প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩


জেলা খবর

সান্তাহারের আলোচিত শিশু রাকা হত্যার দোষ স্বীকার করলেন মোছা. বন্যা

প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-১৪ ২২:৩৪:১৭

News Image

এম আব্দুর রাজ্জাক, বিশেষ প্রতিনিধি:
বগুড়ার আদমদিঘী থানাধীন, সান্তাহার সাহেব পাড়ার বহুল আলোচিত, শিশু রাকিকা (৭) হত্যার সঙ্গে জড়িত এজাহার নামীয় ৪ জন আসামি ইতিমধ্যে আদমদীঘি থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি ) মো. কামরুজ্জামান মিয়ার নেতৃত্বে এবং তার নিরলস প্রচেষ্টায় ইতিমধ্যে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে।

 

এ ঘটনায় রায়হান উদ্দিন প্রামানিক (৩৪) পিতা মোসলিম উদ্দিন প্রামানিক, সাং-মালসন,সাহেব পাড়া,আদমদীঘি, বগুড়া বাদী হয়ে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ৪ জনের নামে আদমদীঘি থানায়  হত্যা মামলার একটি এজাহার দায়ের করেন।

 

এ ঘটনায় আসামি ১. মো. আমজাদ হোসেন (৪০), ২. মোছা: বন্যা (৩৫ ), ৩. মো. বাবু এবং ৪. আশা বেগম (২৫) সর্ব সাং মালসন সাহেব পাড়া, আদমদীঘি, বগুড়া নামে এজাহার দাখিল করেন।

 

এরই প্রেক্ষিতে উপরোক্ত আসামিগণকে গ্রেফতার করিয়া জেলা বগুড়া আদালতে ইতিমধ্যে প্রেরণ করা হয়েছে।

 

শনিবার (১৩ ই জুন, ২০২৭) এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত এজাহার নামীয় ২ নং আসামি মোছা: বন্যা  (৩৫)    বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালত,বগুড়ার নিকট শিশু হত্যার দোষ স্বীকার করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী প্রদান করেন।বিজ্ঞ বিচারক তার জবানবন্দী রেকর্ড  করেন এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ প্রদান করেন।

 

আদমদিঘী থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (১২ জুন) রাতে নিহত শিশুটির বাবা রায়হান আলী বাদী হয়ে প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন ও তার স্ত্রী বন্যা বেগমসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ইতিমধ্য পুলিশ আসামিদের গ্রেফতার সক্ষম হয়েছে।

 

পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, রাকার মায়ের সঙ্গে বিচ্ছেদের পর তাকে তার বাবা রায়হান ও ফুপু লিপি বেগম লালান-পালন করছিল। সে স্থানীয় নুরানি ইসলামী একাডেমি মাদরাসায় শিশু শ্রেণিতে লেখাপড়া করতো। গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৫ টায় রাকিকা আক্তার রাকা মনি প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয়। পরিবারের লোকজন, আত্মীয় স্বজন ও প্রতিবেশীরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে রাত ১০টায় প্রতিবেশী আমজাদ হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়। 

 

ওই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বস্তা থেকে রাকার মরদেহ উদ্ধার করে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রতিবেশী আমজাদ হোসেন, বন্যা এবং বাবু হোসেন ও তার স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকাকে সহ ৪ জন কে আটক করে বিজ্ঞ আদালতে সোর্পদ করেন।