প্রিন্ট এর তারিখঃ শুক্রবার ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩
প্রকাশিত: ২০২৬-০৪-২৪ ১৪:৪২:১১
রাজশাহী প্রতিনিধি:
রাজশাহীর দুর্গাপুরে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে ডিগ্রি পরীক্ষা চলাকালীন দাওকান্দি সরকারি কলেজে হামলা, ভাংচুর ও শিক্ষকদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে।
হামলায় কলেজের অধ্যক্ষসহ অন্তত ৫ জন আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এক নারী শিক্ষককে জুতা দিয়ে পেটানোর গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে, যা এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।হামলার আশঙ্কার খবর পেয়ে দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে কলেজে উপস্থিত হন। তিনি শিক্ষক ও বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে দফায় দফায় কথা বললেও পুলিশের সামনেই হঠাৎ করে হামলা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় অধ্যক্ষের কক্ষে ঢুকে শিক্ষকদের ওপর বেধড়ক মারধর করা হয় এবং অফিসকক্ষে ব্যাপক ভাংচুর চালানো হয়। প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, হামলার সময় জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী নারী প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে প্রকাশ্যে জুতা খুলে আঘাত করেন এবং তাকে অপদস্থ করেন। ঘটনাটি অধ্যক্ষের কক্ষেই ঘটে এবং তখন সেখানে পুলিশ সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল, ২০২৬) দুপুর আড়াইটার দিকে রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলার দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় কলেজে ডিগ্রির দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা চলছিল। পরীক্ষাকেন্দ্র হওয়ায় কলেজ ও আশেপাশের ১০০ গজ এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং সকাল থেকেই সেখানে পুলিশ মোতায়েন ছিল। পুলিশ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুপুরে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা অধ্যক্ষের কক্ষে প্রবেশ করে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বাকবিতণ্ডায় জড়ায়। এক পর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং তারা শিক্ষকদের ওপর হামলা চালায়।
শুধু মারধরেই সীমাবদ্ধ না থেকে তারা অফিসকক্ষে ভাংচুরও চালায়।হামলায় আহতদের মধ্যে রয়েছেন কলেজ অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক, প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরা, অধ্যাপক রেজাউল করিম আলমসহ আরও দুই কর্মচারী। আহতদের মধ্যে অধ্যক্ষ ও আলেয়া খাতুন হীরার অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে। ঘটনার পরপরই অন্যান্য শিক্ষকরা আহতদের উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। পুরো ঘটনায় কলেজ চত্বরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি হয়। অনেক শিক্ষক ও শিক্ষার্থী নিরাপত্তাহীনতায় কেন্দ্র ত্যাগ করেন।
আহত শিক্ষকরা অভিযোগ করেন, আকবর আলীসহ স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের প্রায় ৪০-৫০ জন নেতাকর্মী এ হামলায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে আফাজ আলী, শাহাদ আলী, জয়নাল আলী, এজদার আলী, রুস্তম আলী ও জামিনুর ইসলাম জয় উল্লেখযোগ্য। এদিকে, হামলার সময় ঘটনাস্থলে থাকা পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলামের উপস্থিতিতেই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেন, দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন গ্রুপ থেকে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হচ্ছিল। তিনি কোনো পক্ষকে প্রশ্রয় না দেওয়ায় এ হামলার শিকার হয়েছেন বলে দাবি করেন। শিক্ষিকা আলেয়া খাতুন হীরা বলেন, অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়ানোই আমার অপরাধ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমাকে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে আঘাত করা হয়েছে, যা একজন শিক্ষক হিসেবে আমার জন্য চরম অপমানজনক।
অন্যদিকে, জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পূর্বের দুর্নীতির হিসাব চাওয়াকে কেন্দ্র করেই বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং শিক্ষকদের পক্ষ থেকেই আগে হামলা করা হয়। দুর্গাপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রফিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করা হলেও কিছু লোক জোরপূর্বক প্রবেশ করে হামলা চালায়। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।