মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২

Logo
Add Image
Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়। রিটকারী জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হতে পারে।

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দেশজুড়ে আয়োজিত ভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ফল ঘোষণা করেন। পরে গেজেটও প্রকাশ করা হয়।

 

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯। ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।

 

রিটে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও সংবিধানে গণভোট আয়োজনের বিধান নেই। “এই গণভোট আয়োজন পুরোপুরি সংবিধান পরিপন্থী”, এমন দাবি তুলে ফল বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণায় অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

 

রিটকারী আইনজীবী তৌহিদ বলেন, “জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকলে তার ফলও বৈধ হতে পারে না।” রিটে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

 

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৬ (৩) ধারা অনুযায়ী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

 

এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‌‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। 

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এই হুঁশিয়ারি এসেছে।

 

এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

 

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’

 

নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; পা, হাত, মুখও হারিয়েছে মানুষ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছি।

 

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং ইরানি জনগণের প্রতি সরকারের দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন ইস্যুেক পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  

 

ট্রাম্প বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

 

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনাতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’। তিনি বলেন, যদি হামলা চালানো হয়, তাহলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে। কিন্তু ইরানের হাতে যা বাকি আছে, তার সবটুকুই ধ্বংস করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। তবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নতুন ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হলো জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি মোতায়েন করা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানেও অংশ নেয় এই রণতরী। বর্তমানে এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

 

শুক্রবার সকালের দিকে ট্রাম্প বলেছেন, যদি চুক্তি না হয়, তখন আমাদের এটি প্রয়োজন...। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা  বলেছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।
সূত্র: রয়টার্স।

 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। তবে চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের দুজনের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। শপথ অনুষ্ঠানেও তারা আমন্ত্রণ পাননি।


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারে। ফলে যেসব প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সেই স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তাদের এমপি পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অবশ্য পুনঃতপশিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিত করলে বা আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালে সাময়িকভাবে তারা স্বস্তিতে থাকবেন।


মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো নির্বাচন কমিশনে দুটি তালিকা পাঠায়। একটিতে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যটিতে ৩১ জনের নাম ছিল, যারা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছিলেন। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে আরও ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।


এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর তপশিল ঘোষণার আগে বলেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও সিআইবিতে খেলাপি দেখানো হবে। তবে আইন পরিবর্তন না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগস্টে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের শনাক্ত করা।” কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।”


সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থিতা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আদালত কি তাহলে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ারই যোগ্য নয়, তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন?” তার মতে, এতে জয় পরাজয়ের সমীকরণ বদলে গেছে।


চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।


চট্টগ্রাম ৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তার ক্ষেত্রেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাকে বলেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”


এ ছাড়া চট্টগ্রাম ৬, কুমিল্লা ১০, কুমিল্লা ৯, বগুড়া ১, বগুড়া ৫, টাঙ্গাইল ৪, ময়মনসিংহ ৫, মৌলভীবাজার ৪ ও সিলেট ১ আসনের নির্বাচিতদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। অথচ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের অনেক সময় জেলে যেতে দেখা যায়। আর প্রভাবশালীরা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।”


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন করা একটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা প্রয়োজন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিজয় এবং আইনি অনিশ্চয়তা মিলিয়ে নতুন সংসদের শুরুতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও প্রশ্নের আবহ।

 

Pic

অনলাইন ডেস্ক:
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটারদের ওপর টাকার প্রভাব রোধ করতে মোবাইল ব্যাংকিং (MFS) ও ইন্টারনেট ব্যাংকিং লেনদেনে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ব্যাংক। 

 

প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী ৮ থেকে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিকাশ, রকেট ও নগদের মতো সেবাগুলোতে দিনে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা লেনদেন করা যাবে। একই সময়ে ইন্টারনেট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির অ্যাকাউন্টে (P2P) টাকা স্থানান্তর সেবা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হবে। 

 

বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে এই পরিকল্পনা করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহের মধ্যেই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি হতে পারে। 

 

বর্তমানে মোবাইল ব্যাংকিং গ্রাহকরা দিনে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত লেনদেন করতে পারলেও নির্বাচনের সময় এই সীমা কমিয়ে ১০ হাজার টাকা করা হচ্ছে। প্রতিটি একক লেনদেনের সর্বোচ্চ সীমা হবে এক হাজার টাকা। এক দিনে একজন গ্রাহক সর্বোচ্চ ১০ বার লেনদেন করতে পারবেন। এই বিধিনিষেধ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হয়ে ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

 

ইন্টারনেট ব্যাংকিং ব্যবহার করে এখন দিনে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেন করা যায়। তবে বিএফআইইউ-এর প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্বাচনের ওই কয়েক দিন ব্যক্তি থেকে ব্যক্তি (Person to Person) ফান্ড ট্রান্সফার সুবিধা পুরোপুরি বন্ধ থাকতে পারে। এর ফলে অ্যাপস বা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অন্য কাউকে টাকা পাঠানো সম্ভব হবে না। 

 

লেনদেন সীমিত করার পাশাপাশি নগদ টাকা উত্তোলনের ওপর নজরদারি আগে থেকেই জোরদার করা হয়েছে। কোনো ব্যাংক হিসেবে এক দিনে ১০ লাখ টাকা বা তার বেশি জমা বা উত্তোলন করা হলে সেই তথ্য বিএফআইইউ-কে সাপ্তাহিক ভিত্তিতে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যথাযথ তথ্য প্রদানে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান জানান, নির্বাচন কমিশনের অনুরোধে অর্থ লেনদেন সীমিত করার প্রক্রিয়া চলছে। নির্বাচনের পবিত্রতা রক্ষা এবং টাকার অপব্যবহার রোধে এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। তবে প্রজ্ঞাপন জারির সময় লেনদেনের এই পরিমাণ কিছুটা কমবেশি হতে পারে।
 

আলোচিত খবর

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত গণভোটের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং ১৩ ফেব্রুয়ারি ঘোষিত ফল বাতিলের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এ বি এম আতাউল মজিদ তৌহিদ জনস্বার্থে এই রিট করেন। রিটে প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ও আইন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে বিবাদী করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিটটি দাখিল করা হয়। রিটকারী জানান, আগামী সপ্তাহে বিচারপতি ফাতেমা নজীবের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটির শুনানি হতে পারে।

 

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই গণভোটে পরিবর্তনের পক্ষে অর্থাৎ ‘হ্যাঁ’ জয়ী হয়েছে। দেশজুড়ে আয়োজিত ভোটে মোট প্রদত্ত ভোটের হার ছিল ৬০ দশমিক ২৬ শতাংশ। ১৩ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন ভবনে এক ব্রিফিংয়ে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ ফল ঘোষণা করেন। পরে গেজেটও প্রকাশ করা হয়।

 

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯। ‘না’ ভোট পড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার ৬২৭। বাতিল ভোটের সংখ্যা ৭৪ লাখ ২২ হাজার ৬৩৭। মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।

 

রিটে বলা হয়েছে, প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা সংবিধান রক্ষার শপথ নিলেও সংবিধানে গণভোট আয়োজনের বিধান নেই। “এই গণভোট আয়োজন পুরোপুরি সংবিধান পরিপন্থী”, এমন দাবি তুলে ফল বাতিলের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভোটগ্রহণ ও ফল ঘোষণায় অনিয়ম ও বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগও আনা হয়েছে।

 

রিটকারী আইনজীবী তৌহিদ বলেন, “জনগণের সুষ্ঠু ও ন্যায্য গণভোটের অধিকার সুরক্ষার স্বার্থেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “প্রক্রিয়ায় অনিয়ম থাকলে তার ফলও বৈধ হতে পারে না।” রিটে নির্বাচন কমিশনকে এ বিষয়ে রিপোর্ট দিতে এবং প্রক্রিয়াগত ত্রুটি পুনর্মূল্যায়নের নির্দেশ দেওয়ার আবেদন জানানো হয়েছে।

 

ইসির বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ১৬ (৩) ধারা অনুযায়ী ফলাফল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ ও সংবিধান সংস্কারের লক্ষ্যে আয়োজিত এই গণভোটে বিপুল সমর্থন পাওয়ার কথাও উল্লেখ করা হয়।

 

এখন হাইকোর্টের সিদ্ধান্তের দিকেই তাকিয়ে আছে সংশ্লিষ্ট মহল।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বললেন, মধ্যপ্রাচ্যে শিগগিরই ‌‘‘অসাধারণ ক্ষমতা’’ দেখা যাবে। 

 

ওয়াশিংটন ও তেহরানের দীর্ঘদিনের পারমাণবিক বিতর্ক নিয়ে কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টার মাঝেই ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের এই হুঁশিয়ারি এসেছে।

 

এই বিষয়ে অবগত একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, মঙ্গলবার জেনেভায় ইরানের সঙ্গে এক বৈঠকে বসবেন মার্কিন কূটনীতিক স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। ওই বৈঠকে ওমানের প্রতিনিধি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। একই দিনে ইউক্রেনে যুদ্ধের অবসানের লক্ষ্যে রাশিয়া ও ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও বৈঠক করবেন মার্কিন প্রতিনিধিরা।

 

ইরানে শাসন পরিবর্তন চান কি না, সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেছেন, মনে হচ্ছে, এটাই সবচেয়ে ভালো বিষয়; যা ঘটতে পারে। তবে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দেশটি কারা নিয়ন্ত্রণ করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ‘‘লোকজন আছে।’’

 

নর্থ ক্যারোলিনায় সামরিক এক অনুষ্ঠানের পর ট্রাম্প বলেন, ৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলছে। এসময় আমরা অনেক জীবন হারিয়েছি; পা, হাত, মুখও হারিয়েছে মানুষ। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এগোচ্ছি।

 

ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সহায়তা বন্ধ এবং ইরানি জনগণের প্রতি সরকারের দমন-পীড়নের মতো বিভিন্ন ইস্যুেক পারমাণবিক আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করতে চায় ওয়াশিংটন। ইরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে পারমাণবিক কর্মসূচিতে লাগাম টানার বিষয়ে আলোচনার জন্য প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে। তবে তেহরান ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচিকে আলোচনায় যুক্ত করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।  

 

ট্রাম্প বলেছেন, যদি কোনও চুক্তি না হয়, তাহলে তিনি ইরানের ওপর হামলা চালাতে পারেন। তেহরানও পাল্টা হামলার হুমকি দেওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের যুদ্ধের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ইরানের পারমাণবিক স্থাপনার ওপর একযোগে হামলা চালিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল।

 

মার্কিন এই প্রেসিডেন্ট বলেছেন, পারমাণবিক স্থাপনাতে এখন যা বাকি আছে তা কেবল ‘‘ধুলোবালু’’। তিনি বলেন, যদি হামলা চালানো হয়, তাহলে এটি মিশনের সবচেয়ে ছোট অংশ হবে। কিন্তু ইরানের হাতে যা বাকি আছে, তার সবটুকুই ধ্বংস করা হবে।

 

যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা বলেছেন, সামরিক বাহিনী সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জটিল। তবে বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর. ফোর্ড মধ্যপ্রাচ্যে আব্রাহাম লিনকন ক্যারিয়ারের সঙ্গে যুক্ত হবে। এর সঙ্গে থাকবে বিভিন্ন ধরনের গাইডেড মিসাইল ডেস্ট্রয়ার, যুদ্ধবিমান ও নজরদারি বিমান। জেরাল্ড আর. ফোর্ড সম্প্রতি ওই অঞ্চলে মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।

 

যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে নতুন ও বিশ্বের সর্ববৃহৎ এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার হলো জেরাল্ড আর. ফোর্ড। ক্যারিবীয় অঞ্চলে এটি মোতায়েন করা ছিল। এছাড়া চলতি বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক অভিযানেও অংশ নেয় এই রণতরী। বর্তমানে এই রণতরী মধ্যপ্রাচ্যের পথে রয়েছে।

 

শুক্রবার সকালের দিকে ট্রাম্প বলেছেন, যদি চুক্তি না হয়, তখন আমাদের এটি প্রয়োজন...। দরকার হলে আমরা প্রস্তুত রাখব। নাম প্রকাশ না করার শর্তে মার্কিন এক কর্মকর্তা  বলেছেন, এই ক্যারিয়ারটি মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছাতে অন্তত এক সপ্তাহ লাগবে।
সূত্র: রয়টার্স।

 

Pic

-আশরাফুর রহমান
লিবিয়ার সাবেক নেতা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পুত্র সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি নিহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গেছে। গাদ্দাফি পরিবারের একটি সূত্র স্থানীয় গণমাধ্যমকে তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

 

লিবিয়ার আল-আহরার টিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে হামাদাহ এলাকায় সাইফ আল-ইসলামকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, তিনি ড্রোন (UAV) হামলা অথবা অজ্ঞাত বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত হতে পারেন। তবে এখনো হামলার ধরন ও হামলাকারীদের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

 

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে পূর্ব লিবিয়ার প্রভাবশালী সামরিক নেতা খলিফা হাফতারের পুত্র সাদ্দাম হাফতারের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

খবরে আরও বলা হয়, নিহতদের মরদেহ নাফুসা পর্বতমালার রুজবান এলাকায় পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি লিবিয়ার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং সম্ভাব্য ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

এ ঘটনায় লিবিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করতে তদন্ত শুরু হয়েছে।
 

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
একটি দীর্ঘ শ্বাস, একটি অর্ধেক জীবন "Lost in Sweet Dreams" শুধু একটি কাব্যগ্রন্থ নয়; এটি এক বিচ্ছিন্ন-বিচূর্ণ হৃদয়ের মানচিত্র, এক প্রবাসী কবির আত্মাবিশ্লেষণের দিনলিপি। আকবর হায়দার কিরণ এখানে শব্দ দিয়ে আঁকেন স্মৃতির আলপনা, যেখানে নিউইয়র্কের সাবওয়ে এবং ঢাকার রমনা একাকার হয়ে যায়, প্রেমের জ্বালা এবং প্রবাসের যন্ত্রণা হয়ে ওঠে একই স্বাদের কফির কাপ।

 

কেন এই বই বিশেষ?

১. দ্বৈত স্বদেশের কবিতা: এই বইয়ের কবিতাগুলো একইসাথে বাংলাদেশ এবং আমেরিকায় বাস করে। "জ্যাকসন হাইটস" শুধু একটি স্থান নয়, এটি প্রবাসী বাংলাদেশের মানসিক রাজধানী। অপরদিকে "বর্ডাইনের সবুজ ধানখেত" বা "আগারগাঁওয়ের রিকশা" অনবরত ফিরে আসে স্মৃতির পাতায়। এই দ্বন্দ্বই বইটির প্রাণ।  

 

২. সময় ও স্মৃতির দর্শন: কিরণের লেখায় সময় রৈখিক নয়, এটি চক্রাকারে ঘোরে। ১৯৯৫ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত লেখা কবিতাগুলো একটি কোলাজের মতো সাজানো, যেখানে প্রেম, বিচ্ছেদ, পরিবর্তন এবং প্রত্যাবর্তনের একই অনুভূতি বারবার ফিরে আসে। "People Change" বা "All Become Memories" শিরোনামই বলে দেয়—স্মৃতি কখনো মরে না, শুধু রূপ বদলায়।  

৩. প্রেমের শরীরতত্ত্ব: এই বইয়ের প্রেম শুধু আবেগ নয়, একটি শারীরিক উপস্থিতি। এটি "সেভেন ট্রেনে" প্রথম চুম্বনের স্পর্শ, "অ্যাটলান্টিক সৈকতে" নাম লেখা হাতের লেখা, কিংবা "ফোন কলের" কানে কানে কথা। প্রেম এখানে একটি দেশান্তরী অনুভব, যা দেহ ছেড়ে যায় না।  

৪. ভাষার দ্বৈততা ও সাংস্কৃতিক সংমিশ্রণ: ইংরেজি কবিতার ভিতরে বাংলা শব্দের স্বতঃস্ফূর্ত আগমন ("লুঙ্গি", "বিডি", "মেঘনা ফেরি") বইটিকে একটি সাংস্কৃতিক হাইব্রিড করে তুলেছে। এটি শুধু অনুবাদ নয়, এটি মনের অনুবাদ—যেখানে ঢাকার আর্দ্রতা নিউইয়র্কের শীতকে স্পর্শ করে। 

 

হৃদয়ছেঁড়া পঙ্ক্তিমালা: "Without you, I'm incomplete, Like a tree stripped of its leaves, it's bleak." (Without You) "সবাই ভুলে যায় সহজেই সোনালি অতীতকে" (Some People Forget)   দুই বিশ্বের সেতুবন্ধ: বইটির সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এটি প্রবাসী মানসিকতাকে এতটা অন্তরঙ্গভাবে ধারণ করেছে। "আমেরিকা!" কবিতায় আলাম ঘড়ির শব্দ এবং "বর্ডাইনে ফেরার স্বপ্ন" পাশাপাশি চলে। এই দ্বিচারিতাই আজকের বিশ্ববাঙালির পরিচয়।   লক্ষ্যপ্রাপ্তি: কবি সফলভাবে:  একটি ট্র্যাজিক রোমান্সকে বিশ্বজনীন করে তুলেছেন  প্রবাসের একাকীত্বকে কাব্যিক ভাষা দিয়েছেন  বাংলা-ইংরেজির সীমান্ত মুছে দিয়েছেন  সময়ের সঙ্গে যুদ্ধরত মানুষের প্রতিচ্ছবি এঁকেছেন।

 

রেটিং: ৪.৫/৫ কেন ৪.৫? কবিতাগুলোর মধ্যে কিছু পুনরাবৃত্তিমূলক অনুভূতি থাকলেও, এটি হয়তো ইচ্ছাকৃত—কারণ প্রেম এবং স্মৃতি নিজেরাই পুনরাবৃত্তিময়। বইয়ের ডিজাইন এবং উপস্থাপনা আরও পরিশীলিত হতে পারত, কিন্তু কবির আন্তরিকতা সেই ফাঁক পূরণ করে দেয়।  কাদের জন্য এই বই: যারা প্রেম ও বিচ্ছেদের গভীরে যেতে চান  প্রবাসী বাংলাদেশীদের হৃদয়ের ভাষা বুঝতে চান  আধুনিক বাংলা কাব্যের নতুন দিগন্ত দেখতে চান  যাদের জীবনেও "দুই নৌকায় পা" থাকে ।

 

শেষ কথা: "Lost in Sweet Dreams" একটি নিরাময়হীন ব্যাথার কবিতা, যে ব্যাথা সুখের কারণও বটে। আকবর হায়দার কিরণ প্রমাণ করেছেন যে, স্মৃতি একটি দেশ, এবং আমরা সবাই সেই দেশের নির্বাসিত নাগরিক।  এই বই পড়া শেষ হলে পাঠক নিজেকে জিজ্ঞাসা করবেন: "আমার জ্যাকসন হাইটস কোথায়? আমার হারানো প্রেম কোন কবিতায় বাস করে?"  এটি শুধু বই নয়—এটি একটি আয়না, যেখানে আমরা সবাই নিজেদের খণ্ডিত প্রতিবিম্ব দেখি।

 

Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা মশিউর রহমান মজুমদার 

 

"Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা আবু নছর মিনার 

 

"Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা আবু নছর মিনার 

 

বিশেষ রিভিউ: "Lost in Sweet Dreams" – স্বপ্ন ও স্মৃতির কাব্যভুবন লেখক: আকবর হায়দার কিরণ প্রকাশক: অনন্যা প্রথম প্রকাশ: অক্টোবর ২০২৪
 

Add

Site Counter

Online

70

Total

42k

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে টাঙ্গাইলে ন্যায্য মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) পণ্য বিক্রির উদ্বোধন করা হয়েছে। 

 

আজ মঙ্গলবার ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকালে শহরে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মিয়া।

 

জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ১৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ থেকে আগামি ১২ মার্চ পর্যন্ত সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দিন ব্যতিত ২০ দিন সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার মোট ৫০টি স্থানে পাঁচটি ট্রাকে প্রতিদিন ৪০০টি নিম্ন আয়ের পরিবারের মাঝে দুই কেজি করে মশুর ডাল ও সয়াবিন তেল, এক কেজি চিনি, ছোলা (মজুদ সাপেক্ষে) ও ৫০০ গ্রাম খেজুর (মজুদ সাপেক্ষে) বিক্রি করা হবে। ভোক্তা পর্যায়ে প্রতিটি প্যাকেজের মূল্য ৫৯০ টাকা।

 

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহীন মিয়া জানান, মঙ্গলবার থেকে ছুটির দিন ব্যতিত প্রত্যেকদিন ট্রাকের মাধ্যমে টিসিবি পণ্য ভোক্তাদের মাঝে বিক্রি করা হবে। এ বিষয়ে ডিলারদের কোনো গাফিলতি সরকার বরদাস্ত করবেনা। 

 

প্রকাশ, জেলার ১২টি উপজেলায় টিসিবির এক লাখ ৬৮ হাজার ৭১১ জন গ্রাহক রয়েছেন। মজুদ সাপেক্ষে একযোগে সবার মাঝে এ পণ্য বিক্রি করা হবে।
 


Pic

স্পোর্টস ডেস্ক:
দক্ষিণ এশিয়ার ফুটসালে নতুন ইতিহাস লিখল বাংলাদেশ। প্রথমবার আয়োজিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে মালদ্বীপকে ১৪–২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শিরোপা জিতেছে সাবিনা খাতুনের দল। পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে দাপুটে পারফরম্যান্সে অপরাজিত থেকেই শীর্ষে থেকে আসর শেষ করেছে বাংলাদেশ।

 

ব্যাংককের ননথাবুরি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত শেষ ম্যাচে মাঠে নামার আগে বাংলাদেশের সামনে সমীকরণ ছিল সহজ, ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন। তবে সাবিনা ও কৃষ্ণারা কোনো হিসাবের পথে না হেঁটে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটসাল খেলেন। ম্যাচের শুরুতেই গোল হজম করলেও খুব দ্রুত নিয়ন্ত্রণ নেয় বাংলাদেশ।


তৃতীয় মিনিটে গোলকিপার স্বপ্না আক্তার ও মাসুরা পারভীনের বোঝাপড়ার ভুলে মালদ্বীপ এগিয়ে যায়। তবে সেই ধাক্কা সামলাতে সময় নেয়নি বাংলাদেশ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সরাসরি ফ্রি কিক থেকে সমতা ফেরান অধিনায়ক সাবিনা খাতুন। পরের ফ্রি কিকেই আবার জাল কাঁপিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। সেখান থেকেই শুরু হয় একতরফা আধিপত্য।


প্রথমার্ধেই ছয়টি গোল করে ম্যাচ কার্যত নিজেদের করে নেয় বাংলাদেশ। সাবিনার জোড়া গোলের সঙ্গে লিপি আক্তারও করেন দুটি গোল। বিরতিতে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৬–১। দ্বিতীয়ার্ধে এসে আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে বাংলাদেশের আক্রমণ। ম্যাচের শুরুর দিকেই হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন সাবিনা। এরপর একে একে গোলের খাতায় নাম লেখান মাতসুশিমা সুমাইয়া, নিলুফা ইয়াসমিন, কৃষ্ণা রাণী সরকার, মেহেরুন আক্তার ও মাসুরা পারভীন।


শেষ বাঁশি বাজার আগেই স্কোরলাইন পৌঁছে যায় ১৪–২ এ। অধিনায়ক সাবিনা এক ম্যাচে চার গোল করেন। পুরো টুর্নামেন্টে তাঁর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ১৩ তে, যা সর্বোচ্চ।


দক্ষিণ এশিয়ার সাত দল নিয়ে লিগ পদ্ধতিতে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ ছয় ম্যাচে পাঁচ জয় ও এক ড্রয়ে সংগ্রহ করে ১৬ পয়েন্ট। দ্বিতীয় স্থানে থাকা ভুটানের পয়েন্ট ছিল ১১। সাফের বাইলজ অনুযায়ী, সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দল হিসেবেই শিরোপা ওঠে বাংলাদেশের হাতে।


এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে দীর্ঘ বিরতির পর নতুন করে গড়া দল। ২০১৮ সালে ফুটসালে যাত্রা শুরু হলেও কয়েক বছর কার্যক্রম বন্ধ ছিল নারী ফুটসালের। পরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন নতুন উদ্যোগে অনুশীলন শুরু করে। সেই প্রস্তুতির ফলই মিলেছে প্রথম সাফ নারী ফুটসালেই।


ফুটবলে নানা প্রতিকূলতা আর অনিশ্চয়তার মধ্যেও সাবিনা, কৃষ্ণা ও তাঁদের সতীর্থরা প্রমাণ করেছেন, সুযোগ পেলে তারা দেশের জন্য শিরোপা এনে দিতে পারেন। ফুটসালের মঞ্চে এই অর্জন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা হয়ে থাকল।
 

৪৫ জন ঋণখেলাপী প্রার্থীর মধ্যে এমপি নির্বাচিত হয়ে ১১ জন যাচ্ছেন সংসদে

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া অন্তত ৪৫ জন ঋণখেলাপি প্রার্থীর মধ্যে ১১ জন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন। তারা সবাই বিএনপি থেকে নির্বাচিত। তবে চট্টগ্রাম ২ ও চট্টগ্রাম ৪ আসনের দুজনের ক্ষেত্রে খেলাপি ঋণসংক্রান্ত মামলা নিষ্পত্তি না হওয়ায় আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। শপথ অনুষ্ঠানেও তারা আমন্ত্রণ পাননি।


গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, ঋণখেলাপি কেউ নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন না। সংশোধিত আরপিওতে বলা হয়েছে, সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পরও যদি কারও ঋণখেলাপি থাকার প্রমাণ পাওয়া যায় বা হলফনামায় মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশন তার সদস্যপদ বাতিল করতে পারে। ফলে যেসব প্রার্থী উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সেই স্থগিতাদেশ উঠে গেলে তাদের এমপি পদও ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। অবশ্য পুনঃতপশিলের মাধ্যমে ঋণ নিয়মিত করলে বা আদালত স্থগিতাদেশের মেয়াদ বাড়ালে সাময়িকভাবে তারা স্বস্তিতে থাকবেন।


মনোনয়নপত্র জমার শেষ তারিখ ছিল ২৯ ডিসেম্বর। ৩০ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ব্যাংকের ঋণ তথ্য ব্যুরো নির্বাচন কমিশনে দুটি তালিকা পাঠায়। একটিতে ৮২ জনকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অন্যটিতে ৩১ জনের নাম ছিল, যারা উচ্চ আদালত থেকে স্থগিতাদেশ নিয়েছিলেন। পরে আপিল ও আদালতের আদেশে আরও ১৫ জন প্রার্থিতা ফিরে পান। সব প্রক্রিয়া শেষে ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দ করে চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হয়।


এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ঋণখেলাপিদের সুযোগ দেওয়া হবে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর তপশিল ঘোষণার আগে বলেছিলেন, আদালতের স্থগিতাদেশ নিলেও সিআইবিতে খেলাপি দেখানো হবে। তবে আইন পরিবর্তন না হওয়ায় তা কার্যকর হয়নি। অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ আগস্টে সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, “নির্বাচনে ঋণখেলাপিরা অংশ নিতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশনের উচিত তাদের শনাক্ত করা।” কিন্তু নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ মন্তব্য করেন, “আমরা ঋণখেলাপি যাদের ছাড় দিয়েছি, মনে কষ্ট নিয়ে দিয়েছি। শুধু আইন তাদের পারমিট করেছে বিধায়।”


সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেন, প্রার্থিতা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তবে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “আদালত কি তাহলে যারা নির্বাচনে অংশ নেওয়ারই যোগ্য নয়, তাদের বিজয়ী হওয়ার সুযোগ করে দিলেন?” তার মতে, এতে জয় পরাজয়ের সমীকরণ বদলে গেছে।


চট্টগ্রাম ২ আসনে বিএনপির সারোয়ার আলমগীর ধানের শীষ প্রতীকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৪৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের মোহাম্মদ নুরুল আমিন পান ৬২ হাজার ১৬০ ভোট। উচ্চ আদালতের আদেশে তিনি নির্বাচনে অংশ নিলেও আপিল বিভাগে মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল প্রকাশ স্থগিত রয়েছে।


চট্টগ্রাম ৪ আসনে মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী ১ লাখ ৪২ হাজার ৬৭৪ ভোট পেয়ে জয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী আনোয়ার ছিদ্দিক চৌধুরী পান ৮৯ হাজার ২৬৮ ভোট। তার ক্ষেত্রেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল স্থগিত রাখা হয়েছে। মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার সময় নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ তাকে বলেন, “মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকাটা দিয়ে দিয়েন।”


এ ছাড়া চট্টগ্রাম ৬, কুমিল্লা ১০, কুমিল্লা ৯, বগুড়া ১, বগুড়া ৫, টাঙ্গাইল ৪, ময়মনসিংহ ৫, মৌলভীবাজার ৪ ও সিলেট ১ আসনের নির্বাচিতদের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন মেয়াদে স্থগিতাদেশ রয়েছে। কারও ক্ষেত্রে আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত, কারও ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট তারিখ পর্যন্ত স্থগিতাদেশ কার্যকর।


ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আইনের চোখে সব নাগরিক সমান। অথচ ক্ষুদ্র ঋণগ্রহীতাদের অনেক সময় জেলে যেতে দেখা যায়। আর প্রভাবশালীরা আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেন। এভাবে চলতে থাকলে রাষ্ট্র সংস্কারের প্রত্যাশা ব্যাহত হবে।”


বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, “উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশ নিয়ে নির্বাচন করা একটি সাময়িক সমাধান। স্থায়ী সমাধানের জন্য ঋণ পরিশোধ বা পুনঃতপশিলের মাধ্যমে নিয়মিত করা প্রয়োজন।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা সংসদে ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকবেন।
ঋণখেলাপি প্রার্থীদের বিজয় এবং আইনি অনিশ্চয়তা মিলিয়ে নতুন সংসদের শুরুতেই তৈরি হয়েছে বিতর্ক ও প্রশ্নের আবহ।

 

সরকারি প্লট ও ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি নেবেন না জামায়াতের এমপিরা: শিশির মনির

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাঁদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে এবার নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের সরকারি কোনো প্লট কিংবা শুল্কমুক্ত (ট্যাক্স ফ্রি) গাড়ি সুবিধা গ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

জামায়াতের নেতা ও সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে সোমবার ১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন।

 

শিশির মনির পোস্টে উল্লেখ করেন, “পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী আমাদের এমপি মহোদয়গণ ট্যাক্স ফ্রি গাড়ি এবং সরকারি প্লট গ্রহণ করবেন না ইনশাআল্লাহ।” 

 

মূলত দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নেওয়া আগের সিদ্ধান্তের আলোকেই এই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

 

উল্লেখ্য, নির্বাচনের আগে সিলেটে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এই অঙ্গীকার করেছিলেন। তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, আগামীতে আমাদের একজনও যদি এমপি নির্বাচিত হন, তাদের কেউ সরকারি প্লট নেবেন না ও বিনা ট্যাক্সের গাড়িতে চালাবেন না।
 

জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদের বাসায় তারেক রহমান

টাঙ্গাইল দর্পণ অনলাইন ডেস্ক:
নির্বাচন পরবর্তী রাজনৈতিক সৌজন্য ও সংলাপের বার্তা নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বাসায় গেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। 

 

আজ রোববার ১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর বেইলি রোডে নাহিদের বাসভবনে পৌঁছান তিনি। সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে দুই দলের পক্ষ থেকেই সংলাপ ও সহাবস্থানের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর সরকার গঠনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বিএনপি। ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে বিএনপি এককভাবে ২০৯টি আসনে জয় পায়। জোটের শরিকদের ৩টি আসনসহ তাদের মোট আসনসংখ্যা দাঁড়ায় ২১২। একই নির্বাচনে এনসিপি পায় ৬টি আসন। ঢাকা ১১ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন নাহিদ ইসলাম।

 

রোববার সন্ধ্যা ৭টার দিকে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের বাসায় সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে রাত ৮টার দিকে বসুন্ধরা থেকে বেইলি রোডের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। নাহিদের বাসায় পৌঁছে তাকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান এনসিপি আহ্বায়ক। শহীদ আনাসের ফ্রেমে বাঁধানো একটি চিঠি এবং দলীয় প্রতীক শাপলা কলির স্টিলের প্রতিকৃতিও উপহার দেওয়া হয় বিএনপি চেয়ারম্যানকে।

 

সাক্ষাতে তারেক রহমানের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, যুগ্ম মহাসচিব হাবিবুর নবী খান সোহেল, হুমায়ুন কবির ও প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। এনসিপির পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সদস্যসচিব আখতার হোসেন ও উত্তরাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যান্য নেতারা।

 

আলোচনা শেষে নাহিদের বাসার নিচে সংবাদ সম্মেলনে আখতার হোসেন বলেন, “জনাব তারেক রহমান ও জনাব নাহিদ ইসলাম সৌজন্য সাক্ষাতে একত্রে বসেছেন। নির্বাচনে কয়েকটি আসনের ফলাফল নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকলেও রাজনৈতিক সৌজন্যের জায়গা থেকে তিনি এসেছেন। আমরা তাঁকে অভিনন্দন জানাই।”

 

তিনি জানান, মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও দেশের স্বার্থে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়েই আলোচনা হয়েছে। “সংস্কারের প্রশ্ন, বিচারের প্রশ্ন এবং নির্বাচন–পরবর্তী সহিংসতার বিষয়গুলো আমরা তুলেছি। তাঁদের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস পেয়েছি,” বলেন আখতার।

 

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই রাজনৈতিক কর্মসূচি ও বক্তব্য আলাদা হতে পারে, কিন্তু দেশের প্রশ্নে সবাই একসঙ্গে থাকব। সংলাপের মধ্য দিয়ে সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হবে।”

 

এনসিপি সরকারে যোগ দেবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আখতার স্পষ্ট করেন, “এটি ছিল নির্বাচন–পরবর্তী সৌজন্য সাক্ষাৎ। সরকার গঠন বা মন্ত্রিসভা নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হতে পারে।”

 

নির্বাচন–পরবর্তী সময়ে এ ধরনের সৌজন্য সাক্ষাৎকে রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

১৭ ফেব্রুয়ারি সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৫ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭