প্রিন্ট এর তারিখঃ বৃহস্পতিবার ০৭ মে ২০২৬, ২৪ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৫-০৭ ১৮:০৭:৫৬
উবাঈদুল হুসাইন আল্ সামি, যশোর প্রতিনিধি:
যশোর-নড়াইল মহাসড়কের নীলগঞ্জ এলাকায় এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে বিপুল পরিমাণ সোনাসহ তিন পাচারকারীকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে, ২০২৬) ভোরে একটি প্রাইভেটকারে তল্লাশি চালিয়ে ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য সাড়ে ছয় কোটি টাকারও বেশি। সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের প্রাক্কালে বিজিবির টহল দল এই বড় ধরনের চালানটি জব্দ করতে সক্ষম হয়।
বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে যশোর ব্যাটালিয়নের (৪৯ বিজিবি) একটি চৌকস দল নীলগঞ্জ এলাকায় অবস্থান নেয়। নড়াইল থেকে যশোর অভিমুখী একটি সন্দেহভাজন সিলভার রঙের প্রাইভেটকারকে থামার সংকেত দেয় বিজিবি। চালক পালানোর চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা গাড়িটি ঘিরে ফেলেন। প্রাথমিক তল্লাশিতে গাড়ির ভেতর কিছু পাওয়া না গেলেও, পরে বিশেষ কায়দায় লুকিয়ে রাখা ২৬টি সোনার বার উদ্ধার করা হয়। বিজিবির দেওয়া তথ্যমতে সোনার ওজন ৩ কেজি ৪৮ গ্রাম। যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৬ কোটি ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৮৬৭ টাকা। পাচারকাজে ব্যবহৃত ১টি প্রাইভেটকার, ৫টি মোবাইল ফোন এবং নগদ ৭ হাজার ৩২৭ টাকা।
পাচারচক্রের সাথে জড়িত থাকার দায়ে ঘটনাস্থল থেকেই তিনজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা হলেন শার্শা উপজেলার রাজনগর গ্রামের জহির উদ্দিনের ছেলে রনি (৩০), চৌগাছা উপজেলার উত্তর কয়েরপাড়া গ্রামের ইসহাকের ছেলে আব্দুল গনি (৩৫) ও সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের বাগডাঙ্গা গ্রামের ইব্রাহিম সরদারের ছেলে ইসরাইল (৪০)।
আটককৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। বিজিবি কর্মকর্তাদের তারা জানায়, এই বিপুল পরিমাণ সোনার চালানটি ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকা থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল। আন্তর্জাতিক একটি চোরাকারবারী চক্রের মাধ্যমে এই সোনা যশোর হয়ে চৌগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচারের পরিকল্পনা ছিল তাদের।
যশোর অঞ্চলকে ট্রানজিট হিসেবে ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রটি সক্রিয় রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে শার্শা ও চৌগাছা সীমান্ত এলাকা পাচারের জন্য বেশি নিরাপদ মনে করে তারা এই রুটটি বেছে নিয়েছিল।
বিজিবি জানিয়েছে, জব্দকৃত সোনার বারগুলো বর্তমানে ট্রেজারি শাখায় জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। আটককৃত তিনজনের বিরুদ্ধে চোরাচালান বিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের সংশ্লিষ্ট থানা অর্থাৎ যশোর কোতোয়ালি মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
যশোর ব্যাটালিয়ন (৪৯ বিজিবি) এর অধিনায়ক (CO) লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন,"সীমান্তে চোরাচালান রোধে বিজিবি সবসময়ই জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে। এই সফল অভিযান আমাদের গোয়েন্দা তৎপরতার ফসল। পাচারচক্রের মূল হোতাদের খুঁজে বের করতে তদন্ত অব্যাহত থাকবে।"
যশোরের সীমান্তবর্তী এলাকায় হঠাৎ করে সোনার পাচার বেড়ে যাওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের নজরদারি আরও জোরদার করেছে। আজকের এই অভিযানকে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।