প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৬-০৪ ১২:৫৫:০০
টাঙ্গাইল দর্পণ নিউজ ডেস্ক:
ঈদুল আজহার আগে ও পরে ২১ মে থেকে ২ জুন পর্যন্ত ১৩ দিনে দেশের বিভিন্ন সড়কে ২৯২টি দুর্ঘটনায় ২৮১ জন নিহত এবং ৮৩৭ জন আহত হয়েছেন। একই সময়ে নৌ ও রেলপথের দুর্ঘটনাও মিলিয়ে মোট হতাহত দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ১১৮ জনে। বৃহস্পতিবার (৪ জুন, ২০২৬) প্রকাশিত রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, এবারের ঈদযাত্রায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ২২ জন মানুষ সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ৩৪ জন নারী ও ৪৮ জন শিশু রয়েছেন। সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মোট প্রাণহানির ৪৪ দশমিক ১২ শতাংশই ঘটেছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায়। ১৪১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ১২৪ জনের।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানায়, সড়ক দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ৩৭ জন পথচারী এবং ৩৩ জন চালক ও পরিবহনকর্মী ছিলেন। একই সময়ে ১৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত ও ১৫ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া ২২টি রেল দুর্ঘটনায় ১৭ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন।
প্রতিবেদনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। ৯৫টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১০১ জন। অন্যদিকে সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৯টি দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে ৭ জনের। জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানি হয়েছে ফরিদপুরে, যেখানে ১৯টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮ জন।
যানবাহনভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহীরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন। নিহত ২৮১ জনের মধ্যে ১২৪ জন মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী। এছাড়া থ্রি হুইলারের ৪৮ জন, ট্রাক ও পণ্যবাহী যানের ৩২ জন, বাসের ২১ জন এবং প্রাইভেটকার ও অ্যাম্বুলেন্সের ১১ জন আরোহী নিহত হয়েছেন।
দুর্ঘটনার ধরন বিশ্লেষণ করে সংস্থাটি বলছে, সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে। মোট দুর্ঘটনার ৪৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ এই কারণে ঘটেছে। এছাড়া মুখোমুখি সংঘর্ষ, পথচারীকে চাপা দেওয়া এবং পেছন থেকে ধাক্কার ঘটনাও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় ছিল।
ঈদযাত্রা পর্যালোচনায় রোড সেফটি ফাউন্ডেশন জানিয়েছে, রাজধানী ঢাকা থেকে এক কোটির বেশি মানুষ ঘরে ফিরেছেন এবং সারা দেশে প্রায় চার কোটি মানুষ যাতায়াত করেছেন। তুলনামূলকভাবে যাত্রাভোগান্তি কম থাকলেও অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, টিকিট ব্যবস্থাপনায় বিশৃঙ্খলা এবং মহাসড়কে থেমে থাকা বিকল যানবাহনের কারণে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
সংস্থাটির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, কিশোর ও তরুণদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এখনও বড় ঝুঁকি হয়ে রয়েছে। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৭ শতাংশের বয়স ১৪ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। প্রতিবেদনে ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, অতিরিক্ত গতি, চালকদের অদক্ষতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং মহাসড়কে ধীরগতির যান চলাচলকে দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশন মনে করছে, নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিবহন পরিকল্পনা জরুরি। সংস্থাটির মতে, রেলপথ সম্প্রসারণ, গণপরিবহন উন্নয়ন এবং সড়ক নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর সংস্কার ছাড়া দুর্ঘটনা কমিয়ে আনা কঠিন হবে।