প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-১৪ ১৬:১৪:৫৪
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদ
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে আলোচিত এই সাবেক পুলিশ কর্মকর্তার গ্রেপ্তারের খবরে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একাধিক মামলায় অভিযুক্ত বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন। এছাড়া তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাওয়ার বিষয়েও বিভিন্ন সময়ে আলোচনা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-এর মহাপরিচালক এবং ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
২০২৪ সালে তার বিপুল সম্পদের উৎস নিয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন। তদন্তে তার এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য উঠে আসে। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে দেশের বিভিন্ন সম্পত্তি, ব্যাংক হিসাব এবং বিদেশে থাকা কিছু সম্পদের ওপরও জব্দ ও অবরোধ আরোপ করা হয়। দুবাইয়ে তার পরিবারের মালিকানাধীন ফ্ল্যাট জব্দের নির্দেশও আদালত দিয়েছিল।
দুদকের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়, তিনি বৈধ আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। ২০২৬ সালের মে মাসে একটি বিশেষ আদালত তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার কার্যক্রম শুরু করার নির্দেশ দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের ঘটনা সত্য হলে এটি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হবে। এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার প্রক্রিয়ার আওতায় নেওয়ার জন্য সরকার কী ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে।
এদিকে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে চলমান দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগগুলোর বিচারিক প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, আইন অনুযায়ী তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন হলে বিষয়টির পূর্ণ সত্যতা জাতির সামনে স্পষ্ট হবে।
গ্রেপ্তারের বিষয়ে বাংলাদেশ সরকার, দুদক কিংবা সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া গেলে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।