প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-৩১ ১৯:৫৪:৩৩
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬-এ যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তির সংখ্যায় বড় ধরনের ধস নেমেছে। এবার এ বোর্ডে গড় পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৪৪ দশমিক ৯২ শতাংশ এবং জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ২২৮ জন শিক্ষার্থী, যা বিগত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। ইংরেজি, আইসিটি ও উচ্চতর গণিতে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী স্বাক্ষরিত এক ফলাফল বিজ্ঞপ্তি ও পরিসংখ্যান থেকে ও যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় যশোর বোর্ডের আওতাধীন ১০টি জেলার ৫৭১টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ২৪০টি কেন্দ্রের মাধ্যমে মোট ১ লাখ ১৭ হাজার ৫১০ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধিত হন। এদের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ১২ হাজার ৭৯১ জন। পরীক্ষা শেষে উত্তীর্ণ হয়েছেন ৫০ হাজার ৬৬৮ জন শিক্ষার্থী। এ বছর অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে ৪৩ জন পরীক্ষার্থীকে বহিষ্কার করা হয়।
যশোর শিক্ষাবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর যশোর বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ২১ হাজার ৬৫৮ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৭ জন। পাসের হার ৭০ দশমিক ০৩ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ৮৫৮ জন। মানবিক বিভাগ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৭৯ হাজার ১৮ জন। উত্তীর্ণ হয়েছে ৩০ হাজার ১৯১ জন। পাসের হার ৩৮ দশমিক ২১ ভাগ। এই বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ হাজার ১৬৫ জন। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের ১২ হাজার ১১৫ জন ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে পাস করেছে ৫ হাজার ৩১০ জন। পাসের হার ৪৩ দশমিক ৮৩ ভাগ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২০৫ জন ছাত্র ছাত্রী।
এবারের ফলাফলের চিত্র তুলে ধরে যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন জানান, ইংরেজিতে পাসের হার ৫৪ দশমিক ৯৫, আইসিটিতে ৬৭ দশমিক ৮৪ ও উচ্চতর গণিতে ৬৯ দশমিক ৭১। এই তিন বিষয়ে অনুত্তীর্ণের হার বেড়ে যাওয়ায় বোর্ডের সার্বিক ফলাফলে এর প্রভাব পড়েছে।
সচিব প্রফেসর ড. মো. আব্দুল মতিন আরও বলেন, অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অন্য বিষয়ের শিক্ষক ইংরেজির ক্লাস নেন, আবার আইসিটির বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের সংকট রয়েছে। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। এছাড়া নকলমুক্ত, সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা গ্রহণ করা হয়েছে। ফলে শিক্ষার্থীরা কোনো অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করতে পারেনি। এইসব কারণে সার্বিক ফলাফলে প্রভাব পড়েছে। তবে আগামীতে বোর্ডের ফলাফল ভালো করার জন্য তারা পদক্ষেপ নেবে বলে উল্লেখ করেছেন।
বোর্ডের নিয়ন্ত্রণাধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে মাত্র ৩টি প্রতিষ্ঠান থেকে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছেন। অন্যদিকে, ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেননি (শূন্য পাসের হার)।
গত চার বছরের উপাত্ত বিশ্লেষণ করলে যশোর বোর্ডে পাসের হার ও জিপিএ-৫ অর্জনের ধারাবাহিক অবনতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। ২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৬৯.৮৮% (জিপিএ-৫ পান ৮,১২২ জন), ২০২৪ সালে পাসের হার ছিল ৬৪.২৯% (জিপিএ-৫ পান ৯,৭৪৯ জন)। ২০২৫ সালে পাসের হার ছিল ৫০.২০% (জিপিএ-৫ পান ৫,৯৯৫ জন)। ২০২৬ সালে পাসের হার নেমে এসেছে ৪৪.৯২%-এ (জিপিএ-৫ পান ৩,২২৮ জন)।
ফলাফল বিপর্যয়ের প্রধান কারণ উল্লেখ করে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক প্রফেসর এস. এম. হোসেন আলী জানান, এ বছর যশোর শিক্ষা বোর্ডের শিক্ষার্থীরা ইংরেজি বিষয়ে সবচেয়ে বেশি অকৃতকার্য হয়েছেন। মূলত ইংরেজিতে খারাপ করার কারণেই সার্বিক ফলাফলে এই বিপর্যয় ঘটেছে।
তিনি আরও বলেন, 'শতভাগ অকৃতকার্য (শূন্য পাস) ১৬টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নেবে বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সুপারিশ করা হবে।
পুনঃর্নিরীক্ষণের আবেদন শুরু ১ নভেম্বর প্রকাশিত ফলাফলে সংক্ষুব্ধ বা অসন্তুষ্ট শিক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণ ও পুনর্মূল্যায়নের আবেদনের সুযোগ পাবেন। ফলাফল প্রকাশের পরদিন অর্থাৎ আগামী ১ নভেম্বর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত অনলাইনের মাধ্যমে এ আবেদন প্রক্রিয়া চালু থাকবে।