প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৭-২৯ ১৮:৪৪:৩৭
স্টাফ রিপোর্টার: শাহ রফিকুজ্জামান মিথুন
কিশোরগঞ্জ জেলার তাড়াইল উপজেলার ঐতিহ্যবাহী তালজাঙ্গা আর সি রায় উচ্চ বিদ্যালয়। ১৯৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে হাজারো শিক্ষার্থীকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করার গৌরব অর্জন করেছে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যালয়টিকে ঘিরে নানা প্রশ্ন, উদ্বেগ ও অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
এলাকাবাসীর দাবি, বহুদিন ধরে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটি নিয়ে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। পুরাতন কমিটি বিলুপ্ত হওয়ার পর নতুন পরিচালনা কমিটি গঠনের বিধান থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও নতুন কমিটি গঠন হয়নি। ফলে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ, উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং শিক্ষা কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে অভিযোগ তাদের।
স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন—কেন নতুন কমিটি গঠনে এত দীর্ঘসূত্রতা? এর পেছনে কি রাজনৈতিক প্রভাব কাজ করছে, নাকি প্রশাসনিক জটিলতা? নাকি অন্য কোনো অদৃশ্য শক্তির কারণে একটি ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আজ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে আছে?
অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়কে ঘিরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ইস্যুতে অভিযোগ ও বিতর্ক তৈরি হওয়ায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থিতিশীল পরিবেশ না থাকলে পাঠদানের স্বাভাবিক পরিবেশও ব্যাহত হয়। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া, পরীক্ষার প্রস্তুতি এবং সামগ্রিক শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শিক্ষাবিদদের মতে, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিভাজন বা ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বের প্রভাব পড়লে সবচেয়ে বড় ক্ষতির শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। কারণ বিদ্যালয় কোনো রাজনৈতিক মঞ্চ নয়; এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়ে তোলার কারখানা।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, বিদ্যালয়ের উন্নয়ন, শিক্ষার মান বৃদ্ধি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সুসম্পর্ক এবং একটি কার্যকর পরিচালনা কমিটি গঠনই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। তারা মনে করেন, অপ্রয়োজনীয় টানাপোড়েন ও ক্ষমতার দ্বন্দ্বের অবসান ঘটিয়ে দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য পরিচালনা কমিটি গঠন করা জরুরি।
স্থানীয়দের দাবি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। অন্যথায় একসময় এলাকার অন্যতম সুনামধন্য এই বিদ্যালয় তার ঐতিহ্য ও শিক্ষার মান হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের প্রত্যাশা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক বিতর্কের বাইরে রেখে শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে এবং দীর্ঘদিনের অচলাবস্থার অবসান ঘটবে।