প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩


জেলা খবর

নরসসিংদী রায়পুরা মরজাল বাজারে স্বপন শীলের দোকানে কমেছে আয়, ক্রেতার সংকটে বিপাকে সেলুন ব্যবসায়ীরা

প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০৭ ২৩:২৩:২৭

News Image

সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি:
একসময় সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত থাকত নরসিংদী রায়পুরা উপজেলা মরজাল বাসস্ট্যান্ড এর স্বপন শিলের দোকান। চুল কাটা, শেভিং কিংবা অন্যান্য সেবা নিতে নিয়মিত ভীড় করতেন নানা বয়সী মানুষ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অনেক এলাকায় নাপিতের দোকানে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় আয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ছোট পরিসরে সেলুন ব্যবসায়ী স্বপন শিলসহ অন্যান শিল ব্যবসায়ীরা।

 

ব্যবসায়ীরা জানান, কয়েক বছর আগেও একটি দোকানে প্রতিদিন বেশ ভালো সংখ্যক ক্রেতা আসতেন। ব্যস্ত সময়ে অনেক সময় সিরিয়াল দিয়ে সেবা নিতে হতো। কিন্তু বর্তমানে অনেক দোকানেই দিনের বেশিরভাগ সময় ক্রেতার অপেক্ষায় বসে থাকতে হচ্ছে। ফলে আগের তুলনায় দৈনিক আয় অনেকটাই কমে গেছে।

 

নাপিতদের ভাষ্য, মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের খরচও বেড়েছে। সংসারের খরচ, দোকান ভাড়া, বিদ্যুৎ বিল, পানি ও অন্যান্য ব্যয় মেটানোর পর হাতে খুব বেশি টাকা থাকছে না। অন্যদিকে ক্রেতার সংখ্যা কমে যাওয়ায় ব্যবসা থেকে কাঙ্ক্ষিত আয়ও হচ্ছে না।

 

সেলুন ব্যবসায়ী স্বপন শীল বলেন, “আগে সকাল থেকেই কাস্টমার পাওয়া যেত। কোনো কোনো দিন দুপুর পর্যন্ত দাঁড়ানোর সময়ও পাওয়া যেত না। এখন অনেক সময় এক-দুই ঘণ্টা বসে থেকেও কাস্টমার আসে না। কিন্তু দোকানের ভাড়া ও অন্যান্য খরচ তো কমেনি।”

 

আরেক শীল জানান, আগে নিয়মিত যারা মাসে একাধিকবার চুল কাটাতে আসতেন, তাদের অনেকেই এখন সময় ও খরচ বাঁচাতে দীর্ঘ সময় পর পর দোকানে আসছেন। ফলে প্রতিদিনের মোট আয় কমে গেছে।

 

ব্যবসায়ীরা আরও বলেন, বর্তমানে এলাকায় ছোট-বড় অনেক সেলুন গড়ে উঠেছে। একই এলাকায় একাধিক দোকান থাকায় ক্রেতাদের মধ্যে প্রতিযোগিতার সুযোগ বেড়েছে।পাশাপাশি অনেকেই বাসায় নিজে চুল কাটার যন্ত্র ব্যবহার করছেন। এসব কারণেও কিছুটা প্রভাব পড়ছে নাপিতের দোকানের ব্যবসায়।

 

সেলুন এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত এসব ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর আয়ের ওপর পুরো পরিবার নির্ভরশীল। আয় কমে যাওয়ায় তাদের অনেককেই সংসারের খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কেউ কেউ দোকানের সময় বাড়িয়ে অথবা অতিরিক্ত সেবা দেওয়ার মাধ্যমে আয় বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

 

সেলুন ব্যবসায়ীদের দাবি, ক্রেতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি দোকান পরিচালনার খরচও বেড়েছে। তাই বর্তমান পরিস্থিতিতে তাদের ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, মানুষের স্বাভাবিক ক্রয়ক্ষমতা বাড়লে এবং স্থানীয় বাজারে ব্যবসায়িক পরিবেশ কিছুটা ভালো হলে নাপিতের দোকানসহ ক্ষুদ্র সেবা খাতের ব্যবসায়ীরাও উপকৃত হবেন।

 

এদিকে স্থানীয় নাপিত ও সেলুন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে এই পেশার সঙ্গে যুক্ত। অনেকেরই অন্য কোনো আয়ের উৎস নেই। তাই আয় কমে যাওয়ার বিষয়টি তাদের জন্য শুধু ব্যবসায়িক সমস্যা নয়, বরং পুরো পরিবারের জীবনযাত্রার ওপর প্রভাব ফেলছে।

 

মরজাল বাসস্ট্যান্ড নাপিতদের প্রত্যাশা, পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হবে এবং আবারও আগের মতো দোকানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি বাড়বে। এতে ক্ষুদ্র এই পেশার সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষের আয়-রোজগারও কিছুটা স্বস্তির মুখ দেখবে।