প্রিন্ট এর তারিখঃ মঙ্গলবার ১১ আগস্ট ২০২৬, ২৭ শ্রাবণ ১৪৩৩


জেলা খবর

মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির গৃহযুদ্ধ চরমে; কার্যালয় দখল ও পাল্টা দাবিতে ৩ কমিটির লড়াই 

প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-১১ ১৩:১৭:৪৭

News Image

মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির কার্যালয় দখল ও পাল্টা দাবিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ বিরোধের জের ধরে জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জেলা কমিটি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।

 

সরেজমিনে জানা যায়, মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির নিয়ন্ত্রণ ও নেতৃত্ব নিয়ে বর্তমান কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ এবং দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের পক্ষের মধ্যে বিরোধ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। বাবু রাজের পক্ষের অভিযোগ, দপ্তর সম্পাদক ছালাম তার লোকজন নিয়ে সমিতির প্রধান কার্যালয়টি অবৈধভাবে জবরদখল করেছেন। দখলকারীরা কার্যালয় থেকে সাধারণ সম্পাদকের নামফলক সরিয়ে ফেলেছে এবং তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্র বাইরে ফেলে দিয়েছে। অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ছালামের পক্ষ দাবি করেছে, তারা কোনো কার্যালয় দখল করেননি। বর্তমান সাধারণ সম্পাদক বাবু রাজ নিয়মিত কার্যালয়ে আসেন না বলে তার ব্যক্তিগত আসবাবপত্রগুলো সরিয়ে রাখা হয়েছে মাত্র।

 

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ তাঁর মালিকানাধীন গাড়ি মধুপুর উপজেলা বিএনপির নেতা  প্রিন্সের নামে এফিডেভিট করে দিয়ে সমিতির সদস্য করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি প্রিন্সকে বাদ দিয়ে মুকুল সিদ্দিকীকে সদস্যপদ দেন। এ নিয়েই মূলত সমিতির সদস্যদের মধ্যে মতদ্বৈততার শুরু হয়। 
 
এই অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও কার্যালয়কে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধের জেরে টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস সমিতির কাছে পৃথক তিনটি প্রস্তাবিত কমিটি জমা দেওয়া হয়েছে- প্রথম প্রস্তাব: মুকুল সিদ্দিকী (সভাপতি) ও মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সাধারণ সম্পাদক)। দ্বিতীয় প্রস্তাব: আ. সামাদ ওরফে ছালাম (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)। তৃতীয় প্রস্তাব: মাসুম হাসনাইন বাবু রাজ (সভাপতি) ও ফরহাদ হোসেন (সাধারণ সম্পাদক)। 

কার্যালয় দখল এবং তিনটি পৃথক কমিটি জমার ঘটনায় সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুই পক্ষের মধ্যে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা কমিটির হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সাধারণ ব্যবসায়ীরা।

 

মধুপুর বাস মিনিবাস মালিক সমিতির বর্তমান কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক মো. নুরুল ইসলাম, সহ-প্রচার সম্পাদক আল-আমিন সহ সাধারণ মালিকরা জানান, বর্তমান কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ নাছির উদ্দিন খান আওয়ামীলীগ সমর্থিত হওয়ায় নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। নতুন কমিটি গঠন নিয়ে সমিতির মধ্যে দ্বন্দ্বের অবসান জেলা কমিটিই করতে পারবে। তবে তাদের দাবি, সমিতিকে রাজনৈতিক দলের প্রভাবমুক্ত রেখে শুধুমাত্র মালিক-ব্যবসায়ীদের দিয়ে কমিটি করে দেওয়া হোক। জেলা কমিটির সিদ্ধান্তকে তারা স্বাগত জানাবে। 

 

মধুপুর উপজেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আমজাদ হোসেন জানান, ২৮জন বাস মিনিবাসের মালিক নিয়ে ২০২২ সালে সমিতির মধুপুর শাখা গঠন করা হয়। মালিকরা সাধারণত সন্ধ্যার পর সমিতির কার্যালয়ে আসেন। বর্তমান কমিটির দপ্তর সম্পাদক আ. সামাদ ওরফে ছালামের গ্রুপের লোকজন দুপুরের দিকে কার্যালয়টি দখলে নেয়- এটা ন্যাক্কারজনক ঘটনা। তবে এখানকার মালিকরা সবাই জেলা কমিটির সুচিন্তিত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।  

 

এ বিষয়ে জেলা কমিটির সদস্য সচিব নিলুফার ইয়াসমিন খান জানান, মধুপুর সমিতির বিরোধের বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে এবং তিনটি পৃথক প্রস্তাবিত কমিটি তারা হাতে পেয়েছেন। তারা নিজেদের মধ্যে বৈঠক করে সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেবেন। 

 

টাঙ্গাইল জেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির আহ্বায়ক শফিকুর রহমান খান জানান, সাধারণ পরিবহন মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্খিত সংঘাত এড়াতে তারা উভয় পক্ষকে নিয়ে বৈঠক করেছেন। যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে সব পক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য একটি সুশৃঙ্খল একক কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।