প্রিন্ট এর তারিখঃ শনিবার ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৮ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৯-১২ ২০:৫৫:২৯
নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকায় শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে রাজধানীর নভোথিয়েটারে ১২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এ মেলা চলবে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত। এবারের মেলার প্রতিপাদ্য ‘Innovate to Market’—‘উদ্ভাবন থেকে বাজার’।
মেলার উদ্বোধন করেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর, গবেষক, উদ্ভাবক, স্টার্টআপ উদ্যোক্তা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভাইস-চ্যান্সেলরদের সঙ্গে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে দেশের ৭৩টি সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বিভিন্ন স্টার্টআপ, গবেষক ও শিল্প উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করছেন। মেলায় প্রযুক্তি, ব্যবসা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশসহ বিভিন্ন খাতের এক হাজারের বেশি উদ্ভাবনী প্রকল্প ও উদ্যোগ প্রদর্শিত হচ্ছে। এছাড়া প্লেনারি সেশন, প্যারালাল সেশন ও গোলটেবিল বৈঠকসহ মোট ১৭টি সেশন ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হবে।
মেলায় মাভাবিপ্রবির ছয় উদ্ভাবনী প্রকল্প
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (মাভাবিপ্রবি) পক্ষ থেকে ছয়টি গবেষণা ও উদ্ভাবনী প্রকল্প প্রদর্শন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও গবেষকদের এসব প্রকল্পে নিরাপদ সড়ক ব্যবস্থা, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি, পাটের বহুমুখী ব্যবহার, মানসিক স্বাস্থ্য এবং আধুনিক যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়েছে।
মেলায় প্রদর্শিত মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্প হলো—
১. ড্রাইভ গার্ড: সর্বজনীন বুদ্ধিমান ও উন্নত চালক সহায়তা ব্যবস্থা
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. শাহীন উদ্দীন।
২. প্রফেসর ডঃ একে ওবায়দুল হক ও তার ২ জন তরুণ গবেষকবৃন্দের উদ্ভাবিত বাংলাদেশের প্রথম সফটওয়্যার ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা বিষয়ক প্রকল্প NutriCare Software for Dietary Management and Health Care Model. উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক। মাননীয় উপাচার্য মহোদয় বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ক সফটওয়্যার মেলায় প্রথমবারের মতো উদ্বোধন এবং উন্মোচন করেন।
৩. ক) সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. এ কে ওবায়দুল হক।
খ) ডুমুরের (Ficus carica) অ্যান্টিডায়াবেটিক সম্ভাবনা নির্ণয়ে ইন সিলিকো স্ক্রিনিং এবং ডুমুরভিত্তিক চিবিয়ে খাওয়ার ট্যাবলেট ও কার্যকরী কুকিজ উন্নয়ন
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. রোকেয়া বেগম।
৪. পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ
উপস্থাপক: অধ্যাপক ড. মো. মাহবুবুল বাশার।
৫. মেশিন লার্নিং মডেল ব্যবহার করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ
উপস্থাপক: অধ্যাপক আবীর হোসেন।
৬. স্মার্টফোন-সহায়িত ডিস্ট্রিবিউটেড নোডভিত্তিক মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক
উপস্থাপক: আরিফুল আলম, সহকারী অধ্যাপক।
মাভাবিপ্রবির প্রদর্শনীতে এসব প্রকল্পের মাধ্যমে আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, খাদ্য ও পুষ্টি, কৃষি ও স্বাস্থ্য, পাটের আঁশের বহুমুখী ব্যবহার এবং পরিবেশবান্ধব ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
বিশেষ করে ‘পাটের তন্তু দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্মাণ: উন্নত উদ্ভাবনী উপকরণের উন্নয়ন ও বাণিজ্যিকীকরণ’প্রকল্পের মাধ্যমে পাটের আঁশকে আধুনিক, টেকসই ও বাণিজ্যিকভাবে সম্ভাবনাময় উপকরণে রূপান্তরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে ‘সবজি মিশ্রিত সবুজ রুটি’এবং ডুমুরভিত্তিক খাদ্যপণ্য উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে খাদ্য, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট উদ্ভাবনী ধারণা প্রদর্শিত হচ্ছে।
অন্যদিকে ‘ড্রাইভ গার্ড’ প্রকল্পের মাধ্যমে বুদ্ধিমান চালক সহায়তা প্রযুক্তি, মনোযোগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণ প্রকল্পের মাধ্যমে মেশিন লার্নিং ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য বিশ্লেষণের সম্ভাবনা এবং স্মার্টফোন-সহায়িত মাল্টি-হপ অফলাইন যোগাযোগ নেটওয়ার্ক প্রকল্পের মাধ্যমে বিকেন্দ্রীভূত নোড ব্যবহার করে ইন্টারনেটবিহীন যোগাযোগের সম্ভাবনা তুলে ধরা হচ্ছে।
মেলার স্টলে মাভাবিপ্রবির গবেষকরা তাঁদের উদ্ভাবনের বৈশিষ্ট্য, ব্যবহারিক প্রয়োগ, সম্ভাব্য বাণিজ্যিকীকরণ এবং সমাজ ও শিল্পক্ষেত্রে এর সম্ভাব্য অবদান সম্পর্কে দর্শনার্থী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের অবহিত করছেন।

ভাইস-চ্যান্সেলরের স্টল পরিদর্শন
মাভাবিপ্রবির ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এবিএম শহিদুল ইসলাম মেলায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টল পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি গবেষক ও উদ্ভাবকদের কাছ থেকে তাঁদের প্রকল্প সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত হন এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনের বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি মেলায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও উদ্ভাবকদের সঙ্গে মতবিনিময়ও করেন।
এ সময় মাভাবিপ্রবির শিক্ষক, গবেষক ও উদ্ভাবকরা তাঁদের গবেষণার বিভিন্ন দিক ভাইস-চ্যান্সেলরের কাছে তুলে ধরেন। মেলার স্টলে বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবন কার্যক্রমের বিভিন্ন দিকও প্রদর্শন করা হচ্ছে।
উদ্ভাবন থেকে বাণিজ্যিকীকরণের লক্ষ্য
'Innovate to Market' প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে এবারের ইনোভেশন ফেয়ারে শুধু নতুন উদ্ভাবন প্রদর্শন নয়, বরং গবেষণার ফলাফলকে বাস্তব প্রয়োগ, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের মাধ্যমে বাজারে নিয়ে যাওয়ার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মাভাবিপ্রবির ছয়টি প্রকল্পের অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা ও উদ্ভাবনকে জাতীয় পর্যায়ে তুলে ধরার পাশাপাশি গবেষকদের উদ্ভাবনী ধারণাকে শিল্প ও বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬-এ মাভাবিপ্রবির অংশগ্রহণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চলমান গবেষণা ও উদ্ভাবনী কার্যক্রমকে আরও দৃশ্যমান করার পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও গবেষকদের নতুন নতুন উদ্ভাবনে উৎসাহিত করবে। একই সঙ্গে গবেষণার ফলাফলকে মানুষের কল্যাণে ব্যবহার, শিল্পের সঙ্গে সংযোগ এবং বাণিজ্যিকীকরণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।