প্রিন্ট এর তারিখঃ রবিবার ১০ মে ২০২৬, ২৭ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-১০ ১৪:১৭:২৯
আন্তর্জাতিক নিউজ ডেস্ক:
দীর্ঘ রাজনৈতিক নাটকীয়তা, জোটের হিসাব-নিকাশ আর টানা বৈঠকের পর অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও তামিলাগা ভেট্রি কাজাগাম (টিভিকে) নেতা সি জোসেফ বিজয়, যিনি ‘থালাপতি বিজয়’ নামেই বেশি পরিচিত।
আজ রোববার (১০ মে, ২০২৬) চেন্নাইয়ের জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তাকে শপথবাক্য পাঠ করান রাজ্যের গভর্নর রাজেন্দ্র বিশ্বনাথ আরলেকার। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি ও ইন্ডিয়া টুডে এ তথ্য জানিয়েছে।
তামিলনাড়ুর ২৩৪ আসনের বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ছিল ১১৮টি আসন। সাম্প্রতিক নির্বাচনে বিজয়ের দল টিভিকে এককভাবে পায় ১০৮টি আসন। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার সীমা ছুঁতে না পারায় কয়েক দিন ধরেই জোট গঠন নিয়ে তীব্র আলোচনা চলছিল। শুক্রবার পর্যন্ত সমর্থন ১১৬ আসনে আটকে থাকায় গভর্নর সরকার গঠনের আহ্বান জানাননি।
পরিস্থিতি বদলে যায় শনিবার। বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ আনুষ্ঠানিকভাবে বিজয়ের জোটকে সমর্থন দিলে সমীকরণ পাল্টে যায়। কংগ্রেস, সিপিআই এবং সিপিআই(এম) এর সমর্থনপত্রও গভর্নরের কাছে জমা দেন বিজয়। সব মিলিয়ে জোটের শক্তি দাঁড়ায় ১২০ আসনে।
৫১ বছর বয়সী বিজয় নির্বাচনে দুটি আসন থেকে জয় পেয়েছেন। ফলে একটি আসন ছাড়তে হবে তাকে। এরপরও সরকার পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারবে তার জোট।
শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লোকসভার বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। ছিলেন বিজয়ের বাবা-মা, অভিনেত্রী ত্রিশা কৃষ্ণান, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, চলচ্চিত্র অঙ্গনের তারকা ও সমর্থকেরা। বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের নেতারাও অনুষ্ঠানে অংশ নেন।
নতুন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন এন আনন্দ, আধব অর্জুন, রাজমোহন, নির্মল কুমার, পি ভেঙ্কটরামানান, কে জি অরুণ রাজ, কে এ সেনগোট্টাইয়ান, টি কে প্রভু ও সেলভি এস কীর্তনা।
ভারতের রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই সরকার শুধু ক্ষমতার পালাবদল নয়, তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে একটি ঐতিহাসিক মোড়ও। প্রায় ছয় দশক ধরে ডিএমকে ও এআইএডিএমকের বাইরে অন্য কোনো শক্তি রাজ্যে সরকার গঠন করতে পারেনি। সেই ধারাই ভেঙে দিলেন চলচ্চিত্র তারকা থেকে রাজনীতিক হওয়া বিজয়।
জোট গঠনের পর দলের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকে বিজয় বলেন, “কঠিন সময়ে যখন অনেকে আস্থা রাখেননি, তখন কিছু মানুষ বিশ্বাস করেছিলেন আমরা পারব।” সেখানে তিনি বিশেষভাবে রাহুল গান্ধীসহ কয়েকজন নেতার নামও উল্লেখ করেন।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জনপ্রিয়তা, তরুণ ভোটারদের সমর্থন এবং জোট কৌশল, এই তিনের সমন্বয়েই তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় চমক দেখাতে পেরেছেন থালাপতি বিজয়।