প্রিন্ট এর তারিখঃ বুধবার ২৪ জুন ২০২৬, ১০ আষাঢ় ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-২৪ ১০:৪১:২৭
নাগরপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি:
টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার মামুদনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে বিষাক্ত পদার্থ বা কীটনাশক মেশানোর অভিযোগ উঠেছে। ওই পানি পান করার পর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অন্তত ৩২ জনের বেশি শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাদের মধ্যে গুরুতর অসুস্থ দুই শিক্ষার্থীকে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অপর শিক্ষার্থীরা নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
মঙ্গলবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) সকালে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা স্কুল প্রাঙ্গণের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করার কিছুক্ষণ পরই একে একে অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে বমি, মাথা ঘোরা, পেট ব্যথা, শ্বাসকষ্ট ও অস্বাভাবিক দুর্বলতার লক্ষণ দেখা দিলে বিদ্যালয়জুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, পানি পান করার পরপরই কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়লে অন্যদের মধ্যেও একই ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়। পরে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ দ্রুত অভিভাবক ও স্থানীয় প্রশাসনকে বিষয়টি অবহিত করে। খবর পেয়ে উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে প্রথমে নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর অবস্থার দুই শিক্ষার্থীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানিতে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে বিষাক্ত কোনো পদার্থ বা কীটনাশক মিশিয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
নাগরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন, আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। পানি পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়ার পর অসুস্থতার প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
এদিকে ঘটনার পর বিদ্যালয়ের টিউবওয়েলের পানি সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য নমুনা নেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে। কে বা কারা এ ধরনের নাশকতামূলক কাজ করেছে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাগরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বলেন, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত চলছে। পানি পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার পর এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।