শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩

Logo
Add Image
Pic

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।

 

আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।


শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

 

ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।

 

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

 

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, ইতিমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।

 

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা বলছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

 

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের।

 

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।

 

তিনি বলেন, জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।


ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।

 

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।


রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

 

তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের নিউবেরি পার্কস্থ অ্যাল্ডারবোরো সাউথের ফোর্ড স্পোর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের এক ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ফাউন্ডার ট্রাস্টি, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের পার্মানেন্ট মেম্বার এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার আলহাজ মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোমের ফাউন্ডার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিছবাহ জামাল ও ইয়াং ট্যালেন্ট প্রেজেন্টার তামান্না মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং পিস হোমের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

উল্লেখ্য, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটির কয়েকজন সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করা হয়।

 

ইতিপূর্বে লন্ডনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং চ্যানেল এসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে ২০২৬ লন্ডনের গ্র্যান্ড মেরিডিয়ানে লাইফ মেম্বারদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠান ও ফান্ডরেইজিং আয়োজন করা হয়।

 

এরই ধারাবাহিকতায় রেডব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন লাইফ মেম্বার সংগ্রহের লক্ষ্যে ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন নিজ উদ্যোগে এ ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অব রেডব্রিজ কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর বার্ট জন।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এস ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান, সেক্রেটারি সলিসিটর নাসির উদ্দীন, হাসপাতালের ফাউন্ডার ট্রাস্টি ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল শফিক এবং ডেপুটি ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মনজুর উস সামাদ চৌধুরী মামুন।

 

অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ সহযোগিতা করেন মার্কেটিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন এবং হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান। পরে ডা. ওমর মোহাম্মদ শাফির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মেডিকেল টিমের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আবদেল রহমান আল আশকার, শিয়েনা মার্টিন, মরগান ইগরেমন্ট, ডিনা রায়, আবরার আইমান, আচেলা আগাডা, মারকমল মিরজারাকিমভ, ওমর হামিদ, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের নাতনি পারিহান ওসমান এবং ভাগ্নে ইসরাহ হালিম।

 

পরবর্তীতে ফান্ডরেইজিং পর্ব শুরু হলে অতিথিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এ সময় মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের সহধর্মিণী সুফিয়া খানম উদ্দিনের নাম নতুন ট্রাস্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে নতুন লাইফ মেম্বার হিসেবে নাম ঘোষণা করেন সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের ফাউন্ডার মিছবাহ জামাল ও নাহিদা মিছবাহ, ওসমান মোহাম্মদ রাব্বি, ডা. মোহাম্মদ ওমর শাফি পিএইচডি, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নঈম উদ্দিন রিয়াজ, ফেরদৌসী জান্নাত আখতার, আতাউর খান, মাহবুবা জান্নাত মোহিনী, বিলকিস পারভিন, হিসমা বেগম, সাজনা খান, রওশন আহমেদ, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট আফসার হোসেন এনাম, কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জাবেদুর রহমান, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের পেট্রন মোহাম্মদ ওয়ারিছ আলী, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কবির আহমেদ, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহিন চৌধুরী, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ট্রেজারার এনামুল হক এনাম, গ্রেটার চারখাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জয়নুল চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভির প্রেজেন্টার সুজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টারের লাইফ মেম্বার ফখরুল আম্বিয়া, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক উদ্দিন, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, পেট্রন প্রফেসর মিসবাহ কামাল এবং পেট্রন নাজমুল হুদা।

 

এছাড়া সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের কয়েকজন পেট্রনও হাসপাতাল ফান্ডে অনুদান প্রদান করেন।

 

মাসিক জাকাত ফান্ডে স্ট্যান্ডিং অর্ডারের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন ও মিসেস সুফিয়া উদ্দিন, ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, মিসেস মাহবুবা আহমেদ, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মতিউর রহমান খোকন, নাবিল চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি, এলিন চৌধুরী, আমিনা বেগম, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, ফারুক উদ্দিন ও সুজিয়া চৌধুরী।

 

ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ট্রাস্টি ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার ইকবাল হোসেন বুলবুল, ডা. সৈয়দ মাসুক আহমদ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি নিয়াজ চৌধুরী সুভন, মাহবুবা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান কোরেশি, পারভেজ আহমেদ, আতিকুর রহমান লিটন, আবদাল হোসেন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, আলফিন শাহরিন, ডেইভ, ডা. আলী খিজির, আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ আনজাম চৌধুরী, ইউকে গ্রেটার দেওলগ্রামের মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, শাহিনা খানম, নাবিল চৌধুরী, জুবের খান, মিছবাহ উদ্দিন, ট্রাস্টি ও ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল সামাদ, চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা, সিনিয়র টিভি রিপোর্টার কামরুল আই রাসেল, এটিএন বাংলা ইউকের তানভির তারেক, টিএস চ্যানেলের শওকাত ইসলাম ফরাজি ও তানিয়া ফরাজি, মিসেস হাসনা বেগম, শাহাদাত মনির, নাঈম আহমেদ জয়সহ আরও অনেকে।

 

বক্তারা বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে স্পনসর ও সহযোগিতা প্রদান করে স্টেটাম রিয়েল এস্টেট, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোম, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট, কুশিস হোমমেইড নাগা পিকলস, আপেল রিয়েল এস্টেট, সাপোর্টিং কেয়ার রেডব্রিজ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্ট ইউকে, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, গ্রেটার দেওলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, গ্রেটার চারখাই ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ এবং চ্যানেল টিএস।

 

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত অতিথি, দাতা, লাইফ মেম্বার, ট্রাস্টি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পনসরদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 

Pic

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জনকল্যাণমূলক ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এবং এলাকাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম নির্বাচনী এলাকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা ধানের শীষ মার্কার একমাত্র প্রার্থী।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের আস্থা এবং বিশ্বসে একটি নাম মোহাম্মদ কামরুল হুদা।

 

রাশেদা বেগম হিরার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শামসুন নাহার হলের জিএস এবং ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল (MPhil) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ছিলেন।

 

তিনি বর্তমান সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জম্মস্থান চাঁদপুর তিনি চাাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় মহিলা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

বর্তমানে তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা-১১ তথা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও তদারকির বিশেষ দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের আস্থাভাজন নেতা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কামরুল হুদা এলাকাকে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ঈমাম/মুয়াজ্জিন কার্ড ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিতে বিভ্ন্নি মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রচেষ্টায় চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কাজের সূচনা হতে যাচ্ছে। নিন্দুকদের জ্ঞাতার্থে কামরুল হুদার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান বিষয় গুলো সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো।

 

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী কামরুল হুদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান Political Science স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সম্পদশালী ব্যাক্তি। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মো: কামরুল হুদা বলেন, “সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহযোগিতা সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে আমাদের কল্যাণমুখী কাজ অব্যাহত থাকবে।”
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
নগদ অর্থের সংকটে পড়া দেশের অন্যতম বৃহৎ বেসরকারি ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়েছে। চলতি হিসাবে নগদ জমার পরিমাণ দ্রুত কমে যাওয়া এবং বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত বা সিআরআর পূরণে ব্যর্থতার কারণে এ জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।

 

আজ মঙ্গলবার (৯ জুন, ২০২৬) সংশ্লিষ্ট সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। ব্যাংকটির কর্মকর্তারা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে গ্রাহকদের বড় অঙ্কের আমানত উত্তোলনের কারণে তারল্য পরিস্থিতি চাপের মুখে পড়েছে। এ অবস্থায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা ছাড়া নির্ধারিত নগদ সংরক্ষণ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

ব্যাংক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধু আর্থিক সূচক নয়, সাম্প্রতিক সময়ে পরিচালনা পর্ষদ পরিবর্তন ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তাও আমানতকারীদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে অর্থ উত্তোলনের হার বেড়েছে, যা তারল্য ঘাটতিকে আরও তীব্র করেছে।

 

চলতি হিসাবে দ্রুত কমছে অর্থ, চাপ সিআরআর ঘাটতিতে
ইসলামী ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে রাখা চলতি হিসাব বা প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টে আগে প্রায় ৭ হাজার ১৫ কোটি টাকা থাকলেও বর্তমানে তা কমে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি টাকায়। এই বড় পতনের কারণে বিধিবদ্ধ নগদ জমা অনুপাত পূরণে ঘাটতি তৈরি হয়েছে।

 

ব্যাংকটির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আমাদের চলতি হিসাব এখনো ইতিবাচক। তবে সিআরআর ঘাটতি তৈরি হয়েছে। আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই আমরা তারল্য সহায়তা চেয়েছি।”

 

সূত্রগুলো আরও জানায়, সাম্প্রতিক সময়ে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার বেশি আমানত ব্যাংক থেকে উত্তোলিত হয়েছে। ঈদ পরবর্তী কয়েক কার্যদিবসেই এই চাপ আরও বেড়ে যায়।

 

অনিয়মের অতীত ও নতুন করে তৈরি হওয়া অস্থিরতা
ব্যাংকটির সংকট নতুন নয়। ২০২২ সাল থেকেই এস আলম গ্রুপের সময়কার নামে বেনামে ঋণ বিতরণ এবং অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে ব্যাংকটি তারল্য চাপে পড়ে। পরবর্তীতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপে পর্ষদ পুনর্গঠন করা হলেও পুরোপুরি স্থিতিশীলতা ফিরে আসেনি।

 

২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর সুশাসন ফেরাতে বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন করে ব্যাংকটিতে প্রশাসনিক পরিবর্তন আনে। এরপর ২৪ মে বাংলাদেশ ব্যাংকের পরামর্শে চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেন এবং সাবেক ডেপুটি গভর্নর খুরশীদ আলম নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পান।

 

এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে একটি অংশ ‘ইসলামী ব্যাংক গ্রাহক ফোরাম’ ব্যানারে আন্দোলন শুরু করে, যা টানা কয়েক দিন ধরে চলতে থাকে। আন্দোলনকারীদের দাবি, নতুন চেয়ারম্যানের নিয়োগ বাতিল করতে হবে।

 

তবে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ বলছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং গ্রাহকের আস্থা ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইসলামী ব্যাংকের তারল্য সহায়তার আবেদন পাওয়া গেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

 

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বড় ব্যাংকে আস্থার সংকট তৈরি হলে তা পুরো ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে বড় আমানতকারীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হলে তারল্য পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যেতে পারে।

 

এদিকে ব্যাংকটির পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সহায়তা পাওয়া গেলে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে। 
 

আলোচিত খবর

Pic

রহমত আরিফ, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি:
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের প্রথম ঠাকুরগাঁও সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে পুরো জেলাজুড়ে। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে শহরের সড়ক, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় চলছে রঙের কাজ। পাশাপাশি চলছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। রাষ্ট্রপতির আগমনে আনন্দ-উচ্ছ্বাসের পাশাপাশি জেলার উন্নয়ন নিয়েও নতুন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে।

 

আগামী ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বর দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসার কথা রয়েছে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের। সফরকে সামনে রেখে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও বিভিন্ন স্থাপনা সাজিয়ে তোলার কাজ চলছে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে চলছে নাগরিক সংবর্ধনার মঞ্চ নির্মাণের কাজও।


শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সড়কের ডিভাইডারগুলোতে নতুন করে রঙ করা হচ্ছে। পরিষ্কার করা হচ্ছে সড়কের পাশের বিভিন্ন এলাকা। গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও সড়কগুলোকে আরও দৃষ্টিনন্দন করে তুলতে চলছে নানা প্রস্তুতি। রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নিতে সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও দেখা গেছে উৎসাহ-উদ্দীপনা।

 

স্থানীয় বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে, মানুষের মধ্যেও উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।

 

ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে, ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।

 

গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি ঠাকুরগাঁওয়ের সন্তান হওয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর থেকেই আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠেন জেলার মানুষ। এবার রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবারের মতো নিজ জেলায় আসায় সেই আনন্দ আরও বেড়েছে।


স্থানীয়দের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির সফরের মধ্য দিয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে নতুন উদ্যোগ নেয়া হবে। বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

 

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশাও অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।

 

স্থানীয় বাসিন্দা জব্বার আলী বলেন, ইতিমধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ আরও অনেক উদ্যোগ নিয়েছেন এবং সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।

 

রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে স্মরণীয় করে রাখতে নাগরিক সমাজের উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে নাগরিক সংবর্ধনার। আয়োজকরা বলছেন, দল-মত নির্বিশেষে এতে বিপুলসংখ্যক মানুষের অংশগ্রহণ থাকবে। সংবর্ধনা সফল করতে দিনরাত কাজ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফরকে ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক আনন্দ-উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।

 

রাষ্ট্রপতি হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নির্বাচিত হওয়াকে নিজেদের উৎসব হিসেবেই দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, দীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে উঠে আসা একজন মানুষের রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আসীন হওয়া ঠাকুরগাঁওবাসীর জন্য গর্বের।

 

সচেতন নাগরিক ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ আনন্দ-উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।

 

তিনি বলেন, জনগণ মনে করেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যেন শুধু রাষ্ট্রপতি হননি, বরং তার মাধ্যমে সাধারণ জনগণই রাষ্ট্রপতি হয়েছেন। কারণ তিনি রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ে বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাই তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকেই মূল্যায়ন করা। তিনি কোনোভাবেই উড়ে এসে জুড়ে বসা মানুষ নন; দীর্ঘ সংগ্রাম ও রাজনৈতিক পথচলার মধ্য দিয়েই আজ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পেয়েছেন। তাই একজন সাধারণ, খেটে খাওয়া ও সংগ্রামী মানুষের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে মানুষ তার দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের মূল্যায়ন এবং সাধারণ মানুষেরই সম্মান হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা।

 

এদিকে রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জোরদার করা হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, স্থাপনা ও অনুষ্ঠানস্থলে বাড়ানো হয়েছে নজরদারি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদেরও সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে। রাষ্ট্রপতির নিরাপত্তায় নিয়োজিত স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে এসে নিরাপত্তা প্রস্তুতি শুরু করেছেন।


ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির ৬ ও ৭ সেপ্টেম্বরের সফরকে কেন্দ্র করে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের কাজ শুরু হয়েছে। ৫ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাব। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।

 

সফরের প্রথম দিন রোববার রাষ্ট্রপতির বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত ও নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেয়ার কথা রয়েছে। পরদিন সোমবার ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কথা রয়েছে তার।


রাষ্ট্রপতির আগমনকে সামনে রেখে রঙের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ঠাকুরগাঁও শহরের চিত্র। শহরজুড়ে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। একদিকে রাষ্ট্রপতিকে বরণ করে নেয়ার আনন্দ, অন্যদিকে জেলার উন্নয়ন নিয়ে নতুন প্রত্যাশা—সব মিলিয়ে এখন উৎসবের আমেজে অপেক্ষায় ঠাকুরগাঁওবাসী।

 

তাদের প্রত্যাশা, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর শুধু আনন্দ-উৎসবেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং ঠাকুরগাঁওয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামো উন্নয়নে তৈরি করবে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
রোববার (২৩ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টায় লন্ডনের নিউবেরি পার্কস্থ অ্যাল্ডারবোরো সাউথের ফোর্ড স্পোর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল ক্লাবে বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের এক ফান্ডরেইজিং ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে।

 

হাসপাতাল ফাউন্ডেশনের অন্যতম ফাউন্ডার ট্রাস্টি, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার, ঐতিহাসিক বাংলাদেশ সেন্টারের পার্মানেন্ট মেম্বার এবং লন্ডন বাংলা প্রেস ক্লাবের লাইফ মেম্বার আলহাজ মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন। সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোমের ফাউন্ডার এবং মিডিয়া ব্যক্তিত্ব মিছবাহ জামাল ও ইয়াং ট্যালেন্ট প্রেজেন্টার তামান্না মিয়ার যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি পরিচালিত হয়। অনুষ্ঠানের সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং পিস হোমের চেয়ারপারসন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী।

 

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

উল্লেখ্য, সিলেটসহ পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের ক্যান্সার রোগীদের উন্নত চিকিৎসাসেবা প্রদানের লক্ষ্য নিয়ে যুক্তরাজ্যপ্রবাসী কমিউনিটির কয়েকজন সমাজসেবী ব্যক্তিত্ব বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ২০০৯ সালে হাসপাতাল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ২০১৫ সাল থেকে রোগীদের চিকিৎসাসেবা প্রদান শুরু করা হয়।

 

ইতিপূর্বে লন্ডনে বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং চ্যানেল এসের মাধ্যমে বিভিন্নভাবে ফান্ডরেইজিং কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। সর্বশেষ গত ২৪ মে ২০২৬ লন্ডনের গ্র্যান্ড মেরিডিয়ানে লাইফ মেম্বারদের সম্মানে একটি অনুষ্ঠান ও ফান্ডরেইজিং আয়োজন করা হয়।

 

এরই ধারাবাহিকতায় রেডব্রিজ ও আশপাশের এলাকায় নতুন লাইফ মেম্বার সংগ্রহের লক্ষ্যে ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন নিজ উদ্যোগে এ ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লন্ডন বারা অব রেডব্রিজ কাউন্সিলের মেয়র কাউন্সিলর বার্ট জন।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চ্যানেল এস ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের ইউকে কমিটির চেয়ারম্যান আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান, সেক্রেটারি সলিসিটর নাসির উদ্দীন, হাসপাতালের ফাউন্ডার ট্রাস্টি ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, সিনিয়র ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল শফিক এবং ডেপুটি ফাইন্যান্স ডিরেক্টর মনজুর উস সামাদ চৌধুরী মামুন।

 

অনুষ্ঠান সফল করতে বিশেষ সহযোগিতা করেন মার্কেটিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি ফরহাদ হোসেন টিপু এবং হাসপাতালের ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর ও ফাউন্ডার ট্রাস্টি মোহাম্মদ আজিজুর রহমান।

 

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন আয়োজক মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন এবং হাসপাতালের চেয়ারম্যান সুহেল আহমেদ খান। পরে ডা. ওমর মোহাম্মদ শাফির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল টিম বিভিন্ন রোগ ও স্বাস্থ্যসচেতনতা বিষয়ে বক্তব্য উপস্থাপন করেন। মেডিকেল টিমের সদস্যদের মধ্যে ছিলেন আবদেল রহমান আল আশকার, শিয়েনা মার্টিন, মরগান ইগরেমন্ট, ডিনা রায়, আবরার আইমান, আচেলা আগাডা, মারকমল মিরজারাকিমভ, ওমর হামিদ, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের নাতনি পারিহান ওসমান এবং ভাগ্নে ইসরাহ হালিম।

 

পরবর্তীতে ফান্ডরেইজিং পর্ব শুরু হলে অতিথিদের পক্ষ থেকে ব্যাপক সাড়া পাওয়া যায়। এ সময় মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিনের সহধর্মিণী সুফিয়া খানম উদ্দিনের নাম নতুন ট্রাস্টি হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

 

অনুষ্ঠানে নতুন লাইফ মেম্বার হিসেবে নাম ঘোষণা করেন সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের ফাউন্ডার মিছবাহ জামাল ও নাহিদা মিছবাহ, ওসমান মোহাম্মদ রাব্বি, ডা. মোহাম্মদ ওমর শাফি পিএইচডি, বিশিষ্ট কমিউনিটি নেতা নঈম উদ্দিন রিয়াজ, ফেরদৌসী জান্নাত আখতার, আতাউর খান, মাহবুবা জান্নাত মোহিনী, বিলকিস পারভিন, হিসমা বেগম, সাজনা খান, রওশন আহমেদ, গোলাপগঞ্জ এডুকেশন ট্রাস্টের প্রেসিডেন্ট আফসার হোসেন এনাম, কমিউনিটি নেতা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, জাবেদুর রহমান, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের পেট্রন মোহাম্মদ ওয়ারিছ আলী, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের কবির আহমেদ, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা বাংলাদেশের চেয়ারম্যান শাহিন চৌধুরী, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ট্রেজারার এনামুল হক এনাম, গ্রেটার চারখাই অ্যাসোসিয়েশনের সেক্রেটারি জয়নুল চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান হেলাল চৌধুরী, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভির প্রেজেন্টার সুজিয়া চৌধুরী, বাংলাদেশ সেন্টারের লাইফ মেম্বার ফখরুল আম্বিয়া, রেডব্রিজ ট্রাস্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফারুক উদ্দিন, সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান মানিক মিয়া, পেট্রন প্রফেসর মিসবাহ কামাল এবং পেট্রন নাজমুল হুদা।

 

এছাড়া সানরাইজ স্পেকট্রাম পিস হোমের কয়েকজন পেট্রনও হাসপাতাল ফান্ডে অনুদান প্রদান করেন।

 

মাসিক জাকাত ফান্ডে স্ট্যান্ডিং অর্ডারের মাধ্যমে অনুদান দেওয়ার অঙ্গীকার করেন আহমেদ উস সামাদ চৌধুরী জেপি, মোহাম্মদ অহিদ উদ্দিন ও মিসেস সুফিয়া উদ্দিন, ডা. আলাউদ্দিন আহমেদ, মিসেস মাহবুবা আহমেদ, শহিদুল ইসলাম চৌধুরী, মতিউর রহমান খোকন, নাবিল চৌধুরী, ব্যারিস্টার হামিদুল হক আফিন্দি, এলিন চৌধুরী, আমিনা বেগম, মোহাম্মদ আব্দুল হালিম, ফারুক উদ্দিন ও সুজিয়া চৌধুরী।

 

ফান্ডরেইজিং অনুষ্ঠানে কমিউনিটির বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার অতিথিরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনায় অংশ নেন বিয়ানীবাজার ক্যান্সার হাসপাতালের ট্রাস্টি ও হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল সিলেটের পার্মানেন্ট ডোনার মেম্বার ইকবাল হোসেন বুলবুল, ডা. সৈয়দ মাসুক আহমদ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্টের জয়েন্ট সেক্রেটারি নিয়াজ চৌধুরী সুভন, মাহবুবা আহমেদ, মাহবুবুর রহমান কোরেশি, পারভেজ আহমেদ, আতিকুর রহমান লিটন, আবদাল হোসেন চৌধুরী, সাজ্জাদুর রহমান, আলফিন শাহরিন, ডেইভ, ডা. আলী খিজির, আব্দুল হালিম, মোহাম্মদ আনজাম চৌধুরী, ইউকে গ্রেটার দেওলগ্রামের মোহাম্মদ সুলতান আহমদ, শাহিনা খানম, নাবিল চৌধুরী, জুবের খান, মিছবাহ উদ্দিন, ট্রাস্টি ও ফান্ডরেইজিং ডিরেক্টর আব্দুল সামাদ, চ্যানেল এসের চিফ রিপোর্টার রেজাউল করিম মৃধা, সিনিয়র টিভি রিপোর্টার কামরুল আই রাসেল, এটিএন বাংলা ইউকের তানভির তারেক, টিএস চ্যানেলের শওকাত ইসলাম ফরাজি ও তানিয়া ফরাজি, মিসেস হাসনা বেগম, শাহাদাত মনির, নাঈম আহমেদ জয়সহ আরও অনেকে।

 

বক্তারা বিয়ানীবাজার ক্যান্সার অ্যান্ড জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সবাইকে আন্তরিকভাবে সহযোগিতা ও ফান্ডরেইজিং কার্যক্রমে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।

 

অনুষ্ঠানে স্পনসর ও সহযোগিতা প্রদান করে স্টেটাম রিয়েল এস্টেট, সানরাইজ স্পেকট্রাম বাংলা রেডিও টিভি ও পিস হোম, ফ্রেন্ডস অব ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন সিলেট, কুশিস হোমমেইড নাগা পিকলস, আপেল রিয়েল এস্টেট, সাপোর্টিং কেয়ার রেডব্রিজ, রেডব্রিজ কমিউনিটি ট্রাস্ট ইউকে, রেডব্রিজ ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন ইউকে, গ্রেটার দেওলগ্রাম ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট, গ্রেটার চারখাই ডেভেলপমেন্ট অ্যাসোসিয়েশন, জাগ্রত নারী উন্নয়ন সংস্থা, ব্রিটিশ বাংলাদেশি সোশ্যাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ প্রবাসী কল্যাণ পরিষদ এবং চ্যানেল টিএস।

 

অনুষ্ঠান শেষে আয়োজক ও সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত অতিথি, দাতা, লাইফ মেম্বার, ট্রাস্টি, স্বেচ্ছাসেবক এবং স্পনসরদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের পশ্চিমবঙ্গের কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহত সবাই বাংলাদেশের নাগরিক বলে জানিয়েছে কলকাতা পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আহতের সংখ্যা অন্তত ৬ থেকে ৮ জন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

বুধবার (১৯ আগস্ট) ভোররাতে মির্জা গালিব স্ট্রিটের শিখা ইন হোটেলে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর দ্রুত ভবনজুড়ে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। দমকলকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান চালান। পরে উদ্ধার করা কয়েকজনকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাঁদের মৃত ঘোষণা করেন। নিহতদের মধ্যে ছয়জন পুরুষ, দুইজন নারী ও একটি শিশু রয়েছে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

 

নিহতরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক এবং চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসে ওই হোটেলে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। আহতদের কলকাতা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, হোটেলের তৃতীয় তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। অল্প সময়ের মধ্যেই ধোঁয়া বিভিন্ন কক্ষ ও চলাচলের জায়গায় ছড়িয়ে পড়ায় আবাসিকদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। ভবনটির সরু সিঁড়ি ও জরুরি বের হওয়ার ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যাপ্ত ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে।

 

স্থানীয়দের অভিযোগ, ভবনটিতে একাধিক হোটেল পরিচালিত হচ্ছিল এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত বের হয়ে আসার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত কোনো নির্দিষ্ট অনিয়ম বা প্রয়োজনীয় অনুমোদন না থাকার অভিযোগ।

 

অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করেছে। প্রাথমিক তদন্তে অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জরুরি নির্গমন ব্যবস্থার বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

 

এ ঘটনায় কলকাতায় অবস্থানরত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং আবাসিক হোটেলগুলোর অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
 

Pic

টাঙ্গাইল দর্পণ আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
সৌদি আরবের রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ১৬ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি নিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

 

আজ সোমবার (১০ আগস্ট, ২০২৬) এক বার্তায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে। পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর পরিবারের সঙ্গে সমন্বয় করে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

এর আগে রোববার (৯ আগস্ট) স্থানীয় সময় দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে রিয়াদের শিফা থানাধীন মুসা সানাইয়া শিল্প এলাকায় ওই সোফা কারখানায় আগুন লাগে। খবর পাওয়ার পরপরই সৌদি ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। স্থানীয় সময় রাত ১১টার দিকে উদ্ধার অভিযান শেষ হয়।

 

বাংলাদেশ দূতাবাসের লেবার উইংয়ের তথ্য অনুযায়ী, কারখানা থেকে ১৬টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই কারখানায় মোট ১৭ জন বাংলাদেশি কর্মী কাজ করতেন। তাদের মধ্যে হাবিবুর রহমান হাবিব নামে একজন ঘটনার সময় বাইরে থাকায় প্রাণে বেঁচে যান।

 

হাবিবুরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আগুন লাগার কিছুক্ষণ আগে তিনি চুল কাটাতে সেলুনে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে ফিরে এসে কারখানাটিতে আগুন জ্বলতে দেখেন। ফলে ভেতরে থাকা বাকি ১৬ জনের কেউ আর বের হতে পারেননি।

 

প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। স্থানীয় ফায়ার সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে আটজন সরাসরি আগুনে পুড়ে মারা যান। বাকিরা কালো ধোঁয়ায় শ্বাস বন্ধ হয়ে মারা যান।

 

নিহতদের মধ্যে নওগাঁর আত্রাই, নাটোরের নলডাঙ্গা ও রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দারাও রয়েছেন। নিহত ১৬ বাংলাদেশির মধ্যে সাব্বির ও শামিম নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার এবং শ্যামল রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার বাসিন্দা ছিলেন। নিহতদের মধ্যে ফরিদ, শুভ, মো. রুবেল প্রামাণিক, সুমন, মো. কলিম উদ্দিন, মো. মোহন, মো. সুমন, মিনহাজ, হৃদয়, শাহিন, আব্দুল জলিল, মজিদুল, সাগর, শামিম, সাব্বির ও শ্যামল রয়েছেন।

 

অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পর রিয়াদে বাংলাদেশ দূতাবাসের একটি প্রতিনিধি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে যায়। নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা, আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং মরদেহ দেশে ফেরানোর বিষয়ে দূতাবাস সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করছে।

 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঘটনাটি তারা সার্বক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। নিহতদের মৃত্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম গভীর শোক জানিয়েছেন। তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে সরকারের পক্ষ থেকে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

 

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত প্রবাসীদের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু অত্যন্ত হৃদয়বিদারক।

 

মন্ত্রী জানান, সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে দুর্ঘটনাস্থল ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

 

সৌদি আরব বাংলাদেশের অন্যতম বড় শ্রমবাজার। বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি সেখানে বিভিন্ন পেশায় কাজ করছেন। ফলে রিয়াদের এই অগ্নিকাণ্ডে একসঙ্গে ১৬ বাংলাদেশির মৃত্যুতে প্রবাসী শ্রমিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নতুন করে সামনে এসেছে।

 

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতদের পরিচয় শনাক্তকরণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর পরিবারের সম্মতি অনুযায়ী মরদেহ দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।
 

Add

Site Counter

Online

135

Total

68k

Pic

মোঃ নুর আলম, গোপালপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি: 
টাঙ্গাইলের গোপালপুরে পাগলা শেয়ালের হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন। এ সময় চারটি ছাগল ও একটি গরুকে কামড় দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে ।

 

আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬) উপজেলার নগদা শিমলা ইউনিয়নের জামতৈল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে একটি শেয়াল জামতৈল এলাকায় চারটি ছাগলের ওপর হামলা করে। পরে দুপুর ২টার দিকে শেয়ালটি স্থানীয় রোকনের বাড়িতে ঢুকে একটি গরুকে আক্রমণ করে। এ সময় রোকনের স্ত্রী সাজেদা বেগমকে কামড় দেয়।

 

পরে একই এলাকার রহিম, পিতা মৃত আব্দুল গনি, এবং আরও একজনকে শেয়ালটি কামড় দেয় বলে জানা গেছে।

 

আহতদের উদ্ধার করে গোপালপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। আক্রান্ত গরুটিকেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

 

আহত সাজেদা বেগমের স্বামী ফরহাদ আলী বলেন, ‘শেয়ালটি বাড়িতে ঢুকে গরুকে আক্রমণ করে। এ সময় আমার স্ত্রীসহ আরও দুজনকে কামড় দেয়। আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গরুটিকেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।’

 

এ ঘটনায় জামতৈলসহ আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। শেয়ালটি শনাক্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
 


Pic

নিজস্ব প্রতিনিধি:
আজ ১ আগস্ট ২০২৬ শনিবার টাঙ্গাইলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত "জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬"-এর ফাইনাল ম্যাচ উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শিরোপা নির্ধারণী এ ম্যাচে টাঙ্গাইল সদর উপজেলা ১-০ গোলের ব্যবধানে গোপালপুর উপজেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে।

 

ফাইনাল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠজুড়ে ছিল দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি ও উৎসাহ-উদ্দীপনা। শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিলেও শেষ পর্যন্ত টাঙ্গাইল সদর উপজেলা একটি গুরুত্বপূর্ণ গোল করে জয় নিশ্চিত করে শিরোপা নিজেদের করে নেয়।

 

ফাইনাল খেলায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, এমপি। উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব আমিনুল হক।

 

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী জনাব শরীফুল হক, এমপি, টাঙ্গাইল-২ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ আবদুস সালাম পিন্টু, টাঙ্গাইল-৪ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ লুৎফর রহমান এবং টাঙ্গাইল-৬ আসনের মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব মোঃ রবিউল আওয়াল।

 

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ও বিজ্ঞ জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, টাঙ্গাইল জনাব শরীফা হক।

 

খেলা শেষে অতিথিবৃন্দ চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দলের খেলোয়াড়দের মাঝে ট্রফি, মেডেল ও পুরস্কার বিতরণ করেন। এ সময় তাঁরা খেলাধুলার মাধ্যমে যুবসমাজকে মাদক ও অপরাধমুক্ত রেখে সুস্থ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

 

জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এ টুর্নামেন্টে জেলার বিভিন্ন উপজেলার অংশগ্রহণে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিযোগিতামূলক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়। জমজমাট ফাইনালের মধ্য দিয়ে সফলভাবে পর্দা নামল জেলা প্রশাসক গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট-২০২৬-এর।

 

টুর্নামেন্টের সমাপনী আয়োজনকে ঘিরে ক্রীড়াপ্রেমী দর্শক, জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কর্মকর্তা, বিভিন্ন দপ্তরের প্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে পুরো অনুষ্ঠান প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
 

চৌদ্দগ্রামকে আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করছেন রাশেদা বেগম হীরা ও মোহাম্মদ কামরুল হুদা

চৌদ্দগ্রাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনে জনকল্যাণমূলক ও সার্বিক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ত্বরান্বিত করতে এবং এলাকাকে একটি আধুনিক মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে একযোগে কাজ করে যাচ্ছেন বিএনপির দুই শীর্ষ নেতা—গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য রাশেদা বেগম হীরা ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি এবং জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা-১১ চৌদ্দগ্রাম নির্বাচনী এলাকার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল তথা ধানের শীষ মার্কার একমাত্র প্রার্থী।মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেবের আস্থা এবং বিশ্বসে একটি নাম মোহাম্মদ কামরুল হুদা।

 

রাশেদা বেগম হিরার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি:
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৭৯ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে ছাত্র রাজনীতিতে যুক্ত হন রাশেদা বেগম হীরা। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়টির শামসুন নাহার হলের জিএস এবং ভিপি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

 

১৯৮১ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর (এমএ) এবং ১৯৯০ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমফিল (MPhil) ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ৮ম ও ৯ম জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত আসনের নারী সংসদ সদস্য ছিলেন।

 

তিনি বর্তমান সরকারের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাঁর জম্মস্থান চাঁদপুর তিনি চাাঁদপুর জেলা মহিলা দলের সভাপতিসহ কেন্দ্রীয় মহিলা দলে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

 

বর্তমানে তিনি বিএনপি কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কুমিল্লা-১১ তথা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়ন ও তদারকির বিশেষ দায়িত্ব তিনি নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাচ্ছেন।

 

অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রামের সর্বস্তরের মানুষের আস্থাভাজন নেতা, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো: কামরুল হুদা এলাকাকে মাদকমুক্ত করার পাশাপাশি স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ খাতের অভূতপূর্ব উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করছেন।

 

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে তিনি বিভিন্ন এলাকায় ফ্যামিলি কার্ড, কৃষি কার্ড, ঈমাম/মুয়াজ্জিন কার্ড ও উন্নত স্বাস্থ্যসেবাসহ সরকারি বরাদ্দ নিশ্চিতে বিভ্ন্নি মন্ত্রণালয়ে আবেদন জানিয়েছেন। ইতোমধ্যে তাঁর প্রচেষ্টায় চৌদ্দগ্রামের বিভিন্ন খাতে উন্নয়ন কাজের সূচনা হতে যাচ্ছে। নিন্দুকদের জ্ঞাতার্থে কামরুল হুদার শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ অন্যান বিষয় গুলো সংক্ষিপ্ত আকারে তুলে ধরা হলো।

 

শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী কামরুল হুদা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান Political Science স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় একজন সফল ব্যবসায়ী এবং সম্পদশালী ব্যাক্তি। মাঠপর্যায়ের রাজনীতিতে বিএনপিকে সুসংগঠিত রাখতে ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে তিনি দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছেন।

 

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে মো: কামরুল হুদা বলেন, “সরকারি সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ও সাহায্য-সহযোগিতা সাধারণ মানুষের কাছে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার সঙ্গে পৌঁছে দিতে আমরা বদ্ধপরিকর। চৌদ্দগ্রামের প্রতিটি পাড়া, মহল্লা ও ইউনিয়নে সংগঠনকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিতে আমাদের কল্যাণমুখী কাজ অব্যাহত থাকবে।”
 

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি: ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে দুঃখপ্রকাশ হাসনাত আবদুল্লাহর

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ব্রাহ্মণবা‌ড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝা‌বু‌ঝি সৃ‌ষ্টি হওয়ায় দুঃখপ্রকাশ করেছেন কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ।

 

কিশোরগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ লাইন্সে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৌকাবাইচ বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নিয়ে জাতীয় সংসদে দেওয়া বক্তব্যের জন্য আজ শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ দুঃখপ্রকাশ করেন।

 

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহিতা চেয়ে সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হয়েছে। এ জন্য তিনি দুঃখপ্রকাশ করেন।

 

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি মন্তব্য করেছেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা অনেকটা নিষিদ্ধের মতো। তার দাবি, এ বক্তব্যের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজের মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ ও আলেম-ওলামাদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশের কনসার্ট বন্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে হাসনাত বলেন, গণমাধ্যমে ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল, বাস্তব চিত্র ছিল ভিন্ন। গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল। এ কারণে শিক্ষার্থীরা শব্দ কমানোর অনুরোধ করেছিলেন।

 

তার ভাষ্য, এ নিয়ে পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি থেকে পরবর্তী ঘটনা ঘটে এবং পুলিশের লাঠিপেটায় কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তবে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা কনসার্ট বন্ধ করেননি; তারা শুধু শব্দ কমাতে বলেছিলেন।

 

হাসনাত বলেন, এর অর্থ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ নয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষ সম্পর্কে ভুল বার্তা গেছে এবং তাদের ছোট করা হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

নৌকাবাইচের প্রসঙ্গে নিজের তথ্যগত ভুল স্বীকার করে হাসনাত বলেন, সিলেটের জায়গায় ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বলে ফেলেছিলেন। এ ত্রুটির কারণে অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় তিনি বিব্রত এবং এ জন্য দুঃখপ্রকাশ করছেন।

 

তবে তিনি বলেন, মূল ঘটনা কী ছিল এবং গণমাধ্যমে বিষয়টি কীভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, তা নিয়ে সংসদে বিস্তারিত কথা বলা উচিত ছিল। কিন্তু সম্পূরক প্রশ্নের সময় সীমিত থাকায় বিস্তারিত বলার সুযোগ হয়নি।

 

পোস্টে হাসনাত আরও বলেন, তিনি ও তার দল জুলাইয়ের আদর্শ ধারণ করেন এবং সব নীতি ও সিদ্ধান্ত সেই আদর্শের ভিত্তিতেই নিতে চান। তার মতে, জুলাই একটি সর্বজনীন সমাজের স্বপ্ন দেখায়, যেখানে সব মানুষের অধিকার নিশ্চিত থাকবে এবং কেউ কারও মত বা দৃষ্টিভঙ্গি অন্যের ওপর চাপিয়ে দেবে না।

 

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সবার। এখানে মসজিদ, মন্দির, সংগীত, ওয়াজ, মাজার, কনসার্ট, মাহফিল, রথযাত্রা ও সিনেমা উৎসব—সবই থাকবে। পাশাপাশি বিজ্ঞ আলেমদের আলোচনারও সুযোগ থাকবে।

 

হাসনাতের ভাষ্য, যার যেটি পছন্দ, সে সেটিতে অংশ নেবে; আর যার পছন্দ নয়, সে সেখানে যাবে না। সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে, কেউ যেন অন্যের অধিকার ক্ষুণ্ন করতে না পারে।

 

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার বর্তমানে মানুষের সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারছে না। এর ফলে সমতার বাংলাদেশ গড়ার প্রচেষ্টা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। জুলাইয়ের আন্দোলনকে ধর্ম-বর্ণ-শ্রেণি নির্বিশেষে সবার আন্দোলন উল্লেখ করে হাসনাত বলেন, এটি ছিল মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার এবং সর্বজনীন সমাজ গড়ার আন্দোলন। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যকে সম্মান করে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
 

‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিত!’ নুরুল হক নুরের পুরোনো পোস্ট শেয়ার করে ‘সহমত’ জানালেন আমির হামজা

টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুরের একটি পুরোনো ফেসবুক পোস্ট শেয়ার করে তাতে ‘সহমত’ জানিয়েছেন মুফতি আমির হামজা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নুরুল হক নুরের ওই পোস্টটি শেয়ার করেন তিনি।

 

শেয়ার করা পোস্টটি নুরুল হক নুরের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই প্রকাশিত হয়েছিল বলে পোস্টের তথ্য থেকে জানা যায়। ওই পোস্টে নুর লিখেছিলেন, ‘সুযোগ-সুবিধার জন্য দল পরিবর্তনকারীরা রাজনৈতিক পতিতা! যারা পতিতার মতো টাকা/সুযোগ-সুবিধায় বিক্রি হয়, এদের থেকে ভালো কিছু পাওয়ার আছে?’

 

পরবর্তীতে মুফতি আমির হামজা তার নিজের ফেসবুক টাইমলাইনে নুরুল হক নুরের ওই পুরোনো পোস্টটি শেয়ার করেন। শেয়ার করার সময় তিনি পোস্টটির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য হিসেবে ‘সহমত’ লেখেন।

 

পুরোনো পোস্ট নতুন করে আলোচনায়
নুরুল হক নুরের মূল পোস্টটি প্রকাশের সময় তিনি মূলত সুযোগ-সুবিধার বিনিময়ে রাজনৈতিক দল পরিবর্তনকারীদের সমালোচনা করেছিলেন। তবে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে দেওয়া ওই বক্তব্যে কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা দলের নাম উল্লেখ করা হয়েছিল কি না, তা উদ্ধৃত অংশ থেকে স্পষ্ট নয়।

 

প্রায় এক বছর পর মুফতি আমির হামজা পোস্টটি পুনরায় শেয়ার করায় নুরের পুরোনো মন্তব্যটি নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনায় আসে। বিশেষ করে আমির হামজার ‘সহমত’ মন্তব্যের কারণে তিনি নুরের বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করছেন—এমন অর্থই তার প্রকাশিত মন্তব্য থেকে প্রতীয়মান হয়।

 

তবে ‘সহমত’ মন্তব্যের বাইরে আমির হামজা এ বিষয়ে কোনো বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে উল্লেখ করার মতো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।

 

বক্তব্যের প্রেক্ষাপট
রাজনীতিতে দল পরিবর্তন, রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন এবং ব্যক্তিগত বা দলীয় স্বার্থে রাজনৈতিক আনুগত্য বদলের বিষয়টি বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় এসেছে। নুরুল হক নুরের ২০২৫ সালের ওই পোস্টটিও সেই রাজনৈতিক বিতর্কেরই একটি বক্তব্য হিসেবে দেখা যায়।

 

তবে একটি পুরোনো রাজনৈতিক বক্তব্যকে বর্তমান সময়ের কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্যের পূর্ণ প্রেক্ষাপট এবং পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাপ্রবাহ যাচাই করা প্রয়োজন।

 

এ ক্ষেত্রে নুরুল হক নুরের পোস্টটি ১৩ জুলাই ২০২৫ সালের এবং আমির হামজার শেয়ারটি ১৮ আগস্ট ২০২৬ সালের—এই সময়গত পার্থক্যটিও প্রতিবেদনে বিবেচনায় রাখা জরুরি।

 

উল্লেখ্য: নুরুল হক নুরের মূল পোস্ট ও মুফতি আমির হামজার শেয়ার করা পোস্টের তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত পোস্টের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূল পোস্টের পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অতিরিক্ত বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা যেতে পারে।
 

Pic

ব্রিটিশ কাউন্সিলের ‘ওয়াও – উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড’ গ্র্যান্টস ২০২৫–২০২৬ -এর আবেদন গ্রহণ শুরু

লিঙ্গ-বৈষম্যের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় কাজ করছেন বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত এমন শিল্পী এবং ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটের শিল্প ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে আবেদন করার আহ্বান

ঢাকা, ০২  নভেম্বর, ২০২৫

উইমেন অব দ্য ওয়ার্ল্ড (ওয়াও) গ্রান্টস ২০২৫ -এ আবেদন গ্রহণ শুরু করেছে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত শিল্পী, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলির জন্য দুই ধরনের গ্রান্ট প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে সংস্থাটি।  শিল্প, সংস্কৃতি, লৈঙ্গিক সমতা এবং  সমকালীন সমাজের নানা বিষয় নিয়ে প্রস্তাবনা পাঠানো যাবে আগামী  ১৬ নভেম্বর রাত ১১টা ৫৯ মিনিট (বাংলাদেশ সময়) পর্যন্ত। এছাড়াও আগ্রহী আবেদনকারীদের জন্য ব্রিটিশ কাউন্সিল একটি ইনফরমেশন ওয়েবিনারের আয়োজন করেছে যা আয়োজিত হবে আগামী বৃহস্পতিবার ৬ নভেম্বর ২০২৫, বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে (বাংলাদেশ সময়)। এ সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে এবং ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে ভিজিট করুন ব্রিটিশ কাউন্সিল বাংলাদেশ ওয়েবসাইট।

 

বিশ্বজুড়েই লৈঙ্গিক সমতা অর্জন করা জরুরি এবং অর্জন সম্ভবও, এ বিশ্বাস নিয়ে কাজ করে বৈশ্বিক উদ্যোগ ‘ওয়াও-উইমেন অফ দ্য ওয়ার্ল্ড।’ ২০১৭ সালে প্রথমবারের মত বাংলাদেশে আয়োজিত হয় ওয়াও।  বিভাগীয় পর্যায়ে আয়োজিত এই ‘ওয়াও ফেস্টিভ্যাল’ পর্যায়ক্রমে ২০১৯ সালে ঢাকায় জাতীয় উৎসব হিসেবে আয়োজিত হয়। এবারের ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫–২০২৬’ -এর জন্য শিল্পী এবং সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠনগুলোকে শিল্পমাধ্যমে অথবা সাংস্কৃতিক কাজ বা উদ্যোগের মাধ্যমে লৈঙ্গিক সমতা নিয়ে কাজ করবে এমন প্রকল্পের প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানানো হচ্ছে; যেখানে এই থিমগুলির এক বা একাধিক থাকতে হবেঃ ১) চলচ্চিত্র, চলমান চিত্র ও মিডিয়া অ্যাস্থেটিকস; ২) হাইপারঅবজেক্ট মিটস হাইপারঅবজেক্ট: লৈঙ্গিক সমতা এবং জলবায়ু নিয়ে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ; ৩) স্টেম (STE(A)M): বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, (শিল্পকলা), প্রকৌশল ও গণিত। 

 

ঘোষিত দুইটি আহবানের মধ্যে প্রথমটি হল ‘ওয়াও বাংলাদেশ কমিশন্স ২০২৫’। এই আহবান যুক্তরাজ্যে কিংবা বাংলাদেশে অবস্থানরত শিল্পী, শিল্পীদল কিংবা শিল্প-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য সর্বোচ্চ বারো হাজার পাউণ্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) অনুদান প্রদান করবে, যেন নির্বাচিতরা শিল্পকর্ম, প্রদর্শনী, পারফরমেন্স বা প্রদর্শনীমূলক কর্মসূচি তৈরি, প্রযোজনা ও উপস্থাপন করতে পারে।

 

অন্যদিকে, দ্বিতীয় আহবান ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টারস ২০২৬’- শুধুমাত্র চট্টগ্রাম, ঢাকা, রাজশাহী ও সিলেটভিত্তিক শিল্পী সংগঠনগুলোর জন্য, যেন তারা ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩০ আগস্টের মধ্যে যে কোনো একদিন দিনব্যাপী ‘ওয়াও বাংলাদেশ চ্যাপ্টার’-এর আয়োজন করতে পারে। এ বিভাগে সর্বোচ্চ তেইশ হাজার পাউন্ড (বাংলাদেশী টাকা সমমূল্য) পর্যন্ত গ্রান্ট প্রদান করা হবে। প্রতিটি বিভাগে একাধিক গ্রান্ট প্রদান করা হবে। 

 

এই গ্রান্ট সকল সাংস্কৃতিক ও শিল্পক্ষেত্রের জন্য উন্মুক্ত। আবেদনকারীদের আহ্বান জানানো হচ্ছে তাদের যৌথ কাজের ভিত্তিতে ‘ওয়াও বাংলাদেশ ২০২৫-২০২৬’ -এর নির্ধারিত বিষয় ও প্রতিপাদ্যের সাথে সামঞ্জস্য রেখে জনসাধারণের জন্য প্রদর্শনী, আলোচনা ও অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা প্রকল্পের প্রস্তাবে উল্লেখ করার।  


ওয়েবিনারে নিবন্ধন করতে, আবেদনের যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে ও আবেদন নির্দেশিকা পড়তে এবং আবেদন করতে ভিজিট করুন: https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts 


বাংলাদেশে ওয়াও এর যাত্রা সম্পর্কে জানতে ভিজিট করুনঃ   https://www.britishcouncil.org.bd/en/programmes/arts/wow-women-world 
 

Pic

নারী ফুটবল অঙ্গনে বিশেষ ভূমিকা রাখছেন কামরুন্নাহার মুন্নি

টাঙ্গাইলের কামরুন্নাহার মুন্নি একজন স্কুল শিক্ষক। সেই সাথে তিনি সফল নারী ফুটবল কোচ এবং দেশের ক্রীড়াঙ্গনের এক অনুকরণীয় ব্যক্তিত্ব। 

 

মুন্নি শুধু ফুটবল প্রশিক্ষণই দেন না, বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা নিয়েও কাজ করেন। তিনি মেয়েদের খেলাধুলার মাধ্যমে ক্ষমতায়ন করতে এবং তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করতেও নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

 

সেই লক্ষ্যে ২০১০ সালে তিনি টাঙ্গাইল শহরের বেড়াডোমায় মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন এবং মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি তিনি বাল্যবিবাহের বিরুদ্ধেও কাজ করেছেন। 

 

কামরুন্নাহারকে নিয়ে তৈরি একটি প্রামাণ্যচিত্র ৭৪তম কানচলচ্চিত্র উৎসবে বাণিজ্যিক শাখায় ‘মার্সে দ্য ফিল্ম’-এ নির্বাচিত হয়ে পুরস্কার লাভ করে। প্রামাণ্যচিত্রটির কারণে কামরুন্নাহারের বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কথা দেশ পেরিয়ে বিশ্বের কাছে পৌঁছে গেছে।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিতে আলাপকালে সমাজের ‘প্রতিকূল’ পরিবেশের বিরুদ্ধে ‘সংগ্রাম’ চালিয়ে যাবার গল্পই তুলে ধরেন মুন্নি।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি জানান, সদ্য কৈশোরে পা দেওয়া মেয়েদের হঠাৎ বিয়ে হয়ে যাচ্ছিল। যে বয়সে মেয়েদের লেখাপড়া আর হাসি খেলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সে তাদের ধরতে হচ্ছিল সংসারের হাল। নিজ ছাত্রীদের এমন পরিণতি দেখে স্কুলশিক্ষিকা কামরুন্নাহার মুন্নি তাদেও জন্য কিছু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন। তাই বাল্যবিয়ে ঠেকানোর কৌশল হিসেবে ছাত্রীদের ফুটবল প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু করেন।

 

পেশায় শিক্ষিকা কামরুন্নাহার নারীদের ফুটবলে ‘বিপ্লব ঘটানো’ এবং ‘বাল্যবিবাহ রোধে’ সমানতালে কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশিক্ষণ দিয়ে এরই মধ্যে অনেক মেয়ের জীবনের গতিপথে পরিবর্তন এনেছেন। পুরুষদের পাশাপশি নারীদের ফুটবল খেলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮ জন নারীকে বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করেছেন। এই এডাডেমিতে ৪৭  জন মেয়ে ফুটবল প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এই একাডেমির ছাত্রী হিসেবে বর্তমানে বয়স ভিত্তিক ও সিনিয়র টিমে ৪ জন ফুটবলার রয়েছেন। তারা হলেন রিতু আক্তার,মারিয়াম বিনতে আন্না,আলমিনা আক্তার  ও রুপা আক্তার। বর্তমানে একাডেমির ছাত্রী সংখ্যা ৩৫ জন।

 

মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমিকে আর্থিকভাবে সহযোগিতা করছেন কামরুন্নাহারের স্বামী আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল ও টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মির্জা মাসুদ রুবেল।

 

মুন্নি আরও জানান, ২০১০ সালে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার বাবুপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। সে সময় স্কুলের শিশু-কিশোরদের নিয়ে নানা খেলাধূলার আয়োজন করতেন। ২০১২ সালে ‘টাঙ্গাইল প্রাইমারি ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে’ এক বছরের জন্য প্রশিক্ষণে অংশ নেন। প্রশিক্ষণ শেষে স্কুলে ফিরে গিয়ে দেখেন অনেক মেয়েই নেই, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে গেছে। 

 

কিছুদিন পর বাল্যবিয়ের শিকার এক ছাত্রীর সঙ্গে তার দেখা হয়। তার কাছ থেকে জানতে পারেন, ছোট ছোট মেয়েদের বাল্যবিয়ের ঘটনা। তখনই তিনি মেয়েদের বাল্যবিয়ে থেকে রক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। যেহেতু বিষয়টা সামাজিক ব্যাধিতে রুপ নিয়েছে, তাই কীভাবে মেয়েদের রক্ষা করা যায় তা নিয়ে কাজ শুরু করেন।

 

এক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তার সামনে ছিলো- বিশেষ কওে সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে প্রত্যন্ত অঞ্চলের মেয়েদেও নিয়ে যেকোন কাজ করা অনেক সময়ই কঠিন। তার উপর মেয়েদের ফুটবল খেলায় আগ্রহী কওে তোলা মানে সমাজের রেওয়াজের বিরুদ্ধে যাওয়া। তারপরও তিনি দৃঢ় সংকল্প নিয়ে মেয়েদের ফুটবল শেখাতে থাকেন। সে সময় বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মেয়েদের নিয়ে ফুটবল দল গঠন করা হয়। তিনিও তার স্কুলে ফুটবল দল গঠন করেন।

 

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে কামরুন্নাহার টাঙ্গাইল শহরের ‘উত্তরণ শিশু শিক্ষালয়ে’ বদলি হয়ে আসেন। এরপর উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে দল গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পান তিনি। এ সময় গ্রামের বিভিন্ন স্কুলের মেয়েদের ফুটবল খেলায় সম্পৃক্ত করতে থাকেন। কিন্তু দেখা যায়- অনেক পরিবার মেয়েদের খেলাধূলায় আসতে দিতে চাচ্ছে না।

 

অনেক দরিদ্র পরিবারের মেয়েরা নিয়মিত টাঙ্গাইলে এসে অনুশীলনে অংশও নিতে পারে না। সেই মেয়েদের নিজের বাসায় রেখে অনুশীলন করানোর ব্যবস্থা করেন। এক পর্যায়ে ‘মোনালিসা উইমেন স্পোর্টস একাডেমি’ গঠন করেন মুন্নী। এই একাডেমিতে নিয়মিত ফুটবল প্রশিক্ষণের পাশাপাশি তাদের সবার থাকা-খাওয়া ও অনুশীলনের সব দায়িত্বও নিজ কাঁধে তুলে নেন।

 

শুরুর দিকে নিজের আয়ের জমানো টাকা খরচ করে মেয়েদের প্রশিক্ষণ দিতেন মুন্নী। পরে এ কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ‘ডেইলি স্টার আনসাং উইমেন্স নেশন বিল্ডার্স’ পুরস্কার লাভ করেন। সেই পুরষ্কারের দুই লাখ টাকার পুরোটাই তিনি খরচ করেছেন তার একাডেমিতে।

 

মুন্নী বলেন, ২০১৯ সালের নভেম্বরে ভূঞাপুরের সপ্তম শ্রেণীর এক মেয়েকে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হচ্ছিল। খবর পেয়ে মেয়েটির অভিভাবকের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। তাদের বুঝিয়ে মেয়েটিকে নিজের একাডেমিতে নিয়ে যান। কিছুদিন পর শোনেন বিয়ে ভেঙে গেছে। মেয়েটি পরে বিকেএসপিতে প্রমীলা ফুটবল প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে সুযোগ পায়।

 

কামরুন্নাহার মুন্নি বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) অধীনে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) বি ডিপ্লোমা কোচেস কোর্স শেষ করেছেন। এর আগে ‘সি’ লাইসেন্স কোর্স করেছেন। বিকেএসপিতেও করেছেন কোচেস কোর্স। মুন্নীর একাডেমির মেয়েদের নিয়ে গড়া টাঙ্গাইল জেলা দল ২০২১ সালে এবং ২০১৯ সালে অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেণ্টে ঢাকা বিভাগে চ্যাম্পিয়ন হয়।

 

সর্বশেষ বাংলাদেশ গেমসে আনসারের হয়ে খেলেছেনে একাডেমির ফুটবলার সিরাত সাবরিন ও রূপা আক্তার। বাংলাদেশ গেমসে রৌপ্যজয়ী রাগবি দলের সবাই এই একাডেমির ছাত্রী । বিকেএসপিতে ভর্তির সুযোগওে পেয়েছেন আট নারী ক্যাডেট ফুটবলার। এ ছাড়া বিকেএসপির ফুটবলে স্বল্প মেয়াদি-দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ নিয়েছেন অন্তত ২৫ জন ছাত্রী।

 

৩৭ বছর বয়সী কামরুন্নাহার জানান, একাডেমির মেয়েরাই তার আদরের সন্তান, তাদের নিয়েই তার সব ভাবনা। মেয়েরা খেলতে চায়। কিন্তু অনেক পরিবার মেয়েদের খেলতে দিতে চায় না। তিনি মনে করেন, খেলার মাধ্যমেই বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা সম্ভব। খেলায় যুক্ত হলে মেয়েদের মধ্যে একটা নেতৃত্ববোধ তৈরি হওয়ার পাশাপাশি মনের সংকীর্ণতা দূর হয়।

 

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি জানতে চাইলে কামরুন্নাহার জানান, “বাল্যবিয়ে রোধ ও এবং ফুটবল নিয়ে চলমান কাজের প্রসার ঘটাতে চাই। প্রথম যখন মেয়েদের নিয়ে ফুটবল অনুশীলন শুরু করি, তখন অনেকেই বলতেন- এটা আমার পাগলামি। ধীরে ধীরে সফলতা আসছে।” এখন অনেকেই এটাকে আর পাগলামি মনে করে না। কোনো মেয়ের শিক্ষাজীবন যেন ঝরে না যায়, কাউকে যেন বাল্যবিয়ের শিকার হতে না হয় সেজন্য আজীবন কাজ করে যেতে চাই।”

 

মোহাম্মদ আনোয়ার সাদাত উজ্জ্বল বলেন, সুবিধাবঞ্চিত, বিদ্যালয়ে ঝরে পড়া মেয়েদের ফুটবল প্রশিক্ষণে কামরুন্নাহারের এ ইচ্ছেকে আমি সম্মান দেই। তার দৃষ্টিভঙ্গি ভালো, এটা ভালো লাগে। প্রথম প্রথম বিরক্ত হতাম। এখন আমিও উৎসাহ দেই এবং সহযোগিতা করার চেষ্টা করি। তার অবসর সময়কে সে সামাজিক সচেতনতার কাজে লাগায় সেটা আমারও ভালো লাগে। আগে পাগলামি মনে হলেও এখন সেটা, মনে হয় না। কারণ অনেক মেয়ে বাল্যবিবাহ থেকে মুক্ত হচ্ছে তার চেষ্টায়।

 

একাডেমির সভাপতি মির্জা মাসুদ রুবেল বলেন, কামরুন্নাহার সাধারণ জীবন-যাপনের বাইরে ভিন্নভাবে সমাজকে নিয়ে ভাবে। সে মেয়েদের আত্মপ্রত্যয়ী হতে এবং তাদের শিক্ষাজীবন থেকে ঝরে পড়া রোধ করতে কাজ করছে। বাল্য বিবাহের মতো সামাজিক সমস্যা রোধে তার এই উদ্যোগ সমাজের জন্য অনুপ্রেরণামূলক মনে করি।
 

Pic

তারুণ্য ও সৌন্দর্য বৃদ্ধিতে কফি পান সহায়ক হতে পারে!

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সারা বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর মধ্যে কফি অন্যতম। প্রতিদিন মানুষের মধ্যে কফি খাওয়ার প্রবণতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। 

 

ইন্টারন্যাশনাল কফি অর্গানাইজেশন অনুযায়ী, প্রতিবছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন কিলোগ্রাম কফি পান করা হয়। কফির রয়েছে প্রচুর স্বাস্থ্যগুণও।

 

সম্প্রতি গবেষণায় উঠে এসেছে নারীরা নিয়মিত কফি পান করলে তারুণ্য ধরে রাখে। শরীর-মন থাকবে তরতাজা। এমনই চমকে দেওয়া তথ্য দিয়েছেন হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়। তাদের সাম্প্রতিক গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন কফি পানের অভ্যাস নারীদের দীর্ঘায়ু এবং সুস্থ বার্ধক্যে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। 

 

বিগত ৩০ বছর ধরে প্রায় ৫০ হাজার নারীর উপরে এই গবেষণায় চালানো হয়। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ৫০ বছর বয়সে প্রতিদিন এক থেকে তিন কাপ ক্যাফেইনযুক্ত কফি পানকারী নারীরা বার্ধক্যে অনেকটা সুস্থ ছিলেন। তারা বড় কোনো অসুস্থতা ছাড়াই ছিলেন শারীরিক, মানসিক ও বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সুস্থ। কফি মস্তিষ্কের তীক্ষ্নতা, মনের জোর বাড়ায়, দীর্ঘস্থায়ী একাধিক জটিল রোগ থেকে দূরে রাখে।

 

৬০ বছর বা তার বেশি বয়সে কোনো গুরুতর দীর্ঘস্থায়ী রোগ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা বা শারীরিক অক্ষমতা ছাড়াই জীবনযাপন করতে পেরেছেন এই নারীরা। কফিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট দেহকোষের ক্ষতি এবং প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। ক্যাফেইন ছাড়াও কফিতে থাকা অন্যান্য বায়োঅ্যাক্টিভ সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

 

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, কফির এই উপকারিতা শুধু ক্যাফেইনযুক্ত কফির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। চা, ডিক্যাফ কফি বা কোলা জাতীয় অন্যান্য ক্যাফেইনযুক্ত পানীয়তে এই উপকার পাওয়া যায়নি। বরং কোলা বা সফট ড্রিংক বেশি পান করলে সুস্থ বার্ধক্যের সম্ভাবনা হ্রাস পায়। কফিতে থাকা ক্যাফেইন বার্ধক্য রোধ করার পাশাপাশি কোষের ক্ষতি হওয়া আটকাতে সহায়তা করে। ডিএনএ মেরামত করে স্ট্রেস প্রতিরোধের ক্ষমতা বাড়ায়। প্রতিদিন কফি খেলে মেজাজ উন্নত হয় এবং স্মৃতিশক্তি বাড়ে ফলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতাও বৃদ্ধি পায়। বিষণ্নতা বা অ্যালজাইমার রোগের মতো রোগ থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। 

 

এছাড়া ফ্যাটি লিভার, লিভার ফাইব্রোসিস, লিভার সিরোসিস এবং লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়। টিউলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. লু কিও মনে করেন, সকালের দিকে কফি পান করা স্বাস্থ্যকর হতে পারে, তবে দিনের অন্যান্য সময় কফি পান করলে সুফল কমে যেতে পারে।

 

কফি থেকে দূর থাকবেন যারা
উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, উদ্বেগ বা ঘুমের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই কফি খাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। অতিরিক্ত ক্যাফেইন এই সমস্যাগুলো বাড়াতে পারে।
 

Pic

বয়স বাড়লেও সুস্থ জীবন চান? ৫০-এর পর এই ৫ নিয়ম মেনে চলুন 

টাঙ্গাইল দর্পণ লাইফস্টাইল ডেস্ক:

বর্তমান সময়ে ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকা যেন একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়িয়েছে। মানসিক চাপ, ভেজাল খাদ্য ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন সব মিলিয়ে শরীর ও মনের উপর পড়ছে প্রচণ্ড নেতিবাচক প্রভাব। তবে প্রতিদিনের রুটিনে কিছু সহজ অভ্যাস যোগ করলেই দীর্ঘদিন সুস্থ জীবনধারণ করা সম্ভব।

 

কম-চাপের নিয়মিত ব্যায়াম করুন
বয়স ৫০ এর পর ভারী ব্যায়াম না করে সাঁতার, নিয়মিত হাঁটা, যোগব্যায়াম ও তাই চির মতো ধীর-গতির অনুশীলন উপকারী। এতে করে মাংসপেশি সক্রিয় থাকে, জয়েন্টে চাপ পড়ে না এবং মানসিক চাপও অনেক হ্রাস পায়।

 

সমাজ ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্ত থাকুন
সমাজচ্যুতি ও একাকীত্ব... মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অনেক ক্ষতিকর। নিয়মিত বন্ধুদের সঙ্গে দেখা করা, কমিউনিটি প্রোগ্রামে অংশ নেওয়া এবং স্বেচ্ছাসেবী কাজে যুক্ত থাকা মস্তিষ্ককে সচল রাখে।

 

প্রতিদিন মানসিক ব্যায়াম করুন
প্রতিদিন একটি ক্রসওয়ার্ড বা পাজল করলে মস্তিষ্ক সক্রিয় থাকে। গবেষণায় দেখা গেছে, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানসিক চর্চা স্মৃতিশক্তি এবং চিন্তাশক্তি ধরে রাখতে সাহায্য করে।

 

ধূমপানের অভ্যাস পরিত্যাগ করুন
ধূমপান থেকে হৃদরোগ, স্ট্রোক ও ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকগুণ বেড়ে যায়। এখনই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো ত্যাগ করলে শারীরিক সক্ষমতা বাড়বে এবং আয়ু দীর্ঘ হবে।

 

প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যাভ্যাস করুন
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাংসপেশি কমে যায়। ডিম, মাছ, বাদাম, দুধ ও লিন মাংস ও মুরগি -এই উপাদানগুলো প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখলে শরীর শক্তিশালী থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।
 

Logo

সম্পাদক : আবু তাহের

© ২০১৪-২০২৬ টাঙ্গাইল দর্পণ, অনলাইন নিউজ পেপার ২৪/৭