প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ২৪ আগস্ট ২০২৬, ৯ ভাদ্র ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-২৪ ১০:৪২:৫৬
দেলদুয়ার (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের দেলদুয়ারে এলেংজানী নদীর ভাঙন রোধে জিও ব্যাগ স্থাপন করায় দীর্ঘদিন ধরে বিধ্বস্ত একটি সড়ক পুনর্নির্মাণের পথ সুগম হয়েছে। এতে উপজেলার ফাজিলহাটি ইউনিয়নের টুকচানপুরসহ আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে।
ফাজিলহাটি ইউনিয়নের টুকচানপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে গেছে এলেংজানী নদী। নদীর তীর ঘেঁষে এলাচিপুর নামক স্থান থেকে টুকচানপুর পর্যন্ত সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সড়কটির প্রায় ১০০ মিটার অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায়। পরে দায়সারা সংস্কারের মাধ্যমে কোনোভাবে সড়কটি চলাচলের উপযোগী করা হলেও পরবর্তী বর্ষায় আবারও ভাঙনের কবলে পড়ে।
চলতি বর্ষা মৌসুমে সড়কটির ওই অংশ ব্যাপকভাবে ধসে গিয়ে সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে ওই এলাকার কয়েকটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়ালকে অবহিত করেন এলাকাবাসী।
পরে স্থানীয়দের সঙ্গে ওই এলাকায় মতবিনিময় সভা করেন সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল। সভায় তিনি নদীভাঙন রোধ করে সড়কটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। এরই ধারাবাহিকতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহযোগিতায় ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ স্থাপন করে নদীভাঙন রোধের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
জিও ব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে ভাঙন প্রতিরোধের ব্যবস্থা হওয়ায় এখন সড়কটি পুনর্নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ থেকে মুক্তির আশায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ফাজিলহাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য দেলোয়ার হোসেন বলেন, “প্রতি বছরই সড়কটি ভেঙে আমাদের যোগাযোগ ব্যবস্থা অচল হয়ে যেত। কিন্তু এ বিষয়ে কেউ এগিয়ে আসেননি। আমাদের এমপি রবিউল আওয়াল লাভলু মহোদয় এলাকার মানুষের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে পাশে দাঁড়িয়েছেন। মাত্র তিন দিনের মধ্যেই জিও ব্যাগ ফেলে সড়কটি পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করেছেন। আমরা তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।”
টুকচানপুর গ্রামের বাসিন্দা শাহজাহান মিয়া বলেন, “এর আগে এখানে কয়েকবার সংস্কার কাজ হয়েছে। কিন্তু কাজ ভালো না হওয়ায় তা বেশিদিন টেকেনি। তবে বর্তমান ব্যবস্থাপনায় যে কাজটি হয়েছে, তা অত্যন্ত টেকসই ও সন্তোষজনক বলে মনে হচ্ছে।”
ফাজিলহাটি গ্রামের সমাজসেবক মামুন মিয়া বলেন, “এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে এমপি মহোদয় দ্রুত ব্যবস্থা নিয়েছেন। আমরা আশা করি, তিনি ভবিষ্যতেও ধারাবাহিকভাবে এ এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম অব্যাহত রাখবেন।”
স্থানীয়রা বলছেন, জিও ব্যাগ স্থাপনের মাধ্যমে নদীভাঙন রোধ করা গেলে সড়কটির স্থায়ী পুনর্নির্মাণ সম্ভব হবে। এতে টুকচানপুরসহ আশপাশের অন্তত সাতটি গ্রামের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি দীর্ঘদিনের দুর্ভোগও কমবে।