প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ১০ অক্টোবর ২০২৬, ২৫ আশ্বিন ১৪৩৩


জেলা খবর

নওগাঁর রাণীনগরে ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের নেপথ্যে ব্যাংককর্মীরা, গ্রেপ্তার ৬

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-১০ ২১:৪৩:২২

News Image

শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন, স্টাফ রিপোর্টার:
নওগাঁর রাণীনগরে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ৩৪ লাখ টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায়  চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে পুলিশ। তদন্তে উঠে এসেছে, অনলাইন জুয়ায় বিপুল পরিমাণ টাকা হারানোর পর ব্যাংকের তিন কর্মী মিলে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। এ ঘটনায় পরিকল্পনাকারী তিন ব্যাংককর্মীসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

 

গত ৬ থেকে ৮ অক্টোবর পর্যন্ত নওগাঁ, জয়পুরহাট ও দিনাজপুর জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ছিনতাই হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার টাকা, একটি মোটরসাইকেল ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।

 

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে নওগাঁ পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ৬ অক্টোবর দুপুরে আবাদপুকুর বাজারে ইসলামী ব্যাংকের এজেন্ট শাখার ক্যাশিয়ার নাজমুল ও অফিস সহায়ক রাসেল বাবু মোটরসাইকেলে করে ৩৪ লাখ টাকা নিয়ে ফিরছিলেন। পথে রাণীনগরের পারইল বাজারসংলগ্ন বাংলালিংক টাওয়ার এলাকায় তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় ক্যাশিয়ার নাজমুলকে মারধর করে টাকার ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যায় ছিনতাইকারীরা।

 

ঘটনার পর তদন্তে নামে পুলিশ। একপর্যায়ে ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের সঙ্গে ব্যাংকের ভেতরের কয়েকজন কর্মীর সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া যায় বলে জানায় পুলিশ।

 

তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন জুয়ায় প্রায় ৭ থেকে ৮ লাখ টাকা হারানোর পর ব্যাংকের অফিস সহায়ক রাসেল বাবু, কর্মকর্তা সুজন ও আবু তালেব ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা করে বাইরের সহযোগীদের মাধ্যমে তাঁরা এ ঘটনা ঘটান বলে পুলিশের দাবি। পুলিশ আরও জানায়, ঘটনায় প্রকৃতপক্ষে ক্যাশিয়ার নাজমুল আক্রান্ত হলেও রাসেল বাবু নিজেকে ভুক্তভোগী হিসেবে উপস্থাপন করেন।

 

এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য তিনজন হলেন স্বপন, হাসান আলী ও মোটরসাইকেলের মালিক রাব্বি আলী। তাঁদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

 

পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অর্থের পরিমাণ ছিনতাই হওয়া মোট টাকার তুলনায় অনেক কম। বাকি টাকা উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে, এজেন্ট ব্যাংকের স্বত্বাধিকারী ফিরোজ হোসেন ছিনতাই হওয়া অবশিষ্ট টাকা দ্রুত উদ্ধারে পুলিশের সহযোগিতা কামনা করেছেন।