মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬ রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজার মহানবমীর অনুষ্ঠানে তিনি সব এলাকার সুষম উন্নয়ন ও সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

 

সরকার যখন দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইছে, একটি মহল তখন ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা না করে, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত।

 

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তারেক রহমান বলেন, “কিছুদিন যাবত আমরা দেখেছি আমরা যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছি, বর্তমান সরকার যেই ঐক্যটিকে তৈরি করতে চাচ্ছে, বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, আমরা দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

 

তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।

 

একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও ‘কোনো কোনো মহল’ বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, “আমি সকলকে সাথে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী সকল জনগণকে একসাথে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে আপনারা বিতর্কিত করবেন না।”

 

কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সেখানে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নির্বাচনে বিএনপি ও তার প্রার্থীদের কারা ভোট দিয়েছেন, কারা দেননি–সেই পার্থক্য না করে সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় এই সরকার, যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব এলাকার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সুষমভাবে করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে গত দুই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে।

 

এসব উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল। পরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

“আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।”

 

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তারেক রহমান বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা চায়, শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

 

বক্তব্যের শেষাংশে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে তাকে হিন্দু ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বরণ করে নেওয়া হয়। একদল শিশু নৃত্য পরিবেশনায় তাকে অভ্যর্থনা জানায়।


পূজামণ্ডপে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 

মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন।

 

মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের যে অবকাঠামো আছে, তার উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি দেখতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভুট্টচার্য বক্তব্য দেন।

 

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।
 

Pic

শেখ নুরুল ইসলাম, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) প্রতিনিধি:
আগামি ১১ অক্টোবর রবিবার দুপুর ২ ঘটিকায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ইনঅগুরেশন সেরিমনি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় সম্মেলন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সফল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে রিজিওনাল কমিটির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অব্যাহত রয়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর রাত ১১ ঘটিকায় ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ বাংলাদেশ সেন্টারে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা ও ডিনার পার্টি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সংগঠনের সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান মুজিবের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি রকিবুর রহমান ও ট্রেজারার এ বি রুনেলের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ফাউন্ডার্স কনভেনর ও বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, আসকর আলী, আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, শাহ শাফী, আব্দুর রুউফ তালুকদার, মফিকুল ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, বদরউদ্দিন চৌধুরী বাবর, মোহাম্মদ মুজিব মিয়া, আলমগীর আলম, সাইফুল ইসলাম সিপু, সৈয়দ কাহের, জহির আলী, ফয়সল রহমান, বসর সিকদার, ইকবাল হোসেন, সুমন তরফদার, আব্দুল বাছিত বাচ্চু, আনোয়ার আলী, মাহমুদ মিয়া, শাহ আব্দুল ওয়াহাব জাহাঙ্গীর, শামসুল হক রানু, এম এ রউফ, আব্দুল কাইয়ুম জহির, আব্দুল আজিজ মাখন, এম এ সামাদ, বদরুল হক মনসুর, সাজেল আহমেদ, আব্দুল বসর, পারভেজ খান, ফয়ছল চৌধুরী, জাভেদ আহমেদ, ফয়সল মনসুর, এনামুল হোসেন সুয়েব, আজম সবুজ, মহারাজ ও গিয়াস আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফয়েজ মিয়া।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডার্স কনভেনর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ঐক্যের বন্ধনে একত্রিত হয়ে সিলেটের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আমাদের এই কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত, আরও সফল ও আরও স্মরণীয়।

 

তিনি আরও জানান, সম্মেলনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সফলভাবে এই মহা-উৎসব সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সকল সিলেটবাসীকে দলমত নির্বিশেষে দলে দলে যোগদানের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
 

Pic

কামরুজ্জামান সরকার বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের আয়োজনে সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজি মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, তাতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রতিষ্ঠতা সভাপতি, বিএনপি।

 

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা এন এইচ রুবেল, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।

 

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন মোঃ মাসুদ রানা ভাই, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইফতি আহমেদ শাহীন, ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ)।

 

উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নগদ অর্থের সংকটে পড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। চলতি হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়া এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত বা সিআরআর পূরণে ব্যর্থতার কারণে এ জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে তারল্য পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া নির্ধারিত নগদ সংরক্ষণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আর্থিক সূচক নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের হার বেড়েছে, যা তারল্য ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।

 

চলতি হিসাবে দ্রুত কমছে অর্থ, চাপ সিআরআর ঘাটতিতে
ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা চলতি হিসাব বা প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এই বড় পতনের কারণে বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক। তবে সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আমরা তারল্য সহায়তা চেয়েছি।”

 

সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হয়েছে। ঈদ পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসেই এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

অনিয়মের অতীত ও নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা
ব্যাংকটির সংকট নতুন নয়। ২০২২ সাল থেকেই এস আলম গ্রুপের সময়কার নামে বেনামে ঋণ বিতরণ এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটি তারল্য চাপে পড়ে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সুশাসন ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ব্যাংকটিতে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনে। এরপর ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

 

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি অংশ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে, যা টানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

 

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সহায়তার আবেদন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ব্যাংকে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

এদিকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। 
 

আলোচিত খবর

Pic

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
আজ মঙ্গলবার ২০ অক্টোবর, ২০২৬ রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরে দুর্গাপূজার মহানবমীর অনুষ্ঠানে তিনি সব এলাকার সুষম উন্নয়ন ও সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

 

সরকার যখন দেশের সব মানুষকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যেতে চাইছে, একটি মহল তখন ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে’ বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

 

তিনি বলেছেন, ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে বিতর্কিত করার চেষ্টা না করে, কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জাতীয় সংসদে তুলে ধরা উচিত।

 

শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুর নগরীর রাধা গোবিন্দ মন্দিরের ধর্মসভা পূজামণ্ডপে দেওয়া বক্তব্যে এ কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

 

তারেক রহমান বলেন, “কিছুদিন যাবত আমরা দেখেছি আমরা যেই ঐক্যটি তৈরি করতে চাচ্ছি, বর্তমান সরকার যেই ঐক্যটিকে তৈরি করতে চাচ্ছে, বর্তমান সরকার সকলকে নিয়ে যেখানে চলতে চাইছে, আমরা দেখছি একটি মহল বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।”

 

তিনি বলেন, অতীতে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু দেশের মানুষ তা ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।

 

একইভাবে চব্বিশের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকেও ‘কোনো কোনো মহল’ বিতর্কিত করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, “আমি সকলকে সাথে নিয়ে, গণতন্ত্রকামী সকল জনগণকে একসাথে নিয়ে গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে বলতে চাই, দয়া করে আপনারা কেউ চব্বিশের ছাত্র-জনতার যে গণঅভ্যুত্থান, সেটিকে দয়া করে আপনারা বিতর্কিত করবেন না।”

 

কারও কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে সংসদে তা তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণ তাদের প্রতিনিধিদের সংসদে পাঠিয়েছে। সেখানে বিতর্ক ও আলোচনার মাধ্যমে জনগণ এবং রাষ্ট্রের জন্য যা ভালো, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

নির্বাচনে বিএনপি ও তার প্রার্থীদের কারা ভোট দিয়েছেন, কারা দেননি–সেই পার্থক্য না করে সব মানুষের জন্য কাজ করার অঙ্গীকার জানিয়েছেন তারেক রহমান।

 

তিনি বলেন, “বর্তমান সরকার এমন একটি সরকার হতে চায়, এই সরকারকে যে ভোট দিয়েছে তারও সরকার হতে চায় এই সরকার, যে ভোট দেয়নি তার জন্যও এই সরকার সরকার হতে চায়।”

 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সব এলাকার উন্নয়ন রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সামর্থ্য বিবেচনায় নিয়ে সুষমভাবে করতে চায় সরকার। এর অংশ হিসেবে রংপুর মহানগরীর উন্নয়নে গত দুই সপ্তাহে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।

 

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার কথা তুলে ধরেন সরকারপ্রধান। এর মধ্যে সেতু, কালভার্ট, স্কুল ও কলেজ নির্মাণের উদ্যোগও রয়েছে।

 

এসব উন্নয়নকাজ এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভেদ ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

তারেক রহমান তার বক্তব্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণের কথা তুলে ধরেন।

 

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশ স্বাধীন করার জন্য লড়াই করেছিল। পরে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্ম ও শ্রেণি-পেশার মানুষ রাজপথে নেমেছিল।

 

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেই আন্দোলনেও দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিল।

 

তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। ভবিষ্যতেও যেন সবাই শান্তিতে বসবাস করতে পারে, সে পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

 

“আগামী দিনে আমরা যদি আমাদের প্রত্যাশিত বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চাই, তাহলে আমাদের সকল ধর্ম মতের মানুষকে একসাথে দেশের জন্য কাজ করে আমাদের প্রত্যাশিত সেই বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।”

 

দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণে শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।

 

তারেক রহমান বলেন, জনগণ দেশে স্থিতিশীলতা চায়, শান্তিতে ও নিরাপদে থাকতে চায়। সরকারও সেই লক্ষ্যেই কাজ করছে।

 

বক্তব্যের শেষাংশে শারদীয় দুর্গাপূজার শুভেচ্ছা জানিয়ে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস এবং প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।

 

মঙ্গলবার বেলা ১২টার পর প্রধানমন্ত্রী মন্দিরে পৌঁছালে তাকে হিন্দু ধর্মীয় রেওয়াজ অনুযায়ী বরণ করে নেওয়া হয়। একদল শিশু নৃত্য পরিবেশনায় তাকে অভ্যর্থনা জানায়।


পূজামণ্ডপে পুণ্যার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

 

মন্দিরের পক্ষ থেকে সভাপতি ভবতোষ সরকার ও সাধারণ সস্পাদক খোকন সরকার প্রধানমন্ত্রীকে ক্রেস্ট উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী তাদের হাতে ১০ লাখ টাকা অনুদানের চেক তুলে দেন।

 

মন্দিরের পেছনে হোস্টেলের যে অবকাঠামো আছে, তার উন্নয়নে আর্থিক সহযোগিতার বিষয়টি দেখতে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীকে নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

 

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের পরিচালনায় অনুষ্ঠানে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির সহ সাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্তু কুমার কুণ্ড, সংসদ সদস্য মাহবুবুর রহমান বেলাল, নিপুণ রায় চৌধুরী, ছাত্রদল নেতা পার্থ দেব, গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, রংপুর ধর্মসভার স্বপন কুমার ভুট্টচার্য বক্তব্য দেন।

 

নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক এজেডএম জাহিদ হোসেন, দুযোর্গ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু, নারী ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ রংপুরের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির নেতারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

 

এয়োদশ সংসদ নির্বাচনে জিতে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব নেওয়ার পর এটাই তারেক রহমানের প্রথম রংপুর সফর।
 

Pic

শেখ নুরুল ইসলাম, লন্ডন (যুক্তরাজ্য) প্রতিনিধি:
আগামি ১১ অক্টোবর রবিবার দুপুর ২ ঘটিকায় লন্ডনের দ্য অ্যাট্রিয়াম হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ‘গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ইনঅগুরেশন সেরিমনি ও কেন্দ্রীয় জাতীয় সম্মেলন। এই ঐতিহাসিক অনুষ্ঠানকে সর্বাঙ্গীন সফল করার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন শহরে রিজিওনাল কমিটির উদ্যোগে প্রস্তুতি সভা অব্যাহত রয়েছে।

 

এরই ধারাবাহিকতায় ৫ অক্টোবর রাত ১১ ঘটিকায় ওয়েলসের রাজধানী কার্ডিফ বাংলাদেশ সেন্টারে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তুতি সভা ও ডিনার পার্টি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

 

সংগঠনের সাউথ ওয়েলস রিজিওনাল প্রেসিডেন্ট মুজিবুর রহমান মুজিবের সভাপতিত্বে এবং জেনারেল সেক্রেটারি রকিবুর রহমান ও ট্রেজারার এ বি রুনেলের যৌথ পরিচালনায় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন গ্রেটার সিলেট কমিউনিটি ইউকে’র ফাউন্ডার্স কনভেনর ও বিশিষ্ট কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ মকিস মনসুর।

 

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখেন আলহাজ্ব লিয়াকত আলী, আলহাজ্ব আসাদ মিয়া, আসকর আলী, আব্দুল ওয়াহিদ বাবুল, শাহ শাফী, আব্দুর রুউফ তালুকদার, মফিকুল ইসলাম, ইকবাল আহমেদ, বদরউদ্দিন চৌধুরী বাবর, মোহাম্মদ মুজিব মিয়া, আলমগীর আলম, সাইফুল ইসলাম সিপু, সৈয়দ কাহের, জহির আলী, ফয়সল রহমান, বসর সিকদার, ইকবাল হোসেন, সুমন তরফদার, আব্দুল বাছিত বাচ্চু, আনোয়ার আলী, মাহমুদ মিয়া, শাহ আব্দুল ওয়াহাব জাহাঙ্গীর, শামসুল হক রানু, এম এ রউফ, আব্দুল কাইয়ুম জহির, আব্দুল আজিজ মাখন, এম এ সামাদ, বদরুল হক মনসুর, সাজেল আহমেদ, আব্দুল বসর, পারভেজ খান, ফয়ছল চৌধুরী, জাভেদ আহমেদ, ফয়সল মনসুর, এনামুল হোসেন সুয়েব, আজম সবুজ, মহারাজ ও গিয়াস আহমেদ প্রমুখ নেতৃবৃন্দ। সভার শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফয়েজ মিয়া।

 

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ফাউন্ডার্স কনভেনর ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মোহাম্মদ মকিস মনসুর বলেন, ঐক্যের বন্ধনে একত্রিত হয়ে সিলেটের ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির পতাকা আরও উঁচুতে তুলে ধরাই এই আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য। সকলের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে আমাদের এই কেন্দ্রীয় সম্মেলন হয়ে উঠবে আরও প্রাণবন্ত, আরও সফল ও আরও স্মরণীয়।

 

তিনি আরও জানান, সম্মেলনে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কমিউনিটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে। সফলভাবে এই মহা-উৎসব সম্পন্ন করতে যুক্তরাজ্য প্রবাসী সকল সিলেটবাসীকে দলমত নির্বিশেষে দলে দলে যোগদানের উদাত্ত আহ্বান জানান তিনি।
 

Pic

-নিকোলাস বিশ্বাস
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। তাঁর এই নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় চার দশক পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক এই সম্মানজনক পদে প্রত্যাবর্তন করল। 

 

গত ২ জুনের নির্বাচনে ৯৯টি ভোট পেয়ে সাইপ্রাসের প্রার্থী অ্যান্ড্রেয়াস এস. কাকুরিসকে পরাজিত করে ড. রহমান সভাপতির পদটি নিশ্চিত করেন। জেনেভা ও নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করার অভিজ্ঞতাসম্পন্ন এই অভিজ্ঞ কূটনীতিক সম্পূর্ণ অধিবেশনজুড়ে সাধারণ পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

 

এছাড়া, আগামী ২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চপর্যায়ের সাধারণ সভাও ড. রহমান সভাপতিত্ব করবেন, যা জাতিসংঘের বার্ষিক সূচির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ এবং এতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ বিশ্বনেতাদের অংশগ্রহণের কথা রয়েছে। উল্লেখ্য যে, প্রতি বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে একজন সভাপতি নির্বাচিত হন।

 

প্রতিবার নতুন সভাপতি একটি ঘোষিত কর্মসূচি নিয়ে আসেন। এই কর্মসূচিকে আলাদা করে তোলা মূল বিষয়বস্তু নয়; কারণ - শান্তি ও নিরাপত্তা, টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু কার্যক্রম, মানবাধিকার ও মানবিক সুরক্ষা, প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণ এবং বহুপাক্ষিকতার সংস্কার; এগুলো জাতিসংঘের পরিচিত শব্দভাণ্ডার। এই অধিবেশনের প্রকৃত প্রশ্ন এই নয় যে, ড. রহমান কী-কী অগ্রাধিকার দিতে চান, বরং প্রশ্নটি হলো - সাধারণ পরিষদ একটি বিশ্ব মঞ্চ বা বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হিসেবে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য আদৌ কোন ক্ষমতা রাখে কিনা? জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের নতুন সভাপতির ঘোষিত অগ্রাধিকারগুলো আগামী বারো মাসে কাঠামোগতভাবে অর্জনযোগ্য হবে কিনা তা নির্ভর করবে বর্তমান বিশ্বের ভূ-রাজনীতি, বৈশ্বিক চাহিদা ও আচরণ, বিভিন্ন রাষ্ট্রবলয়ের ভূমিকা এবং সদস্য রাষ্ট্রগুলোর সহযোগিতার ধরণ ও আন্তরিকতার উপর।

 

মূল সংকট: উচ্চাকাঙ্ক্ষা বনাম অভূতপূর্ব বিশ্ব অস্থিরতা
বিশ্ব আজ তার যৌথ ইতিহাসের আরেকটি সংকটময় অধ্যায়ে প্রবেশ করছে। সশস্ত্র সংঘাত, ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, মানবিক সংকট, জলবায়ু জরুরি অবস্থা, প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হ্রাস এমন সব চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে যা কোনো দেশের পক্ষেই একা মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। এমন একটি নির্ধারণী মুহূর্তে, জাতিসংঘ আজও এমন একটি অন্যতম বিশ্বমঞ্চ যেখানে দেশগুলো একত্র হয়ে আলোচনা করতে এবং যৌথ সমাধান খুঁজতে পারে।

 

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ২০২৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর শুরু হয়েছে। প্রধান আলোচনাকারী, নীতিনির্ধারক ও প্রতিনিধিত্বকারী অঙ্গ হিসেবে সাধারণ পরিষদ ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসে, যেখানে প্রতিটি দেশের একটি করে ভোট দেওয়ার অধিকার রয়েছে। এটি জাতিসংঘের একমাত্র অঙ্গ যেখানে প্রতিটি সদস্য রাষ্ট্র সমান মর্যাদায় অংশগ্রহণ করে। এর দায়িত্বের পরিধি শান্তি ও নিরাপত্তা, উন্নয়ন, মানবাধিকার, মানবিক বিষয়াবলি, নতুন সদস্য গ্রহণ এবং জাতিসংঘের বাজেট পর্যন্ত বিস্তৃত।

 

এই পটভূমিতে ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান ছয়টি মূল অগ্রাধিকার চিহ্নিত করেছেন:
১) শান্তি ও নিরাপত্তা; ২) টেকসই উন্নয়ন; ৩) জলবায়ু পদক্ষেপ; ৪) মানবাধিকার ও মানবিক বিষয়াবলি; ৫) প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI); ৬) বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন
যদিও এই অগ্রাধিকারগুলো আমাদের সময়ের জরুরি প্রয়োজনীয়তাগুলোকে প্রতিফলিত করে, তবে মূল প্রশ্ন থেকেই যায়: সাধারণ পরিষদ কি এসব অঙ্গীকারকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারবে, নাকি বৈশ্বিক অস্থিরতা এই বাস্তবায়নকে থমকে দেবে? বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতার আলোকে প্রতিটি অগ্রাধিকার বিশ্লেষণ করলে বাস্তবায়নের একটি পরিষ্কার পথরেখা পাওয়া যায়। ছয়টি অগ্রাধিকারের বিশ্লেষণ: অঙ্গীকার থেকে বাস্তবায়নে রূপান্তর:

 

১. শান্তি ও নিরাপত্তা: সংকটের প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধের ওপর জোর
শান্তি ও নিরাপত্তা জাতিসংঘের মূল লক্ষ্যের কেন্দ্রে অবস্থান করছে, অথচ নিরবচ্ছিন্ন যুদ্ধ এবং ভূ-রাজনৈতিক ভেটো ক্ষমতার ব্যবহারে প্রায়শই আন্তর্জাতিক ঐক্যমত অচল হয়ে পড়ে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে রূপ দিতে সংঘাত ঘটার পর পদক্ষেপ নেওয়ার পরিবর্তে আগাম সংঘাত প্রতিরোধ, দ্রুত মধ্যস্থতা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক শান্তি প্রক্রিয়ার দিকে মনোযোগ বাড়াতে হবে। সাধারণ পরিষদের সম-অধিকারের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে - যেখানে কোনো একক দেশের ভেটো ক্ষমতা নেই - জাতিসংঘ রাজনৈতিক সংলাপ, বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা এবং সংকট বড় আকারের মানবিক বিপর্যয়ে রূপ নেওয়ার আগেই শান্তি প্রক্রিয়ায় নারীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারে।

 

২. টেকসই উন্নয়ন: বাস্তবায়নের ঘাটতি পূরণ
অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও ভূ-রাজনৈতিক সংঘাতের কারণে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) অর্জনের অগ্রগতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই অগ্রাধিকারকে দৃশ্যমান অগ্রগতিতে পরিণত করতে হলে জাতিসংঘকে আর্থিক প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে এবং সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোতে সম্পদ প্রদানে জোর দিতে হবে। টেকসই উন্নয়ন কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না; এটি বৈষম্য হ্রাস, বৈশ্বিক বাজারে সবার সমান প্রবেশাধিকার এবং কেবল অর্থনৈতিক সূচক দিয়ে নয়, বরং মানুষের মর্যাদা ও স্থিতিস্থাপকতার ওপর ভিত্তি করে উন্নয়ন পরিমাপের দাবি রাখে।

 

৩. জলবায়ু পদক্ষেপ: দায়বদ্ধতা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ
জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর দূর ভবিষ্যতের কোনো হুমকি নয়; চরম আবহাওয়া প্রতিনিয়ত বহু বছরের উন্নয়ন অগ্রগতি ধ্বংস করে দিচ্ছে। জলবায়ু লক্ষ্যকে পদক্ষেপে রূপান্তর করতে হলে কেবল নামমাত্র অঙ্গীকার থেকে বেরিয়ে এসে বাধ্যতামূলক জবাবদিহিতা, 'ক্ষতি ও ক্ষয়ক্ষতি' (Loss and Damage) তহবিলের কার্যকর বাস্তবায়ন এবং জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবেশ সুরক্ষাকে যুক্ত করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য জলবায়ু পদক্ষেপ একটি টিকে থাকার লড়াই। আন্তর্জাতিক জলবায়ু ন্যায়বিচার ও সম্পদ হস্তান্তরের মূল চালিকাশক্তি হিসেবে সাধারণ পরিষদকে কাজ করতে হবে।


৪. মানবাধিকার ও মানবিক সাড়াদান: মানুষকে প্রাধান্য প্রদান
বৈশ্বিক সংঘাত প্রতিনিয়ত লাখ লাখ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করছে, যা শরণার্থী ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে মৌলিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা থেকে বঞ্চিত করছে। মানবাধিকার নীতিগুলোকে বাস্তব সুরক্ষায় রূপান্তর করতে মানবিক সহায়তাকে ভূ-রাজনৈতিক এজেন্ডা থেকে মুক্ত করতে হবে। জাতিসংঘকে নিশ্চিত করতে হবে যেন আন্তর্জাতিক আইন সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রযোজ্য হয় - কোনো দ্বিমুখী নীতি ছাড়াই - যাতে সংঘাত যেখানেই ঘটুক না কেন মানবিক সহায়তা ও তহবিল সুরক্ষিত থাকে।

 

৫. প্রযুক্তি ও এআই শাসন: ডিজিটাল বৈষম্য প্রতিরোধ
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশ শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনার সম্ভাবনা রাখে, তবে কয়েকটা ধনী দেশের হাতে প্রযুক্তি সীমাবদ্ধ থাকলে তা বৈশ্বিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এই অগ্রাধিকারকে বাস্তবে প্রয়োগ করতে হলে নতুন প্রযুক্তির জন্য একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক শাসন কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। এআই নীতি নির্ধারণ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মাধ্যমে প্রযুক্তিকে বৈশ্বিক বিভাজনের কারণ না বানিয়ে যৌথ অগ্রগতির হাতিয়ার হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।

 

৬. বহুপাক্ষিকতার প্রতি আস্থা পুনর্গঠন: সাফল্যের মূল নিয়ামক
পূর্ববর্তী পাঁচটি অগ্রাধিকারের সফলতা সম্পূর্ণভাবে জাতিসংঘের নিজস্ব সংস্কার এবং ভাবমূর্তির ওপর নির্ভর করছে। যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোকে অকার্যকর বা পক্ষপাতদুষ্ট বলে মনে করে, তখন বহুপাক্ষিকতা ব্যর্থ হয়। এই অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের জন্য প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং বৈশ্বিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে জোরালো কণ্ঠস্বর প্রদান করা প্রয়োজন। আস্থা পুনর্গঠন কেবল কোনো প্রশাসনিক বিষয় নয়; এটি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মূল শর্ত।

 

বাস্তবায়নের ব্যবধান কমানোর উপায়
৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের এই ছয়টি অগ্রাধিকার বর্তমান বিশ্ব সংকট মোকাবিলার জন্য একটি সুসংগঠিত কাঠামো প্রদান করে। নিরাপত্তা উন্নয়নকে ত্বরান্বিত করে, উন্নয়ন জলবায়ু সহনশীলতা বাড়ায়, জলবায়ু স্থায়িত্ব মানবিক সংকট কমায় এবং দায়িত্বশীল প্রযুক্তি এই সবগুলোকে গতিশীল করে।

 

তবে কেবল ঘোষণাপত্র প্রকাশ বিশ্ব অস্থিরতা সমাধান করতে পারবে না। ৮১তম অধিবেশন তখনই এই ছয়টি অগ্রাধিকারকে কার্যকর পদক্ষেপে রূপান্তর করতে পারবে, যখন সদস্য রাষ্ট্রগুলো সাধারণ পরিষদের গণতান্ত্রিক মঞ্চকে - যেখানে প্রতিটি দেশের সমান ভোট রয়েছে - রাজনৈতিক ঐক্যমত তৈরি, আর্থিক সম্পদ সংস্থান এবং যৌথ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার কাজে ব্যবহার করবে।

 

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জগুলো বিশাল, তবে রাজনৈতিক মানসিকতা এবং বহুপাক্ষিক উদ্যোগের মাধ্যমে জাতিসংঘ এই ছয়টি অগ্রাধিকারকে একটি স্থিতিশীল বিশ্বের জন্য বাস্তব সমাধানে রূপান্তর করতে পারে যদিও বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘের অতীত সাফল্য খুবই নগন্য।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের নিউবেরি পার্কস্থ অ্যাল্ডারবোরো সাউথের ফোর্ড স্পোর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের এক ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ফাউন্ডার ট্রাস্টি, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের পার্মানেন্ট মেম্বার এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার আলহাজ মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোমের ফাউন্ডার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিছবাহ জামাল ও ইয়াং ট্যালেন্ট প্রেজেন্টার তামান্না মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং পিস হোমের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

উল্লেখ্য, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটির কয়েকজন সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করা হয়।

 

ইতিপূর্বে লন্ডনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং চ্যানেল এসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে ২০২৬ লন্ডনের গ্র্যান্ড মেরিডিয়ানে লাইফ মেম্বারদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠান ও ফান্ডরেইজিং আয়োজন করা হয়।

 

এরই ধারাবাহিকতায় রেডব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন লাইফ মেম্বার সংগ্রহের লক্ষ্যে ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন নিজ উদ্যোগে এ ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অব রেডব্রিজ কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর বার্ট জন।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এস ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান, সেক্রেটারি সলিসিটর নাসির উদ্দীন, হাসপাতালের ফাউন্ডার ট্রাস্টি ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল শফিক এবং ডেপুটি ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মনজুর উস সামাদ চৌধুরী মামুন।

 

অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ সহযোগিতা করেন মার্কেটিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন এবং হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান। পরে ডা. ওমর মোহাম্মদ শাফির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মেডিকেল টিমের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আবদেল রহমান আল আশকার, শিয়েনা মার্টিন, মরগান ইগরেমন্ট, ডিনা রায়, আবরার আইমান, আচেলা আগাডা, মারকমল মিরজারাকিমভ, ওমর হামিদ, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের নাতনি পারিহান ওসমান এবং ভাগ্নে ইসরাহ হালিম।

 

পরবর্তীতে ফান্ডরেইজিং পর্ব শুরু হলে অতিথিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এ সময় মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের সহধর্মিণী সুফিয়া খানম উদ্দিনের নাম নতুন ট্রাস্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে নতুন লাইফ মেম্বার হিসেবে নাম ঘোষণা করেন সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের ফাউন্ডার মিছবাহ জামাল ও নাহিদা মিছবাহ, ওসমান মোহাম্মদ রাব্বি, ডা. মোহাম্মদ ওমর শাফি পিএইচডি, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নঈম উদ্দিন রিয়াজ, ফেরদৌসী জান্নাত আখতার, আতাউর খান, মাহবুবা জান্নাত মোহিনী, বিলকিস পারভিন, হিসমা বেগম, সাজনা খান, রওশন আহমেদ, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট আফসার হোসেন এনাম, কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জাবেদুর রহমান, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের পেট্রন মোহাম্মদ ওয়ারিছ আলী, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কবির আহমেদ, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহিন চৌধুরী, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ট্রেজারার এনামুল হক এনাম, গ্রেটার চারখাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জয়নুল চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভির প্রেজেন্টার সুজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টারের লাইফ মেম্বার ফখরুল আম্বিয়া, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক উদ্দিন, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, পেট্রন প্রফেসর মিসবাহ কামাল এবং পেট্রন নাজমুল হুদা।

 

এছাড়া সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের কয়েকজন পেট্রনও হাসপাতাল ফান্ডে অনুদান প্রদান করেন।

 

মাসিক জাকাত ফান্ডে স্ট্যান্ডিং অর্ডারের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন ও মিসেস সুফিয়া উদ্দিন, ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, মিসেস মাহবুবা আহমেদ, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মতিউর রহমান খোকন, নাবিল চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি, এলিন চৌধুরী, আমিনা বেগম, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, ফারুক উদ্দিন ও সুজিয়া চৌধুরী।

 

ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ট্রাস্টি ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার ইকবাল হোসেন বুলবুল, ডা. সৈয়দ মাসুক আহমদ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি নিয়াজ চৌধুরী সুভন, মাহবুবা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান কোরেশি, পারভেজ আহমেদ, আতিকুর রহমান লিটন, আবদাল হোসেন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, আলফিন শাহরিন, ডেইভ, ডা. আলী খিজির, আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ আনজাম চৌধুরী, ইউকে গ্রেটার দেওলগ্রামের মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, শাহিনা খানম, নাবিল চৌধুরী, জুবের খান, মিছবাহ উদ্দিন, ট্রাস্টি ও ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল সামাদ, চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা, সিনিয়র টিভি রিপোর্টার কামরুল আই রাসেল, এটিএন বাংলা ইউকের তানভির তারেক, টিএস চ্যানেলের শওকাত ইসলাম ফরাজি ও তানিয়া ফরাজি, মিসেস হাসনা বেগম, শাহাদাত মনির, নাঈম আহমেদ জয়সহ আরও অনেকে।

 

বক্তারা বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে স্পনসর ও সহযোগিতা প্রদান করে স্টেটাম রিয়েল এস্টেট, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোম, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট, কুশিস হোমমেইড নাগা পিকলস, আপেল রিয়েল এস্টেট, সাপোর্টিং কেয়ার রেডব্রিজ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্ট ইউকে, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, গ্রেটার দেওলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, গ্রেটার চারখাই ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ এবং চ্যানেল টিএস।

 

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত অতিথি, দাতা, লাইফ মেম্বার, ট্রাস্টি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পনসরদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 

Add

Site Counter

Online

855

Total

100k

Pic

মো. নুর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠ প্রাঙ্গণে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে জমজমাট ফুটবল প্রীতি ম্যাচ। জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে আয়োজিত এ প্রীতি ম্যাচকে ঘিরে সকাল থেকেই মাঠজুড়ে ছিল উৎসবের আমেজ। খেলা উপভোগ করতে দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন হাজারো ফুটবলপ্রেমী।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠে আয়োজিত এ প্রীতি ম্যাচের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন টাঙ্গাইল-২ (গোপালপুর-ভূঞাপুর) আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবদুস সালাম পিন্টু।

 

বাংলাদেশ মহিলা ফুটবল দলের কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের নেতৃত্বে জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। খেলায় মুখোমুখি হয় ময়মনসিংহ কলসিন্দুর ও টাঙ্গাইল জেলা গোপালপুর মরহুম ফরহাদ হোসেন একাডেমি।

 

উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে দুর্দান্ত খেলায় মরহুম ফরহাদ হোসেন একাডেমি ৩-১ গোলে ময়মনসিংহ কলসিন্দুরকে পরাজিত করে। ম্যাচজুড়ে দুই দলের খেলোয়াড়দের নৈপুণ্যে দর্শকদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আনন্দ।

 

খেলাটি ঘিরে হেমনগর জমিদার বাড়ির মাঠ প্রাঙ্গণে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রায় ৪০ হাজার দর্শকের উপস্থিতিতে প্রীতি ম্যাচটি সম্পন্ন হয়। মাঠের চারপাশে দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি স্থানীয় মানুষের মধ্যে ফুটবল নিয়ে নতুন আগ্রহ ও উৎসাহের সৃষ্টি করে।

 

প্রীতি ম্যাচটির আয়োজন করেন হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির নেতৃবৃন্দের সহযোগিতায় ভিপি গোলামরোজ তালুকদার।

 

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব মাহফুজুর আলম খান সিদ্দিক, গোপালপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুরুল মোর্শেদ, গোপালপুর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক কাজী লিয়াকত, সিনিয়র সহ-সভাপতি আমিনুল ইসলাম, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি জসীম মেম্বার, সাংগঠনিক সম্পাদক এস এম আমিনুল ইসলাম, হেমনগর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম খান, গোপালপুর উপজেলা ছাত্রদলের সিনিয়র সভাপতি নাজমুল ইসলাম শিশিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

 

জাতীয় নারী ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সরাসরি মাঠে খেলতে দেখার সুযোগ পেয়ে দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যায়। বিশেষ করে শিশু-কিশোর ও তরুণ ফুটবলপ্রেমীদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

 

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ ধরনের প্রীতি ম্যাচের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রতি তরুণ প্রজন্মের আগ্রহ আরও বাড়বে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির পথ সুগম হবে। হেমনগর জমিদার বাড়ির ঐতিহাসিক মাঠে এমন বড় আয়োজন ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা।
 


Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত "জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬"-এর ফাইনাল ম্যাচ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিরোপা নির্ধারণী এ ম্যাচে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ১-০ গোলের ব্যবধানে গোপালপুর উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

 

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফুল হক, এমপি, টাঙ্গাইল-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ লুৎফর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রবিউল আওয়াল।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, টাঙ্গাইল জনাব শরীফা হক।

 

খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তাঁরা খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রেখে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অংশগ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে সফলভাবে পর্দা নামল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর।

 

টুর্নামেন্টের সমাপনী আয়োজনকে ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
 

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল

কামরুজ্জামান সরকার বাবু, বিশেষ প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী জিয়া সৈনিক দলের আয়োজনে সংগঠনের ৩০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে এক আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

আজ ১৩ নভেম্বর, ২০২৬ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানীর কাকরাইলস্থ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে এ আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয়তাবাদী আদর্শ ও সংগঠনের ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। শেষে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

 

আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. কাজি মনিরুজ্জামান মনির, সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক, তাতীদল কেন্দ্রীয় কমিটি ও প্রতিষ্ঠতা সভাপতি, বিএনপি।

 

প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মির্জা এন এইচ রুবেল, সভাপতি, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।

 

বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লায়ন মোঃ মাসুদ রানা ভাই, সাধারণ সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।


বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ জহিরুল ইসলাম পাটোয়ারী, সাংগঠনিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় কমিটি, ঢাকা।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইফতি আহমেদ শাহীন, ঢাকা মহানগর বিএনপি (দক্ষিণ)।

 

উক্ত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সংগঠনের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে স্মরণীয় করে তুলতে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান এবং সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
 

চৌদ্দগ্রামকে আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন রাশেদা বেগম হীরা ও মোহাম্মদ কামরুল হুদা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জনকল্যাণমূলক ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এবং এলাকাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম নির্বাচনী এলাকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা ধানের শীষ মার্কার একমাত্র প্রার্থী।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের আস্থা এবং বিশ্বসে একটি নাম মোহাম্মদ কামরুল হুদা।

 

রাশেদা বেগম হিরার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শামসুন নাহার হলের জিএস এবং ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল (MPhil) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ছিলেন।

 

তিনি বর্তমান সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জম্মস্থান চাঁদপুর তিনি চাাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় মহিলা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

বর্তমানে তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা-১১ তথা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও তদারকির বিশেষ দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের আস্থাভাজন নেতা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কামরুল হুদা এলাকাকে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ঈমাম/মুয়াজ্জিন কার্ড ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিতে বিভ্ন্নি মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রচেষ্টায় চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কাজের সূচনা হতে যাচ্ছে। নিন্দুকদের জ্ঞাতার্থে কামরুল হুদার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান বিষয় গুলো সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো।

 

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী কামরুল হুদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান Political Science স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সম্পদশালী ব্যাক্তি। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মো: কামরুল হুদা বলেন, “সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহযোগিতা সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে আমাদের কল্যাণমুখী কাজ অব্যাহত থাকবে।”
 

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি: ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃ‌ষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।

 

তার ভাষ্য, এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

 

হাসনাত বলেন, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।

 

তবে তিনি বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।

 

পোস্টে হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।

 

হাসনাতের ভাষ্য, যার যেটি পছন্দ, সে সেটিতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে মানুষের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাইয়ের আন্দোলনকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭