প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-২৬ ২০:১৫:৫৮
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোরের চৌগাছায় সার সংকট রোধ ও কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন। অবৈধ সার মজুদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের এক অভিযানে ২৭১ বস্তা সার জব্দসহ অসাধু এক মজুদদারকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার দুপুরে চৌগাছা পৌরসভার পারবাজার এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযান পরিচালনা করেন চৌগাছা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি, এম, এ, মুনিব।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, পারবাজার এলাকায় অসাধু উপায়ে বিপুল পরিমাণ সার মজুদ রাখা হয়েছে—এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দুপুরের দিকে খাইরুল ইসলাম নামের ঐ ব্যক্তির গুদামে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত।
অভিযানকালে খাইরুল ইসলাম নিজেকে সার বিক্রেতা হিসেবে দাবি করলেও কোনো বৈধ লাইসেন্স ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে ব্যর্থ হন। পরে তার দোকানে অভিযান চালিয়ে মোট ১৩ হাজার ৫৫০ কেজি বা ২৭১ বস্তা সার উদ্ধার করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে এমওপি (MOP) ২৮ বস্তা, টিএসপি (TSP) ১৪৭ বস্তা, ডিএপি (DAP) ৯ বস্তা, ইউরিয়া ৮৭ বস্তা।
উদ্ধারকৃত এই সারের বর্তমান খুচরা বাজারমূল্য আনুমানিক ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৩৫০ টাকা। ভ্রাম্যমাণ আদালত তাৎক্ষণিকভাবে সার জব্দ করেন এবং তা সরকারি নির্ধারিত ন্যায্যমূল্যে স্থানীয় প্রকৃত কৃষকদের কাছে বিক্রি করে, অর্থ সরকারি রাজস্ব কোষাগারে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন।
বৈধ লাইসেন্স না থাকায়, সার মজুদ রাখার অপরাধে অভিযুক্ত খাইরুল ইসলামকে 'সার ব্যবস্থাপনা আইনে ২০ হাজার টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করে। অভিযুক্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিকভাবে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে সার মজুদ বা অবৈধ ব্যবসা পরিচালনা করবেন না মর্মে লিখিত মুচলেকা প্রদান করেন।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২৫ আগস্ট চৌগাছা থেকে অবৈধভাবে অন্যত্র পাচারকালে ৩৭ বস্তা টিএসপি, ইউরিয়া, ডিএপি ও এমওপি সার স্থানীয় জনতার হাতে আটক হয়। জব্দকৃত ওই সারের আনুমানিক বাজারমূল্য ছিল ৪৫ হাজার টাকা। খবর পেয়ে ঐ সময় সহকারী কমিশনার (ভূমি) ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে সার ন্যায্যমূল্যে কৃষকদের মাঝে বিক্রি করে অর্থ রাজস্বে জমা করেন। পাশাপাশি অবৈধ সার পরিবহনের দায়ে এক আলমসাধু চালককে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল।
অভিযান চলাকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চৌগাছা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুশাব্বির হোসাইন, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম, চৌগাছা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হোসেন পাটোয়ারী, চৌগাছা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি সেলিম রেজা আওলিয়া এবং উপজেলা সার ডিলার সমিতির সভাপতি ইউনূস আলীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যবৃন্দ।
অভিযান শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মুসাব্বির হুসাইন বলেন,"কৃষি ও কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় আমরা বদ্ধপরিকর। চলতি মৌসুমে কোনো অসাধু ব্যবসায়ীকে সারের কৃত্রিম সংকট তৈরি করতে বা অবৈধ মজুদ গড়ে তুলতে দেওয়া হবে না। প্রকৃত কৃষকরা যাতে সরকার নির্ধারিত সঠিক মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলার ও বিক্রেতাদের ওপর আমাদের কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।'
অভিযান পরিচালনকারী সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট জি, এম, এ, মুনিব বলেন, "আইন অমান্য করে অবৈধভাবে সার গুদামজাত করা গুরুতর অপরাধ। কৃষকদের জিম্মি করে কেউ যেন অসাধু ফায়দা লুটতে না পারে, সে লক্ষ্যে এ ধরনের ঝটিকা অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এ উপজেলায় অবৈধ সার কারবারি বা কালোবাজারিদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। জনস্বার্থে উপজেলা প্রশাসনের এই অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।"