প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার ২৬ জুন ২০২৬, ১২ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-২৬ ২০:৫৯:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি:
“নিয়মিত দেশীয় ফল খেলে-সব ধরনের পুষ্টি মেলে”- এই প্রতিপাদ্যে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশে দেশীয় ফল উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। দেশীয় ফলের পরিচিতি ও পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শিশু শিক্ষার্থী ও পাঠাগারের পাঠকদের সচেতন করতে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।
আজ শুক্রবার (২৬ জুন, ২০২৬) সকালে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার প্রাঙ্গণে এ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের সভাপতি মোঃ শাহজাহানের সভাপতিত্বে আলোচনায় অংশ নেন পুষ্টিবিদ মোঃ আব্দুল হাকিম, কান্দাপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মোঃ হালিমুজ্জামান, পাঠাগারের উপদেষ্টা হাজী মোঃ কোরবান আলী, সদস্য হুমায়ুন কবির, রেজোওয়ানা শরীফ, আতাউর রহমান মিন্টু। এসময় উপস্থিত ছিলেন পাঠাগারের সদস্য শাকিল আহমেদ, মাহবুব হাসান আদর, সিয়াম হোসেন, পাঠাগারের সহকারী গ্রন্থাগারিক সীমা আক্তার প্রমুখ।
বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের প্রতিষ্ঠাতা মোঃ কামরুজ্জামান জানান, বই পাঠের পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশ এবং দেশীয় সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে তুলতে বিভিন্ন শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়-এরই ধারাবাহিকতায় আয়োজন করা হয় ফল উৎসবের।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বৈচিত্র্যময় বাংলাদেশের মৌসুমী ফলের সাথে বিশ্বের কোন দেশের ফলেরই তুলনা হয় না। দেশীয় ফলের স্বাদ ও পুষ্টিগুন অন্য কোন দেশের ফলেই পাওয়া যায় না। প্রতিটি ঋতুর ফল আলাদা আলাদা স্বাদ ও পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ। বক্তারা মানব দেহের সুস্থ্যতার জন্য নিয়মিত দেশী ফল খাওয়ার আহবান জানান ।
উৎসবে অংশ নেওয়া শিশু শিক্ষার্থীরা বলেন, ফল উৎসবের মাধ্যমে তারা দেশীয় বিভিন্ন ফল এবং এসব ফলের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জানতে পারছে। পাশাপাশি দেশীয় ফলের গাছ লাগানোর গুরুত্ব সম্পর্কেও আমাদের সচেতন করা হচ্ছে। বাতিঘর আদর্শ পাঠাগারের এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয়। আলোচনা শেষে নানা প্রজাতির দেশীয় ও মৌসুমী ফলের প্রদর্শনী ও বিতরণ করা হয়। ফলের মধ্যে ছিল আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে, জাম, লটকন, পেঁয়ারা, ডেউয়া, আমলকি, আনারস সহ বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টিকর দেশীয় ফল।
উল্লেখ্য, “এসো বই পড়ি, নিজেকে আলোকিত করি”- স্লোগানকে সামনে রেখে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার চৌরাকররা গ্রামে ২০১০ সালে গড়ে ওঠে বাতিঘর আদর্শ পাঠাগার। প্রতিষ্ঠার পর থেকে পাঠাগারটি গ্রামের মানুষের মধ্যে পাঠাভ্যাস তৈরি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে সেলুন, বাসস্ট্যান্ড ও স্টেশন অণুপাঠাগার স্থাপনসহ শিক্ষামূলক কর্মকান্ডের পাশাপাশি আর্তমানবতার সেবায় বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।