প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ০৭ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-১০-০৭ ১৬:১৬:৩৭
সাইফুল ইসলাম রুদ্র, নরসিংদী প্রতিনিধি:
ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাল ভিসায় এক ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো এবং তার কাছ থেকে প্রায় ২২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মানবপাচার চক্রের মূল হোতাসহ দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই), নরসিংদী।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) রাতে পিবিআই নরসিংদী জেলা কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তার দুজন হলেন—গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের তিতারকুল এলাকার নিখিল চন্দ্র দাসের ছেলে সুবোধ চন্দ্র দাস (৩১) এবং নরসিংদী সদর উপজেলার ভেলানগর এলাকার স্বদেশ চন্দ্র দাসের ছেলে শিমুল চন্দ্র দাস (৩৭)। পিবিআইয়ের দাবি, সুবোধ চন্দ্র দাস চক্রটির মূল হোতা এবং শিমুল তার প্রধান সহযোগী।
পিবিআই নরসিংদী জেলার পুলিশ সুপার ড. এস. এম. ফরহাদ হোসেন জানান, ভুক্তভোগী আব্দুর রউফকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকার বিনিময়ে ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দিয়ে চুক্তিতে রাজি করানো হয়। এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর নন-জুডিসিয়াল স্ট্যাম্পে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৪ জুন রউফকে ইতালি পাঠানোর পরিবর্তে জাল কাগজপত্র ও ভুয়া ভিসার মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন যাচাইয়ের সময় ভিসা জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে মালয়েশিয়া কর্তৃপক্ষ তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠায়।
বাংলাদেশে ফিরে বিষয়টি আসামিদের জানালে তারা নিজেদের ভুল স্বীকার করে পুনরায় ইতালি পাঠানোর আশ্বাস দেয় এবং অতিরিক্ত টাকা দাবি করে। ইতালি যাওয়ার আশায় রউফ দফায় দফায় তাদের মোট ২১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা দেন বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে শেষ পর্যন্ত তাকে ইতালি পাঠাতে না পারায় টাকা ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানায় অভিযুক্তরা। একই সঙ্গে তাকে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগও রয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আব্দুর রউফ বাদী হয়ে নরসিংদী মডেল থানায় মানব পাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইন এবং দণ্ডবিধির সংশ্লিষ্ট ধারায় ছয়জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।
মামলাটি পিবিআইয়ের সিডিউলভুক্ত হওয়ায় গত ৫ অক্টোবর সংস্থাটি স্ব-উদ্যোগে তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয় উপপরিদর্শক মো. ইয়াসিন, পিপিএমকে।
পরে তদন্তকারী দলের প্রধান পুলিশ পরিদর্শক আবুল খায়েরের নেতৃত্বে পিবিআইয়ের একটি দল গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত মূল হোতা সুবোধ চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার ভোরে নরসিংদীর টাউয়াদী এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিমুল চন্দ্র দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর দুই আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন। পিবিআইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জবানবন্দিতে তারা মানবপাচারের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
মামলার এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।