প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-২৪ ০০:৩২:২৯
দেবিদ্বার (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:
কুমিল্লার দেবিদ্বারে একটি কাঁচামালের আড়ৎ থেকে আড়াই কোটি টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগে বিজন চন্দ্র সাহা (৪৯) নামে এক আড়ৎ ম্যানেজারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮শত টাকা উদ্ধার করা হয়। বিজন চন্দ্র সাহা দেবিদ্বার উপজেলার বেগমাবাদ গ্রামের মৃত বীরেন্দ্র চন্দ্র সাহার ছেলে। তিনি উপজেলার বরকামতা (কাঠেরপুল) এলাকার মেসার্স আনন্দ বাণিজ্যলয়ে কাঁচামালের আড়ৎ ম্যানেজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। দীর্ঘদিনের কর্মচারীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানের বিপুল অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
আড়ৎ কর্তৃপক্ষের অভিযোগে জানাযায়, মাসিক ২৭ হাজার ৫০০ টাকা বেতনে চাকরি করলেও বিজন চন্দ্র সাহা প্রায় ছয় বছর ধরে বিভিন্ন কৌশলে প্রতিষ্ঠানের টাকা আত্মসাৎ করে আসছিলেন। আত্মসাতের অর্থের একটি অংশ নিজের ব্যাংক হিসাবে এবং স্ত্রী ও মায়ের নামে এফডিআরসহ বিভিন্নভাবে জমা রাখার অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আড়ৎ মালিক হিসাব-নিকাশ করে প্রতিষ্ঠানের বিপুল পরিমাণ অর্থের গরমিলের বিষয়টি জানতে পারেন। পরে হিসাব যাচাই করে প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে বিজনের বিরুদ্ধে।
বিষয়টি জানাজানি হলে সামাজিকভাবে দেন-দরবার শুরু হয়। একপর্যায়ে বিজন চন্দ্র সাহা অর্থ আত্মসাতের বিষয়টি স্বীকার করেন। পরে তিনি ওই টাকা ফেরত দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মালিক পক্ষের সাথে কোন যোগাযোগ না করেই পালিয়ে যায়। এরপর আড়ৎ কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে দেবিদ্বার থানায় প্রতারণা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে মামলা দায়ের করলে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় বিজনের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান চালায়। অভিযানে তাকে নারায়ণগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করে এবং তার কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ ১৬ হাজার ৮শত টাকা উদ্ধার করে পুলিশ।
মামলার বাদী আনিসুর রহমান বলেন, চলতি মাসের ৩ তারিখ বিজন চন্দ্র সাহার টাকা আত্মসাৎ করার বিষয়টি আমাদের কাছে প্রকাশ পেলে তাকে জিজ্ঞেস করলে সে স্বীকার করে এবং টাকা ফেরত দিবে বলে সামাজিক ভাবে বসার পর কথা দেয়। সে ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আংশিক ও ২০২৪ সাল থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত সর্বচ্চ টাকা আত্মসাৎ করে। গত ৬ বছরে প্রায় ২ কোটি ৩২ লক্ষ টাকা করে। আমাদের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে সে পালিয়ে গেলে আমরা থানায় মামলা দায়ের করি।
দেবিদ্বার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাতের মামলায় গ্রেপ্তার বিজন চন্দ্র সাহার নিকট থেকে উদ্ধার করা অর্থের উৎস ও আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য লেনদেনের বিষয়ে তদন্ত চলছে। একই সঙ্গে ব্যাংক হিসাব, এফডিআরসহ সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হচ্ছে।