প্রিন্ট এর তারিখঃ সোমবার ০৩ আগস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৮-০৩ ১১:২৪:২৯
নিজস্ব প্রতিনিধি:
স্বাধীন ও মুক্ত সংবাদপত্রের মুখে চড় মেরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে এক গণমাধ্যমকর্মীর ওপর যে ন্যাক্কারজনক তাণ্ডব চালানো হয়েছে, তা কোনো সভ্য সমাজের চিত্র হতে পারে না।
গত ৩০ জুলাই ২০২৬ ইং, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭:৩০ ঘটিকায় ফুটানী বাজার এলাকায় সত্য প্রকাশের অপরাধে এক পেশাদার সাংবাদিককে ঘিরে ধরে গণপিটুনি, শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা ও অপহণের অপচেষ্টা চালানো হয়।
প্রশ্ন উঠছে— কিসের জোরে, কার ছত্রছায়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে ও ব্যস্ত বাজারে একজন সাংবাদিকের ওপর এমন নারকীয় হামলা চালানোর দুঃসাহস দেখায় সন্ত্রাসীরা? দেশের আইনের শাসন ও নিরাপত্তার বুলি কি তবে কেবল কাগজে-কলমেই সীমাবদ্ধ?
অনুসন্ধানে জানা যায়, উক্ত দিন সন্ধ্যায় ফুটানী বাজার এলাকার একটি গোডাউনে নৈরাজ্য ও ভাঙচুরের খবর পেয়ে সাংবাদিকতার নীতি মেনে নিরপেক্ষ তথ্য ও ভিডিওচিত্র সংগ্রহ করতে যান ভুক্তভোগী সাংবাদিক। কিন্তু নিজেদের অপরাধের চিত্র ক্যামেরাবন্দী হওয়ার ভয়ে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মূল হোতারা। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল উগ্র সন্ত্রাসী পশুর মতো তার ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রকাশ্য বাজারে তাকে কলার ধরে টেনে-হিঁচড়ে রাস্তায় ফেলে নির্মমভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়।
এমনকি তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে গুম ও চিরতরে স্তব্ধ করে দেওয়ার হীন চক্রান্তও চালায় হামলাকারীরা। পরবর্তীতে স্থানীয় সাহসী ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এগিয়ে না এলে হয়তো আজ এক সাংবাদিকের লাশ উদ্ধার করতে হতো। হামলাই শেষ নয়, ওই সংবাদকর্মীর ক্যামেরা, নগদ অর্থ ও পেশাগত নথিপত্র ছিনতাই করে তারা প্রমাণ করতে চেয়েছে তারা আইন ও প্রশাসন ব্যবস্থার চেয়েও শক্তিশালী!
একজন পেশাদার সাংবাদিকের ওপর এমন নৃশংস হামলা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি মুক্ত সাংবাদিকতা, গণতন্ত্র ও সাধারণ মানুষের বাকস্বাধীনতার ওপর সরাসরি আঘাত।
এ ন্যাক্কারজনক ঘটনায় সারা দেশের গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের দাবানল জ্বলছে। ঘটনার সাথে জড়িত মূল অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায়, সাংবাদিক সমাজ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির দায় প্রশাসনকেই নিতে হবে!