ে কর্মচারীরাও শারীরিক ও মানসিক চাপে পড়ছেন।
সংগঠনটির দাবি, জ্বালানি বিপণনের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে। পাম্পগুলোতে তেল বিক্রির সময় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা না থাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে। ঈদের আগের দিন একটি পাম্পে ১০ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল ও সমপরিমাণ অকটেন এবং অন্য একটি পাম্পে প্রায় ৮ হাজার লিটার জ্বালানি মজুত থাকা সত্ত্বেও অতিরিক্ত চাপের কারণে অল্প সময়েই সব শেষ হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিকে তারা ‘লুটতরাজের মতো’ বলে উল্লেখ করেছে।
তারা অভিযোগ করে, কিছু মোটরসাইকেল চালক দিনে একাধিকবার তেল সংগ্রহ করে বাইরে বেশি দামে বিক্রি করছেন। আবার অনেকে আংশিক ভর্তি ট্যাংক নিয়েও বারবার তেল নিতে আসছেন। এতে প্রকৃত প্রয়োজনীয় গ্রাহকরা বঞ্চিত হচ্ছেন এবং পাম্পে অরাজকতা সৃষ্টি হচ্ছে।
এছাড়া গভীর রাতে সংঘবদ্ধভাবে পাম্পে গিয়ে জোর করে তেল নেওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। ঠাকুরগাঁওয়ের একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে বলা হয়, সেখানে জ্বালানি সরবরাহের সময় হামলা চালিয়ে পুরো মজুত শেষ করে দেওয়া হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পাম্প মালিকদের নিরাপত্তাহীনতা আরও বেড়েছে।
সংগঠনটি আরও জানায়, শুধু পাম্পেই নয়, ডিপো থেকে তেল পরিবহনের সময়ও ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। ট্যাংকার লুট হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এই অবস্থায় দ্রুত কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে তেল উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প থাকবে না বলে তারা সতর্ক করেছে।
এছাড়া ঈদের আগের দিন অনেক পাম্পে জরুরি সেবার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানিও সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে জোর করে পাম্প খুলে সেই জ্বালানি নিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। তাই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দৃশ্যমান ও জোরদার উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
জ্বালানি তেলের ঘাটতি ও নিরাপত্তাহীনতার কারণে দেশের পেট্রোল পাম্পগুলো যেকোনো সময় বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন। রোববার (২২ মার্চ) রাতে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই উদ্বেগ প্রকাশ করে সংগঠনটি।
জাতীয়
ট্রাম্পের হুমকির জবাবে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধের হুঁশিয়ারি ইরানের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
সম্প্রতি ট্রাম্প ৪৮ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এই সময়ের মধ্যে প্রণালী পুরোপুরি খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করে দেওয়া হবে। এর জবাবে রোববার ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইব্রাহিম যুলফাগারি বলেন, প্রণালী এখনো পুরোপুরি বন্ধ করা হয়নি, তবে তা তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
তিনি জানান, নির্দিষ্ট নিরাপত্তা শর্ত মেনে কিছু জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালালে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া এবং ইসরাইলের জ্বালানি ও অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করার হুমকিও রয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের যৌথ হামলার পর থেকেই ইরান প্রণালীর ওপর কড়া নিয়ন্ত্রণ আরোপ করেছে। তাদের অনুমতি ছাড়া কোনো জাহাজ চলাচল করতে পারছে না।
এই পরিস্থিতিতে বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম ইতোমধ্যে ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র একদিকে প্রণালী সচল রাখতে চাপ দিচ্ছে, অন্যদিকে ইরান জানিয়ে দিয়েছে—হামলা বন্ধ না হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল সংশ্লিষ্ট কোনো জাহাজ নিরাপদে চলাচল করতে পারবে না।
এদিকে কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ ও জাপান প্রণালীতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে সহায়তার আগ্রহ দেখালেও এখনো কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির জবাবে পাল্টা কঠোর বার্তা দিয়েছে ইরান। দেশটি জানিয়েছে, তাদের পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালানো হলে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে।
আন্তর্জাতিক
ভারতের আদালতে হাদি হত্যার দায় অস্বীকার মূল অভিযুক্ত আসামী ফয়সাল করিম মাসুদের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
১৪ দিনের পুলিশ রিমান্ড শেষে ২২ মার্চ, ২০২৬ রোববার উত্তর ২৪ পরগনা জেলার বিধাননগর মহকুমা আদালতে তোলার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “আমি এই কাজ করিনি। আমি এ ধরনের কোনো ঘটনার সাথে জড়িত ছিলাম না।”
এর আগে কড়া নিরাপত্তায় ফয়সাল ও অপর অভিযুক্ত আলমগীর হোসেনকে বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁদের আদালতে পেশ করা হয়। গত ৭ মার্চ বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী বনগাঁ এলাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের বিশেষ টাস্কফোর্স (এসটিএফ) তাঁদের গ্রেপ্তার করেছিল। এসটিএফ সূত্রের দাবি ছিল, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা হাদি হত্যার বিষয়টি স্বীকার করেছিলেন। তবে আদালতের দোরগোড়ায় এসে ফয়সালের এই ডিগবাজি মামলাটিতে নতুন মাত্রা যোগ করল।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ৩৭ বছর বয়সী ফয়সাল করিম মাসুদের বাড়ি বাংলাদেশের পটুয়াখালীতে এবং ৩৪ বছর বয়সী আলমগীরের বাড়ি ঢাকায়। তাঁরা গত কয়েক মাস ধরে মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপন করেছিলেন। তাঁদের অবৈধ অনুপ্রবেশে সহায়তার অভিযোগে গত ১৩ মার্চ ফিলিপ সাংমা নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়, যিনি বর্তমানে জেল হেফাজতে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পল্টন এলাকায় মোটরসাইকেল আরোহী হেলমেট পরিহিত আততায়ীরা ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে সিঙ্গাপুর নেওয়া হলে ১৮ ডিসেম্বর সেখানে তিনি শাহাদাত বরণ করেন।
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম অগ্রনায়ক শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন।
আলোচিত খবর
কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে নিহত ১২ জনেরই পরিচয় শনাক্ত, দুই গেটম্যান বরখাস্ত
অনলাইন নিউজ ডেস্ক:
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে মর্মান্তিক ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
আজ ২২ মার্চ, ২০২৬ রোববার দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নথিপত্র ও স্বজনদের সহায়তায় তাঁদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার দায়ে রেলক্রসিংয়ের দুই গেটম্যানকে তাৎক্ষণিক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নিহতদের মধ্যে একই পরিবারের সদস্য ও শিশুও রয়েছে। তাঁরা হলেন— ঝিনাইদহের মহেশপুরের লাইজু আক্তার (২৬) ও তাঁর দুই শিশু সন্তান খাদিজা (৬) ও মরিয়ম (৪); যশোরের চৌগাছার সিরাজুল ইসলাম (৬২) ও তাঁর স্ত্রী কোহিনূর বেগম (৫৫); নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর মো. বাবুল চৌধুরী (৫৩) ও সুধারামের নজরুল ইসলাম রায়হান (৩৩); লক্ষ্মীপুর সদরের শিশু সায়েদা (৯); ঝিনাইদহ সদরের জোয়াদ বিশ্বাস (২০); মাগুরার ফচিয়ার রহমান (২৬); চুয়াডাঙ্গার সোহেল রানা (৪৬) এবং চাঁদপুরের কচুয়ার তাজুল ইসলাম (৬৮)।
শনিবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী মেইল ট্রেনটি ‘মামুন পরিবহন’-এর একটি বাসকে ধাক্কা দিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার ঠেলে নিয়ে গেলে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যা বের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় উদ্ধার অভিযান চলে। আখাউড়া থেকে রিলিফ ট্রেন এসে দুর্ঘটনাকবলিত বাস ও ইঞ্জিন সরিয়ে নেওয়ার পর সকাল ৮টার দিকে চট্টগ্রামের সঙ্গে সারাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক হয়।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক মু. রেজা হাসান জানিয়েছেন, নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে মরদেহ দাফন ও জরুরি প্রয়োজনে তাৎক্ষণিক ২৫ হাজার টাকা করে নগদ অর্থ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ে ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে গেটম্যানদের অনুপস্থিতি বা সিগন্যাল জটিলতাকে এই প্রাণহানির প্রধান কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
কুমিল্লার পদুয়ার বাজার রেলক্রসিংয়ে মর্মান্তিক ট্রেন-বাস দুর্ঘটনায় প্রাণ হারানো ১২ জনেরই পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে।
জাতীয়
ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়ে পাশে থাকার বার্তা দিলেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন
অনলাইন ডেস্ক:
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এই বার্তা দেন।
পুতিন তার বার্তায় বলেন, কঠিন এই সময়ে রাশিয়া ইরানের নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অংশীদার হিসেবেই পাশে থাকবে।
তবে এই কূটনৈতিক সমর্থনের বাইরে বাস্তবে রাশিয়া কতটা সহায়তা করছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। কিছু ইরানি সূত্রের দাবি, সাম্প্রতিক সংকটে প্রত্যাশিত সহায়তা মস্কোর পক্ষ থেকে মিলছে না।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে এমন খবরও এসেছে যে, রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রকে একটি প্রস্তাব দিয়েছিল-যুক্তরাষ্ট্র যদি ইউক্রেনকে গোয়েন্দা সহায়তা বন্ধ করে, তবে রাশিয়াও ইরানকে তথ্য দেওয়া থেকে বিরত থাকবে। যদিও ক্রেমলিন এই দাবিকে অস্বীকার করেছে।
রাশিয়ার মতে, ইরান-ইসরায়েল সংঘাত পুরো মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং এর প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারেও পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতিতে তেলের দাম বাড়ায় কিছুটা সুবিধাও পাচ্ছে মস্কো।
একই সঙ্গে রাশিয়া ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হলেও দেশটি চায় না তেহরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করুক। মস্কোর আশঙ্কা, এমনটি হলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পরমাণু অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে রাশিয়া। দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন নওরোজ উপলক্ষে পাঠানো শুভেচ্ছা বার্তায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মুজতবা খামেনি ও প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানকে এই বার্তা দেন।
আন্তর্জাতিক
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের জামাত সম্পন্ন: দেশ ও জাতির সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত
অনলাইন ডেস্ক:
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর্যায়ক্রমিক জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
আজ ২১ মার্চ, ২০২৬ শনিবার সকাল ৭টায় প্রথম জামাতের পর সকাল ৮টায় দ্বিতীয় জামাত সম্পন্ন হয়েছে। এই জামাতে ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি মুহিব্বুল্লাহিল বাকি নদভী।
দ্বিতীয় জামাত শেষে এক আবেগঘন মোনাজাতে কয়েক হাজার ধর্মপ্রাণ মুসল্লি অংশ নেন। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই দোয়ায় মহান আল্লাহর দরবারে বিগত এক মাসের সিয়াম সাধনা ও ইবাদত কবুলের জন্য আর্তি জানানো হয়। মোনাজাতে দেশ ও জাতির ওপর থেকে যাবতীয় বালা-মুসিবত দূর করা এবং বাংলাদেশের সুখ, শান্তি ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনা করা হয়। এছাড়া বিশ্বজুড়ে নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও হেদায়েতের জন্য বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
মোনাজাতের সময় অনেক মুসল্লিকে অশ্রুসিক্ত নয়নে নিজের গুনাহের মাফ চাইতে এবং প্রয়াত আত্মীয়-স্বজনের জান্নাত কামনায় প্রার্থনা করতে দেখা গেছে। এর আগে সকাল ৭টায় জাতীয় মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম মাওলানা মিজানুর রহমানের ইমামতিতে ঈদের প্রথম জামাতটি অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিটি জামাতেই মুসল্লিদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা গেছে।
ইসলামিক ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, বায়তুল মোকাররমে আজ মোট পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সকাল ৯টায় তৃতীয় জামাতে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উপ-পরিচালক মাওলানা মো. জাকির হোসেন এবং সকাল ১০টায় চতুর্থ জামাতে মাওলানা যোবায়ের আহমেদ আল আযহারী ইমামতি করবেন। সবশেষ পঞ্চম জামাতটি সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহর ইমামতিতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে বিকল্প ইমাম হিসেবে মাওলানা শহীদুল ইসলামকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
শান্তিপূর্ণভাবে নামাজ আদায় নিশ্চিত করতে বায়তুল মোকাররম এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে কঠোর নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে পবিত্র ঈদুল ফিতরের পর্যায়ক্রমিক জামাতগুলো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জাতীয়


























































